ঢাকা থেকে গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসা: ফাইল জমা হয় বনানীতে, সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি — আর মাঝের পথটা কেউ আপনাকে দেখাবে না
ঢাকার ভিসা সেন্টারে ফাইল ও বায়োমেট্রিক জমা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস। কাউন্টারের লোকেরা ফাইল যাচাই করেন না, দেরির কারণ বলতে পারেন না — আর মাঝের কুরিয়ার-পথটা কোনো ট্র্যাকারেই দেখা যায় না।
এক নজরে: ফাইল জমা হয় ঢাকায়, সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। বনানীর ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আপনার কাগজ ও বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়, তারপর প্যাকেটটি কুরিয়ারে যায় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাসে — বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মিশন সেটিই। কাউন্টারটি দূতাবাস নয়: তারা ফাইল যাচাই করেন না, দেরির কারণ বলতে পারেন না, ফাইল এগিয়েও দিতে পারেন না। ইউরোপীয় আইনে একটি সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের মধ্যে দিতে হয়, আর ঘড়ি চালু হয় সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। আর সবচেয়ে ধীর অংশটি এই পুরো প্রক্রিয়ার আগে — গ্রিস অনুচ্ছেদ ১২-তে আপত্তি জানানোয় বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল এখানে অচল।
দুটি বাক্যেই আপনার পুরো পরিকল্পনা ঠিক হয়ে যায়
আপনি জমা দেবেন ঢাকায়। সিদ্ধান্ত নেবেন নয়াদিল্লির একজন কনস্যুলার অফিসার।
গ্রিস বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন নেয় বনানীর একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রে, যেটি চালায় Global Visa Center World ও VFS Global মিলে। অনলাইনে স্লট বুক করবেন, সশরীরে যাবেন, ফাইল জমা দেবেন, আঙুলের ছাপ ও ছবি দেবেন — এবং সেই সকালেই বাসায় ফিরবেন। ২০২৩ সাল থেকে পথটা এরকম, আর এই কারণেই গ্রিসে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আর ভারতীয় ভিসা, প্লেনের টিকিট আর দিল্লিতে কয়েক রাতের হোটেল কিনতে হয় না।
যেটা বদলায়নি সেটা হলো, সিদ্ধান্ত নেয় কে। বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো আবাসিক দূতাবাস নেই। বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মিশন নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস, আপনার আবেদনটি মূল্যায়িত হয় সেখানেই। ফাইল সেখানে যায়, সিদ্ধান্ত ফিরে আসে — কুরিয়ারে, দুদিকেই।
এই পথের প্রায় সব অসুবিধাই ওই এক বাক্য থেকে আসে। এবং যেটা মানুষকে সবচেয়ে অস্থির করে তোলে সেটি হলো, যাত্রাটা সম্পূর্ণ অদৃশ্য। কোনো ট্র্যাকার এই পথটা দেখায় না। ঢাকার কেউ এটা নিয়ে কথা বলতে পারে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে "আমার ফাইল এখন কোথায়" প্রশ্নের সৎ উত্তর হলো — "একটা ব্যাগে, অথবা অন্য একটা দেশের কোনো টেবিলে।"
রুটটির সংক্ষিপ্ত রূপ আছে গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে: ফাইল বনানীতে, সিদ্ধান্ত দিল্লিতে লেখায়; কোন দেশের ফাইল কোথায় যায় তার পুরো ম্যাপ কোন দেশের ভিসা ঢাকা থেকে, কোনটার জন্য দিল্লি লেখায়, আর যেসব দেশের মিশনই এখানে নেই তাদের তালিকা ঢাকায় এম্বাসি নেই যে দেশগুলোর লেখায়।
ভিসা আবেদন কেন্দ্র মানে দূতাবাস নয়
এই অনুচ্ছেদটি দুবার পড়ার মতো, কারণ উল্টোটা বিশ্বাস করলেই একটা ধীর আবেদন একটা যন্ত্রণাদায়ক আবেদনে বদলে যায়।
ভিসা আবেদন কেন্দ্র একটি আউটসোর্স করা কাউন্টার। মানুষ আর কাগজের ভিড় সামলানোই তার কাজ। তারা দেখে ফর্ম পূরণ হয়েছে কি না, ফি দেওয়া হয়েছে কি না; কাগজ ও বায়োমেট্রিক নেয়; প্যাকেট বানায়; সিদ্ধান্ত-প্রদানকারী মিশনে পাঠায়; আর উত্তর ফিরলে পাসপোর্ট ফেরত দেয়। কাচের ওপাশের মানুষগুলো একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লেখা স্ক্রিপ্ট ধরে কাজ করা সেবাকর্মী। তাঁরা কনস্যুলার অফিসার নন।
তাই কাউন্টার কী বলতে পারে আর কী পারে না, তার মাঝখানে একটা পরিষ্কার দাগ আছে।
| কেন্দ্রকে যা জিজ্ঞেস করা যুক্তিসঙ্গত | কেন্দ্রকে যা জিজ্ঞেস করে লাভ নেই |
|---|---|
| আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হয়েছে কি না, কবে | আমার কাগজ যথেষ্ট ভালো কি না |
| কোন ফর্ম, কোন ছবি লাগবে | সিদ্ধান্তে এত সময় লাগছে কেন |
| ফাইলটি গ্রহণ ও ফরোয়ার্ড হয়েছে কি না | অফিসার কী ভাবছেন বা কী চান |
| আমার পাসপোর্ট এখন কোথায় | ফাইলটা সারির সামনে এনে দিতে |
| কীভাবে ও কী পরিচয়পত্র নিয়ে সংগ্রহ করব | প্রত্যাখ্যানের ব্যাখ্যা করে দিতে |
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিজেই সীমাটা স্পষ্ট করে বলে রেখেছে: ভিসা দেওয়া এবং দিলে তার মেয়াদ কতদিন — এটি সম্পূর্ণভাবে কনস্যুলেটের এখতিয়ার। এটা এড়িয়ে যাওয়ার মতো আইনি বাক্য নয়। এটাই এই পুরো পথের কাঠামো, এক লাইনে।
এর বাস্তব ফল হলো, আপনার কেস নিয়ে প্রশ্ন নিয়ে যেতে হবে সেই কর্তৃপক্ষের কাছে যার হাতে কেসটি আছে। যে উত্তর দেওয়া কাউন্টারের জন্য চুক্তিতেই নিষিদ্ধ, সেই উত্তরের জন্য কাউন্টারের পেছনে ছোটা — এভাবেই শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সময় হারায়। দেরি হলে আসলে কী কাজে লাগে তা আছে ভিসা দেরি হচ্ছে: কী করা যায়, কী করে লাভ নেই লেখায়, আর ভেতরের যন্ত্রটা কীভাবে চলে তা আছে VFS-এ ফাইল জমা দেওয়ার পর আসলে কী হয় লেখায়।
ধাপগুলো ক্রম অনুযায়ী, আর প্রতিটির দায়িত্ব কার
| ধাপ | কোথায় হয় | দায়িত্ব কার | আটকে গেলে |
|---|---|---|---|
| ভর্তি ও অফার লেটার | গ্রিসের প্রতিষ্ঠান | আপনি ও প্রতিষ্ঠান | ইন্টারন্যাশনাল অফিসের পেছনে লাগুন |
| সত্যায়ন ও কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন | বাংলাদেশে, নির্দিষ্ট ক্রমে | আপনি | আগে শুরু করুন; এই সারিটা আপনারই |
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং | সেবাদাতার বুকিং সাইট | আপনি | নিচের স্লটের অংশটি দেখুন |
| ভিসা ফি পরিশোধ | অনলাইনে, সেবাদাতার পদ্ধতিতে | আপনি | প্রিন্ট করা রসিদ ছাড়া কিছুই এগোয় না |
| ফাইল জমা ও বায়োমেট্রিক | বনানীর কেন্দ্র | আপনি, কাউন্টারে | সব নিয়ে যান; একটা কম মানে আরেক দিন |
| কুরিয়ারে মিশনে পাঠানো | ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি | সেবাদাতা | আপনার কিছু করার নেই |
| মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত | নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস | গ্রিক কনস্যুলার কর্তৃপক্ষ | আপনার কিছু করার নেই |
| কুরিয়ারে ফেরত | নয়াদিল্লি থেকে ঢাকা | সেবাদাতা | আপনার কিছু করার নেই |
| পাসপোর্ট ফেরত | বনানীর কেন্দ্র | আপনি সংগ্রহ করবেন | বেরোনোর আগেই স্টিকার পড়ুন |
নয়টি সারির মধ্যে ছয়টিই আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠিক এই কারণেই এই লেখাটি বাকি তিনটি নিয়ে কথা বলছে, আর সবচেয়ে বেশি প্রথম দুটি নিয়ে — কারণ যে ফাইলে একটা কাগজ কম, সেটা শুধু কাগজ আনার দিনগুলো খরচ করায় না। সেটা আরেকটা পুরো যাওয়া-আসা খরচ করায়।
বুকিং, কাউন্টার আর পাসপোর্ট
অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে আগেই করতে হয়; কেন্দ্রটি আছেই যাতে কেউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া হাজির না হয়। আমাদের লেখায় প্রকাশিত জমার সময় রবি থেকে বৃহস্পতি, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা, ঠিকানা Borak Mehnur 51/B, ৮ম তলা, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা ১২১৩ — ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা। এটুকু শুরুর বিন্দু হিসেবেই নিন: একই ভবনে একাধিক দেশের ভিসা কেন্দ্র বসে, কেন্দ্র জায়গা বদলায়, সময়ও বিনা ঘোষণায় বদলে যায়। আপনার নিজের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনে লেখা ঠিকানা ও সময়ই চূড়ান্ত। সেটা আগের রাতে পড়ুন, গাড়িতে বসে নয়।
সেবাদাতার দুটি নিয়ম এখানে আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এই দুটোতেই মানুষ বেশি ঠকে। আবেদন ফর্মটি কেন্দ্রের নিজের সাইট থেকে পূরণ করে প্রিন্ট করতে হয়, অন্য কোথাও থেকে নামানো ফর্ম নয়; আর ডাকযোগে আবেদন গ্রহণ করা হয় না, অর্থাৎ সশরীরে যাওয়া এড়ানোর কোনো উপায় নেই। প্রিন্ট করা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটি সঙ্গে নিন।
কাউন্টারে আসলে যা হয় তা সাধারণ ও দ্রুত, ধাপে ধাপে লেখা আছে বায়োমেট্রিক্স অ্যাপয়েন্টমেন্টে আসলে কী হয় লেখায়। কী কী সঙ্গে নেবেন তার তালিকা আছে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন কী কী সঙ্গে নেবেন আর VFS Global ঢাকা: অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বায়োমেট্রিক ও কী নিয়ে যাবেন লেখায়। এখানে একটাই নিয়ম আবার বলি: মূল কাগজ এবং ফটোকপি — দুটোই নিয়ে যান, এবং ধরে নেবেন না যে ওরা কপি করে দেবে।
এরপর পাসপোর্টটি ফাইলের সঙ্গে চলে যায়, কারণ গ্রিস পাসপোর্টের ভেতরে ছাপা স্টিকার দেয়, পরে সংগ্রহ করার আলাদা কার্ড নয়। পুরো সিদ্ধান্তের সময়টা, দুই কুরিয়ার-পথসহ, পাসপোর্ট আপনার হাতে থাকবে না — দেখুন ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় আপনার পাসপোর্ট আসলে কোথায় থাকে আর পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও ফেরত নেওয়া। মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসা পাসপোর্ট আবেদনের আগেই নবায়ন করান, মাঝখানে নয়।
ফি প্রসঙ্গে সৎ কথা
আমরা কোনো অঙ্ক লিখব না, আর যে পাতা অঙ্ক লিখে দেয় তাকে সন্দেহ করাই ভালো।
এই পথে টাকা ঠিক করে তিনটি আলাদা পক্ষ। ভিসা ফি নির্ধারিত হয় গ্রিক ও ইউরোপীয় দিক থেকে। সেবাদাতা নিজের চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব সার্ভিস ফি নেয়। আর সিদ্ধান্ত-প্রদানকারী মিশন ভারতে বসে বলে অঙ্কটি ধরা হয় ভারতীয় রুপিতে, ইউরো বা টাকায় নয়।
পদ্ধতিটাও বদলায়। সেবাদাতা ঘোষণা দিয়েছিল যে ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে ফি দেওয়ার নিয়ম নতুন: অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে কনফার্মেশন চিঠিটি কল সেন্টারে পাঠাতে হয়, তারা একটি পেমেন্ট লিংক দেয় যা ৪৮ ঘণ্টা সচল থাকে, পেমেন্ট হয় কেবল আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে, আর প্রিন্ট করা রসিদ অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সঙ্গে নিতে হয় — না নিলে ফাইল জমাই নেওয়া হয় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এর মানে দুটি কাজ আগেই সারা: কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করা, আর ওই ৪৮ ঘণ্টার জানালায় হাতে সময় রাখা। বুক করার দিন সেবাদাতার নিজের ফি-পাতাটি মিলিয়ে নিন, কারণ পেমেন্টের নিয়ম ঠিক সেই জিনিস যা বদলাতেই থাকে।
যে খরচগুলো নিশ্চিন্তে বাজেটে রাখা যায় সেগুলো চারপাশের। সত্যায়ন, অনুবাদ ও লিগ্যালাইজেশনে মোটামুটি ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা, আর ঢাকা থেকে ইউরোপে কাগজ কুরিয়ার করতে মোটামুটি ৪,০০০–৯,০০০ টাকা — দেখুন ঢাকা থেকে ইউরোপে ডকুমেন্ট কুরিয়ার। একটি দেশে আবেদনের পুরো বাংলাদেশ-অংশের খরচ সাধারণত ২–৪ লাখ টাকা। প্রত্যাখ্যান হলে এর কিছুই ফেরত আসে না।
স্লট না পেলে
এটা বারবার ঘটে, এবং সমাধানগুলো সত্যিই আছে — শুধু খুব সাদামাটা।
রিসেলার নয়, অফিসিয়াল বুকিং সিস্টেমটাই নজরে রাখুন। আরামদায়ক স্লটের অপেক্ষা না করে অসুবিধাজনক স্লট নিতে রাজি থাকুন। আর ফাইলটা পুরো গুছিয়ে রাখুন, যাতে স্লট খোলার দিনই সেটা কাজে লাগে — যাঁরা স্লট হারান তাঁরা সাধারণত তখনো একটা কাগজের অপেক্ষায় থাকেন। আর 'গ্যারান্টিড অ্যাপয়েন্টমেন্ট' বিক্রি করা লোক এমন সুবিধা বেচে যার অস্তিত্বই নেই। পুরোটা আছে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট পাচ্ছেন না: কী করবেন লেখায়।
আগে বুক করার আরেকটা কারণ আছে। গ্রিসের ইনটেক অক্টোবর ও ফেব্রুয়ারি, আর কোন ইনটেক বাস্তবসম্মত তা সাধারণত ভর্তির টাইমলাইন নয়, ভিসার টাইমলাইনই ঠিক করে দেয়। ক্যালেন্ডারটা আছে গ্রিসের ইনটেক ও ডেডলাইন লেখায়, আর নয়টি দেশের পাশাপাশি সময়ের হিসাব আছে কোন দেশের স্টুডেন্ট ভিসায় কত সময় লাগে লেখায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ার আগের সারিটাই সবচেয়ে লম্বা
এখানেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অবাক হয়, আর এই কারণেই এই পথে প্রত্যাখ্যানের চেয়ে কাগজের দেরিতে বেশি ইনটেক নষ্ট হয়।
বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ, আর এখন বহু পরামর্শে বলা হয় অ্যাপোস্টিলই যথেষ্ট। গ্রিসের জন্য সেই পরামর্শ সরাসরি ভুল। গ্রিস অনুচ্ছেদ ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, তাই বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে কনভেনশনটি কাজ করে না, এবং পুরনো, ধীর, পূর্ণ কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের চেইনটিই লাগে। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও আপত্তি জানিয়েছে; ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে।
দেরিতে জানলে দামটা যা মনে হয় তার চেয়ে বেশি, কারণ আর্থিক কাগজের একটা তাজা থাকার সময়সীমা আছে। আপনি অ্যাপোস্টিলের পথে গেলেন, জানলেন সেটা চলবে না, তারপর আসল চেইন শেষ করতে করতে ব্যাংকের কাগজগুলো পুরোনো হয়ে গেল — সেগুলো আবার তুলে আবার চেইনে পাঠাতে হবে। দুই দফা ফি, দুই দফা কুরিয়ার, আর যে জিনিসটা টাকা দিয়ে ফেরত পাওয়া যায় না: ইনটেকটা।
চেইনটা আগে শুরু করুন, আর সঠিক ক্রমে: সার্টিফিকেট অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিল: কোথায়, কত টাকা, কত দিন, তারপর অ্যাপোস্টিল: কোন দেশ মানে, কোন দেশ মানে না।
প্যাকেটের বাকিটা যার যার জায়গায় লেখা আছে: কী কী লাগে তার তালিকা গ্রিসে ভর্তি ও স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আসলে কী কী লাগে লেখায়; টাকার হিসাব গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসায় ফান্ড প্রমাণ লেখায় — পরিকল্পনা করুন বছরে প্রায় €৭,২০০ ধরে, যেখানে আইনি ন্যূনতম মাসে €৪০০ হলেও দূতাবাস বাস্তবে মাসে €৬০০–৭০০ দেখতে চায়; আর গ্রিসের ফাইলে যে লিখিত স্টাডি প্ল্যান চাওয়া হয় — যেটিকে বেশিরভাগ আবেদনকারী SOP ভেবে ভুল করেন — সেটি আছে স্টাডি প্ল্যান ডকুমেন্ট: ইতালি ও গ্রিসের জন্য লেখায়। মনে রাখুন, টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ভিসার আগেই পরিশোধ করতে হয় — সেই হিসাব আছে গ্রিসে পড়তে বাংলাদেশ থেকে মোট কত টাকা লাগে আর গ্রিসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টিউশন ফি লেখায়। কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা আদৌ যুক্তিযুক্ত তা আছে গ্রিসের কোন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা আসলে যুক্তিযুক্ত লেখায়, আর পুরো দেশভিত্তিক ধাপক্রম আছে গ্রিস স্টুডেন্ট ভিসা A–Z লেখায়।
এই পথ কাদের জন্য নয়
যাঁর একটা নির্দিষ্ট তারিখ দরকার। সিদ্ধান্ত তিন সপ্তাহ দেরিতে এলেই যদি আপনার পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে — বাসা ভাড়া নেওয়া হয়ে গেছে, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, ঋণের কিস্তি শুরু হয়ে যাচ্ছে — তাহলে কুরিয়ারের ওই পথটুকুর কারণে গ্রিস আপনার জন্য খারাপ পছন্দ। টাকা দিয়ে দ্রুত করার কোনো চ্যানেল নেই, আর যে কাউন্টারটি অবস্থা জানাতে পারত তাকে সেটা জানাতেই দেওয়া হয় না।
যাঁর বাজেট পার্ট-টাইম আয়ের ওপর দাঁড়িয়ে। গ্রিসে নন-ইইউ শিক্ষার্থীকে কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক অথরাইজেশন) নিতে হয় — নামা মাত্র কাজ শুরু করার অধিকার নয়। আর গ্রিসের কোনো কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে কত ঘণ্টা তার কোনো সংখ্যা প্রকাশ করে না, তাই যে পাতা আপনাকে একটা সংখ্যা দিচ্ছে সেটা বানানো। সৎ হিসাবটা আছে গ্রিসে ছাত্র হিসেবে পার্ট-টাইম কাজের নিয়ম ও শর্ত লেখায়। বছরে €১,৫০০–৪,০০০ টিউশন আর মাসে €৪৫০–৭০০ জীবনযাত্রার খরচ কাগজে সহজ লাগে ঠিক এই কারণেই — এই অঙ্কগুলোর সঙ্গে আয়ের ধারণাটা মানুষ নিজে নিজে জুড়ে নেয়।
যিনি দেরিতে শুরু করছেন। লিগ্যালাইজেশনের চেইন ছোট করা যায় না, স্লটের ক্যালেন্ডার আপনার তাড়া বোঝে না, আর আপনার ইনটেক কাছে বলে কুরিয়ার দ্রুত চলে না।
এই তিনটির একটিও যদি আপনি হন, তাহলে টাকা খরচের আগে পড়ুন গ্রিস আসলে কাদের জন্য ভালো — আর কাদের জন্য নয়, এবং পরের ইনটেক ধরার কথা ভাবতে রাজি থাকুন।
এই সপ্তাহে যা করবেন
- 1কোন ইনটেকে আসলে আবেদন করছেন সেটা ঠিক করুন, আর আজ থেকে সামনের দিকে নয় — ওই ইনটেক থেকে পেছন দিকে গুনুন।
- 2লিগ্যালাইজেশন এখনই শুরু করুন। এই পথের সবচেয়ে লম্বা সারি এটাই, আর একমাত্র এটাই পুরোপুরি আপনার হাতে।
- 3যে কার্ড দিয়ে ফি দেবেন, বুক করার আগেই তাতে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করান।
- 4ফাইলটা পুরো গুছিয়ে নিন, তারপর যে স্লটে যেতে পারবেন তার প্রথমটাই বুক করুন — সবচেয়ে সুবিধাজনকটা নয়।
- 5অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনে ঠিকানা ও সময় পড়ুন, এবং সেটিকেই চূড়ান্ত ধরুন — এই লেখাসহ আর যা কিছু পড়েছেন, তার ওপরে।
গ্রিস এখন আর দিল্লি যাওয়ার ব্যাপার নয়, বনানীতে এক সকালের ব্যাপার — এটা সত্যিকারের উন্নতি, আর এই কারণেই দেশটি আবার শর্টলিস্টে আসে। কিন্তু এটা দ্রুত হয়ে যায়নি, আর এমনও হয়নি যে আপনার শহরের কেউ আপনাকে বলতে পারবে ফাইলটার কী হচ্ছে। ক্যালেন্ডারটা সেই বাস্তবতা ধরে বানান — বাকিটা তাহলে আগেভাগে করে ফেলা সাধারণ কাগজপত্রের কাজ।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Study in Greece — সরকারি তথ্যকেন্দ্র
- Hellenic Republic, Ministry of Foreign Affairs — Bangladesh
- Greek Ministry of Migration and Asylum
- Global Visa Center World — Bangladesh to Greece
- GVCW — ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ফি পরিশোধের পদ্ধতি
- Directive (EU) 2016/801 — শিক্ষার্থী ও গবেষক
- HCCH — অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের স্ট্যাটাস টেবিল ও অনুচ্ছেদ ১২-র আপত্তি
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
গ্রিসের ফাইলটা জমা দেওয়ার আগে একবার দেখে দিই?
লিগ্যালাইজেশন, স্টাডি প্ল্যান, ফান্ডের কাগজ আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্রম — এক জায়গায় মিলিয়ে দেব।
সাধারণ প্রশ্ন
গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি ভারতে যেতে হয়?+
না। ২০২৩ সাল থেকে ঢাকায় গ্রিসের ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে — Global Visa Center World এবং VFS Global মিলে চালায় — এবং ফাইল জমা ও বায়োমেট্রিক দুটোই সেখানেই হয়। আপনি যান না, আপনার ফাইলটি যায়: সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস, আর প্যাকেটটি কুরিয়ারে দুদিকেই যাতায়াত করে। এই জায়গাটাতেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি হয় — মানুষ 'ঢাকায় কেন্দ্র' শুনে ধরে নেয় সিদ্ধান্তও ঢাকায়।
ঢাকায় কি গ্রিসের দূতাবাস আছে?+
বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো আবাসিক দূতাবাস নেই। ঢাকায় একটি অনারারি জেনারেল কনস্যুলেট আছে, কিন্তু অনারারি কনস্যুলেট ভিসা অফিস নয় — সেখানে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা নেওয়া হয় না, বায়োমেট্রিক হয় না, কোনো সিদ্ধান্তও হয় না। বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মিশন নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস। ফাইল নিয়ে অনারারি কনস্যুলেটে যাওয়া মানে একটা সকাল নষ্ট, আর এই ভুলটা বেশ প্রচলিত।
ঢাকায় গ্রিসের ভিসা সেন্টারটি ঠিক কোথায়?+
আমাদের নিজস্ব লেখায় প্রকাশিত ঠিকানা — Borak Mehnur 51/B, ৮ম তলা, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা ১২১৩; জমা নেওয়া হয় রবি থেকে বৃহস্পতি, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা; তথ্যটি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা। এটিকে শুরুর বিন্দু ধরুন, শেষ কথা নয়: একই ভবনে একাধিক দেশের ভিসা কেন্দ্র আছে, কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়, সময়ও বদলায়। আপনার নিজের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনে যে ঠিকানা ও সময় লেখা, সেটিই চূড়ান্ত।
ফাইল দেরি হচ্ছে কেন — এটা কি ভিসা সেন্টার বলতে পারবে?+
না, এবং এটা আগেভাগে বুঝে নিলে এক মাসের ফোন করা বেঁচে যায়। ভিসা সেন্টার একটি আউটসোর্স করা কাউন্টার। তারা দেখে ফর্ম পূরণ হয়েছে কি না ও ফি দেওয়া হয়েছে কি না, কাগজ ও বায়োমেট্রিক নেয়, প্যাকেট পাঠায় এবং উত্তর এলে পাসপোর্ট ফেরত দেয়। কাচের ওপাশের মানুষগুলো কনস্যুলার অফিসার নন, অফিসারের নোট দেখতে পান না, কোনো মূল্যায়ন করেন না এবং ফাইল এগিয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতাও তাঁদের নেই। তাঁরা সৎভাবে যা বলতে পারেন তা হলো হেফাজতের খবর — ফাইল গেছে, পাসপোর্ট ফিরেছে।
গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসায় কত সময় লাগে?+
কেউ সৎভাবে একটা তারিখ দিতে পারবে না, আর যে দিচ্ছে সে অনুমান করছে। যা আছে তা একটি আইনি সীমা: ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী একটি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থী-আবেদনে সিদ্ধান্ত দিতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে। আসল শব্দটি 'সম্পূর্ণ'। ঘড়ি চালু হয় যখন ফাইলটি মূল্যায়নকারীর চোখে সম্পূর্ণ, আপনি যেদিন জমা দিয়েছেন সেদিন নয় — তাই একটি কাগজ কম থাকলে আপনার দেখা টাইমলাইনটাই নতুন করে শুরু হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় কুরিয়ারের দুটি পথ, যেগুলো বাস্তব দিন কিন্তু কোনো নিয়মে গোনা হয় না।
গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসার ফি কত?+
আমরা ইচ্ছে করেই কোনো অঙ্ক লিখছি না। এই পথে টাকা ঠিক করে তিনটি আলাদা পক্ষ: ভিসা ফি নির্ধারিত হয় গ্রিক ও ইউরোপীয় দিক থেকে, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিজের চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব সার্ভিস ফি নেয়, আর সিদ্ধান্ত-প্রদানকারী দূতাবাস ভারতে বলে অঙ্কটি ধরা হয় ভারতীয় রুপিতে। এই সংখ্যাগুলো বদলায়, আর লেখায় বসানো একটা অঙ্ক তার সঠিকতার চেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকে। বুক করার দিনই কেন্দ্রের নিজের ফি-পাতাটি দেখুন, আর কুরিয়ার ও লিগ্যালাইজেশনের খরচ আলাদা করে বাজেটে রাখুন।
গ্রিসের ফাইলে কি বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল চলবে?+
না। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ, কিন্তু গ্রিস অনুচ্ছেদ ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে — তাই বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে কনভেনশনটি কার্যকর নয় এবং পুরনো, পূর্ণ কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের চেইনটিই লাগবে। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও আপত্তি জানিয়েছে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে। এই একটি ভুল আগে আবেদন করে পুষিয়ে নেওয়া যায় না।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট না পেলে কী করব?+
রিসেলারের পাতা নয়, অফিসিয়াল বুকিং সিস্টেমটাই নজরে রাখুন; অসুবিধাজনক স্লট — খুব সকালের বা বেখাপ্পা দিনের — নিতে রাজি থাকুন; আর ফাইলটা আগে থেকে পুরো গুছিয়ে রাখুন, যাতে স্লট খুললে সেদিনই কাজে লাগানো যায়। ইনটেকের আগের ভিড়ে কাগজ নয়, স্লটই সাধারণত আসল বাধা। আর যে-কেউ 'গ্যারান্টিড অ্যাপয়েন্টমেন্ট' বিক্রি করছে, সে এমন সুবিধা বিক্রি করছে যার অস্তিত্ব নেই।
ভিসা প্রসেস হওয়ার সময় পাসপোর্ট কি ওদের কাছেই থাকে?+
হ্যাঁ। গ্রিসের ভিসা পাসপোর্টের ভেতরে ছাপা স্টিকার, তাই পাসপোর্ট ফাইলের সঙ্গে যায় এবং মূল্যায়ন ও দুটি কুরিয়ার-পথ মিলিয়ে পুরো সময়টা আপনার হাতে থাকে না। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন — বিদেশ যাত্রা নয়, পাসপোর্ট লাগে এমন কোনো কাজও নয়। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের দিকে থাকলে আবেদনের আগেই নবায়ন করিয়ে নিন, আবেদনের মাঝখানে নয়।
'Ready for collection' মানে কি ভিসা হয়ে গেছে?+
না। প্রত্যাখ্যানও ঠিক একই পথে, বাইরে থেকে একইরকম দেখতে খামে ফিরে আসে। কাউন্টার ছাড়ার আগেই স্টিকার বা চিঠিটা পড়ে নিন। প্রত্যাখ্যান হলে উল্লেখ করা কারণটি মন দিয়ে পড়ুন, একই ফাইল নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আবার আবেদন করবেন না — কাগজের সমস্যা আর বিষয়বস্তুর সমস্যা এক নয়, আর সেই পার্থক্যই ঠিক করে আবার আবেদন করা যুক্তিযুক্ত কি না।
এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন