গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসায় আসলে কত সময় লাগে: ঢাকায় জমা, দিল্লিতে সিদ্ধান্ত, আর তার আগের লিগ্যালাইজেশন
গ্রিসের ফাইল জমা হয় ঢাকায়, সিদ্ধান্ত হয় নয়াদিল্লিতে, আর কাগজ যায় কুরিয়ারে। ঘড়ি কখন শুরু হয়, কেন লিগ্যালাইজেশন চেইনই সবচেয়ে ধীর ধাপ, ৯০ দিনের সীমা কী বলে, আর ইনটেক ধরে নিরাপদ হিসাব কীভাবে করবেন।
এক নজরে: "গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসায় কত দিন লাগে" প্রশ্নের সৎ উত্তর একটি সংখ্যা নয়, একটি প্রক্রিয়া। ফাইল জমা হয় ঢাকায়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস, আর কাগজ দুই দিকেই কুরিয়ারে যায় — এই ট্রান্সফার ধাপটি কোনো ট্র্যাকারে দেখা যায় না এবং ঢাকার কেউ এ নিয়ে কথা বলতে পারে না। তার চেয়েও বড় কথা, আবেদনের সামনে দাঁড়ানো লিগ্যালাইজেশন চেইনটি সিদ্ধান্তের চেয়েও ধীর, কারণ গ্রিস আর্টিকেল ১২-তে আপত্তি জানিয়েছে এবং অ্যাপোস্টিল এখানে কোনো কাজেই লাগে না। যেটি আইন: সম্পূর্ণ আবেদনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন (ডিরেক্টিভ 2016/801), আর ঘড়ি চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে জমা থেকে সিদ্ধান্ত ৪–৮ সপ্তাহ — আমাদের পর্যবেক্ষণ, কারও প্রতিশ্রুতি নয়।
প্রশ্নটা সাধারণত ভুল জায়গা থেকে শুরু হয়
প্রায় সবাই প্রশ্নটা করেন এভাবে: "জমা দেওয়ার পর কত দিন?" অথচ গ্রিসের ক্ষেত্রে ওই প্রশ্নটি টাইমলাইনের শেষ তৃতীয়াংশ নিয়ে — আর সাধারণত সেটিই সবচেয়ে ছোট অংশ।
যে তিনটি জিনিস আসলে সময় ঠিক করে, তার একটিও ভিসা অফিসারের গতি নয়:
- ঘড়ি আইনত কখন শুরু হয় — অর্থাৎ ফাইল কবে সম্পূর্ণ হলো, কবে হাতবদল হলো তা নয়
- কর্তৃপক্ষ নিজে কী প্রকাশ করে — গ্রিসের স্টাডি ভিসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সেবা-সময় প্রকাশিত নেই
- কাগজ চাওয়া হলে আপনি কত দ্রুত দেন — এটিই একমাত্র ভেরিয়েবল যা আপনার হাতে
তাই এই লেখাটি একটি সংখ্যা নয়, একটি ক্যালেন্ডার তৈরির পদ্ধতি দেয়।
ঘড়ি শুরু হয় ফর্ম পূরণের অনেক আগে
গ্রিসের জন্য টাইমলাইনের সবচেয়ে বড় ধাপটি আবেদনের আগের ধাপ, এবং সেটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, যা ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর। কিন্তু গ্রিস আর্টিকেল ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মতোই। আপত্তি মানে ওই দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর নয় — অর্থাৎ গ্রিসের ফাইলে অ্যাপোস্টিল কোনো শর্টকাট নয়, পুরো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনটাই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল নেয়; গ্রিস নেয় না। বাক্যটির দুই অর্ধেকই জরুরি: অ্যাপোস্টিল কোন দেশ মানে, কোন দেশ মানে না এবং অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিলের ক্রম।
এর সময়গত মানে খুব সোজা। আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে একটি সাধারণ কাগজপত্রের সেটে বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দূতাবাস পর্যন্ত পুরো চেইনে ৪–৮ সপ্তাহ যায় — অর্থাৎ সিদ্ধান্তে যত সময় লাগে, প্রায় ততটাই। মানুষ ধরে নেয় ভিসার অপেক্ষা মানে দূতাবাসের অপেক্ষা; বাস্তবে গ্রিসের ক্ষেত্রে অপেক্ষার প্রথম অর্ধেকটা শুরুই হয় ঢাকার সরকারি দপ্তরগুলোতে, এবং সেটি কেউ গুনতে ভুলে যায়।
এখানে একটি নিষ্ঠুর ধর্ম আছে: চেইনের প্রতিটি দপ্তর আগেরটির স্বাক্ষর যাচাই করে, তাই ক্রম ভাঙলে ধাপটি আবার করতে হয়। কোন কাগজ কতদিন বৈধ থাকে সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চেইন চলাকালীন কিছু একটা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া মানে নতুন সমস্যা: কোন ডকুমেন্ট কতদিন বৈধ।
ফাইলটা আসলে কার হাতে থাকে
গ্রিস আমাদের নয়টি দেশের মধ্যে একমাত্র হাইব্রিড — শারীরিক কাজটা এখানে, সিদ্ধান্তটা ওখানে। ধাপগুলোর বিস্তারিত আছে গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে লেখায়; এখানে শুধু সময়ের দিকটা:
| ধাপ | ফাইল কার হাতে | আপনি কী করতে পারেন |
|---|---|---|
| জমা ও বায়োমেট্রিক | ঢাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্র | রসিদ ও রেফারেন্স নম্বর যত্নে রাখুন |
| ট্রান্সফার | কুরিয়ার | কিছুই না — এবং এই ধাপটি কোথাও দেখা যায় না |
| মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত | নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস | কেবল কাগজ চাওয়া হলে দ্রুত উত্তর |
| যাচাই (হলে) | দূতাবাস, কখনো ব্যাংক বা ইউনিভার্সিটিতে যোগাযোগ করে | কিছুই না; সময় বাড়ে, জানানো হয় না |
| ফেরত যাত্রা | কুরিয়ার | কিছুই না |
| সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত | ঢাকার কেন্দ্র | সংগ্রহ করুন, এবং খাম খোলার আগেই ধরে নেবেন না |
ছয়টি সারির মধ্যে চারটিই আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটিই এই লেখার পুরো যুক্তি: যেহেতু অপেক্ষার বেশির ভাগই অদৃশ্য, তাই শক্তি ব্যয় করতে হবে প্রথম দিনে কী জমা দিচ্ছেন তার ওপর।
দুটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। ঢাকার কেন্দ্র আপনার ফাইলের সিদ্ধান্ত জানে না — তারা কাগজ নেয়, আঙুলের ছাপ নেয়, পাঠায়। আর "সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত" মানে অনুমোদন নয়; প্রত্যাখ্যানও ঠিক একই পথে, একই চেহারায় ফেরত আসে, খাম খোলার আগ পর্যন্ত পার্থক্য বোঝার উপায় নেই।
আইন কী দেয়, আর কী দেয় না
ইউরোপীয় আইনে শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে হয় ৯০ দিনের মধ্যে (ডিরেক্টিভ (EU) 2016/801)। গ্রিস এই কাঠামোর ভেতরেই পড়ে। তিনটি শব্দ পুরো কাজটা করে:
সর্বোচ্চ। এটি ছাদ, লক্ষ্য নয় এবং গড়ও নয়। ৮৯তম দিনে দেওয়া সিদ্ধান্তও আইনের ভেতরে।
সম্পূর্ণ। ঘড়িটি বাঁধা আছে ফাইলের সম্পূর্ণতার সঙ্গে, হস্তান্তরের তারিখের সঙ্গে নয়। একটি অনুবাদ বাকি, ইন্স্যুরেন্সের সনদ আসেনি, বা টাকার উৎস নিয়ে একটি প্রশ্ন ঝুলে আছে — এই অবস্থায় ফাইলটি ধীর নয়, অসম্পূর্ণ। যে সময়টা কর্তৃপক্ষ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, সেটি তারা আপনার ফাইলের পেছনে ব্যয় করছে না।
সিদ্ধান্ত। ৯০ দিন একটি সিদ্ধান্তের সময়সীমা, অনুমোদনের নয়। ৮৫তম দিনে আসা প্রত্যাখ্যানও সময়সীমা মেনেছে।
আর যেটি প্রকাশিত নেই: বাংলাদেশ থেকে গ্রিসের ন্যাশনাল স্টাডি ভিসার কোনো নির্দিষ্ট প্রসেসিং সময় কোনো কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে না। আমাদের নয় দেশের তুলনামূলক পাতায় কোন দেশের ভিসায় কত সময় লাগে যে ৪–৮ সপ্তাহ লেখা আছে, সেটি আমাদের নিজেদের পর্যবেক্ষণ হিসেবেই লেখা — আকৃতি বোঝার জন্য কাজে লাগে, কারও দেওয়া প্রতিশ্রুতি নয়।
যে সংখ্যাটা সবাই বলে, সেটা অন্য ভিসার
গ্রিসের টাইমলাইন নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুলটি সহজ, কিন্তু ব্যয়বহুল। মানুষ পড়ে যে শেনজেন ভিসার সিদ্ধান্ত ১৫ দিনে হয় এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পর্যন্ত যেতে পারে — তারপর ধরে নেয় তার স্টুডেন্ট ফাইলেও তাই।
ওই সীমা স্বল্পমেয়াদি শেনজেন C ভিসার, যেটি ভ্রমণের জন্য। আপনি আবেদন করছেন দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল D ভিসার, যেটি সম্পূর্ণ আলাদা শ্রেণি, আলাদা কাগজ এবং আলাদা সময়ের কাঠামোতে চলে। পার্থক্যটি আলাদা করে লেখা আছে টাইপ-D বনাম শেনজেন টাইপ-C লেখায়। কেউ যদি "গ্রিসের ভিসা ১৫ দিনে হয়" বলে, সে হয় ভুল পাতা পড়েছে, নয়তো ভুল ভিসার কথা বলছে।
ট্র্যাকিং কাস্টডি দেখায়, অগ্রগতি নয়
একটি ট্র্যাকিং রেফারেন্স আপনাকে বলে কাগজটি এখন কার হাতে — গৃহীত, প্রক্রিয়াধীন, পাঠানো হয়েছে, সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। এটুকুই, এবং এটুকুই।
এটি বলে না কোনো অফিসার ফাইল খুলেছেন কি না, যাচাই চলছে কি না, সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে কিন্তু ছাপা হয়নি কি না, কিংবা ফলাফল কী। তিন সপ্তাহ একই স্ট্যাটাস থাকা সমস্যার প্রমাণ নয়; স্ট্যাটাস বদলানোও অনুমোদনের প্রমাণ নয়। মেকানিক্সটা বিস্তারিত আছে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং গাইডে, VFS-এ জমার পর কী হয় এবং পাসপোর্ট কোথায় থাকে লেখায়; সংগ্রহের ধাপটি আছে পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও সংগ্রহে।
যেটি সত্যিই পাহারা দেওয়া দরকার তা ট্র্যাকার নয় — আপনার ইমেইল ও ফোন, এবং স্পন্সর ও ইউনিভার্সিটির জন্য দেওয়া নম্বরগুলোও। কাগজ চাওয়ার বার্তাটি সময়-সংবেদনশীল; ট্র্যাকার নয়।
ইনটেক ধরে পিছন থেকে হিসাব
⚠️ নিচের সারণিটি পরিকল্পনার পরামর্শ, কারও প্রকাশিত নিশ্চয়তা নয়। সংখ্যাগুলো আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, এবং মৌসুম, ছুটি বা একটি বাড়তি কাগজের অনুরোধ যেকোনোটিকে সরিয়ে দিতে পারে।
| ধাপ | আমরা কত সময় ধরে হিসাব করি | কেন |
|---|---|---|
| অফার ও কাগজ গোছানো | ইনটেকের আগে, ইউনিভার্সিটির নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী | ভর্তির সিদ্ধান্ত আরামদায়ক মাসে এলেও ভিসার দৌড় ছোট হয়ে যেতে পারে |
| কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইন | ৪–৮ সপ্তাহ (আমাদের পর্যবেক্ষণ) | প্রতিটি দপ্তর আগেরটির স্বাক্ষর যাচাই করে; অ্যাপোস্টিল এটি ছোট করে না |
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও জমা | মৌসুমভেদে বদলায়; প্রকাশিত সময় নেই | জুলাই–সেপ্টেম্বরে স্লটই সাধারণত আসল বাধা |
| জমা থেকে সিদ্ধান্ত | ৪–৮ সপ্তাহ (আমাদের পর্যবেক্ষণ); আইনি সর্বোচ্চ ৯০ দিন | দুই দিকের কুরিয়ার এই সময়ের ভেতরেই |
| বাফার | ৩–৪ সপ্তাহ | একটি কাগজের অনুরোধ মানে গ্রিসে আরেকটি যাত্রাও |
যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ মাস। গ্রিসের ইনটেক দুটি — অক্টোবর ও ফেব্রুয়ারি। তাই অক্টোবরের ক্লাস ধরতে হলে কাজ শুরু মে মাসের দিকে, আর ফেব্রুয়ারির জন্য সেপ্টেম্বরের দিকে। হিসাবটা আপনি নিজেই মিলিয়ে নিতে পারেন, এবং সেটাই উদ্দেশ্য — একটি সংখ্যা মুখস্থ করার চেয়ে নিজের ক্যালেন্ডার বানাতে পারা ভালো। ইনটেকের তারিখগুলো আছে গ্রিসের ইনটেক ও ডেডলাইন ক্যালেন্ডারে, আর সামগ্রিক ছক আছে আবেদনের মাস্টার টাইমলাইনে। স্প্রিং ইনটেক কাদের জন্য ভালো, তা আছে স্প্রিং ইনটেকের লেখায়।
⚠️ অফেরতযোগ্য টিকিট কাটবেন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর। ভিসার আগে টিকিট কাটা এই ধাপের সবচেয়ে দামি ভুল, এবং এটি প্রতি বছর ঘটে।
আপনার হাতে একটাই ঘড়ি আছে
পুরো টাইমলাইনে আপনি একটিমাত্র জিনিস নিয়ন্ত্রণ করেন: কাগজের অনুরোধের উত্তর কত দ্রুত দেন। দিনের হিসাবে দিন, সপ্তাহের হিসাবে নয়।
গ্রিসে এর ওজন আরও বেশি, কারণ অনুরোধের উত্তর দেরি হলে শুধু আপনার দেরিটুকু যোগ হয় না — ফাইলটি আবার দিল্লি যাওয়া-আসার সারিতে ঢোকে। একটি সপ্তাহের অলসতা তাই একটি সপ্তাহ নয়।
বাকি যা করবেন, সবই আগে থেকে:
- 1জমা দেওয়ার আগে কাগজ সম্পূর্ণ করুন, কারণ ঘড়িটা সম্পূর্ণতার সঙ্গে বাঁধা — এক পাতায় দেশভিত্তিক ডকুমেন্ট চেকলিস্ট এবং গ্রিসে আসলে কী কী লাগে
- 2ফান্ডের কাগজ এমনভাবে সাজান যাতে প্রশ্নই না ওঠে — গ্রিসের ফান্ড প্রমাণ
- 3স্টাডি প্ল্যানটি আলাদা করে লিখুন; এটি SOP নয় — স্টাডি প্ল্যান ডকুমেন্ট
- 4ইন্স্যুরেন্স আগেই নিন — হেলথ ইন্স্যুরেন্স
- 5স্পন্সরকে জানিয়ে রাখুন, যাতে ব্যাংক বা দূতাবাস ফোন করলে তিনি প্রশ্নটা চিনতে পারেন
আর যা করবেন না: একই ফাইল নিয়ে পাঁচজনকে দিয়ে যোগাযোগ করাবেন না, না চাইতে বাড়তি কাগজ পাঠাবেন না (তাতে যাচাই নতুন করে শুরু হতে পারে), আর মাঝপথে স্পন্সর বা অ্যাকাউন্ট বদলাবেন না।
অপেক্ষা যদি সত্যিই লম্বা হয়ে যায়, কী করবেন তা আছে ভিসা দেরি হলে করণীয় লেখায়; প্রত্যাখ্যান এলে আগে চিঠিটা পড়ুন — প্রত্যাখ্যানের চিঠি ও কোড পড়ার নিয়ম।
এই পাতা কাদের জন্য নয়
যদি আপনি চান কেউ বলে দিক "১৫ দিনে হয়ে যাবে", আমরা সেটি বলব না — এবং যে পাতা বলে, সেটি অনুমান করছে।
যদি আপনার ক্লাস শুরু হতে আর দুই মাস বাকি এবং লিগ্যালাইজেশন এখনো শুরু হয়নি, তাহলে এই লেখার টেবিলগুলো আপনাকে সাহায্য করবে না; আপনার বাস্তবসম্মত লক্ষ্য পরের ইনটেক, এবং সেটি এখনই ইউনিভার্সিটিকে জানানো ভালো।
আর যদি আপনার পুরো পরিকল্পনাটাই এই শর্তে দাঁড়িয়ে থাকে যে ভিসা দ্রুত আসবে, তাহলে সমস্যাটা ভিসার নয়, পরিকল্পনার। গ্রিস কাদের জন্য সত্যিই ভালো, সেটি সৎভাবে লেখা আছে গ্রিস আসলে কাদের জন্য লেখায়, আর দেশটির পুরো ছবি আছে গ্রিস স্টুডেন্ট ভিসা A–Z ও গ্রিসের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় লেখায়।
যে সংখ্যাটা আমরা প্রকাশ করি না
কোনো এজেন্সির পাতায় লেখা "আনুমানিক ৩০ দিন" কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, এবং সেটি কেউ পালন করতে বাধ্যও নয়। আমরা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি এমন কোনো প্রসেসিং সময় প্রকাশ করি না। যেটি আইন সেটি আইন হিসেবে বলি — সম্পূর্ণ আবেদনে ৯০ দিন; যেটি আমাদের নিজেদের দেখা, সেটিকে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলেই লিখি — ৪–৮ সপ্তাহ।
⚠️ কনস্যুলার নিয়ম ও কেন্দ্রের পদ্ধতি বদলায়। জমা দেওয়ার আগে গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিজস্ব ঘোষণা দেখে নিন। তথ্য যাচাই করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Directive (EU) 2016/801 — students and researchers
- Hellenic Republic, Ministry of Foreign Affairs
- Study in Greece — সরকারি তথ্যকেন্দ্র
- Greek Ministry of Migration and Asylum
- Global Visa Center World — Bangladesh to Greece
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
আপনার ইনটেক ধরে গ্রিসের ক্যালেন্ডার বানিয়ে দিই
কোন মাসের ক্লাস বলুন — লিগ্যালাইজেশন কবে শুরু, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কবে, বাফার কতটা, সব তারিখ সাজিয়ে পাঠাই।
সাধারণ প্রশ্ন
গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসায় ঠিক কত দিন লাগে?+
কোনো কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য গ্রিসের ন্যাশনাল স্টাডি ভিসার নির্দিষ্ট প্রসেসিং সময় প্রকাশ করে না, তাই সৎ উত্তর হলো নির্দিষ্ট দিন কেউ বলতে পারে না। যেটি আইন, সেটি হলো সম্পূর্ণ আবেদনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত (ডিরেক্টিভ 2016/801)। আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে জমা থেকে সিদ্ধান্ত সাধারণত ৪–৮ সপ্তাহ — এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ, কারও প্রতিশ্রুতি নয়।
ঘড়ি কি জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু হয়?+
না। ৯০ দিনের হিসাব শুরু হয় আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। একটি অনুবাদ, একটি ইন্স্যুরেন্স সনদ বা টাকার উৎস সম্পর্কে চাওয়া একটি কাগজ বাকি থাকলে ফাইলটি ধীর নয় — অসম্পূর্ণ, এবং তখন কোনো ঘড়িই চালু হয়নি। এ কারণেই একটি কাগজ কম থাকা সারিতে দাঁড়ানোর চেয়ে অনেক বেশি সময় খায়।
ঢাকায় জমা দেওয়া যায়, তাহলে সিদ্ধান্তও কি ঢাকায় হয়?+
না। জমা ও বায়োমেট্রিক ঢাকাতেই হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস এবং ফাইল কুরিয়ারে যায়-আসে। এর ফলে আপনি যাদের সামনে দাঁড়াতে পারেন তাঁরা আপনার ফাইল ধরে রাখেন না, আর যাঁরা ধরে রাখেন তাঁরা অন্য দেশে। ধাপগুলো আলাদা করে লেখা আছে গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে লেখায়।
অ্যাপোস্টিল করালে কি সময় কমবে?+
গ্রিসের ক্ষেত্রে কমবে না। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং তা ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর, কিন্তু গ্রিস আর্টিকেল ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে — ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও জানিয়েছে। আপত্তি মানে দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর নয়, তাই পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল নেয়।
শুনেছি শেনজেন ভিসার সিদ্ধান্ত ১৫ দিনে হয় — সেটা কি এখানে খাটে?+
না, ওটি অন্য ভিসার নিয়ম। ১৫ দিনের কথাটি স্বল্পমেয়াদি শেনজেন C ভিসার, যা ভ্রমণের জন্য। আপনি আবেদন করছেন দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল D ভিসার, যার কাঠামো ও সময় আলাদা এবং সাধারণত অনেক বেশি। এই দুটি গুলিয়ে ফেলাই গ্রিসের টাইমলাইন নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল।
ট্র্যাকিং পেজে সপ্তাহখানেক ধরে একই লেখা — এটা কি খারাপ লক্ষণ?+
না। ট্র্যাকিং কেবল কাস্টডি দেখায়, অর্থাৎ কাগজটি এখন কার হাতে — অগ্রগতি নয়। স্ট্যাটাস না বদলানো মানে সমস্যা নয়, আবার স্ট্যাটাস বদলে গেলেও সেটি অনুমোদনের প্রমাণ নয়; প্রত্যাখ্যানও ঠিক একই পথে ফেরত আসে। যেটি সত্যিই দেখা দরকার তা হলো আপনার ইমেইল ও ফোন।
কাগজ চাওয়া হলে কত দ্রুত দেওয়া উচিত?+
দিনের হিসাবে, সপ্তাহের হিসাবে নয়। এটিই টাইমলাইনের একমাত্র অংশ যা আপনার হাতে। গ্রিসের ক্ষেত্রে আরও বেশি, কারণ একটি বাড়তি কাগজ মানে শুধু কাগজ জোগাড়ের সময় নয় — আরেকটি কুরিয়ার যাত্রাও যোগ হয়।
অক্টোবরের ইনটেক ধরতে হলে কবে থেকে কাজ শুরু করা উচিত?+
আমাদের পরিকল্পনার নিয়ম: লিগ্যালাইজেশন ৪–৮ সপ্তাহ, জমা থেকে সিদ্ধান্ত ৪–৮ সপ্তাহ, তার ওপর ৩–৪ সপ্তাহ বাফার — সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ মাস। অর্থাৎ অক্টোবরের ইনটেকের জন্য মে মাসের দিকে, আর ফেব্রুয়ারির ইনটেকের জন্য সেপ্টেম্বরের দিকে কাজ শুরু করা। সংখ্যাগুলো আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, প্রতিশ্রুতি নয়।
টাকা দিলে বা কারও মাধ্যমে কি ফাইল আগে তোলা যায়?+
যায় না। শিক্ষার্থীর ফাইলের জন্য কোনো প্রিমিয়াম বা অগ্রাধিকার প্রসেসিং নেই, আর কোনো পরামর্শকের হাতে সারি এগিয়ে দেওয়ার পথ নেই। যে কেউ নির্দিষ্ট তারিখ বলে দিলে সেটি অনুমান, আর নিশ্চয়তা দিলে সেটি মিথ্যা — এটিই সততা যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা।
সময়মতো ভিসা না এলে ক্লাস কি হারিয়ে যায়?+
সাধারণত না, যদি আগে থেকে কথা বলে রাখেন। ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অফিসকে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন তারা আসন ধরে রাখবে নাকি পরের ইনটেকে সরিয়ে দেবে। গ্রিসে অক্টোবর ও ফেব্রুয়ারি — দুটি ইনটেক আছে, তাই ডেফারমেন্ট প্রায়ই সম্ভব। তবে এটি আপনার শুরু করা আলোচনা হওয়া উচিত, ডেডলাইন পেরোনোর পর আবিষ্কার করা ঘটনা নয়।
এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন