যেকোনো কনসালটেন্সি যাচাই করুন — আমাদেরসহ
এই বাজারে প্রায় কোনো এজেন্সির দাবিই যাচাই করা যায় না। তাই আমরা বড় দাবি করার বদলে যাচাইয়ের হাতিয়ারগুলো আপনাকে দিচ্ছি — এবং একই পরীক্ষায় নিজেদের উত্তরও নিচে প্রকাশ করেছি, যেগুলোতে আমরা ব্যর্থ সেগুলোসহ।
এজেন্সির ওয়েবসাইট খুলে, অথবা পরের বৈঠকে, তালিকাটি মিলিয়ে নিন। যা যা পান টিক দিন — নিচে ডানপাশে ফলাফল দেখাবে।
যেগুলো আপনি খুঁজে পেয়েছেন সেগুলোতে টিক দিন
- গুরুতর
যে টাকা আপনার নেই, সেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট “ব্যবস্থা করে দেওয়ার” প্রস্তাব
যেভাবে শোনায়: “স্টেটমেন্ট আমরা করে দেব”, “কিছু টাকা রেখে দিলেই হবে”, “ব্যালেন্স ম্যানেজ হয়ে যাবে” — যেকোনো রূপে।
যে টাকা আপনার নয়, তা দেখানো ডকুমেন্ট জালিয়াতি। এটি ভিসা রিফিউজের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, এবং ধরা পড়লে শুধু ভিসা নয় — ভবিষ্যতে ওই দেশে (এবং প্রায়ই পুরো শেনজেন এলাকায়) আবেদনের সুযোগও নষ্ট হয়। এজেন্সির কিছু হয় না; ফল ভোগ করেন আপনি, আপনার নামে, আপনার পাসপোর্টে।
- গুরুতর
ভিসা “সাকসেস রেট” প্রকাশ করে
যেভাবে শোনায়: “৯৮% সাকসেস রেট”, “১০০% ভিসা সাফল্য”, “হাই ভিসা রেশিও”।
কোনো দূতাবাস, মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষ কনসালটেন্সি-ভিত্তিক ভিসা অনুমোদনের হার প্রকাশ করে না। তাই এই সংখ্যাগুলো কেউ যাচাই করতে পারে না — এজেন্সি নিজেও না। ভিসার সিদ্ধান্ত নেয় দূতাবাস, এজেন্সি নয়। খেয়াল করুন: এই বাজারের একাধিক বড় এজেন্সির নিজের সাইটেই পরস্পরবিরোধী হার লেখা আছে।
- গুরুতর
ভিসা, চাকরি বা PR-এর নিশ্চয়তা দেয়
যেভাবে শোনায়: “ভিসা গ্যারান্টি”, “জব গ্যারান্টি”, “পড়ার সাথে কাজ — আয় নিশ্চিত”, “২ বছরে PR”।
কোনো এজেন্সির ভিসা দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাই নিশ্চয়তা দেওয়ারও ক্ষমতা নেই। চাকরি বা PR-এর নিশ্চয়তা আরও অবাস্তব — ওগুলো ভিন্ন আইনে, ভিন্ন কর্তৃপক্ষের হাতে, এবং আপনার ফলাফল ও ভাষার উপর নির্ভরশীল। যে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেই এমন কিছুর নিশ্চয়তা দেয়, সে অন্য কোন কথাগুলোতেও বাড়িয়ে বলছে তা আপনি জানেন না।
- গুরুত্বপূর্ণ
টাকা দেওয়ার আগে লিখিত হিসাব দিতে রাজি নয়
যেভাবে শোনায়: মোট ফি বলতে না চাওয়া, “পরে জানাব”, বা শুধু মুখে বলা অঙ্ক।
এই বাজারে ফি প্রকাশ করার চল নেই — পর্যালোচনা করা বড় সাইটগুলোর একটিও তাদের সার্ভিস ফি প্রকাশ করে না। তাই লিখিত হিসাব চাওয়াটা অভদ্রতা নয়, এটাই স্বাভাবিক। কোনটি সার্ভিস ফি, কোনটি ইউনিভার্সিটির, কোনটি দূতাবাসের — তিনটি আলাদা করে লেখা আছে কি না দেখুন। রিফান্ডের শর্ত থাকলে তা কে বিচার করবে সেটিও লেখা থাকা দরকার: “আমাদের ভুলের কারণে রিফান্ড” এমন শর্ত, যেখানে ভুল হয়েছে কি না তা এজেন্সি নিজেই ঠিক করে।
- গুরুত্বপূর্ণ
সংখ্যা আছে, কিন্তু সরকারি সূত্রের কোনো লিংক নেই
যেভাবে শোনায়: টিউশন, ব্যাংক ব্যালেন্স বা কাজের ঘণ্টার অঙ্ক — কিন্তু কোনো দূতাবাস বা মন্ত্রণালয়ের লিংক নেই।
ব্যাংক ব্যালেন্সের অঙ্ক প্রতি বছর বদলায়। ইতালির ক্ষেত্রে ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষে এটি এক ধাপেই প্রায় ৪৬% বেড়েছে। যে সাইট সূত্র দেয় না, সে সংখ্যা পুরোনো হলে আপনি জানতেও পারবেন না — আর দূতাবাসে গিয়ে কম টাকা দেখানো মানে রিফিউজ।
- গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য কবে যাচাই হয়েছে, কোথাও লেখা নেই
যেভাবে শোনায়: শিরোনামে “২০২৬ সর্বশেষ আপডেট”, কিন্তু ভেতরে কোনো তারিখ নেই।
শিরোনামে সাল বসানো সহজ, তথ্য যাচাই করা কঠিন। একটি জনপ্রিয় বাংলা সাইটের ১৮৯টি লেখার মধ্যে ১৮৫টির “আপডেটের তারিখ” হুবহু একই দিনের — অর্থাৎ একবারে সব ছাপ মেরে দেওয়া হয়েছে, কোনো লেখা নতুন করে দেখা হয়নি। তারিখ যদি দাবি হয়, তবে তার পাশে সূত্র থাকা দরকার।
- গুরুত্বপূর্ণ
স্বীকৃতির ব্যাজ দেখায়, কিন্তু সনদ নম্বর বা নাম দেয় না
যেভাবে শোনায়: “British Council certified”, “ICEF trained” — কিন্তু কোন ব্যক্তি, কোন সনদ, কোথায় খুঁজব — কিছুই নেই।
শব্দগুলো কাছাকাছি হলেও জিনিসগুলো আলাদা। “ICEF Agency Status” একটি প্রতিষ্ঠান-পর্যায়ের স্বীকৃতি যা প্রকাশ্য রেজিস্ট্রিতে খোঁজা যায়; “ICEF trained counsellor” একজন ব্যক্তির প্রশিক্ষণ সনদ — প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নয়। আর British Council নিজেই স্পষ্ট বলে যে তারা এজেন্টদের অনুমোদন বা স্বীকৃতি দেয় না, শুধু যুক্তরাজ্য সম্পর্কে জ্ঞানের সনদ দেয় — অর্থাৎ ইতালি বা হাঙ্গেরিতে পাঠানো এজেন্সির গায়ে ওই ব্যাজ ইউরোপ সম্পর্কে কিছুই প্রমাণ করে না।
- লক্ষণীয়
ইউনিভার্সিটির লোগো আছে, চুক্তির কোনো প্রমাণ নেই
যেভাবে শোনায়: নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সারি সারি লোগো — কোনো এজেন্ট আইডি বা লিংক নেই।
লোগো বসানো যায় যে কারও। প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব থাকলে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাইটে এজেন্ট তালিকায় নাম থাকে। সন্দেহ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দপ্তরে সরাসরি ইমেইল করে জিজ্ঞাসা করুন।
- লক্ষণীয়
শিক্ষার্থীর ছবি ও ভিসার কাগজ প্রকাশ করে, সম্মতির কথা নেই
যেভাবে শোনায়: নাম-ছবিসহ ডজন ডজন “সফল শিক্ষার্থী”, ভিসা স্ট্যাম্পের ছবি — সম্মতি নিয়ে একটি বাক্যও নেই।
ভিসার কাগজে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও ছবি থাকে। যে প্রতিষ্ঠান আগের শিক্ষার্থীর কাগজ অনুমতির কথা না লিখে প্রকাশ করছে, সে আপনার কাগজও একদিন একইভাবে প্রকাশ করতে পারে।
- লক্ষণীয়
আপনার ফাইল কে দেখবেন, তাঁর নাম বলে না
যেভাবে শোনায়: শুধু “আমাদের অভিজ্ঞ কাউন্সেলর টিম”; কারও নাম বা পদ নেই।
নাম থাকলে দায়বদ্ধতা থাকে। ছয় মাস পরে সমস্যা হলে আপনি কার কাছে যাবেন, সেটি আজই জানা দরকার। প্রতিষ্ঠানে কতজন কাজ করেন তা বড় কথা নয় — আপনার ফাইলের দায়িত্বে কে, সেটাই কথা।
চারটি প্রকাশ্য জায়গা। প্রতিটির নিচে লিখেছি সেটি কী প্রমাণ করে — এবং সমান গুরুত্বে, কী প্রমাণ করে না।
RJSC — কোম্পানি নিবন্ধন
যা প্রমাণ করে: প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে একটি নিবন্ধিত কোম্পানি বা ফার্ম হিসেবে আইনত বিদ্যমান কি না, এবং কোন নামে।
যা প্রমাণ করে না: শিক্ষা-পরামর্শ দেওয়ার কোনো যোগ্যতা বা অনুমোদন। নিবন্ধন মানে কেবল কোম্পানিটি আছে — ভালো কি মন্দ, তার কিছুই নয়।
- 1roc.gov.bd খুলুন এবং নাম-অনুসন্ধান (name search) অপশনে যান।
- 2এজেন্সির পুরো আইনি নাম লিখুন — সাইনবোর্ডের নাম নয়, ইনভয়েস বা চুক্তিপত্রে যে নাম লেখা সেটি।
- 3নাম না মিললে তাদের কাছে আইনি নামটি চেয়ে নিন। যে প্রতিষ্ঠান নিজের নিবন্ধিত নাম বলতে চায় না, সেটিই উত্তর।
ICEF Agency Status — আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
যা প্রমাণ করে: প্রতিষ্ঠানটি ICEF-এর স্বাধীন যাচাই ও আচরণবিধির আওতায় আছে কি না। এটি এই খাতের সবচেয়ে অর্থবহ যাচাইযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর একটি, এবং সনদ নম্বরসহ প্রকাশ্যে খোঁজা যায়।
যা প্রমাণ করে না: সেবার মান বা ভিসার সম্ভাবনা। আর গুরুত্বপূর্ণ: ICEF-এর তালিকায় নাম না থাকা মানেই স্বীকৃতি নেই — এমন নয়। ICEF নিজেই বলে যে তালিকাভুক্তি ঐচ্ছিক, এবং কিছু স্বীকৃত এজেন্সি ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকায় থাকে না। তাই এটি “আছে” প্রমাণ করার পরীক্ষা, “নেই” প্রমাণ করার নয়।
- 1icef.com-এর IAS ডিরেক্টরিতে যান — লগইন লাগে না।
- 2দেশ হিসেবে Bangladesh বেছে নিন, অথবা এজেন্সির নাম লিখে খুঁজুন।
- 3নাম পেলে সনদ নম্বর ও মেয়াদের তারিখ দেখুন। এজেন্সি যদি নিজের সনদ নম্বর দিতে না চায়, সেটিও একটি উত্তর।
British Council — প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর তালিকা
যা প্রমাণ করে: নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি British Council-এর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন কি না। তালিকাটি প্রকাশ্য ও নাম ধরে খোঁজা যায়।
যা প্রমাণ করে না: এটি অনুমোদন বা স্বীকৃতি নয় — British Council স্পষ্টভাবে বলে যে তারা এজেন্ট বা কাউন্সেলরকে অনুমোদন, স্বীকৃতি বা বৈধতা দেয় না; কেবল যুক্তরাজ্য সম্পর্কে জ্ঞানের একটি ডিজিটাল সনদ দেয়। এবং এটি সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাজ্য-কেন্দ্রিক: ইউরোপের কোনো দেশ সম্পর্কে এটি কিছুই প্রমাণ করে না।
- 1British Council-এর কাউন্সেলর ডেটাবেসে যান।
- 2দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে খুঁজুন — ব্যক্তির নাম ধরে, প্রতিষ্ঠানের নাম ধরে নয়।
- 3এজেন্সি “British Council certified” লিখলে জিজ্ঞাসা করুন কোন ব্যক্তি, কোন সনদ — এবং সেটি ইউরোপে পড়ার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত।
ট্রেড লাইসেন্স — এবং কেন এটি যথেষ্ট নয়
যা প্রমাণ করে: সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি আছে। প্রতিটি বৈধ ব্যবসারই এটি থাকে — চায়ের দোকান থেকে কনসালটেন্সি পর্যন্ত।
যা প্রমাণ করে না: শিক্ষা-পরামর্শ খাতের কোনো স্বীকৃতি — কারণ বাংলাদেশে এই খাতের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থাই নেই, তদারকির কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষও নেই। প্রতি বছর আনুমানিক ৭০–৯০ হাজার শিক্ষার্থী এজেন্সির পরামর্শ নেন, অথচ এজেন্সি যাচাইয়ের কোনো সরকারি ব্যবস্থা নেই। তাই “আমাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে” বাক্যটি সত্য হতে পারে এবং একই সাথে অর্থহীন — এটি কেবল বলে প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে ব্যবসা করছে।
- 1লাইসেন্স নম্বর ও ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নাম চেয়ে নিন — দুটোই।
- 2নামটি মিলিয়ে দেখুন: লাইসেন্সের নাম, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম আর চুক্তির নাম এক কি না।
- 3মনে রাখুন এটি সর্বনিম্ন শর্ত, সর্বোচ্চ নয়। এখানেই থেমে যাবেন না — উপরের ১০টি প্রশ্ন ট্রেড লাইসেন্সের চেয়ে অনেক বেশি কিছু বলে।
এই পাতাটির কোনো মূল্য থাকত না যদি আমরা নিজেদের ছাড় দিতাম। দুটি ঘরে উত্তর “নেই” — এবং সেগুলো সত্যিই না হওয়া পর্যন্ত “নেই”ই থাকবে।
আপনারা কি কোনো ভিসা সাকসেস রেট প্রকাশ করেন?
না, এবং কখনো করব না। কেউ এটি যাচাই করতে পারে না বলেই সংখ্যাটির কোনো মূল্য নেই। এই সাইটে আগে দুটি দাবি ছিল — “৯৬% ভিসা সাফল্য” এবং “২০১৯ সাল থেকে ১০০০+ শিক্ষার্থী” — দুটোই সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কারণ প্রথমটি যাচাই করা যায় না এবং দ্বিতীয়টি ভুল ছিল: প্রতিষ্ঠানের যাত্রা ২০২৩ সালে।
আপনাদের সংখ্যাগুলোর পেছনে সূত্র আছে?
প্রতিটি দেশের পাতায় “সর্বশেষ যাচাই” তারিখ এবং সরকারি সূত্রের লিংক দেওয়া আছে — মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার, দূতাবাস, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। সংখ্যাটি আমাদের কথায় নয়, কর্তৃপক্ষের পাতায় মিলিয়ে নিতে পারবেন।
যেমন — ইতালির দেশ-পাতা ও তার সূত্রআপনাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে?
আছে — TRAD/DSCC/026481/2024, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তবে উপরে যা লিখেছি সেটিই এখানেও সত্য: এটি ব্যবসার অনুমতি, শিক্ষা খাতের স্বীকৃতি নয়। প্রতিটি বৈধ প্রতিষ্ঠানেরই এটি থাকে, তাই এটিকে আমাদের বিশেষত্ব হিসেবে দেখানো অসৎ হবে।
আপনাদের ICEF Agency Status আছে?
নেই। বাংলাদেশে প্রায় ৫৮টি এজেন্সির এটি আছে, আমাদের নেই — এবং “আবেদন করেছি” বলে ইঙ্গিত দেওয়াও ঠিক হবে না, করিনি। যেদিন হবে, সনদ নম্বরসহ এখানেই লেখা থাকবে যাতে আপনি নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন। ততদিন এই ঘরে “নেই” লেখা থাকবে।
আপনাদের British Council সনদ আছে?
নেই। এবং সৎভাবে বললে — আমরা ইউরোপে পাঠাই, যুক্তরাজ্যে নয়, তাই এই সনদ আমাদের কাজের সাথে প্রাসঙ্গিকও নয়। যেসব এজেন্সি ইউরোপ বিক্রি করে অথচ এই ব্যাজ দেখায়, তারা আসলে অসম্পর্কিত একটি জিনিস দেখাচ্ছে।
টাকা দেওয়ার আগে লিখিত হিসাব দেন?
দিই — সার্ভিস ফি, ইউনিভার্সিটির ফি ও দূতাবাসের ফি আলাদা করে, শুরুর আগেই। আমাদের নীতি “ভিসা নেই, ফি নেই”: ভালোভাবে প্রস্তুত ফাইলে ভিসা না হলে আমাদের সার্ভিস ফি ফেরত।
সার্ভিস ও ফি কীভাবে কাজ করেআপনার ফাইল কে দেখবেন — নাম বলা আছে?
আছে। প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সালাহউদ্দিন ভর্তি, ভিসা কৌশল ও ডকুমেন্ট যাচাইয়ের কাজ দেখেন, এবং সাইটের লেখাগুলোও তাঁর নামেই প্রকাশিত। আমরা ছোট প্রতিষ্ঠান — এটি লুকানোর কিছু নয়, বরং এর মানে আপনি জানেন কার সাথে কথা বলছেন।
আমাদের সম্পর্কেশিক্ষার্থীর ছবি বা কাগজ প্রকাশে অনুমতি নেন?
নিই। কোনো শিক্ষার্থীর নাম বা ছবি প্রকাশ করতে হলে সম্মতি বাধ্যতামূলক — সম্মতি না থাকলে আমাদের নিজস্ব সিস্টেমই প্রকাশ করতে দেয় না। কারও পাসপোর্ট বা ভিসার কাগজের ছবি আমরা প্রকাশ করি না।
আপনারা কি কখনো ভুল করেছেন, এবং তা লিখে রেখেছেন?
হ্যাঁ। উপরের দুটি ভুল দাবি এই সাইটেই ছিল এবং সরানো হয়েছে, আর কেন সরানো হয়েছে তা কোডে লেখা আছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আবার ফিরিয়ে না আনে। যে প্রতিষ্ঠান কখনো ভুল স্বীকার করেনি, সে হয় নতুন, নয়তো লিখে রাখছে না।
নিচের দাবিগুলো বাংলা ইন্টারনেটে বহুল প্রচারিত। কোনো সাইটের নাম আমরা লিখিনি — প্রতিটির পাশে সরকারি বা প্রাথমিক সূত্র দেওয়া আছে, নিজে মিলিয়ে নিন।
“ইতালির স্টুডেন্ট ভিসার জন্য মাসে প্রায় ৪৬৭ ইউরো দেখালেই হয়।”
২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষে ইতালির নির্ধারিত অঙ্ক বছরে €১০,১৭৯.৮৫ — আগের €৬,৯৪৭.৩৩ থেকে এক ধাপে প্রায় ৪৬% বৃদ্ধি। পুরোনো অঙ্ক ধরে ফাইল সাজালে আপনি প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউরো কম দেখাবেন, এবং সেটিই রিফিউজের কারণ হবে। এটি ঠিক সেই ধরনের সংখ্যা যা প্রতি বছর বদলায় — তাই সূত্র ছাড়া কোনো অঙ্ক বিশ্বাস করবেন না।
“ইতালির স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর।”
না। ইতালিতে পড়তে যাওয়ার টাইপ-D ভিসা কোর্স অনুযায়ী দেওয়া হয়, আর দেশে পৌঁছে যে permesso di soggiorno per studio নিতে হয় তা সর্বোচ্চ ১২ মাসের এবং প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। “৫ বছরের ভিসা” ধরে পরিকল্পনা করলে নবায়নের সময়সীমা ও শর্তগুলো আপনার হিসাবেই থাকবে না।
“পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্স না থাকলে স্টেটমেন্ট বানিয়ে নেওয়া যায়।”
এটি পরামর্শ নয়, অপরাধ। যে টাকা আপনার নয় তা দেখানো ডকুমেন্ট জালিয়াতি; ধরা পড়লে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতের আবেদনেও বাধা আসে, এবং সেই রেকর্ড থাকে আপনার নামে — এজেন্সির নামে নয়। বাস্তব বিকল্প আছে: স্পন্সর দেখানো, স্কলারশিপ নেওয়া, কম খরচের দেশ বেছে নেওয়া, বা এক বছর পিছিয়ে সত্যিকারের ফান্ড তৈরি করা। এগুলো ধীর, কিন্তু এগুলোতে আপনার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না।
“আয়ারল্যান্ড ও সাইপ্রাস শেনজেনভুক্ত — সহজে যাওয়া যায়।”
শেনজেন এলাকায় আয়ারল্যান্ড নেই, সাইপ্রাসও নেই। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য কিন্তু শেনজেনভুক্ত নয় — এই দুটি এক জিনিস নয়, এবং পার্থক্যটি আপনার ভ্রমণ ও ভিসা দুটোতেই প্রভাব ফেলে। (বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে পূর্ণ শেনজেন সদস্য।) এই কারণেই আমাদের প্রতিটি দেশ-পাতায় “EU” আর “শেনজেন” আলাদা দুটি ঘরে লেখা।
“হাঙ্গেরিতে পড়তে ৪–৬ লাখ টাকা লাগে।”
লাগতে পারে — কিন্তু যে পাতাগুলো এই অঙ্ক লেখে, তাদের অনেকেই Stipendium Hungaricum-এর নামটুকুও লেখে না। এটি হাঙ্গেরি সরকারের পূর্ণ বৃত্তি: টিউশন মওকুফ, মাসিক ভাতা ও আবাসন-সহায়তা, এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সময়সীমা সাধারণত জানুয়ারি মাসে শেষ হয়। যে পরামর্শ আপনাকে বৃত্তির কথা না বলে খরচের হিসাব দেয়, সেটি অসম্পূর্ণ পরামর্শ।
“VFS Global একটি নির্ভরযোগ্য এজেন্সি।”
VFS Global কোনো কনসালটেন্সি নয় — এটি দূতাবাসের হয়ে আবেদন গ্রহণ ও বায়োমেট্রিক নেওয়ার কেন্দ্র পরিচালনা করে। তারা আপনার ফাইল তৈরি করে না, পরামর্শ দেয় না, ভিসার সিদ্ধান্তেও তাদের কোনো ভূমিকা নেই। “VFS-এর মাধ্যমে ভিসা করিয়ে দেব” — এই বাক্যটি নিজেই একটি সতর্কসংকেত, কারণ VFS-এ আবেদন জমা দেওয়া যে কেউ নিজে করতে পারেন।
যাচাই করে দেখুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন
আমাদের সাথে কাজ করুন বা না করুন — উপরের প্রশ্নগুলো যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে করুন। আর নিজে আবেদন করতে চাইলে পুরো প্রক্রিয়াটি আমরা ধাপে ধাপে বিনামূল্যে লিখে রেখেছি।