গাইড

গ্রিসের ইনটেক ও ডেডলাইন: অক্টোবর আর ফেব্রুয়ারি — কিন্তু যে ঘড়িটা আসলে বাঁধে সেটা ইউনিভার্সিটির ফর্ম নয়, আপনার কাগজের চেইন

মোঃ সালাহউদ্দিন১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬11 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রিসে ইনটেক দুটি — অক্টোবর আর ফেব্রুয়ারি। কিন্তু যে তারিখটা ইনটেক ঠিক করে দেয় সেটা ইউনিভার্সিটির ফর্ম নয়। গ্রিসে অ্যাপোস্টিল চলে না, তাই কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের চেইনই গতি ঠিক করে — আর ফান্ডের কাগজের মেয়াদও ফুরায়।

গ্রিসে ইনটেক দুটি: অক্টোবর — মূল ইনটেক — আর ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এই দুটি মাসের কোনোটিই সেই তারিখ নয় যেটি ঠিক করে দেয় আপনি ইনটেকটা ধরতে পারবেন কি না।

যে তারিখটি ঠিক করে দেয়, সেটি হলো আপনার কাগজ লিগ্যালাইজ হয়ে ফেরত আসার দিন। আর গ্রিসের ক্ষেত্রে এই পথটা প্রায় সবাই যতটা ধরে নেন তার চেয়ে অনেক লম্বা — কারণ গ্রিসে অ্যাপোস্টিল চলে না

পুরো লেখাটাই এই এক তথ্যের উপর দাঁড়ানো। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫, এবং খবরটা এই বাজারে এমনভাবে ছড়িয়েছে যেন একটি সিলই এখন সারা ইউরোপে লিগ্যালাইজেশনের বিকল্প। গ্রিস অনুচ্ছেদ ১২-এর অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মতোই। আপত্তি কোনো কারিগরি খুঁটিনাটি নয় — এর মানে দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর নয়, তাই আগের মতো পুরো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে — আর এ কারণেই ভুল অর্ধেকটা এত দ্রুত ছড়ায়। দেশভিত্তিক অবস্থানটা আছে অ্যাপোস্টিল: কোন দেশ মানে, কোন দেশ মানে না লেখায়, ধাপগুলো আছে সার্টিফিকেট অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিল আর নোটারি, ম্যাজিস্ট্রেট নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেখায়।

একসঙ্গে পাঁচটি ঘড়ি চলে, আর শিক্ষার্থী দেখেন একটি

গ্রিসের জন্য পড়ার মতো একটিমাত্র ক্যালেন্ডার নেই। কয়েকটি আছে, সেগুলো আলাদা আলাদা জায়গায় আলাদা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে, আর একটিও মিস করলে ইনটেকটা চলে যায়।

কোন ঘড়িতারিখটা কে প্রকাশ করেপ্রকাশিত তারিখ, নাকি আমাদের পরামর্শ
ইউনিভার্সিটির নিজস্ব আবেদনের সময়সীমাপ্রতিটি ইউনিভার্সিটি, নিজের প্রোগ্রাম পাতায়। গ্রিসে আবেদন যায় সরাসরি প্রতিষ্ঠানে — কোনো কেন্দ্রীয় পোর্টাল নেইপ্রকাশিত, তবে প্রতিষ্ঠান ও প্রোগ্রাম আলাদা
স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের ডেডলাইনযে সংস্থা স্কলারশিপ দেয়, ভর্তির থেকে আলাদা এবং প্রায়ই আগেসংস্থাটি প্রকাশ করে। ইউনিভার্সিটিরটার সঙ্গে মিলবে ধরে নেবেন না
এক-তৃতীয়াংশ টিউশন, যেটি এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট খুলে দেয়আপনার ইউনিভার্সিটির হিসাব বিভাগ, অফার লেটারেঅফারে প্রকাশিত, জাতীয়ভাবে নয়
কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনসত্যায়নকারী কর্তৃপক্ষগুলো, ইউনিভার্সিটি নয়কোনো প্রকাশিত সময়সীমা নেই। এটিকেই সবচেয়ে লম্বা ধাপ ধরুন
ভিসার সিদ্ধান্তইইউ আইন: সম্পূর্ণ ফাইলের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিন (Directive 2016/801)প্রকাশিত সর্বোচ্চ সীমা, পূর্বাভাস নয়

শেষ সারিটা আরেকবার পড়ুন, কারণ ক্ষতিটা করে ওর ভেতরের একটি শব্দবন্ধ: ৯০ দিন শুরু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। অসম্পূর্ণ ফাইলের ঘড়ি ধীরে চলে না — অসম্পূর্ণ ফাইলের কোনো ঘড়িই চলে না। ঠিক এই কারণেই আবেদনের ফর্ম নয়, কাগজের চেইনটাই শেষ পর্যন্ত আপনাকে বাঁধে। আর যে তারিখটা প্রকাশিত নয়, সেটা আমরা বানিয়ে বলি না — কে প্রকাশ করে সেটাই বলি। ভবিষ্যতের বছরের জন্য কোনো ওয়েবসাইট যদি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রিসের একটা জাতীয় ডেডলাইন বলে দেয়, সে অনুমান করছে।

পথটার নিজেরও একটা দেরি আছে, যেটা কোনো নিয়মে লেখা নেই। ফাইল জমা হয় ঢাকায়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস, আর ফাইলটি কুরিয়ারে দুদিকেই যায়। পথটা খোলা আছে গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে: ফাইল বনানীতে, সিদ্ধান্ত দিল্লিতে লেখায়, পুরো প্রক্রিয়া গ্রিস স্টুডেন্ট ভিসা A–Z লেখায়, আর কোন দেশের ফাইল কোথায় যায় তার ম্যাপ ঢাকা না দিল্লি লেখায়।

আসল চাপটা এখানেই: খুব আগে করলে কাগজ বাসি, খুব পরে করলে চেইন শেষ হয় না

এই জায়গাটাই গ্রিসকে আলাদা করে, আর এ কারণেই এই লেখাটা দরকার।

আপনার দুই ধরনের কাগজ দুই দিকের ঘড়িতে চলে। লিগ্যালাইজেশন ধীর, আর শেষ মুহূর্তে একে চাপ দিয়ে ছোট করা যায় না। অন্যদিকে আর্থিক কাগজ পচনশীল: ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার সময় সাম্প্রতিক হতে হয়, আর একবার পুরনো হয়ে গেলে আবার তুলতে হয় — এবং আবার লিগ্যালাইজ করাতে হয়, কারণ ব্যাংকের কাগজও একই চেইনের আওতায়।

তাই "সব কিছু যত আগে করা যায় তত ভালো" দিয়ে সমস্যাটা মেটে না। এক বছর আগে আর্থিক কাগজ তুললে জমা দেওয়ার সময় সেটা বাসি; শেষ মাসের জন্য ফেলে রাখলে চেইন শেষ হবে না। যা কাজ করে সেটা তাড়াহুড়ো নয়, ক্রম: আগে শিক্ষাগত কাগজের ধীর ধাপটা শেষ করুন, তারপর যে ফাঁকটা তৈরি হয় তার ভেতরে আর্থিক কাগজ তুলুন। কোন কাগজ কতদিন বৈধ থাকে তার তালিকা আছে ডকুমেন্ট ভ্যালিডিটি লেখায়, শাখায় গিয়ে ঠিক কী চাইতে হয় তা আছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কীভাবে তুলবেন আর সলভেন্সি সার্টিফিকেট আলাদা কেন লেখায়, আর স্পন্সরের ফাইলে কাগজ বেশি বলে চেইনও লম্বা — সেটি আছে স্পন্সর ও অ্যাফিডেভিট লেখায়।

একই চাপের ভেতরে আরেকটি জিনিস বসে আছে। গ্রিসের ইউনিভার্সিটিগুলো সাধারণত ভিসার আগেই টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নেয়, আর ভিসা ফাইলের এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট আসে ওই পেমেন্টের পরে। পাবলিক টিউশন বছরে €১,৫০০–৪,০০০, তাই কিস্তিটা সত্যিকারের টাকা — আর সেটি অ্যাকাউন্ট থেকে বেরোয় ঠিক সেই সময়ে যখন আপনি বছরের জন্য প্রায় €৭,২০০ ফান্ড দেখাচ্ছেন। ব্যাংকের পাঠানোর রসিদটি ফাইলে রাখুন, নইলে ব্যালান্সের ওই পতনটা ব্যাখ্যাহীন দেখায়: বাংলাদেশ থেকে টিউশন পাঠানোর পদ্ধতি

অক্টোবর ইনটেকের জন্য পেছন থেকে গোনা

এটি আমাদের পরিকল্পনার ছক। এর মধ্যে মাত্র দুই ধরনের সারিতে প্রকাশিত তারিখ আছে — আপনার ইউনিভার্সিটির সময়সীমা আর পরীক্ষাকেন্দ্রের তারিখ। বাকি প্রতিটি মাসের সংখ্যা আমাদের পরামর্শ, চেইন থেকে পেছনে গুনে বের করা — আর আমরা সেটা লুকিয়ে নিয়ম বলে চালাচ্ছি না।

অক্টোবরের কত মাস আগেকী করতে হবেপ্রকাশিত, নাকি আমাদের পরামর্শ
১২ বা তারও আগেStudy in Greece পোর্টাল ও ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পাতা থেকে ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রামের তালিকা করুন। IELTS বুক করুনপরীক্ষার তারিখ প্রকাশিত; বাকিটা আমাদের পরামর্শ
১১–১২পাসপোর্টের মেয়াদ দেখুন, দরকার হলে এখনই রিনিউ বা নতুন আবেদন। NID, পাসপোর্ট ও সার্টিফিকেটে নামের অমিল থাকলে সত্যায়নের আগেই ঠিক করুনপাসপোর্ট অফিস নিজের সময় প্রকাশ করে
১০–১২মূল কাগজ সংগ্রহ: ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট, মার্কশিট। প্রভিশনাল চলবে কি না জেনে নিনআপনার বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় সময় প্রকাশ করে
৯–১১কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইন শুরু করুন শিক্ষাগত কাগজে। দরকার হলে সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশনশর্তটা আইনি; কোনো সময়সীমা প্রকাশিত নয়
৬–১০স্কলারশিপের আবেদন, পাশাপাশি — সাধারণত আলাদা ও আগের ডেডলাইনস্কলারশিপ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে
৬–৯সরাসরি ইউনিভার্সিটিতে আবেদনপ্রতিটি ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে
৫–৭অফার। টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পরিশোধ। এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেটএক-তৃতীয়াংশের নিয়মটা গ্রিসের; তারিখটা আপনার ইউনিভার্সিটির
৩–৪আর্থিক কাগজ তোলা, তারপর লিগ্যালাইজ। থাকার ব্যবস্থা, ইনস্যুরেন্স, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সআমাদের পরামর্শ। ক্রমটা এখানেই জেতা বা হারা
২–৩ঢাকায় জমা ও বায়োমেট্রিক। ফাইল কুরিয়ারে নয়াদিল্লিঅ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ কেন্দ্র প্রকাশ করে
০–৩সিদ্ধান্ত, তারপর টিকিট ও যাত্রাসম্পূর্ণ ফাইলে ইইউর ৯০ দিনের সর্বোচ্চ সীমা

প্রতিটি ধাপের নিজের লেখা আছে: ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ, প্রভিশনাল বনাম মূল সার্টিফিকেট, নামের অমিল ঠিক করা, শিক্ষার্থীর ই-পাসপোর্ট, মাঝপথে পাসপোর্ট রিনিউ, ঢাকায় সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন, ঢাকা থেকে ইউরোপে কুরিয়ার, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন কী নেবেন। ইংরেজির দিকে গ্রিসের প্রোগ্রামে IELTS সাধারণত ৫.৫–৬.০, ইংরেজি-মাধ্যম ট্র্যাকে ৬.৫ স্বাভাবিক — কখন পরীক্ষা দেবেন সেটা ঠিক করে দেয় ফি ও পরীক্ষার তারিখ, রেজিস্ট্রেশন ধাপে ধাপে আর স্কোর কতদিন বৈধ — এই তিনটি লেখা।

ফেব্রুয়ারি ইনটেক: আসল বিকল্প, নাকি শুধু দেরিতে শুরু

প্রশ্নসৎ উত্তর
কাগজপত্র কি কম লাগে?না। একই চেইন, একই লিগ্যালাইজেশন, একই ফান্ড, ভিসার আগে একই এক-তৃতীয়াংশ টিউশন
অক্টোবরের সব প্রোগ্রাম কি ফেব্রুয়ারিতেও খোলে?ধরে নেবেন না। প্রোগ্রামের পাতা দেখুন, না লেখা থাকলে ডিপার্টমেন্টে লিখুন
রিফিউজালের পর দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে ভালো?তখনই, যখন জানেন কী ভুল ছিল এবং সেটা বদলেছেন। চার মাসে আবার ফাইল করা যায়, দুর্বল আর্থিক ইতিহাস গড়া যায় না
খরচ কি কম?না। মাসে €৪৫০–৭০০ জীবনযাত্রা আর বছরে €১,৫০০–৪,০০০ টিউশন কোন মাসে শুরু করছেন তাতে বদলায় না
কার জন্য সত্যিই ভালো?যার সার্টিফিকেট দেরিতে এসেছে, যার লিগ্যালাইজেশন ইতিমধ্যে চলছে, বা যার ফান্ড গোছাতে আরও একটি কোয়ার্টার দরকার ছিল

অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি সত্যিকারের শুরু, নিচু কিছু নয়। তবে এটি শর্টকাটও নয় — একই ফাইল, চার মাস পরে, আর এটি আপনাকে কেবল চেইনের জন্য সময় কিনে দেয়। সব দেশের জন্য যুক্তিটা আছে স্প্রিং ইনটেক: কাদের জন্য, কাদের নয় লেখায়।

এখন শুরু করলে বাস্তবে কোনটা ধরা যায়

তারিখ বসিয়ে দিলে সেটা পুরনো হয়ে যায়, তাই নিয়মটা এভাবে।

প্রক্রিয়া শুরু করছেনবাস্তব লক্ষ্য
ইনটেকের ১২ মাসেরও বেশি আগেওই ইনটেকটাই, স্বস্তিতে
৯–১২ মাস আগেওই ইনটেক, যদি সার্টিফিকেট হাতে থাকে আর এই মাসেই লিগ্যালাইজেশন শুরু হয়
৬–৯ মাস আগেটান টান। কেবল যদি কাগজ তৈরি থাকে আর চেইন আগেই চালু হয়ে থাকে
৬ মাসের কমএর পরেরটি। সামনেরটিকে গেছে ধরে নিয়ে সময়টা ঠিকভাবে কাজে লাগান

এই হালনাগাদের সময়, সেপ্টেম্বর ২০২৬: অক্টোবর ২০২৬-এ শুরু করার সময় শেষ — কোনো ফর্ম বন্ধ হয়ে গেছে বলে নয়, বরং বাকি সময়ে চেইন আর সিদ্ধান্তের ঘড়ি দুটো একসঙ্গে আঁটে না বলে। ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তখনই বাস্তব, যখন অফার আগে থেকেই আছে, টিউশনের কিস্তি দেওয়া হয়ে গেছে এবং কাগজ লিগ্যালাইজ হয়ে গেছে। আজ যদি শুরু করেন, আপনার ইনটেক অক্টোবর ২০২৭ — আর আজ শুরু করাটা দেরি নয়, ঠিক সময়েই। সব দেশের ক্যালেন্ডার আছে আবেদনের মাস্টার টাইমলাইন লেখায়, আর শেষ অর্ধেকটা অফার থেকে বোর্ডিং পাস লেখায়।

গ্রিসের সময় নিয়ে যে তিনটি কথা এখানে ভুল চলে

"বাংলাদেশে এখন অ্যাপোস্টিল আছে, কাগজ দ্রুত হয়ে যাবে।" গ্রিসের জন্য ভুল, আর দেরিতে শেখাটা ব্যয়বহুল। অ্যাপোস্টিল করালেন, ফেরত এল, এরপর পুরো চেইন শুরু করলেন — আর সেটা শেষ হতে হতে ব্যাংকের কাগজ পুরনো হয়ে গেল, আবার তুলতে হলো, আবার লিগ্যালাইজ করাতে হলো। একটা ভুল পথ মানে দুই দফা ফি, দুই দফা কুরিয়ার, আর যেটা টাকা দিয়েও ফেরত পাওয়া যায় না — ইনটেকটা।

"ডেডলাইন মানে তো ইউনিভার্সিটির ডেডলাইন।" পুরো ফাইলের মধ্যে আবেদনের ফর্মটাই সবচেয়ে সহজ জিনিস। ওই তারিখটাকে শেষ সীমা ধরলে যা তৈরি হয় সেটা হলো এমন একটি ফাইল, যেটি সব দিক থেকে নিখুঁত — কেবল জমা দেওয়া যায় না।

"গ্রিস তো সস্তা, তাই নিশ্চয়ই দ্রুত।" খরচ আর গতির কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রিস সত্যিই সাশ্রয়ী — গ্রিসে মোট কত টাকা লাগে, টিউশন ফি প্রোগ্রাম অনুযায়ী আর গ্রিস আসলে কাদের জন্য ভালো লেখায় হিসাবটা সৎভাবে দেওয়া আছে। কিন্তু কম টিউশন লিগ্যালাইজেশনের চেইন ছোট করে না, আর সিদ্ধান্তকে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় আনে না।

কখন এক সাইকেল অপেক্ষা করাই ভালো সিদ্ধান্ত

তাড়াহুড়োতেই ভালো ফাইল রিফিউজ হয়, তাই সোজা কথাটা এখানে।

পরের সাইকেলের জন্য অপেক্ষা করুন যদি আপনার সার্টিফিকেট এখনো ইস্যু না হয়ে থাকে; যদি টাকাটা সদ্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে থাকে, কারণ শেষ মুহূর্তের বড় অঙ্ক একই সঙ্গে "কত আছে" প্রশ্নের উত্তর দেয় আর "কোথা থেকে এল" প্রশ্নটা তৈরি করে; যদি এই কোয়ার্টারে টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া সম্ভব না হয়; যদি IELTS এখনো না দিয়ে থাকেন; যদি পাসপোর্টের মেয়াদ প্রায় শেষ; অথবা যদি সামনের ইনটেক ধরার একমাত্র উপায় হয় তাড়াহুড়ো করে আর্থিক কাগজ জোগাড় করা। কিছু গোছানোর আগে পড়ে নিন টাকা কোথা থেকে আসবে আর প্রুফ অফ ফান্ডস, আর গ্রিসে কেন প্রমাণের পুরো ভারটা আপনার কাগজের উপরেই থাকে তা বোঝায় ব্লকড অ্যাকাউন্ট বনাম ব্যাংক স্টেটমেন্ট

হিসাবটা নির্মম। দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হওয়া ফাইলে একটি রিফিউজালের দাম বাংলাদেশ-অংশে মোটামুটি ৩–৫ লাখ টাকা — এর ভেতরে সত্যায়ন, অনুবাদ ও লিগ্যালাইজেশন ১০,০০০–৩০,০০০ আর কুরিয়ার ৪,০০০–৯,০০০ — আর এর কিছুই ফেরত আসে না। এক সাইকেল অপেক্ষার দাম কয়েক মাস। দুটো ক্ষতি তুলনীয়ই নয়।

গ্রিস ভুল পছন্দ যদি পরিকল্পনাটা প্রথম মাস থেকেই আয়ের উপর দাঁড়ানো থাকে: নন-ইইউ শিক্ষার্থীকে আলাদা ওয়ার্ক অথরাইজেশন নিতে হয়, অর্থাৎ কাজ করা এমন একটি অনুমতি যেটির জন্য আবেদন করতে হয় — স্টুডেন্ট পারমিট সেটি নিজে থেকে দেয় না; বিস্তারিত আছে গ্রিসে পার্ট-টাইম কাজের নিয়ম লেখায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখে নিন গ্রিস বনাম ইতালি, ফান্ডিং নিয়ে সৎ চিত্রটা গ্রিসে স্কলারশিপ: IKY আর বাস্তবতা, আর এক জায়গায় সব সংখ্যা গ্রিস কান্ট্রি গাইডে। ফাইল লেখার সময় আর্থিক কাগজের পাশে বসে স্টাডি প্ল্যান ডকুমেন্ট, আর টাকা নড়ার আগে দশ মিনিট খরচ করে দেখে নিন অফার লেটার আসল কি না

এক বাক্যে মনে রাখার কথা: গ্রিসে আপনি আবেদনের ডেডলাইনের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন না, দৌড়াচ্ছেন এমন একটি কাগজের চেইনের সঙ্গে যেটি কেউ আপনার জন্য তাড়াতাড়ি করবে না — তাই ফর্ম থেকে সামনে নয়, লিগ্যালাইজেশন থেকে পেছনে গুনুন।

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

গ্রিসে ইনটেক কবে কবে?+

দুটি — অক্টোবর (মূল ইনটেক) আর ফেব্রুয়ারি (স্প্রিং)। এগুলো ক্লাস শুরুর মাস, আবেদনের শেষ তারিখ নয়। গ্রিসের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটা অন্য দেশের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভিসার আবেদন করার আগেই যে কাগজগুলো তৈরি হতে হয়, সেগুলোর ঘড়ি ফর্ম জমা দেওয়ার ঘড়ির চেয়ে অনেক লম্বা।

গ্রিসের স্টুডেন্ট ভিসার শেষ তারিখ কবে?+

ইতালির মতো একটি জাতীয় শেষ তারিখ গ্রিস প্রকাশ করে না, আর আমরা বানিয়ে একটা তারিখ বলব না। আপনাকে যে দুটি তারিখ বাঁধে তা হলো আপনার ইউনিভার্সিটির নিজস্ব আবেদনের সময়সীমা — যেটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজের প্রোগ্রাম পাতায় দেয় — আর আপনার কাগজ লিগ্যালাইজ হতে যত সময় লাগে। কোনো ওয়েবসাইট যদি ভবিষ্যতের বছরের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একটি জাতীয় তারিখ বলে, জিজ্ঞেস করুন সেটি কোন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে।

অক্টোবর ইনটেকের জন্য কত আগে শুরু করা উচিত?+

মোটামুটি এক বছর। এটি আমাদের পরিকল্পনার পরামর্শ, প্রকাশিত কোনো নিয়ম নয় — আর এটি হিসাব করা হয়েছে আবেদনের ফর্ম থেকে নয়, লিগ্যালাইজেশনের চেইন থেকে পেছনে গুনে। ছয় মাস হাতে রেখে শুরু করা ফাইল তখনই সম্ভব হয় যখন সার্টিফিকেট আগে থেকেই ইস্যু করা আছে এবং চেইনটা ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে।

গ্রিসের জন্য অ্যাপোস্টিল করালে হবে না?+

না। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫ — কিন্তু গ্রিস অনুচ্ছেদ ১২-এর অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মতোই। আপত্তি মানে দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর নয়, তাই পুরনো পুরো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে — এই কারণেই অর্ধসত্যটা এত দ্রুত ছড়ায়।

অ্যাপোস্টিলের এই সমস্যা কি ব্যাংকের কাগজেও লাগে?+

হ্যাঁ, এবং এখানেই বেশিরভাগ মানুষ ধরা পড়েন। নিয়মটা কেবল শিক্ষাগত সার্টিফিকেটে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি কর্তৃপক্ষের সামনে বৈধ হতে হবে এমন যেকোনো কাগজ এর আওতায় পড়ে — অ্যাফিডেভিট, স্পন্সরের ঘোষণা, ব্যাংকের চিঠি। আর এই কাগজগুলোর মেয়াদও ফুরায়, তাই ভুল পথে পাঠালে একই কাগজ দুবার তুলতে ও দুবার লিগ্যালাইজ করাতে হয়।

ফেব্রুয়ারি ইনটেকে ভর্তি হওয়া কি সহজ?+

কাগজপত্র হুবহু এক: একই লিগ্যালাইজেশন চেইন, একই ফান্ড, ভিসার আগে একই এক-তৃতীয়াংশ টিউশন। ফেব্রুয়ারি সত্যিকারের একটি শুরু, সান্ত্বনা পুরস্কার নয় — কিন্তু এটি একই ফাইল, চার মাস পরে। আর ধরে নেবেন না যে অক্টোবরের প্রতিটি প্রোগ্রাম ফেব্রুয়ারিতেও খোলে; প্রোগ্রামের পাতা দেখুন, না লেখা থাকলে ডিপার্টমেন্টে ইমেইল করুন।

ভিসার সিদ্ধান্ত আসতে কত সময় লাগে?+

ইইউ আইনে একটি সম্পূর্ণ ফাইলের সিদ্ধান্তের সর্বোচ্চ সময় ৯০ দিন (Directive 2016/801), আর ঘড়িটা চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। এটি একটি সর্বোচ্চ সীমা, কত দিন লাগবে তার পূর্বাভাস নয়। গ্রিসের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যোগ হয় একটি যান্ত্রিক দেরি, যেটি কোনো নিয়মে লেখা নেই: ফাইল জমা হয় ঢাকায়, সিদ্ধান্ত হয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাসে, আর ফাইলটি দুদিকেই যাতায়াত করে।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট কখন তুলব?+

দেরিতে, কিন্তু একেবারে শেষে নয়। আর্থিক কাগজের একটি সতেজতার মেয়াদ আছে — জমা দেওয়ার সময় সেগুলো সাম্প্রতিক হতে হয়। অন্যদিকে লিগ্যালাইজেশনকে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করা যায় না। কাজটা হলো এই দুইয়ের মাঝের জানালাটা খুঁজে বের করা, আর সে জন্যই শিক্ষাগত কাগজের চেইন শেষ হওয়ার পর ব্যাংকের কাগজ তোলা উচিত।

অফার পেয়েছি কিন্তু এখনো কোনো টাকা দিইনি — আমি কি সময়ের মধ্যে আছি?+

এখনো না। গ্রিসের ইউনিভার্সিটিগুলো সাধারণত ভিসার আগেই টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নেয়, আর ভিসা ফাইলের জন্য যে এনরোলমেন্ট বা অ্যাকসেপ্টেন্স সার্টিফিকেট লাগে সেটি আসে ওই পেমেন্টের পরে। কিস্তিটা না দেওয়া পর্যন্ত এবং সার্টিফিকেটটি হাতে না আসা পর্যন্ত ভিসার ঘড়ি চালুই হয়নি।

সামনের ইনটেক ধরতে তাড়াহুড়ো করব, নাকি পরেরটার জন্য অপেক্ষা?+

অপেক্ষা করুন যদি সার্টিফিকেট এখনো ইস্যু না হয়ে থাকে, যদি টাকাটা সদ্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে থাকে, যদি এই কোয়ার্টারে টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া সম্ভব না হয়, অথবা যদি IELTS এখনো না দিয়ে থাকেন। তাড়াহুড়োতেই আর্থিক কাগজ খারাপভাবে সাজানো হয়, আর একটি রিফিউজালে দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হওয়া ফাইলের বাংলাদেশ-অংশের মোটামুটি ৩–৫ লাখ টাকা পুরোটাই চলে যায়, যার কিছুই ফেরত আসে না।

গাইড ধাপ
ইউনিভার্সিটি আবেদন
এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ৮৩টি গাইড এক জায়গায়

#গ্রিস#ইনটেক#ডেডলাইন#লিগ্যালাইজেশন#টাইমলাইন#২০২৬
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন