ভিসা

কোন দেশের ভিসা ঢাকা থেকে, কোনটার জন্য দিল্লি — পূর্ণ ম্যাপ (২০২৬)

মোঃ সালাহউদ্দিন১৮ জুলাই, ২০২৬8 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউরোপের সব দেশের এম্বাসি ঢাকায় নেই। নয়টি দেশের সাতটির স্টুডেন্ট ভিসা ফাইল ঢাকা থেকেই জমা দেওয়া যায় — ইতালি, সুইডেন, ডেনমার্ক ও হাঙ্গেরিসহ। ফিনল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার জন্য সশরীরে নয়াদিল্লি যেতে হয়।

এক নজরে: আমাদের নয়টি দেশের মধ্যে সাতটির ফাইল ঢাকা থেকেই জমা দেওয়া যায় — ইতালি, সুইডেন, ডেনমার্ক ও হাঙ্গেরির ঢাকায় নিজস্ব ব্যবস্থা আছে, আর গ্রিস ও মাল্টার দূতাবাস ঢাকায় না থাকলেও ঢাকার আবেদন কেন্দ্র থেকেই ফাইল যায় (সিদ্ধান্তটি শুধু অন্য শহরে নেওয়া হয়)। সশরীরে নয়াদিল্লি যেতে হয় ফিনল্যান্ডের জন্য, কারণ রেসিডেন্স পারমিটের পরিচয় যাচাই সেখানেই হয়। বুলগেরিয়ার জন্যও সশরীরে নয়াদিল্লি যেতে হয় — ঢাকার কেন্দ্রের তালিকায় টাইপ D থাকলেও শ্রেণিটি এখনো চালু হয়নি, নিচে বিস্তারিত আছে। সাইপ্রাসের ধাপগুলো আলাদা — ভিসার আগে বিশ্ববিদ্যালয় অভিবাসন বিভাগে এন্ট্রি পারমিটের আবেদন করে। ⚠️ তথ্য ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের; বুকিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন — এটি বদলায়।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে আবেদনের সময় একটা বাস্তব প্রশ্ন প্রায়ই বাদ পড়ে: "ভিসাটা কোথা থেকে জমা দেব?" এটা আগে জানা থাকলে সময়, খরচ ও দিল্লি-যাত্রার প্ল্যানিং অনেক সহজ হয়।

ঢাকা থেকেই করা যায় (সাধারণত)

দেশঢাকায় ব্যবস্থাসিদ্ধান্ত নেয়
ইতালি 🇮🇹VFS/JVAC ঢাকা — সাবমিশন ও বায়োমেট্রিক্সঢাকার দূতাবাস
সুইডেন 🇸🇪ঢাকায় এম্বাসি উপস্থিতি (গুলশান)ঢাকার দূতাবাস
ডেনমার্ক 🇩🇰ঢাকায় কূটনৈতিক উপস্থিতিডেনমার্কের সংস্থা SIRI
হাঙ্গেরি 🇭🇺ঢাকায় কনস্যুলার অফিস ও VFSহাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষ
গ্রিস 🇬🇷দূতাবাস নেই, ঢাকায় GVCW কেন্দ্রনয়াদিল্লির দূতাবাস
মাল্টা 🇲🇹হাইকমিশন দিল্লিতে, তবু ফাইল ঢাকা থেকেইমাল্টার Identità

এই ছকের সবচেয়ে জরুরি কলামটি ডানেরটি। দূতাবাস ঢাকায় নেই মানেই আপনাকে যেতে হবে না — গ্রিস ও মাল্টার ক্ষেত্রে কাগজ ঢাকা থেকেই যায়, শুধু সিদ্ধান্তটা অন্য শহরে নেওয়া হয়। এই পার্থক্যটা না জানার কারণেই অনেকে অপ্রয়োজনে ভারতীয় ভিসার পেছনে সময় ও টাকা খরচ করেন।

বুলগেরিয়া: ঢাকায় কেন্দ্র আছে, কিন্তু টাইপ D এখনো চালু হয়নি

বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেই লিখেছে বাংলাদেশে তাদের সচল দূতাবাস নেই এবং দায়িত্বে আছে নয়াদিল্লি। তবু ঢাকায় একটি বুলগেরিয়া ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে, এবং তার ভিসা-শ্রেণির তালিকায় দীর্ঘমেয়াদি "Long Term Visa (Type D)" আছে — শিক্ষার্থীর যেটি লাগে। এই একটি লাইন দেখেই অনেকে ধরে নেন দিল্লির ধাপটি আর নেই।

আমরাও একবার তা-ই লিখেছিলাম, তারপর কেন্দ্রে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছি। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ঢাকার কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইপ D শ্রেণিটি এখনো বাংলাদেশ থেকে চালু হয়নি — সেবাটি চালুর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। তাই শিক্ষার্থীর আবেদন ও সাক্ষাৎকার এখনো নয়াদিল্লির দূতাবাসে, সশরীরে। কেন্দ্রের পাতায় শুধু স্বল্পমেয়াদি শ্রেণিগুলোর (ট্রানজিট, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা) ফি থাকা আর টাইপ D-র কোনো ফি বা নথির তালিকা না থাকা — এটিও ঠিক সেই কারণেই।

আপনার করণীয়: বুলগেরিয়ার রুট লেখাটি পড়ুন, এবং ভারতীয় ভিসা ও দিল্লির খরচ বাজেটে রাখুন। তালিকাটির দিকে চোখ রাখুন — যেদিন সত্যিই চালু হবে, বুলগেরিয়া তখন সবচেয়ে ঝামেলার রুট থেকে সবচেয়ে সহজগুলোর একটিতে বদলে যাবে। কিন্তু সেই খবর কেউ ঘোষণা করে জানাবে না, তাই যাত্রার আগে কেন্দ্রে আবার জিজ্ঞেস করুন।

নয়াদিল্লি / অন্য মিশনে যেতে হতে পারে

দেশকেন
ফিনল্যান্ড 🇫🇮বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের মিশন নেই — আবেদন অনলাইনে Enter Finland-এ, কিন্তু পরিচয় যাচাই নয়াদিল্লিতে সশরীরে
বুলগেরিয়া 🇧🇬ঢাকায় কেন্দ্র আছে, কিন্তু টাইপ D চালু হয়নি — আবেদন ও সাক্ষাৎকার নয়াদিল্লির দূতাবাসে, সশরীরে

সাইপ্রাস 🇨🇾 এই তালিকার কোনোটিতেই পড়ে না। ঢাকায় সাইপ্রাসের একটি অনারারি কনস্যুলেট আছে, কিন্তু সেটি ভিসা অফিস নয় — এবং শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ক্রমটাই আলাদা: আগে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সাইপ্রাসের অভিবাসন বিভাগে এন্ট্রি পারমিটের আবেদন করে, ভিসার ধাপ আসে তারপর। পুরো ক্রমটি আছে সাইপ্রাসের রুট লেখাটিতে। আর কোন দেশের আবাসিক দূতাবাস ঢাকায় নেই তার পূর্ণ তালিকা ও দিল্লি-সফরের খরচের হিসাব আছে এই লেখায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এম্বাসির প্রতিনিধিত্ব ও ভিসা রুট মাঝেমধ্যে বদলায় — গ্রিসের ঢাকা কেন্দ্র ২০২৩ সালে চালু হয়েছে, বুলগেরিয়ারটি আরও পরে, অর্থাৎ কয়েক বছরের পুরনো পরামর্শ এখন ভুল হতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার আগে সেই দেশের অফিশিয়াল মিশন পেজ বা VFS পেজে বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন — আমরা এখানে যা দিয়েছি তা ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা চিত্র, চূড়ান্ত নয়।

দিল্লি যেতে হলে যা মাথায় রাখবেন

কেন এটা আগে জানা জরুরি

দিল্লি-রুটের দেশগুলোর জন্য আপনাকে বাড়তি সময় (ভারতীয় ভিসা + যাতায়াত) ও খরচ প্ল্যান করতে হয়। ইনটেকের টাইমলাইন বানানোর সময় এই ধাপটা ধরলে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়ানো যায়।

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

আপনার দেশের ভিসা রুট নিশ্চিত করতে চান?

আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন বলুন — ঢাকা নাকি দিল্লি, বর্তমান রুট ও টাইমলাইন সাজিয়ে দিই।

সাধারণ প্রশ্ন

ফিনল্যান্ডের ভিসা কি ঢাকা থেকে করা যায়?+

আবেদনটি ঢাকায় বসেই অনলাইনে করা যায় — Migri-র Enter Finland পোর্টালে। কিন্তু রেসিডেন্স পারমিটের পরিচয় যাচাই হয় নয়াদিল্লির আবেদন কেন্দ্রে, তাই একবার সশরীরে সেখানে যেতে হয় এবং তার জন্য ভারতীয় ভিসা লাগে। ফিনল্যান্ড নিজেদের পাতাতেই লিখেছে বাংলাদেশে তাদের কোনো মিশন নেই।

গ্রিস বা মাল্টার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

না। দুটি দেশেরই আবাসিক দূতাবাস ঢাকায় নেই, কিন্তু দুটিরই ফাইল ঢাকা থেকে জমা দেওয়া যায় — গ্রিসের জন্য ঢাকার আবেদন কেন্দ্রে, মাল্টার জন্যও বাংলাদেশ থেকেই। সিদ্ধান্তটি অন্য শহরে নেওয়া হয়, কিন্তু আপনাকে সেখানে যেতে হয় না।

বুলগেরিয়ার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

এটি আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, এবং অনুমান করে বলাটা ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকায় বুলগেরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র আছে এবং তার তালিকায় দীর্ঘমেয়াদি টাইপ D আছে, কিন্তু কেন্দ্রের প্রকাশিত ফি ও নথির তালিকা কেবল স্বল্পমেয়াদি শ্রেণিগুলোর। তাই কেন্দ্রে নিজে জিজ্ঞেস করুন, এবং লিখিত উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ভিসার পরিকল্পনা হাতে রাখুন।

ইতালির ভিসার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

না। ইতালির স্টুডেন্ট ভিসা ঢাকার VFS/JVAC থেকেই সাবমিট ও বায়োমেট্রিক্স দেওয়া যায়।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
সব দেশের গাইড
নয়টি দেশের পূর্ণ তুলনা

টিউশন, ফান্ড, IELTS ব্যান্ড ও ভিসার রুট — এক জায়গায়।

এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়

#এম্বাসি#ঢাকা#দিল্লি#ভিসা#বাংলাদেশ
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন