ভিসা

গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে: ফাইল বনানীতে, সিদ্ধান্ত দিল্লিতে

মোঃ সালাহউদ্দিন৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬9 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত দূতাবাস নয়াদিল্লিতে, কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে ফাইল জমা হয় ঢাকার GVCW কেন্দ্রে — স্টাডি ও দীর্ঘমেয়াদি D ভিসাসহ। ফি দেওয়ার নিয়মও ২০২৬-এ বদলেছে: পেমেন্ট লিংক, ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ও আন্তর্জাতিক কার্ড।

এক নজরে: গ্রিসের আবাসিক দূতাবাস ঢাকায় নেই — গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে আর দিল্লি যেতে হয় না: ঢাকায় GVCW-র ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে (Borak Mehnur, ৮ম তলা, ৫১/B কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী), যেখানে স্বল্পমেয়াদি শেঙেন C এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় D — দুই ধরনের ভিসাই এবং Study শ্রেণিটিও নেওয়া হয়। জমার সময় রবি–বৃহস্পতি সকাল ৯টা–দুপুর ১টা, কেবল অনলাইনে বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টে। ⚠️ তথ্য ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের।

"এম্বাসি নেই" আর "আবেদন করা যায় না" এক কথা নয়

গ্রিস এই পার্থক্যটার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। ঢাকায় গ্রিসের কোনো আবাসিক দূতাবাস নেই — যা আছে তা একটি অনারারি জেনারেল কনস্যুলেট (Giant Business Tower, লেভেল ১৩, উত্তরা)। তবু আপনার ফাইল ঢাকাতেই জমা হয়, বায়োমেট্রিকও ঢাকাতেই, শুধু সিদ্ধান্তটি নেয় দিল্লির দূতাবাস

প্রশ্নউত্তর
আবাসিক দূতাবাস আছে?না
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষনয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস
ফাইল কোথায় জমাঢাকার GVCW কেন্দ্র, বনানী
বায়োমেট্রিক কোথায়একই কেন্দ্রে
কোন ভিসা নেওয়া হয়শেঙেন C ও জাতীয় D, Study সহ
জমার সময়রবি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা–দুপুর ১টা

আবেদনের ধাপ, কেন্দ্রের নিজের ভাষায়

কেন্দ্রটির নিজস্ব নির্দেশনা কয়েকটি জায়গায় অন্য দেশগুলোর চেয়ে আলাদা, এবং প্রতিটিই ভুল করার মতো:

  1. 1আবেদন ফর্মটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেই পূরণ করে প্রিন্ট করতে হয় — অন্য কোথাও থেকে নামানো ফর্ম নয়
  2. 2ডাকযোগে আবেদন গ্রহণ করা হয় না
  3. 3অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে বুক করতে হয়, এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার প্রিন্ট করে সঙ্গে নিতে হয়
  4. 4যাত্রার তারিখের ছয় মাস আগে পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যায়
  5. 5আপনার বসবাসের ঠিকানা অনুযায়ী কেন্দ্র নির্ধারিত হয়

ফি দেওয়ার নিয়মটি ২০২৬-এ বদলেছে

এটি সাম্প্রতিক এবং সহজেই ফাঁদ হয়ে যায়। কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে ভিসা ফি দেওয়ার পদ্ধতি বদলে গেছে:

  • আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন, তারপর নিশ্চিতকরণের চিঠি কল সেন্টারে ইমেইল করুন
  • কল সেন্টার আপনাকে একটি পেমেন্ট লিংক পাঠাবে, যেটি ৪৮ ঘণ্টা সচল থাকে
  • পেমেন্ট করা যায় শুধু আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে
  • ফি-র অঙ্ক ভারতীয় রুপিতে ধরা হয়, কারণ সিদ্ধান্ত-প্রদানকারী দূতাবাস ভারতে
  • পেমেন্টের রসিদ প্রিন্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সঙ্গে নিতে হবে — না নিলে আবেদন জমা দিতে দেওয়া হবে না

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এর মানে দুটি কাজ আগেই সারা: কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করা, এবং ৪৮ ঘণ্টার জানালাটি খেয়াল রাখা।

সৎ কথা

  • ঢাকায় জমা দেওয়া যায় মানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নয়। ফাইল দিল্লির দূতাবাসে বিবেচিত হয়, তাই সময় সেখানকার সারির ওপর নির্ভর করে
  • অনারারি জেনারেল কনস্যুলেট ভিসা অফিস নয় — উত্তরার ঠিকানায় গিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যায় না
  • গ্রিসের জন্য অ্যাপোস্টিল কাজ করে না। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ হলেও গ্রিস আপত্তি জানিয়েছে, তাই পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের ধাপগুলোই লাগে — এবং তাতে বাড়তি সপ্তাহ যায়
  • গ্রিসের ফাইলে একটি লিখিত স্টাডি প্ল্যান চাওয়া হয়; সেটি SOP-র মতো নয়, আলাদা করে লেখা আছে স্টাডি প্ল্যান ডকুমেন্টে

এখন যা করবেন

  1. 1কেন্দ্রের নিজস্ব সাইট থেকে ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট করুন — অন্য উৎসের ফর্ম নয়
  2. 2কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করুন, তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন
  3. 3পেমেন্ট লিংক পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিন এবং রসিদ প্রিন্ট করে রাখুন
  4. 4লিগ্যালাইজেশনের কাজ আগে শুরু করুন; পুরো ধাপক্রম আছে গ্রিস স্টুডেন্ট ভিসা গাইডে

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

গ্রিসের ফাইলটা একবার দেখে দিই?

ফর্ম, স্টাডি প্ল্যান, লিগ্যালাইজেশন ও পেমেন্টের ক্রম — সব একসঙ্গে।

সাধারণ প্রশ্ন

গ্রিসের ভিসার জন্য কি এখনো দিল্লি যেতে হয়?+

না। ২০২৩ সাল থেকে ঢাকায় GVCW-র ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে, যেখানে স্বল্পমেয়াদি শেঙেন ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় D ভিসা — স্টাডি শ্রেণিসহ — জমা নেওয়া হয় এবং বায়োমেট্রিকও সেখানেই হয়। তবে সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস।

গ্রিসের ভিসা ফি কীভাবে দিতে হয়?+

কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার পর নিশ্চিতকরণের চিঠি কল সেন্টারে পাঠাতে হয়; তারা ৪৮ ঘণ্টা সচল একটি পেমেন্ট লিংক দেয় এবং পেমেন্ট হয় কেবল আন্তর্জাতিক কার্ডে। রসিদ প্রিন্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন নিতে হবে।

উত্তরার গ্রিক কনস্যুলেটে কি আবেদন করা যায়?+

না। উত্তরার অফিসটি একটি অনারারি জেনারেল কনস্যুলেট, ভিসা অফিস নয়। ভিসার ফাইল জমা হয় বনানীর GVCW কেন্দ্রে, অনলাইনে বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টে।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
#গ্রিস#GVCW#ঢাকা#D ভিসা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন