ডেনমার্কের আবেদন ঢাকা থেকে: SIRI, ST1 আর ১৪ দিনের ঘড়ি
ডেনমার্কের এম্বাসি গুলশানে আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্কের সংস্থা SIRI। আবেদন অনলাইনে ST1 ফর্মে, ফি DKK ৩,০৬০, প্রক্রিয়াকাল দুই মাস — আর বায়োমেট্রিকের জন্য হাতে থাকে জমা দেওয়ার দিন থেকে মাত্র ১৪ দিন।
এক নজরে: ডেনমার্কের আবাসিক এম্বাসি ঢাকাতেই আছে (Bay's Edgewater, ৬ষ্ঠ তলা, গুলশান ২), কিন্তু আপনার পড়াশোনার আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্কের সংস্থা SIRI — ফর্মের নাম ST1, ফি DKK ৩,০৬০, সাধারণ প্রক্রিয়াকাল ২ মাস (তথ্য চাইলে ৩ মাস পর্যন্ত)। সবচেয়ে কঠিন নিয়মটি সময়ের: অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিতে হয়। ঢাকার Denmark Visa Application Centre আছে Borak Mehnur, ৫১/B, লেভেল ৭, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী। ⚠️ তথ্য ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের — বুক করার আগে অফিশিয়াল পাতায় মিলিয়ে নিন।
১৪ দিনের ঘড়িটাই আসল গল্প
বেশিরভাগ দেশে আপনি আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান, তারপর আবেদন করেন। ডেনমার্কে উল্টোটা — আবেদন জমা দেওয়ার মুহূর্তে ঘড়ি চালু হয়ে যায়, এবং তার ১৪ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে হয়। স্লট না পেলে? SIRI-র নিজের পাতা বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে যে তারিখে দিতে পারবেন সেটি ইমেইলে জানিয়ে রাখলে আবেদন বাতিল হওয়া এড়ানো যায়।
ব্যবহারিক অনুবাদ: অনলাইন ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই দেখে নিন অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট কবে খালি। এই একটি বাক্য বহু আবেদনকে বাঁচিয়ে দেয়।
কে কী করে
| ধাপ | কে | কোথায় |
|---|---|---|
| আবেদন ও ফি | আপনি | অনলাইনে, ST1 ফর্মে |
| সিদ্ধান্ত | SIRI (ডেনমার্ক) | কোপেনহেগেন |
| ছবি ও আঙুলের ছাপ | আপনি | ডেনমার্কের মিশন বা নির্ধারিত আবেদন কেন্দ্র |
| পাসপোর্ট ও কাগজ জমা/ফেরত | আবেদন কেন্দ্র | Borak Mehnur, লেভেল ৭, বনানী |
ঢাকার কেন্দ্রের সময়সূচি
| কাজ | দিন | সময় |
|---|---|---|
| জমা | রবি–বৃহস্পতি | সকাল ৯টা–দুপুর ২টা |
| তথ্যের জন্য ওয়াক-ইন | রবি–বৃহস্পতি | দুপুর ১২টা–২টা |
| পাসপোর্ট ফেরত | রবি–বৃহস্পতি | বিকেল ৩টা–৪টা |
এম্বাসির ভিসা শাখার নিজস্ব ফোনের সময়ও সীমিত — রবিবার ও বুধবার বিকেল ২টা–৩টা। প্রশ্ন থাকলে ওই জানালাটা ধরুন।
খরচের অঙ্ক আগে থেকে জানা
ডেনমার্কের ফি ড্যানিশ ক্রোনায় (DKK), ইউরোতে নয় — অনেকে এখানেই হিসাব ভুল করেন। আবেদন ফি DKK ৩,০৬০, এবং সেটি ফেরতযোগ্য নয়: আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও নয়, নিজে প্রত্যাহার করলেও নয়। এর ওপর আবেদন কেন্দ্রের নিজস্ব সেবা ফি আলাদা।
আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, টিউশন ও থাকার হিসাব — সব একসঙ্গে সাজানো আছে ডেনমার্ক রেসিডেন্স পারমিট গাইডে।
সৎ কথা — যেটা শুনতে ভালো লাগে না
ডেনমার্ক আমাদের নয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সবচেয়ে কম নমনীয় গন্তব্যগুলোর একটি, এবং প্রক্রিয়াটিও তেমনই — কঠোর সময়সীমা, উচ্চ ফি, এবং তথ্য চাইলে সরাসরি এক মাস বাড়তি। এখানে "পরে ঠিক করে নেব" বলে কিছু নেই। যদি আপনার কাগজপত্র এখনো গোছানো না হয়, ডেনমার্ক সেই দেশ নয় যেখানে দেরি ক্ষমা পায়।
আরও একটি জিনিস অনেকে জানেন না: বাংলাদেশের অ্যাপোস্টিল ডেনমার্কের ক্ষেত্রে কাজ করে না। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ হলেও ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ড আপত্তি জানিয়েছে, তাই এই তিন দেশের জন্য পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের ধাপগুলোই লাগে — এবং সেটি বেশি সময় নেয়। টাইমলাইন বানানোর সময় এটি ধরে রাখুন।
এখন যা করবেন
- 1স্লট আগে দেখুন, ফর্ম পরে — এই ক্রম উল্টালে ১৪ দিনের নিয়ম আপনার বিরুদ্ধে যায়
- 2কাগজের লিগ্যালাইজেশন আগে শুরু করুন, কারণ ডেনমার্কে অ্যাপোস্টিল চলবে না
- 3DKK-তে ফি ও ব্যাংকের হিসাব আলাদা করে লিখে রাখুন — খরচ ক্যালকুলেটর কাজে দেবে
- 4ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাইল গোছানো শুরু, চেকলিস্ট ধরে
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- New to Denmark (SIRI) — উচ্চশিক্ষার রেসিডেন্স পারমিট
- Royal Danish Embassy, Dhaka
- VFS Global — Denmark, Bangladesh (ঢাকা কেন্দ্র)
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
ডেনমার্কের কাগজের তালিকা ইমেইলে নিন
ST1-এর সংযুক্তি, লিগ্যালাইজেশনের ক্রম ও ১৪ দিনের ছকটি একসঙ্গে।
সাধারণ প্রশ্ন
ডেনমার্কের স্টুডেন্ট আবেদনের সিদ্ধান্ত কে নেয়?+
ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক নিয়োগ ও একীভূতকরণ সংস্থা SIRI। ঢাকার এম্বাসি ফাইলটি এগিয়ে দেয় ও বায়োমেট্রিক নেওয়ার ব্যবস্থা রাখে, কিন্তু হ্যাঁ বা না বলার এখতিয়ার SIRI-র। ফর্মের নাম ST1 এবং আবেদন অনলাইনেই করা যায়।
বায়োমেট্রিকের জন্য কত সময় পাওয়া যায়?+
অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৪ দিন। এর মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে SIRI-কে ইমেইলে জানিয়ে রাখলে আবেদন বাতিল হওয়া এড়ানো যায়। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই স্লটের অবস্থা দেখে নেওয়া নিরাপদ।
ডেনমার্কের জন্য কি অ্যাপোস্টিল যথেষ্ট?+
না। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ হলেও ডেনমার্ক আপত্তি জানানো দেশগুলোর একটি, তাই ডেনমার্কের জন্য পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের ধাপগুলোই লাগে। এতে বাড়তি সময় যায়, টাইমলাইনে ধরে রাখুন।
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন