ভিসা

মাল্টার রুট ঢাকা থেকে: ফাইল এখানে, সিদ্ধান্ত Identità-তে

মোঃ সালাহউদ্দিন৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬9 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাল্টার হাইকমিশন নয়াদিল্লিতে, কিন্তু পড়াশোনার দীর্ঘমেয়াদি D ভিসার ফাইল ঢাকা থেকেই জমা দেওয়া যায়। ভিসা ফি €১০০ বা €১৫০, তার সঙ্গে সেবা চার্জ, সিদ্ধান্ত নেয় মাল্টার Identità, আর প্রক্রিয়াকাল অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ।

এক নজরে: মাল্টার আবাসিক হাইকমিশন নয়াদিল্লিতে — সেটি ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ দেখে। কিন্তু ভালো খবর হলো, শিক্ষার্থীর দরকারি জাতীয় (D) ভিসার ফাইল বাংলাদেশ থেকেই জমা দেওয়া যায় — অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ভিসা ফি বুকিংয়ের সময়ই অনলাইনে দিতে হয়, এবং সিদ্ধান্ত নেয় মাল্টার Identità-র Central Visa Unit। ফি: স্ট্যান্ডার্ড স্টুডেন্ট ভিসা €১০০ + সেবা চার্জ ১৩,৯৩৫ টাকা, এক্সটেন্ডেড €১৫০ + ২০,৯০০ টাকা। প্রক্রিয়াকাল অন্তত ৬–৮ সপ্তাহ। ⚠️ অঙ্ক ও ব্যবস্থা বদলায় — তথ্য ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের।

দুটো আলাদা জিনিস: স্বল্পমেয়াদি আর দীর্ঘমেয়াদি

মাল্টা নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি এখানেই। মাল্টার স্বল্পমেয়াদি শেঙেন (C) ভিসা ঢাকায় অন্য একটি দেশের ব্যবস্থার মাধ্যমে নেওয়া হয়, আর দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় (D) ভিসা — যেটি শিক্ষার্থীর দরকার — নেওয়া হয় মাল্টার নিজস্ব ব্যবস্থায়। কেউ যদি আপনাকে "মাল্টার ভিসা" নিয়ে পরামর্শ দেয়, প্রথম প্রশ্নটাই হওয়া উচিত: C না D?

পড়াশোনার জন্য উত্তরটা সবসময় D

বিষয়স্ট্যান্ডার্ডএক্সটেন্ডেড
স্টুডেন্ট ভিসা ফি€১০০€১৫০
VFS সেবা চার্জ১৩,৯৩৫ টাকা২০,৯০০ টাকা
সিদ্ধান্ত নেয়Identità, Central Visa UnitIdentità, Central Visa Unit
প্রক্রিয়াকালঅন্তত ৬–৮ সপ্তাহঅন্তত ৬–৮ সপ্তাহ

টাকা দেওয়ার ধাপটা আগে আসে

একটি ব্যবহারিক ধাক্কা আছে যেটা আগে জানা দরকার: ভিসা ফি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সময়ই অনলাইনে দিতে হয়, কেন্দ্রে গিয়ে নয়। এবং তার জন্য দরকার আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু আছে এমন একটি কার্ড

বাংলাদেশে এটি একটি বাস্তব বাধা — অনেক শিক্ষার্থীর কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন বন্ধ থাকে, বা ডলার এনডোর্সমেন্ট করা থাকে না। এই কাজটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট খোঁজার আগেই সেরে রাখুন, নইলে স্লট পেয়েও পেমেন্টের সময় হাতছাড়া হবে। কেন্দ্রের সেবা চার্জ আলাদা এবং সেটি জমা দেওয়ার সময় নেওয়া হয়।

আরেকটি কথা যেটা শুনতে ভালো লাগে না: ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে ভিসা ফি বা সেবা চার্জ কোনোটাই ফেরত আসে না।

সিদ্ধান্তটা মাল্টা থেকেই আসে

ফাইল ঢাকায় জমা হলেও সিদ্ধান্ত নেয় মাল্টার Identità-র Central Visa Unit। এর তিনটি ব্যবহারিক ফল আছে:

  • প্রক্রিয়াকাল মাল্টার সারির ওপর নির্ভর করে, ঢাকার কেন্দ্রের ব্যস্ততার ওপর নয়
  • অবস্থা দেখা যায় Identità-র অনলাইন ব্যবস্থায় — কেন্দ্র থেকে পাওয়া রসিদের রেফারেন্স নম্বর ও আপনার জন্মতারিখ দিয়ে
  • প্রশ্ন থাকলে Central Visa Unit-এর হেল্পডেস্কই ঠিক জায়গা, কেন্দ্র নয়

৬–৮ সপ্তাহ একটি ন্যূনতম, নিশ্চয়তা নয়। সেপ্টেম্বরের ক্লাস ধরতে চাইলে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি আবেদন করা ঝুঁকিপূর্ণ — অফার ও টিউশনের প্রমাণ হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করাই নিরাপদ।

যেটা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি

ঢাকায় মাল্টার কেন্দ্রটির সঠিক ঠিকানা আমরা কোনো অফিশিয়াল মাল্টিজ পাতা বা কেন্দ্রের নিজস্ব পাতা থেকে নিশ্চিত করতে পারিনি — যা নিশ্চিত তা হলো বাংলাদেশ থেকে মাল্টার দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে বুক করতে হয়। ঠিকানাটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণের চিঠিতেই লেখা থাকে; সেটাই ব্যবহার করুন, কোনো তৃতীয় পক্ষের তালিকা নয়।

সৎ কথা

মাল্টা ছোট দেশ, এবং তার প্রশাসনও ছোট — ফলে সারি দ্রুত লম্বা হয় এবং একটি অসম্পূর্ণ ফাইল সহজেই কয়েক সপ্তাহ যোগ করে দেয়। কেন্দ্রের নিয়মেও স্পষ্ট লেখা: অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট বা স্বাক্ষরবিহীন আবেদন কাউন্টারে নেওয়া হবে না। এখানে "পরে ঠিক করে দেব" বলে কিছু নেই।

পুরো ধাপক্রম, ফান্ডের অঙ্ক ও পৌঁছানোর পরের কাজ আছে মাল্টা স্টুডেন্ট ভিসা গাইডে

এখন যা করবেন

  1. 1কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু আছে কি না আজই যাচাই করুন
  2. 2অফার ও টিউশনের রসিদ হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট খুঁজুন — ৬–৮ সপ্তাহ পিছিয়ে হিসাব করুন
  3. 3ফাইলটি স্বাক্ষরসহ সম্পূর্ণ করে তবেই কাউন্টারে যান, চেকলিস্ট ধরে মিলিয়ে
  4. 4জমা দেওয়ার পর রসিদের রেফারেন্স নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অবস্থা দেখুন — ট্র্যাকিং গাইড

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

মাল্টার ফাইল ও তারিখগুলো মিলিয়ে দিই?

কার্ড, ফি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ৬–৮ সপ্তাহ ধরে উল্টো গোনা ক্যালেন্ডার।

সাধারণ প্রশ্ন

মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

মাল্টার হাইকমিশন নয়াদিল্লিতে হলেও পড়াশোনার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় (D) ভিসার আবেদন বাংলাদেশ থেকেই জমা দেওয়া যায়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে বুক করতে হয় এবং কেন্দ্রের ঠিকানা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণের চিঠিতে থাকে।

মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসার খরচ কত?+

স্ট্যান্ডার্ড স্টুডেন্ট ভিসার ফি €১০০ এবং কেন্দ্রের সেবা চার্জ ১৩,৯৩৫ টাকা; এক্সটেন্ডেড সেবায় ফি €১৫০ ও সেবা চার্জ ২০,৯০০ টাকা। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে কোনোটিই ফেরত আসে না, তাই ফাইলটি সম্পূর্ণ করে তবেই জমা দিন।

মাল্টার সিদ্ধান্ত কে নেয় এবং কত সময় লাগে?+

সিদ্ধান্ত নেয় মাল্টার Identità-র Central Visa Unit, ঢাকার কেন্দ্র নয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসার প্রক্রিয়ায় অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগে, এবং এটি ন্যূনতম — মৌসুমে আরও বেশি হতে পারে।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
#মাল্টা#Identità#D ভিসা#ঢাকা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন