ভিসা

গ্রিসে ভর্তি ও স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আসলে কী কী লাগে: পাঁচটি পরীক্ষা, আর যে অ্যাপোস্টিলটা কাজেই লাগবে না

মোঃ সালাহউদ্দিন১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬12 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রিস পাঁচটি জিনিস যাচাই করে — সার্টিফিকেট, কাগজের লিগ্যালাইজেশন, ভাষা, টাকা আর সময়। আপনার অ্যাপোস্টিল সেই পাঁচটির একটিও নয়, কারণ গ্রিস আর্টিকেল ১২-তে আপত্তি দিয়েছে। আর টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ ভিসার আগেই।

এক নজরে: গ্রিস পাঁচটি জিনিস যাচাই করে — আপনার সার্টিফিকেট, সেই কাগজ লিগ্যালাইজ করানো যায় কি না, প্রোগ্রামটি আসলে কোন ভাষায় পড়ানো হয়, আপনার টাকা কাগজে প্রমাণিত কি না, আর আপনি সময়ের ধাপগুলো ধরতে পারছেন কি না। যে চেকলিস্টই হাতে পান, তার প্রতিটি কাগজ আসলে এই পাঁচটিরই কোনো একটির প্রমাণ।

আর সবচেয়ে দামি কথাটা কোনো চেকলিস্টে লেখা থাকে না। গ্রিসের জন্য অ্যাপোস্টিল করিয়ে কোনো লাভ নেই। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং তা ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর — কিন্তু গ্রিস আর্টিকেল ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মতোই। আপত্তি মানে ওই দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর হয় না। অর্থাৎ যে অ্যাপোস্টিলের জন্য টাকা আর সময় গেল, গ্রিসে সেটি কোনো শর্টকাট নয়; পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনটাই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল নেয় — গ্রিস নেয় না। বাক্যটার দুই অর্ধেকই জরুরি, আর বাজারে যা ঘোরে তাতে কোনো না কোনো অর্ধেক ভুল থাকে: অ্যাপোস্টিল কোন দেশ মানে, কোন দেশ মানে না আর অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিলের ক্রম

পরীক্ষা ১: সার্টিফিকেট — কোন লেভেলে ঠিক কী লাগে

গ্রিস দেখে আপনার হাতে কী ডিগ্রি আছে, কত বছর আগের তা নয়। বিদেশি সার্টিফিকেটের মূল্যায়ন করে সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে আপনি আবেদন করছেন, এবং তাদের শর্ত প্রকাশিত থাকে — অর্থাৎ শর্তটা অনুমান করার জিনিস নয়, পড়ার জিনিস।

গ্রিস যা যাচাই করেব্যাচেলর (HSC-র পর)মাস্টার্স (বাংলাদেশি ব্যাচেলরের পর)
একাডেমিক যোগ্যতাHSC বা সমমান, প্রোগ্রামের প্রকাশিত ন্যূনতম রেজাল্টসহসম্পন্ন ব্যাচেলর; ডিগ্রির নাম নয়, ক্রেডিটের পরিমাণই ঠিক করে
কাগজের স্বীকৃতিপ্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করে; কাগজ যায় কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনেএকই, সঙ্গে ট্রান্সক্রিপ্ট ও কোর্স ডেসক্রিপশন যাতে ক্রেডিট মেলানো যায়
ভাষাপ্রোগ্রামটি আসলে যে ভাষায় পড়ানো হয়, তারই প্রমাণএকই; কোন ভাষায় পড়ানো হয় তার একমাত্র কর্তৃপক্ষ প্রোগ্রামের নিজের পাতা
টাকাটিউশন ও জীবনযাত্রার ফান্ড — বছরে প্রায় €৭,২০০ ধরে পরিকল্পনাএকই
প্রক্রিয়াভিসার আগে টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ; জমা ঢাকায়, সিদ্ধান্ত দিল্লিতেএকই
বয়সসাধারণত ১৮+বাস্তবে কোনো বাধা নয়

মাস্টার্সে আসল সংখ্যাটা ক্রেডিট। বাংলাদেশের তিন বছরের পাস ডিগ্রি মোটামুটি ১৮০ ECTS, চার বছরের অনার্স প্রায় ২৪০; ইউরোপের বেশির ভাগ মাস্টার্সে অন্তত ১৮০ লাগে। তাই চার বছরের অনার্স প্রায় সব জায়গায় চলে, আর সমস্যাটা তিন বছরের পাস ডিগ্রি নিয়েই — সাধারণ সমাধান হলো তার ওপরে বাংলাদেশ থেকে এক বছরের মাস্টার্স। পুরো হিসাব আছে ৩ বছরের পাস বনাম ৪ বছরের অনার্স লেখায়, আর ডিগ্রিটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সেই প্রশ্নের আলাদা উত্তর আছে।

নম্বরের ক্ষেত্রে CGPA-র কোনো সর্বজনীন সরকারি রূপান্তর নেই। কাজ চালানোর নিয়ম: ৩.০/৪.০ একটি প্রচলিত সীমা, ৩.৫+ স্কলারশিপের জন্য প্রতিযোগিতামূলক, আর ২.৫–৩.০ মানে হাল ছাড়া নয়, বরং প্রোগ্রাম বেছে নেওয়ায় বাড়তি যত্ন — CGPA থেকে ইউরোপীয় গ্রেড, CGPA কম হলে বাস্তব অপশন আর কম CGPA-তে কোন দেশ বাস্তবসম্মত

স্টাডি গ্যাপ ব্যাখ্যাসহ গ্রহণযোগ্য। যেটা ফাইল নষ্ট করে সেটা লম্বা গ্যাপ নয়, ব্যাখ্যাহীন গ্যাপ — গ্যাপ থাকলে ইউরোপে যাওয়া যাবে কি আর গ্যাপ ব্যাখ্যার চিঠির ফরম্যাট

পরীক্ষা ২: কাগজ স্বীকৃত করানো — এখানেই ফাইল জেতে বা হারে

এই ধাপটাই সবচেয়ে ধীর, আর অ্যাপোস্টিলের ফাঁদটাও এখানেই।

চেইনটা শুরু হয় বাংলাদেশের ভেতরে, কোনো দূতাবাসে নয়। প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট তোলা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন, প্রয়োজনমতো অনুবাদ, তারপর সঠিক ক্রম ধরে সত্যায়ন — আর মানুষ ভুল করে ঠিক এই ক্রমেই, কারণ ক্রম উল্টে গেলে কাগজটা আবার প্রথম থেকে করাতে হয়। ধাপে ধাপে আছে ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ, শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন, নোটারি, ম্যাজিস্ট্রেট নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যায়ন আর ঢাকায় সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন লেখাগুলোতে।

মাস্টার্সের জন্য সাধারণত কোর্স ডেসক্রিপশন বা সিলেবাসও চাওয়া হয়, যাতে আপনি কী পড়েছেন তা তাদের কারিকুলামের সঙ্গে মেলানো যায়: কোর্স ডেসক্রিপশন ও সিলেবাস

গ্রিস সেই দেশগুলোর একটি যারা স্টাডি প্ল্যান চায় — আপনি কী পড়তে চান আর আগে যা পড়েছেন তার সঙ্গে সেটি কীভাবে মেলে, তার লিখিত ব্যাখ্যা। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, আর SOP-র নকলও নয়: স্টাডি প্ল্যান ডকুমেন্ট — ইতালি ও গ্রিসের জন্য, পাশাপাশি SOP / মোটিভেশন লেটার আর রেকমেন্ডেশন লেটার

তারপর সেই পরিচয়ের কাগজগুলো, যেগুলো চুপচাপ ফাইল ডুবিয়ে দেয় — NID, পাসপোর্ট আর সার্টিফিকেটে নামের তিন রকম বানান; ১৭ সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন না থাকা; আবেদনের মাঝপথে পাসপোর্ট রিনিউ করা। এগুলো সবার আগে ঠিক করুন: নামের অমিল, ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন, ই-পাসপোর্ট, ভিসার ছবির স্পেসিফিকেশন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর ঢাকা থেকে ডকুমেন্ট কুরিয়ার

পরীক্ষা ৩: ভাষা — এটাই ঠিক করে গ্রিস আদৌ সম্ভব কি না

এই অংশটাই গোটা উত্তরের আকার বদলে দেয়, অথচ প্রায় কেউই এটি দিয়ে শুরু করে না।

পাবলিক ইউনিভার্সিটির বেশির ভাগ পড়াশোনা গ্রিক ভাষায় হয়। ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সেটি নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামের একটি তালিকা — গোটা গ্রিক সিস্টেমের ইংরেজি সংস্করণ নয়। তাই কাজের প্রশ্নটা "গ্রিসে ইংরেজিতে পড়া যায় কি" নয়; প্রশ্নটা হলো "আমার বিষয়ে ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম আছে কি, আর সেটি ইউনিভার্সিটির নিজের পাতায় দেখা যাচ্ছে কি"। অনেক বিষয়ে সৎ উত্তরটা হলো দরজাটা সরু, আর যাঁর অনেক অপশন দরকার তিনি অন্য দেশে বেশি পাবেন।

গ্রিসে ইংরেজিতে পড়া নিয়ে যে দাবিই শোনেন, সেটিকে বিশ্বাসের জিনিস না ভেবে যাচাইয়ের জিনিস ভাবুন: প্রোগ্রামটি সত্যিই ইংরেজিতে পড়ানো হয় কি না। আমাদের লেখা সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণটি হলো এথেন্স ইউনিভার্সিটির (NKUA) ইংরেজি-মাধ্যম মেডিসিন, আর বড় ছবিটা আছে ইংরেজি-মাধ্যম নাকি স্থানীয় ভাষার প্রোগ্রামগ্রিসে স্থানীয় ভাষা কতটুকু লাগে লেখায়।

টেস্ট স্কোরের দিক থেকে গ্রিস কোনো জাতীয় ইংরেজি শর্ত প্রকাশ করে না। আমরা যেসব প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করি সেখানে সর্বনিম্ন সাধারণত ৫.৫-এর আশপাশে, স্বাভাবিক চাহিদা ৬.০, আর ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রামে প্রায়ই ৬.৫ লেখা থাকে। এগুলো প্রোগ্রামের পাতা পড়ে পাওয়া আমাদের পর্যবেক্ষণ, জাতীয় নিয়ম নয় — কেউ যেন নিয়ম বলে না চালায়। MOI সার্টিফিকেট কোনো প্রোগ্রামে চলে, কোনোটিতে চলে না; তাই প্রোগ্রাম ধরে ধরে দেখতে হয়, ধরে নেওয়া যায় না: MOI সার্টিফিকেট, কোন ইউনিভার্সিটি MOI নেয় আর দেশভিত্তিক IELTS টেবিল। বাংলাদেশে কম্পিউটার-ভিত্তিক IELTS-এর ফি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ তালিকাভুক্ত ছিল ২৯,৬০০ টাকা: IELTS-এর পুরো গাইড

পরীক্ষা ৪: টাকা — আর যে অঙ্কটা ঐচ্ছিক নয়

খাতকত ধরে পরিকল্পনা করবেন
পাবলিক ইউনিভার্সিটির টিউশনবছরে €১,৫০০–€৪,০০০
বাসা ভাড়ামাসে €২০০–€৩৮০
খাবারমাসে €১৫০–€২৩০
ট্রান্সপোর্টমাসে €২৫–€৪০
অন্যান্যমাসে €৬০–€১১০
মোট জীবনযাত্রামাসে €৪৫০–€৭০০
যত ফান্ড দেখাতে হবেবছরে প্রায় €৭,২০০

আইনি ন্যূনতম মাসে €৪০০, অর্থাৎ বছরে €৪,৮০০। কিন্তু দূতাবাস বাস্তবে মাসে €৬০০–৭০০ দেখতে চায় — এ কারণেই পরিকল্পনার সংখ্যাটা আইনি সীমা নয়, €৭,২০০। গ্রিসে ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না, টাকা সাধারণ অ্যাকাউন্টেই থাকে, আর তখন ব্যালান্সের চেয়ে কাগজের মানই সিদ্ধান্ত নেয়: প্রুফ অফ ফান্ডস, ব্যাংক স্টেটমেন্টে অফিসার কী খোঁজেন, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পন্সর ও অ্যাফিডেভিট, এম্বাসি আর্থিক কাগজ কীভাবে যাচাই করে আর ব্লকড অ্যাকাউন্ট বনাম ব্যাংক স্টেটমেন্ট

এরপর সেই খাতটি, যেটি গ্রিসের বাজেট ভাঙে: টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ভিসার আগেই জমা দিতে হয়। পরিবার ধরে নেয় পৌঁছে দেবে, আর তাতে কয়েক মাস আগেই বড় অঙ্ক সরাতে হয়। সঙ্গে বাংলাদেশ-অংশের খরচ যোগ করুন — দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হয় এমন ফাইলে মোটামুটি ৩–৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে সত্যায়ন, অনুবাদ ও লিগ্যালাইজেশন ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা এবং কুরিয়ার ৪,০০০–৯,০০০ টাকা, আর একমুখী বিমান টিকিট ৭০,০০০–১,২০,০০০ টাকা। ভিসা না হলে এর কোনোটাই ফেরত আসে না। টিউশন পাঠানোরও নিজস্ব ব্যাংক প্রক্রিয়া আছে: স্টুডেন্ট ফাইল ও ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং টিউশন পাঠানোর পদ্ধতি। দেশভিত্তিক পুরো হিসাব আছে গ্রিসে মোট কত টাকা লাগে আর গ্রিসের টিউশন ফি লেখায়।

পরীক্ষা ৫: প্রক্রিয়ার ধাপগুলো

ইনটেক অক্টোবরফেব্রুয়ারি। জমা ও বায়োমেট্রিক হয় ঢাকার গ্রিক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু; সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস এবং ফাইল কুরিয়ারে সেখানে যায়। যাত্রাটা বাঁচে, দিল্লির সময়টা নয়: গ্রিসের আবেদন ঢাকা থেকে আর কোন দেশের ভিসা ঢাকায়, কোনটা দিল্লিতে

ইইউ আইনে সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন (ডিরেক্টিভ 2016/801) — কিন্তু ঘড়ি চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, তাই একটি অনুপস্থিত কাগজ লাইনের চেয়ে বেশি সময় খায়। আপনি শেনজেন শর্ট-স্টে নয়, ন্যাশনাল লং-স্টে ভিসার আবেদন করছেন: টাইপ-D বনাম টাইপ-C, ভিসা ফর্মের ভুলগুলো, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, এক পাতায় দেশভিত্তিক ডকুমেন্ট চেকলিস্ট আর আবেদনের মাস্টার টাইমলাইন। গ্রিস ইইউ ও সেনজেন — দুটোতেই আছে: নয় দেশের সেনজেন–ইইউ মানচিত্র। স্প্রিং ইনটেক কাদের জন্য, তা আছে স্প্রিং ইনটেকের লেখায়

যেগুলো আসলে শর্তই নয়, অথচ প্রায় সবাই বিশ্বাস করে

  • অ্যাপোস্টিল। অপ্রয়োজনীয় তো বটেই — গ্রিস এটি গ্রহণই করে না।
  • ব্লকড অ্যাকাউন্ট। গ্রিসে লাগে না। কেউ খুলতে বললে তিনি গ্রিসকে অন্য দেশের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।
  • একটা নির্দিষ্ট জাতীয় IELTS নম্বর। প্রকাশিত জাতীয় নিয়ম নেই; প্রোগ্রামের পাতাই ঠিক করে, আর কোথাও কোথাও MOI-ও চলে।
  • নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনার রেকর্ড। ব্যাখ্যা ও প্রমাণসহ গ্যাপ গ্রহণযোগ্য।
  • জমা দিতে দিল্লি যাওয়া। জমা ঢাকায়; কেবল সিদ্ধান্তটা দিল্লিতে।
  • পৌঁছেই কাজের অধিকার। এটি উল্টো ভুল ধারণা — মানুষ ভাবে এমন কিছু পাচ্ছে, যা আসলে পাচ্ছে না। নন-ইইউ শিক্ষার্থীকে আলাদা ওয়ার্ক অথরাইজেশন নিতে হয়: গ্রিসে পার্ট-টাইম কাজের নিয়ম
  • ভরসা করার মতো কোনো "সাকসেস রেট"। গ্রিস হোক বা অন্য দেশ, কোনো কর্তৃপক্ষ এটি প্রকাশ করে না: শেনজেন রিফিউজাল রেটের সংখ্যাটা আসলে কীসের

গ্রিস কাদের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত

যদি টিকে থাকার জন্য প্রথম মাস থেকেই আয় করতে হয়, গ্রিস আপনার দেশ নয়। কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, আলাদা করে নিতে হয়; হিসাব কষার মতো কোনো ঘণ্টার সংখ্যাও প্রকাশিত নেই; আর পাঁচ বছরের স্থায়ী বসবাসের ঘড়িতে পড়ার বছর গোনা হয় ৫০ শতাংশ হারে, কাজের বছর পুরোপুরি। যে পরিকল্পনা কেবল তখনই মেলে যখন পার্টটাইম আয় সময়মতো আসে, সেটি পরিকল্পনা নয়।

আপনার বিষয়ে ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম না থাকলেও গ্রিস ভুল সিদ্ধান্ত, আর যত ভালো ফাইলই বানান তাতে এটি বদলায় না। আর ভিসার আগে টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ সরাতে না পারলে এমন দেশ বাছুন যার টাকার ক্রম আপনার সঙ্গে মেলে। সিদ্ধান্তের আগে পড়ার মতো তুলনা হলো গ্রিস বনাম ইতালি, আর সৎ সারসংক্ষেপ আছে গ্রিস আসলে কাদের জন্য ভালো লেখায়।

গ্রিস অন্য ধরনের শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করে: যাঁর বিষয়টি ইংরেজি-মাধ্যম তালিকার সঙ্গে মেলে, যিনি ইউরোপের পাবলিক হারের নিচের দিকের টিউশন চান, যাঁর পরিবার বছরটা ঠিকভাবে ফান্ড করতে পারে, আর যাঁর ধৈর্য আছে এমন একটি লিগ্যালাইজেশন চেইনের জন্য যেটি অ্যাপোস্টিল দিয়ে ছোট করা যাবে না। সেটি আপনি হলে শুরু করুন গ্রিস স্টুডেন্ট ভিসা A–Z, দেশের পাতা, এথেন্সের মাসিক খরচ আর গ্রিসে স্কলারশিপের বাস্তবতা দিয়ে।

প্রথমে কী করবেন

  1. 1আপনার বিষয়ে একটি ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম খুঁজুন এবং ইউনিভার্সিটির নিজের পাতায় সেটি যাচাই করুন। না থাকলে এখানেই থামুন, দেশ তুলনা করুন।
  2. 2সেই প্রোগ্রামের প্রকাশিত ভর্তির শর্ত পড়ুন — যোগ্যতা, নম্বর, বিষয় ও ভাষার স্তর।
  3. 3লিগ্যালাইজেশন চেইন শুরু করুন, কারণ এটিই সবচেয়ে ধীর ধাপ এবং অ্যাপোস্টিল একে ছোট করবে না।
  4. 4বছরে প্রায় €৭,২০০-র ফান্ডের কাগজ গোছান, আর ভিসার আগে দেওয়া টিউশনের এক-তৃতীয়াংশ আলাদা করে বাজেটে রাখুন।
  5. 5অক্টোবর বা ফেব্রুয়ারি ধরে পিছন থেকে হিসাব করুন, আর দ্রুত সিদ্ধান্ত ধরে নিয়ে কিছুই বুক করবেন না।

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

গ্রিসের জন্য অ্যাপোস্টিল করালে কি চলবে?+

না। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং তা ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর, কিন্তু গ্রিস আর্টিকেল ১২-র অধীনে আপত্তি জানিয়েছে — ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও জানিয়েছে। আপত্তি মানে ওই দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি একেবারেই কার্যকর নয়। তাই গ্রিসের জন্য পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনই লাগবে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল নেয়।

গ্রিসে পড়তে কি গ্রিক ভাষা জানতে হবে?+

পাবলিক ইউনিভার্সিটির বেশির ভাগ ডিগ্রির জন্য হ্যাঁ, কারণ সেগুলো গ্রিক ভাষায় পড়ানো হয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীর বাস্তব পথটা হলো নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম, গোটা সিস্টেম নয়। তাই প্রথম প্রশ্ন 'গ্রিসে পড়া যায় কি না' নয় — 'আমার বিষয়ে ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম আছে কি না', আর সেটা ইউনিভার্সিটির নিজের পাতায় দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

গ্রিসে IELTS কত লাগে?+

গ্রিস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য কোনো জাতীয় IELTS নিয়ম প্রকাশ করে না। আমরা যেসব প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করি সেখানে সাধারণত ৫.৫-এর আশপাশে সর্বনিম্ন আর ৬.০ স্বাভাবিক চাহিদা দেখি, আর ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রামে প্রায়ই ৬.৫ লেখা থাকে। এগুলো আমাদের পর্যবেক্ষণ, কোনো জাতীয় নিয়ম নয় — প্রোগ্রামের পাতাই চূড়ান্ত।

গ্রিসের ভিসার জন্য কত টাকা দেখাতে হয়?+

আইনি ন্যূনতম মাসে €৪০০, অর্থাৎ বছরে €৪,৮০০। তবে দূতাবাস বাস্তবে মাসে €৬০০–৭০০ দেখতে চায়, তাই বছরে প্রায় €৭,২০০ ধরে পরিকল্পনা করাই নিরাপদ। গ্রিসে ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না — টাকা সাধারণ অ্যাকাউন্টেই থাকে, আর ব্যালান্সের চেয়ে কাগজের মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভিসার আগেই কি টিউশন দিতে হয়?+

হ্যাঁ, টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ভিসার আগেই জমা দিতে হয়। গ্রিসের বাজেট সবচেয়ে বেশি এখানেই ভাঙে, কারণ পরিবার ধরে নেয় পৌঁছানোর পর দেবে। এটিকে যাত্রার আগের খরচ হিসেবে ধরুন — আর যে ফান্ড দেখাতে হবে, তার অতিরিক্ত হিসেবে।

আবেদন করতে কি দিল্লি যেতে হবে?+

না। ঢাকায় গ্রিসের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু, জমা ও বায়োমেট্রিক সেখানেই হয়। তবে সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লির গ্রিক দূতাবাস এবং ফাইল কুরিয়ারে সেখানে যায়। অর্থাৎ যাত্রাটা বাঁচে, দিল্লির সময়টা বাঁচে না।

স্টাডি গ্যাপ থাকলে কি গ্রিসে ভর্তি হওয়া যাবে না?+

গ্যাপ নিজে থেকে কাউকে আটকায় না — ব্যাখ্যাসহ গ্যাপ গ্রহণযোগ্য। যেটা ফাইল নষ্ট করে সেটা লম্বা গ্যাপ নয়, ব্যাখ্যাহীন গ্যাপ। দাবির সঙ্গে তারিখসহ প্রমাণ জুড়ে দিন, তাহলে কয়েক বছরের গ্যাপও সমস্যা নয়।

গ্রিসে পৌঁছেই কি কাজ শুরু করা যায়?+

না। নন-ইইউ শিক্ষার্থীকে আলাদা করে ওয়ার্ক অথরাইজেশন নিতে হয় — স্টুডেন্ট পারমিট নিজে থেকে কাজের অধিকার দেয় না। তাই পার্টটাইম আয়কে পরিকল্পনার ভিত্তি না বানিয়ে বাড়তি হিসেবে ধরুন।

গ্রিসের ইনটেক কখন?+

ফল ইনটেক অক্টোবরে আর স্প্রিং ইনটেক ফেব্রুয়ারিতে। সম্ভব হলে অক্টোবর ধরে পিছন থেকে হিসাব করুন, কারণ লিগ্যালাইজেশন আর দিল্লির কুরিয়ার ধাপ দুটোই সবচেয়ে ধীর এবং শেষ মুহূর্তে এগুলো দ্রুত করার কোনো উপায় নেই।

জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত আসতে কত দিন লাগে?+

ইইউ আইনে সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন (ডিরেক্টিভ 2016/801)। তবে ঘড়িটা চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে। অসম্পূর্ণ ফাইলে কোনো ঘড়িই চালু হয় না — তাই একটা কাগজ কম থাকা লাইনে দাঁড়ানোর চেয়ে অনেক বেশি সময় খায়।

গাইড ধাপ
ইউনিভার্সিটি আবেদন
এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ৮৩টি গাইড এক জায়গায়

#গ্রিস#ভর্তি#ভিসা#অ্যাপোস্টিল#লিগ্যালাইজেশন#IELTS
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন