ভিসা

ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় আপনার পাসপোর্ট আসলে কোথায় থাকে

মোঃ সালাহউদ্দিন৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬8 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্টিকার বসাতে হয় বলে পাসপোর্ট জমা থাকে, আর ততদিন আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না। মেয়াদ শেষ হলে, জরুরি দরকার পড়লে বা দুই দেশে একসঙ্গে আবেদন করতে চাইলে কী হয় — আগেই জেনে নিন।

এক নজরে: ভিসা একটি স্টিকার, আর সেটি বসাতে হয় পাসপোর্টের পাতায় — তাই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের হেফাজতে থাকে। এর তিনটি ব্যবহারিক ফল: (১) ওই সময়ে আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না, ভারতে বায়োমেট্রিক দিতেও নয়; (২) পাসপোর্টের মেয়াদ প্রসেসিংয়ের মধ্যে শেষ হলে জটিলতা তৈরি হয়, তাই আবেদনের আগেই নবায়ন করা উচিত; (৩) এক পাসপোর্টে একসঙ্গে দুই দেশে আবেদন করা যায় না। ⚠️ ফেরত চাইলে সাধারণত আবেদনটাই প্রত্যাহার করতে হয় — আর প্রত্যাহার করলে ফি ফেরত আসে না।

"পাসপোর্ট জমা দিতে হবে?" — এই প্রশ্নটা মানুষ জিজ্ঞেস করেন জমা দেওয়ার দিন, অথচ এর উত্তরের ওপর পরের তিন মাসের অনেক পরিকল্পনা দাঁড়ানো। আগে জানলে বেশিরভাগ সমস্যাই হয় না।

কী কারণে পাসপোর্ট রাখতে হয়

জাতীয় (টাইপ-D) স্টুডেন্ট ভিসা একটি ভৌত স্টিকার, যা পাসপোর্টের একটি খালি পাতায় বসানো হয় এবং তাতে আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসার ধরন ও মেয়াদ ছাপা থাকে। কাজেই সিদ্ধান্তের সময় পাসপোর্টটি কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকতে হয়।

ব্যতিক্রম আছে: সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে প্রক্রিয়াটি রেসিডেন্স পারমিটের, ভিসা স্টিকারের নয় — সেখানে আবেদনটা অনলাইনে হয় এবং পাসপোর্ট মূলত পরিচয় যাচাই ও বায়োমেট্রিকের সময় দেখাতে হয়। তবু সেই ধাপে ও পারমিট কার্ডের ধাপে পাসপোর্ট লাগে, তাই সময়সীমার হিসাব একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ পরিস্থিতি, আর বাস্তবে যা হয়

পরিস্থিতিবাস্তবে যা হয়কী করবেন
প্রসেসিংয়ের সময় বিদেশ যেতে চানসম্ভব নয় — পাসপোর্ট আপনার কাছে নেইআবেদনের আগেই ভ্রমণ সেরে ফেলুন
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছেনতুন পাসপোর্টে স্টিকার লাগে; ফাইল জটিল হয়আবেদনের আগে নবায়ন (কীভাবে)
জরুরি প্রয়োজনে ফেরত চানসাধারণত আবেদন প্রত্যাহার করেই কেবল সম্ভবমিশনকে লিখুন; ফি ফেরত আসবে না
দুই দেশে একসঙ্গে আবেদনএক পাসপোর্টে সম্ভব নয়একটির সিদ্ধান্তের পর অন্যটি (খরচ ও ঝুঁকি)
দিল্লিতে বায়োমেট্রিক দিতে হবেভারতীয় ভিসার জন্যও পাসপোর্ট লাগেক্রমটা আগে ঠিক করুন (কোন দেশ কোথা থেকে)
পাসপোর্ট ফেরত এসেছে, স্টিকার নেইসিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে ফল অজানাখামের চিঠিটি সেদিনই পড়ুন

মেয়াদের নিয়মটা যত সহজ ভাবছেন তত নয়

বেশিরভাগ মিশন চায় পাসপোর্ট থাকার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অন্তত তিন মাস বেশি বৈধ থাকুক, অন্তত দুটি খালি পাতা থাকুক, এবং পাসপোর্টটি দশ বছরের বেশি পুরনো না হোক

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোর্স এক বছরের বেশি — অর্থাৎ পাসপোর্টে যথেষ্ট মেয়াদ না থাকলে আপনাকে ছোট মেয়াদের ভিসা দেওয়া হতে পারে, আর তখন গন্তব্য দেশে গিয়ে দুবার নবায়ন করতে হবে।

নিয়ম সহজ: পাসপোর্টে দুই বছরের কম মেয়াদ থাকলে আবেদন করার আগেই নতুন ই-পাসপোর্ট নিন। নবায়নের সময় ও ফি আছে, কিন্তু সেটা মাঝপথে আটকে যাওয়ার চেয়ে অনেক সস্তা (ই-পাসপোর্টের সময় ও ফি)।

এক পাসপোর্ট, এক আবেদন

বাংলাদেশ থেকে অনেকে ঝুঁকি কমাতে দুই-তিন দেশে একসঙ্গে আবেদন করতে চান। শারীরিকভাবে সেটি সম্ভব নয় — পাসপোর্ট একটি, আর সেটি একবারে একটি মিশনেই থাকতে পারে।

কার্যত যা করা যায়:

  1. 1ক্রম ঠিক করা — যেটির সিদ্ধান্ত দ্রুত আসে, সেটি আগে; পরেরটির ইনটেক যেন হাতে থাকে
  2. 2প্রসেসিং সময় দেখে হিসাব — মাল্টার প্রকাশিত সময় কমপক্ষে ৬–৮ সপ্তাহ; দুটি আবেদন পরপর করলে মোট সময় যোগ হয় (দেশভিত্তিক সময়)
  3. 3ভর্তির অফার ধরে রাখা — দ্বিতীয় ইউনিভার্সিটিকে আগেই জানিয়ে রাখুন যে আপনি পরের ইনটেকে যেতে পারেন

অপেক্ষার সময় যা করা যায় ও যায় না

করা যায়: ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ, আবাসন খোঁজা, বিমা ঠিক করা, বিমানভাড়ার খোঁজ (কিন্তু টিকিট কাটবেন না), ভাষা শেখা, দূতাবাস অতিরিক্ত কাগজ চাইলে দ্রুত পাঠানো।

করা যায় না: বিদেশ ভ্রমণ, পাসপোর্ট লাগে এমন যেকোনো কাজ (কিছু ব্যাংকের হিসাব খোলা, ডলার এন্ডোর্সমেন্ট), আর অন্য কোনো দেশের ভিসার আবেদন।

যা করতে যাবেন না: দালালের মাধ্যমে "পাসপোর্ট বের করিয়ে আনা"। মিশনের হেফাজতে থাকা পাসপোর্ট নিয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই, আর টাকা দিয়ে সেটি চেষ্টা করলে আপনার ফাইলই ঝুঁকিতে পড়ে।

ফেরত পাওয়ার দিন

পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার সময় কাউন্টার ছাড়ার আগেই স্টিকারের ঘরগুলো মিলিয়ে নিন — নাম, পাসপোর্ট নম্বর, TYPE (স্টুডেন্টের জন্য D হওয়ার কথা), মেয়াদ ও এন্ট্রি সংখ্যা। ভুল থাকলে সেখানেই জানালে সংশোধনের পথ খোলা থাকে; বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক কঠিন। পুরো পদ্ধতি পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও ফেরত নেওয়া লেখায়, আর জমা দেওয়ার পর ভেতরে কী ঘটে তা এখানে

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

আবেদনের ক্রম ঠিক করে দিই

পাসপোর্টের মেয়াদ, ইনটেক ও প্রসেসিং সময় ধরে কোনটা আগে করবেন, বলে দিই।

সাধারণ প্রশ্ন

ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় কি দেশের বাইরে যাওয়া যাবে?+

না। জাতীয় স্টুডেন্ট ভিসা পাসপোর্টের পাতায় বসানো একটি স্টিকার, তাই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকে। জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন থাকলে আবেদন করার আগেই সেটি সেরে ফেলুন।

প্রসেসিংয়ের মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কী হবে?+

জটিলতা তৈরি হয়, কারণ স্টিকারটি বৈধ পাসপোর্টে বসাতে হয় এবং নতুন পাসপোর্ট এলে নম্বরও বদলায়। তাই পাসপোর্টে দুই বছরের কম মেয়াদ থাকলে আবেদনের আগেই নতুন ই-পাসপোর্ট নেওয়া উচিত — বেশিরভাগ মিশন থাকার সময়ের চেয়ে অন্তত তিন মাস বেশি মেয়াদ চায়।

একসঙ্গে দুই দেশে আবেদন করা যায়?+

না, কারণ পাসপোর্ট একটি এবং সেটি একবারে একটি মিশনেই থাকতে পারে। বাস্তবে যা করা যায় তা হলো ক্রম ঠিক করা — যেটির সিদ্ধান্ত দ্রুত আসে সেটি আগে, আর দ্বিতীয় ইউনিভার্সিটিকে আগেই জানিয়ে রাখা যে পরের ইনটেকে যেতে পারেন।

জরুরি দরকারে পাসপোর্ট ফেরত পাওয়া যায়?+

সাধারণত কেবল আবেদন প্রত্যাহার করেই, এবং তাতে ফি ফেরত আসে না। মিশনভেদে নিয়ম আলাদা, তাই দরকার হলে সরাসরি মিশনকে লিখুন। দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট বের করার কোনো ব্যবস্থা নেই — সেই চেষ্টা ফাইলটাকেই ঝুঁকিতে ফেলে।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
সব দেশের গাইড
নয়টি দেশের পূর্ণ তুলনা

টিউশন, ফান্ড, IELTS ব্যান্ড ও ভিসার রুট — এক জায়গায়।

#পাসপোর্ট#প্রসেসিং#ভ্রমণ#ভিসা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন