ডেনমার্কের ভিসা সেন্টার ঢাকায়: সিদ্ধান্ত আসলে কে নেয়, আর কাউন্টার কোন কাজটা কখনোই করতে পারে না
ডেনমার্কের আবেদন আর ফি দুটোই অনলাইনে যায় SIRI-র কাছে; গুলশানের কেন্দ্রটি শুধু ছবি ও আঙুলের ছাপ নেয়, সিদ্ধান্ত নেয় না। কে কোন কাজটা করে, ১৪ দিনের সীমা, ফি কারা ঠিক করে, আর স্লট না পেলে কী করবেন।
এক নজরে: ডেনমার্কের স্টুডেন্ট ফাইলের আবেদন ও ফি — দুটোই অনলাইনে, ডেনমার্কের অভিবাসন সংস্থা SIRI-র কাছে। ঢাকার Denmark Visa Application Centre কেবল ছবি ও আঙুলের ছাপ নেয়; সেটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা নয়। কেন্দ্রটি চালায় VFS Global, ডেনমার্ক দূতাবাসের দেওয়া দায়িত্বে। দূতাবাসের নিজের "How and where to apply" পাতায় (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা) ঠিকানা লেখা আছে Delta Life Tower, প্লট ৩৭, রোড ৯০, ৪র্থ তলা, গুলশান নর্থ, ঢাকা ১২১২। দূতাবাস কেন্দ্র স্থানান্তরের একটি নোটিশও দিয়েছে, তাই আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনে যে ঠিকানাটি লেখা থাকবে সেটিই চূড়ান্ত — আমাদের লেখা নয়। আর যে নিয়মটি সবচেয়ে বেশি ফাইল ডুবিয়েছে: অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে হবে, নইলে ফাইলটি প্রক্রিয়াই হয় না।
সিদ্ধান্তটা ঢাকায় হয় না, কিন্তু আপনাকে দিল্লিও যেতে হয় না
এখানে দুটো আলাদা প্রশ্ন আছে, আর বেশিরভাগ মানুষ সেগুলো এক করে ফেলেন। "ফাইলটা কোথা থেকে জমা হয়" এক প্রশ্ন; "হ্যাঁ বা না কে বলে" সম্পূর্ণ আরেকটি।
ডেনমার্কের ক্ষেত্রে উত্তর দুটো আলাদা, আর দুটোই আপনার পক্ষে। জমা দেওয়া ও বায়োমেট্রিক ঢাকাতেই হয় — ভারত যেতে হয় না। আর সিদ্ধান্ত নেয় SIRI, যেটি ডেনমার্কের নিজস্ব অভিবাসন সংস্থা। ঢাকার কেন্দ্র বা দূতাবাস আপনার ফাইলে হ্যাঁ বা না লেখে না।
এই পার্থক্যটা টাকার অঙ্কে কত বড়, সেটা দেখলে বোঝা সহজ হয়। আমাদের হিসাবে একটি দেশের জন্য বাংলাদেশ-অংশের খরচ সাধারণত ২–৪ লাখ টাকা; কিন্তু যে দেশের ফাইলের সিদ্ধান্ত দিল্লিতে হয়, সেখানে সেটি ৩–৫ লাখ হয়ে যায় — ভারতীয় ভিসা, যাতায়াত ও থাকার খরচ যোগ হয় বলে। ডেনমার্ক সেই তালিকায় নেই, এবং এটি ডেনমার্কের একটি বাস্তব সুবিধা। কোন দেশের ফাইল ঢাকা থেকে যায় আর কোনটির জন্য সশরীরে যেতে হয়, তার পূর্ণ ম্যাপ আছে এই লেখায়, আর ঢাকায় দূতাবাস নেই এমন দেশগুলোর হিসাব এখানে। ডেনমার্কের পুরো খরচের ছক আছে ডেনমার্কে পড়ার মোট খরচের লেখায়।
"ভিসা সেন্টার" নামটাই যেখানে বিভ্রান্তি তৈরি করে
কেন্দ্রটির নাম Denmark Visa Application Centre, কিন্তু আপনি যেটির জন্য আবেদন করছেন সেটি কারিগরিভাবে ভিসা নয় — সেটি একটি রেসিডেন্স পারমিট, অনলাইন ফর্মের নাম ST1। নামের এই গরমিলটা নিরীহ মনে হলেও নয়: অনেক শিক্ষার্থী শেনজেন ট্যুরিস্ট ভিসার পাতা, ফর্ম আর চেকলিস্ট ধরে প্রস্তুতি নেন, তারপর কাউন্টারে গিয়ে দেখেন কাগজের তালিকাটাই আলাদা।
পার্থক্যটা কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ধাপে ধাপে লেখা আছে টাইপ-D আর শেনজেন টাইপ-C-র তফাতের লেখায়, আর পৌঁছানোর পর প্রথম ৯০ দিনে কী করতে হয় সেটা আছে ভিসা আর রেসিডেন্স পারমিট এক নয় লেখাটিতে। ডেনমার্কের পারমিটের পুরো A–Z আছে ডেনমার্ক স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট গাইডে, আর ঢাকা থেকে আবেদনের ক্রমটি আছে ডেনমার্কের আবেদন ঢাকা থেকে লেখায়।
কে কোন কাজটা করে — ক্রম ধরে
| ধাপ | কে দায়িত্বে | কোথায় হয় |
|---|---|---|
| ভর্তির অফার ও প্রোগ্রাম যাচাই | বিশ্ববিদ্যালয় | ডেনমার্ক |
| অনলাইন আবেদন (ST1) ও ফি দেওয়া | আপনি | অনলাইনে, SIRI-র সিস্টেমে |
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া | আপনি | ঢাকার আবেদন কেন্দ্রের বুকিং ব্যবস্থায় |
| ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া | আবেদন কেন্দ্র (VFS Global) | Delta Life Tower, গুলশান নর্থ |
| কাগজ ও বায়োমেট্রিক এগিয়ে দেওয়া | আবেদন কেন্দ্র | ঢাকা → ডেনমার্ক |
| ফাইল যাচাই ও সিদ্ধান্ত | SIRI | ডেনমার্ক |
| ফল জানানো ও পাসপোর্ট ফেরত | কেন্দ্র/দূতাবাস | ঢাকা |
এই ছকটার একটাই পাঠ: আপনার ফাইলের ভাগ্য নির্ধারণকারী ঘরটি ঢাকায় নেই। কেন্দ্রটি একটি জানালা, বিচারক নয়।
কাউন্টার যা পারে না — এটা আগে জানলে অনেক সময় বাঁচে
আবেদন কেন্দ্রের কর্মীরা কনস্যুলার অফিসার নন। তাঁরা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, দূতাবাসের দেওয়া নির্দিষ্ট কাজটুকু করেন। ফলে কয়েকটি জিনিস তাঁরা কখনোই করতে পারবেন না, এবং জিজ্ঞেস করে আপনি শুধু সময় নষ্ট করবেন:
- আপনার ফাইল দেরি হচ্ছে কেন, সেটা তাঁরা বলতে পারবেন না — কারণ ফাইলটি তাঁদের হাতে নেই, SIRI-র হাতে। দেরি নিয়ে কী করা যায় আর কী করে লাভ নেই, সেটা আছে ভিসা দেরি হচ্ছে লেখায়।
- আপনার SOP, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা রেজাল্ট "যথেষ্ট কি না" — এই প্রশ্নের উত্তর তাঁরা দিতে পারবেন না। কাউন্টার কাগজ গোনে, বিচার করে না।
- কোনো কাগজ ভুল থাকলে তাঁরা সেটি শুধরে দিতে পারবেন না। বড়জোর অসম্পূর্ণ বলে ফেরত দিতে পারেন।
- তাঁরা ফলাফল আগে জানাতে পারেন না, দ্রুতও করতে পারেন না।
জমা দেওয়ার পর ঠিক কী ঘটে তার ধাপগুলো আছে VFS-এ ফাইল জমার পর লেখায়, আর সরকারি ট্র্যাকার কোথায় দেখতে হয় সেটা আছে আবেদন ট্র্যাক করার গাইডে।
১৪ দিনের ঘড়িটাই আসল পরীক্ষা
বেশিরভাগ দেশে ক্রমটা হলো: আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, তারপর জমা। ডেনমার্কে উল্টো — আপনি অনলাইনে আবেদন জমা দিলেন, আর সেই মুহূর্ত থেকে ঘড়ি চলতে শুরু করল। ১৪ দিনের মধ্যে ছবি ও আঙুলের ছাপ না দিলে ফাইলটি প্রক্রিয়া করা হয় না।
দুটো কথা এখানে আলাদা করে বোঝা দরকার, কারণ দুটোই মানুষ ভুল বোঝে:
- 1অপেক্ষার সময় গোনা শুরু হয় বায়োমেট্রিকের পর, টাকা দেওয়ার দিন থেকে নয়। ফি দিয়ে বসে থাকলে কিছুই এগোয় না।
- 2সময় পেরিয়ে গেলে ফাইলটা এমনিতে "একটু দেরি" হয় না — সেটি থেমে যায়। আর ফি ফেরত দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
তাই ব্যবহারিক পরামর্শটা এক লাইনের: অনলাইন ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই দেখে নিন অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট কবে পাওয়া যাচ্ছে। কাউন্টারে গিয়ে আসলে কী হয়, কত সময় লাগে, কী কী করানো হয় — সেটা আছে বায়োমেট্রিক্স অ্যাপয়েন্টমেন্টে আসলে কী হয় এবং VFS Global ঢাকা গাইডে।
স্লট না পেলে কী করবেন
এটি একটি সত্যিকারের, বারবার ঘটা সমস্যা — এবং এর সমাধানও আছে, শুধু সেটি অনেকে জানেন না।
SIRI-র নিজের নির্দেশনায় লেখা আছে: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া গেলে আপনি যে তারিখটি পেয়েছেন সেটি ইমেইলে জানিয়ে রাখতে পারেন। এই ইমেইলটাই দেরি আর মৃত ফাইলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় — এবং এটি চৌদ্দ দিন পেরোনোর আগে পাঠাতে হয়, পরে নয়।
যা করবেন না: এজেন্টকে টাকা দিয়ে "স্লট বের করানো"। যে পদ্ধতিগুলো সত্যিই কাজ করে আর যেগুলো প্রতারণা, সেটার সৎ তালিকা আছে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট পাচ্ছেন না লেখায়।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন: কী নেবেন, আর পাসপোর্ট কোথায় থাকবে
| জিনিস | মূল না কপি | কেন |
|---|---|---|
| পাসপোর্ট | মূল | বায়োমেট্রিক এতেই যুক্ত হয় |
| অনলাইন আবেদনের রেফারেন্স/রসিদ | ছাপানো কপি | এটি না থাকলে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোন ফাইলে বসবে তা কেন্দ্র জানে না |
| শিক্ষাগত ও আর্থিক কাগজ | মূল + কপি দুটোই | কোনটি রাখা হবে সেটি কেন্দ্র বলে দেয় |
| ছবি | নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী | ভুল ছবি কাউন্টারেই আটকায় |
সবচেয়ে বেশি যেটি ভোগায় সেটি হলো অনলাইন আবেদনের রেফারেন্স — সেটি ছাপিয়ে নিন, ফোনে ছবিও তুলে রাখুন। কাগজ কোন ক্রমে সাজাবেন সেটা আছে ফাইল গোছানোর গাইডে, হাতে ধরার চেকলিস্ট আছে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনের চেকলিস্টে, আর স্টুডিওর সুন্দর ছবি কেন বাতিল হয় সেটা আছে ছবির স্পেসিফিকেশনের লেখায়।
আর পাসপোর্ট? ফাইল খোলা থাকা অবস্থায় সেটি আপনার কাছে থাকে না — কোথায় থাকে, কতদিন থাকে, আর সেই সময়ে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা কেন করা যায় না, তা আছে পাসপোর্ট কোথায় থাকে লেখায়; ফেরত নেওয়ার ধাপগুলো আছে পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও ফেরতের গাইডে।
ফি নিয়ে সৎ কথা: অঙ্কটা আমরা এখানে লিখছি না
এই লেখায় ডেনমার্কের ফির অঙ্ক নেই, এবং সেটি ইচ্ছাকৃত। কারণ দুটো:
প্রথমত, ফি ঠিক করে দুটো আলাদা কর্তৃপক্ষ। এক, SIRI-র আবেদন ফি — সেটি ধার্য হয় ড্যানিশ ক্রোনারে (DKK), ইউরোতে নয়, এবং ডেনমার্কের নিজস্ব নিয়মে বদলায়। দুই, আবেদন কেন্দ্রের নিজস্ব সেবা ফি — সেটি সম্পূর্ণ আলাদা, কেন্দ্র নিজে নেয়, এবং SIRI-র ফির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যখন "ডেনমার্কের ভিসা ফি এত" বলে একটি সংখ্যা বলেন, তিনি প্রায় সবসময় দুটোর একটি বাদ দেন।
দ্বিতীয়ত, সংখ্যাটা বদলায়, আর আমাদের পাতা আপনার আবেদনের দিন পর্যন্ত নিজে থেকে হালনাগাদ হয় না। ভুল অঙ্ক দেখে বাজেট করার চেয়ে অফিশিয়াল পাতা থেকে সেদিনের অঙ্কটা পড়ে নেওয়া ভালো — নিচের সূত্রগুলোতে লিংক দেওয়া আছে।
যেটি প্রায় নিশ্চিতভাবে সত্য: ফি ফেরতযোগ্য নয়। আবেদন বাতিল হলেও নয়, নিজে প্রত্যাহার করলেও নয়। নয় দেশের ফির তুলনামূলক ছক আছে স্টুডেন্ট ভিসা ফির টেবিলে, আর ঢাকা থেকে ফি দেওয়ার উপায়গুলো আছে ভিসা ফি পরিশোধের গাইডে।
ডেনমার্কের ক্ষেত্রে যে দুটো প্রচলিত কথা সরাসরি ভুল
১. "ইউরোপে স্টুডেন্ট ফাইলের সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের মধ্যে দিতেই হয়।" ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নির্দেশিকা (Directive 2016/801) সম্পূর্ণ ফাইলের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিনের সীমা দেয় — কিন্তু ডেনমার্ক এই ক্ষেত্রে ইইউ আইনের বাইরে (opt-out), তাই ডেনমার্ক এই সীমায় বাঁধা নয়। ডেনমার্ক নিজের প্রক্রিয়াকালের মান নিজেই প্রকাশ করে, SIRI-র পাতায়। কাজেই ডেনমার্কের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের হিসাব ধরে টিকিট কাটবেন না। দেশভিত্তিক সময়ের ছক আছে ভিসা প্রসেসিং টাইমের লেখায়।
২. "অ্যাপোস্টিল করিয়ে নিলেই ইউরোপের সব দেশে চলবে।" বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ — কিন্তু ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ড অনুচ্ছেদ ১২-এর অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, তাই এই তিন দেশের জন্য অ্যাপোস্টিল কাজে আসে না; পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের পুরো ধাপই লাগে। ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে। কোন দেশ মানে আর কোনটা মানে না, তার তালিকা আছে এই লেখায়; অ্যাটেস্টেশনের ধাপ ও সময় আছে MoFA অ্যাটেস্টেশন গাইডে আর অনুবাদের অংশটি আছে সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশনের লেখায়।
লিগ্যালাইজেশন বেশি সময় নেয় বলে ডেনমার্কের টাইমলাইনে এটিকে আগে রাখুন — ১৪ দিনের ঘড়ির সঙ্গে এটিকে একই সপ্তাহে ফেলবেন না।
কার জন্য ডেনমার্ক নয়
সৎ কথা বলা দরকার, কারণ এই পথটি সবার জন্য নয়।
যাঁর কাগজপত্র এখনো গোছানো হয়নি, তাঁর জন্য নয়। ডেনমার্কের প্রক্রিয়ায় "পরে ঠিক করে নেব" বলে কিছু নেই — ১৪ দিনের সীমা আর লিগ্যালাইজেশনের দীর্ঘ চেইন একসঙ্গে চললে দেরি ক্ষমা পায় না।
যিনি পড়ার খরচ মূলত কাজ করে তুলবেন ভাবছেন, তাঁর জন্যও নয়। ডেনমার্কে সেপ্টেম্বর–মে মাসে মাসে ৯০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি (সপ্তাহে ধরলে প্রায় ২১ ঘণ্টা), আর জুন–আগস্টে পূর্ণ সময় — নিয়মটি ভালো, কিন্তু ফান্ড দেখানোর শর্ত DKK ৮৯,১১২ (প্রায় €১১,৯২০) এক বছরের জন্য, এবং সেটি আবেদনের সময়েই দেখাতে হয়, পরে আয় করে নয়। কাজের নিয়মের পুরোটা আছে ডেনমার্কে কত ঘণ্টা কাজ করা যায়, আর ফান্ডের অংশটি আছে ডেনমার্কে ফান্ড দেখানোর লেখায়।
আর একটি ফাঁদ প্রোগ্রামের ধরনে। ডেনমার্কে সাধারণ ডিগ্রির পর ৩ বছরের জব-সার্চ অধিকার পারমিটের সঙ্গেই আসে — কিন্তু প্রফেশনাল মাস্টার্স ও বিজনেস একাডেমি (AP) প্রোগ্রামে সেটি ৩ বছর নয়, মাত্র ৬ মাস। ভর্তির আগেই প্রোগ্রামের ধরন মিলিয়ে নিন; পরে বদলানো যায় না। ডেনমার্ক আসলে কাদের জন্য ভালো, সেটা আছে এই লেখায়, আর সুইডেনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা আছে সুইডেন বনাম ডেনমার্কে।
কেউ যদি আপনাকে ডেনমার্কের একটি "সাকসেস রেট" বলে সংখ্যা দেন, সেটি বানানো — কেন কোনো কর্তৃপক্ষই এই সংখ্যা প্রকাশ করে না, সেটা আছে এই লেখায়।
এখন যা করবেন
- 1স্লট আগে, ফর্ম পরে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের অবস্থা দেখে তারপর অনলাইনে জমা দিন — এই ক্রম উল্টালে ১৪ দিনের নিয়ম আপনার বিরুদ্ধে যায়।
- 2লিগ্যালাইজেশন আজই শুরু করুন, কারণ ডেনমার্কে অ্যাপোস্টিল চলবে না এবং কনস্যুলার চেইন লম্বা।
- 3ফি দুটো আলাদা করে লিখে রাখুন — SIRI-র আবেদন ফি (DKK-তে) আর কেন্দ্রের সেবা ফি — অফিশিয়াল পাতা থেকে সেদিনের অঙ্ক নিয়ে।
- 4ইনটেক ও ডেডলাইন আগে মিলিয়ে নিন ডেনমার্কের ইনটেক ক্যালেন্ডারে, আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন যুক্তিযুক্ত সেটা দেখুন ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি গাইডে।
- 5ভর্তির শর্তগুলো একবারে মিলিয়ে নিন ডেনমার্কে ভর্তির প্রয়োজনীয়তার লেখায়, কাগজের তালিকা ধরুন চেকলিস্ট দিয়ে আর বাজেট কষুন খরচ ক্যালকুলেটরে।
- 6যাওয়ার আগের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনের ঠিকানাটি আরেকবার পড়ুন — কেন্দ্র সরে গেলে সেটিই আপনাকে সঠিক ভবনে পৌঁছে দেবে।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Royal Danish Embassy, Bangladesh — How and where to apply
- New to Denmark (SIRI) — উচ্চশিক্ষার রেসিডেন্স পারমিট
- New to Denmark — বায়োমেট্রিক ফিচার ও ১৪ দিনের নিয়ম
- VFS Global — Denmark, Bangladesh (ঢাকা কেন্দ্র)
- Study in Denmark — সরকারি তথ্যকেন্দ্র
- আমাদের ডেনমার্ক কান্ট্রি গাইড
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
ডেনমার্কের অ্যাপয়েন্টমেন্ট-দিনের তালিকা ইমেইলে নিন
কোন কাগজ মূল, কোনটা কপি, আর ১৪ দিনের ছকটা একসঙ্গে।
সাধারণ প্রশ্ন
ডেনমার্কের স্টুডেন্ট ফাইলের সিদ্ধান্ত কি ঢাকায় হয়?+
না। জমা ও বায়োমেট্রিক ঢাকাতেই হয়, কিন্তু হ্যাঁ বা না বলার এখতিয়ার ডেনমার্কের অভিবাসন সংস্থা SIRI-র, এবং সেটি ডেনমার্কে বসেই সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকার কেন্দ্র বা দূতাবাস আপনার ফাইলের ফল ঠিক করে না। তবে ভালো খবর হলো, এর জন্য আপনাকে নয়াদিল্লি যেতে হয় না।
ঢাকায় ডেনমার্কের ভিসা আবেদন কেন্দ্র কোথায়?+
ডেনমার্ক দূতাবাসের নিজের 'How and where to apply' পাতায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা ঠিকানা: Delta Life Tower, প্লট ৩৭, রোড ৯০, ৪র্থ তলা, গুলশান নর্থ, ঢাকা ১২১২। কেন্দ্রটি VFS Global চালায়, দূতাবাসের দেওয়া দায়িত্বে। দূতাবাস একটি স্থানান্তরের নোটিশও দিয়েছে, তাই যাওয়ার আগে আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনের ঠিকানাটিই চূড়ান্ত ধরুন।
বনানীর Borak Mehnur ভবনে কি ডেনমার্কের কেন্দ্র?+
না। ওই ভবনে ঢাকার আরেকটি ভিসা কেন্দ্র আছে, যেখান থেকে গ্রিস, বুলগেরিয়া ও মাল্টার ফাইল যায়। ডেনমার্কের কেন্দ্রের ঠিকানা দূতাবাস নিজে প্রকাশ করে গুলশান নর্থের Delta Life Tower হিসেবে। ভুল ভবনে গেলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নষ্ট হয়, তাই কনফার্মেশনটি পড়ে বেরোন।
বায়োমেট্রিকের জন্য কত দিন সময় পাওয়া যায়?+
অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৪ দিন। এই সময়ের মধ্যে ছবি ও আঙুলের ছাপ না দিলে ফাইলটি প্রক্রিয়া করা হয় না, এবং সময় পেরিয়ে গেলে আবেদন শেষ হয়ে যেতে পারে — ফি ফেরত আসে না। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই স্লটের অবস্থা দেখে নেওয়া নিরাপদ।
১৪ দিনের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্টই না পেলে কী করব?+
SIRI-র নির্দেশনায় লেখা আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া গেলে আপনি যে তারিখটি পেয়েছেন সেটি ইমেইলে জানিয়ে রাখতে পারেন। এটি চৌদ্দ দিন পেরোনোর আগে পাঠাতে হয়, পরে নয়। এজেন্টকে টাকা দিয়ে স্লট বের করানোর প্রস্তাব এলে সেটি এড়িয়ে যান।
ভিসা সেন্টারের কর্মীরা কি আমার কাগজ দেখে বলতে পারবেন ফাইলটা শক্ত কি না?+
না, এবং সেটি তাঁদের কাজও নয়। তাঁরা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, কনস্যুলার অফিসার নন — কাগজ গ্রহণ করেন, বায়োমেট্রিক নেন, আর ফাইলটি এগিয়ে দেন। কাগজের মান, SOP বা ফান্ডের যথেষ্টতা বিচার করে SIRI, ডেনমার্কে বসে।
ডেনমার্কের আবেদনের ফি কত?+
আমরা এখানে অঙ্কটি লিখছি না, কারণ ফি দুটো আলাদা কর্তৃপক্ষ ঠিক করে — SIRI-র আবেদন ফি ধার্য হয় ড্যানিশ ক্রোনারে এবং বদলায়, আর আবেদন কেন্দ্রের নিজস্ব সেবা ফি তার ওপর আলাদা। আবেদনের দিনে nyidanmark.dk আর কেন্দ্রের নিজের পাতা থেকে দুটো অঙ্কই পড়ে নিন। ফি ফেরতযোগ্য নয়।
ইউরোপের ৯০ দিনের নিয়ম কি ডেনমার্কেও খাটে?+
না। ইউরোপীয় নির্দেশিকা 2016/801 সম্পূর্ণ ফাইলের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিনের সীমা দিলেও ডেনমার্কের এই ক্ষেত্রে ইইউ আইন থেকে অপ্ট-আউট আছে, তাই ডেনমার্ক সেই সীমায় বাঁধা নয়। ডেনমার্ক নিজের প্রক্রিয়াকালের মান SIRI-র পাতায় প্রকাশ করে — পরিকল্পনা সেটার ভিত্তিতেই করুন, ৯০ দিনের ধারণা নিয়ে নয়।
ডেনমার্কের জন্য কি অ্যাপোস্টিল যথেষ্ট?+
না। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ হলেও ডেনমার্ক অনুচ্ছেদ ১২-এর অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, তাই দুই দেশের মধ্যে কনভেনশনটি কার্যকর নয় এবং পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের পুরো ধাপই লাগে। গ্রিস ও ফিনল্যান্ডও আপত্তি জানিয়েছে; ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, সুইডেন ও বুলগেরিয়া অ্যাপোস্টিল মানে।
বায়োমেট্রিকের দিন পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়?+
ফাইল খোলা থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট সাধারণত আপনার কাছে থাকে না — সেটি ফাইলের সঙ্গে থাকে এবং ফল জানানোর পর ফেরত দেওয়া হয়। এই সময়ে অন্য কোনো দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করবেন না, এবং পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকলে আবেদনের আগেই নবায়ন করে নিন।
এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন