ভিসা

ঢাকা থেকে ভিসা ফি কীভাবে দেবেন: কাউন্টার, কার্ড ও অনলাইন

মোঃ সালাহউদ্দিন৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬8 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কোন দেশের ফি ভিসা সেন্টারের ব্যাংক বুথে নগদে যায়, কোনটির জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করা কার্ড লাগে, আর কোনটি সরাসরি কর্তৃপক্ষের সাইটে — চারটি পথ, ২০২৬-এর অঙ্ক আর যেখানে আটকে যায়।

এক নজরে: ঢাকা থেকে ইউরোপের স্টুডেন্ট ভিসার ফি চারটি ভিন্ন পথে যায়, আর কোন পথটি প্রযোজ্য সেটা দেশ ঠিক করে দেয়: (১) ভিসা সেন্টারের ভেতরের ব্যাংক বুথে নগদে, (২) অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সময় অনলাইনে কার্ডে, (৩) সরাসরি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পোর্টালে কার্ডে, (৪) ব্যাংক ট্রান্সফারে রেফারেন্স নম্বর ধরে। ⚠️ দুই ও তিন নম্বর পথে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করা কার্ড লাগে — বাংলাদেশি কার্ডে সেটি ডিফল্টে বন্ধ থাকে, আর এন্ডোর্সমেন্ট ছাড়া অনেক ব্যাংক লেনদেনটি আটকে দেয়। সব ফি অফেরতযোগ্য, ভিসা না হলেও ফেরত আসে না। আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিজে সবসময় বিনামূল্যে — ঢাকার ইতালীয় দূতাবাস এটি নিজেদের পাতায় স্পষ্ট করে লিখে রেখেছে।

ফি কত সেটা নিয়ে আলাদা লেখা আছে (নয় দেশের ভিসা ফি)। এই লেখাটা অন্য প্রশ্নের: টাকাটা আসলে কীভাবে পাঠাবেন, এবং কোথায় আটকে যায়। ঢাকা থেকে প্রতি বছর অসংখ্য আবেদন এখানে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে যায়, কেবল কার্ডটা কাজ না করার কারণে।

চারটি পথ

পথকীভাবেকোন দেশে সাধারণতকী লাগে
ভিসা সেন্টারের ব্যাংক বুথে নগদজমার দিন কাউন্টারেইতালিনগদ টাকা, ছোট প্রসেসিং ফি
অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় অনলাইনেVFS-এর সাইটে বুকিং করার সময়ই ফি কাটেমাল্টাআন্তর্জাতিক লেনদেন চালু কার্ড
কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পোর্টালেআবেদন জমা দেওয়ার সময়ফিনল্যান্ড, সুইডেনআন্তর্জাতিক কার্ড
কেস অর্ডার আইডি / ব্যাংক ট্রান্সফাররেফারেন্স নম্বর ধরে টাকা পাঠানোডেনমার্কব্যাংকে গিয়ে ট্রান্সফার

২০২৬-এর কিছু প্রকাশিত অঙ্ক

দেশকে নেয়প্রকাশিত অঙ্ক
ইতালি 🇮🇹VFS সার্ভিস চার্জ৳৫,৩২০ প্রতি ফাইল, প্লাস ব্যাংক সার্ভিস ফি ৳২৭০
মাল্টা 🇲🇹ভিসা ফি + VFS চার্জস্ট্যান্ডার্ড €১০০ (VFS ৳১৩,৯৩৫), এক্সটেন্ডেড €১৫০ (VFS ৳২০,৯০০)
ফিনল্যান্ড 🇫🇮Migriঅনলাইনে €৬০০, কাগজে আবেদন করলে €৭৫০ (১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে)
সুইডেন 🇸🇪Migrationsverketপ্রাপ্তবয়স্ক SEK ১,৫০০, ১৮-র নিচে SEK ৭৫০
ডেনমার্ক 🇩🇰SIRIপ্রসেসিং ফি DKK ৩,০৬০

⚠️ VFS-এর টাকার অঙ্ক দূতাবাসের নির্ধারিত বিনিময় হারে হিসাব হয় এবং নোটিশ ছাড়াই বদলায় — ইতালির ক্ষেত্রে হারটি দূতাবাস নিজে ঠিক করে দেয়। বুকিংয়ের দিন সেন্টারের নিজস্ব পাতায় চলতি অঙ্কটি মিলিয়ে নিন।

বাংলাদেশি কার্ডের আসল সমস্যা

দুই ও তিন নম্বর পথে যা যা আটকায়, ধারাবাহিকভাবে:

  1. 1আন্তর্জাতিক লেনদেন বন্ধ থাকে। বেশিরভাগ বাংলাদেশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে এটি ডিফল্টে নিষ্ক্রিয়; ব্যাংকে আবেদন করে চালু করাতে হয়, সময় লাগে কয়েক কার্যদিবস
  2. 2এন্ডোর্সমেন্ট নেই। পাসপোর্টে ডলার এন্ডোর্স করা না থাকলে অনেক ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেন অনুমোদন করে না — এন্ডোর্সমেন্টের নিয়ম
  3. 3সীমা কম। এক লেনদেনে বা মাসে ডলারের সীমা €৬০০-র মতো ফি-র জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে
  4. 43D Secure ব্যর্থ হয়। OTP আসে না বা দেরিতে আসে, আর পোর্টালের সেশন ততক্ষণে শেষ

করণীয়: আবেদনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে কার্ডটি একবার পরীক্ষা করুন — ছোট একটি আন্তর্জাতিক লেনদেন করে দেখুন কাজ করে কি না। কার্ড না থাকলে পরিবারের কারও কার্ড ব্যবহার করা যায়, তবে কার্ডধারীর নাম আর আবেদনকারীর নাম আলাদা হলে রসিদটি সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত থাকুন।

যেসব ভুলে টাকা নষ্ট হয়

  • অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কাউকে টাকা দেওয়া। স্লট বিনামূল্যে; দালালের "স্লট ম্যানেজ" করার দাবি হয় মিথ্যা, নয় প্রতারণা
  • রিজেক্ট হলে ফেরত পাওয়ার আশা। সরকারি ফি ও সার্ভিস চার্জ কোনোটাই ফেরতযোগ্য নয় — মাল্টা এটি নিজেদের পাতায় লিখেই রেখেছে
  • ভুল ক্যাটাগরিতে ফি দেওয়া। শর্ট-স্টে আর ন্যাশনাল ভিসার ফি আলাদা; ভুল ঘরে দিলে সেটি ফেরত নয়, নতুন করে দিতে হয়
  • নগদ ছাড়া কাউন্টারে যাওয়া। যেখানে নগদে ফি নেওয়া হয়, সেখানে VFS-এর নিজস্ব চার্জও প্রায়ই নগদেই দিতে হয়
  • রসিদ না রাখা। রসিদটাই আপনার একমাত্র প্রমাণ, এবং পাসপোর্ট ফেরত নিতেও লাগে

জমার দিনের ছোট চেকলিস্ট

  1. 1চলতি অঙ্কটি সেন্টারের পাতা থেকে আজকের তারিখে মিলিয়ে নেওয়া
  2. 2নগদ হলে খুচরাসহ, কিছু বাড়তি টাকা সঙ্গে
  3. 3কার্ড হলে আগেই পরীক্ষা করা, আর ব্যাকআপ হিসেবে দ্বিতীয় একটি ব্যবস্থা
  4. 4রসিদ দুই কপি — একটি ফাইলে, একটি আলাদা
  5. 5ঐচ্ছিক সেবা (কুরিয়ার, SMS) নেবেন কি না আগেই ঠিক করা, কারণ এগুলো আলাদা চার্জ

ইউনিভার্সিটির আবেদন ফি কীভাবে দেবেন সেটি ভিন্ন প্রশ্ন এবং তার আলাদা লেখা আছে

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

ভিসা ধাপের পুরো খরচ ইমেইলে নিন

ফি, সার্ভিস চার্জ, বিমা, অনুবাদ ও কুরিয়ার ধরে আপনার দেশের হিসাব পাঠাই।

সাধারণ প্রশ্ন

ভিসা ফি কি নগদে দেওয়া যায়?+

দেশভেদে আলাদা। ঢাকার ভিসা সেন্টারে ইতালির মতো কিছু ক্ষেত্রে ভেতরের ব্যাংক বুথে নগদে ফি নেওয়া হয় এবং ছোট একটি প্রসেসিং ফি যোগ হয়। মাল্টার মতো ক্ষেত্রে ফি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সময় অনলাইনে কার্ডেই দিতে হয়, নগদের সুযোগ নেই।

আমার কার্ডে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেই, কী করব?+

আবেদনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে ব্যাংকে গিয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করান; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাসপোর্টে ডলার এন্ডোর্সমেন্টও লাগে। চালু করার পর ছোট একটি লেনদেন করে পরীক্ষা করে নিন — বুকিংয়ের দিন কার্ড ব্যর্থ হলে স্লটটাই হারায়।

ভিসা না হলে ফি ফেরত পাওয়া যায়?+

না। সরকারি ভিসা ফি ও ভিসা সেন্টারের সার্ভিস চার্জ কোনোটিই ফেরতযোগ্য নয় — মাল্টার তথ্যপত্রে এটি স্পষ্ট লেখা আছে। তাই ফাইল অসম্পূর্ণ রেখে তাড়াহুড়ো করে জমা দেওয়ার খরচ কেবল সময়ের নয়, টাকারও।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কি টাকা দিতে হয়?+

না। ঢাকার ইতালীয় দূতাবাস নিজেদের পাতায় লিখেছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সবসময় বিনামূল্যে — VFS-এর মাধ্যমে বুক করলেও। কেউ স্লট পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা চাইলে সেটি দালালি, এবং সেই টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো পথ নেই।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
সব দেশের গাইড
নয়টি দেশের পূর্ণ তুলনা

টিউশন, ফান্ড, IELTS ব্যান্ড ও ভিসার রুট — এক জায়গায়।

#ভিসা ফি#পেমেন্ট#কার্ড#ঢাকা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন