ভিসা

সুইডেনের স্টুডেন্ট পারমিট ঢাকা থেকে: কোনো কাউন্টারে ফাইল জমা হয় না — আর সিদ্ধান্তটা ঢাকাতেও নয়, দিল্লিতেও নয়

মোঃ সালাহউদ্দিন১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬9 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুইডেনে পড়ার পারমিটের আবেদন পুরোটাই অনলাইনে Migrationsverket-এ, আর সিদ্ধান্ত হয় সুইডেনে — ঢাকাতেও নয়, দিল্লিতেও নয়। ঢাকার এম্বাসিতে যেতে হয় শুধু ছবি, আঙুলের ছাপ আর পারমিট কার্ডের জন্য, আর VFS এই পথে নেই।

এক নজরে: সুইডেনে "স্টুডেন্ট ভিসা" বলে কিছু নেই — আছে পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিট, আর তার আবেদন ও ফি পুরোটাই যায় অনলাইনে Migrationsverket-এ। সিদ্ধান্ত হয় সুইডেনে — ঢাকাতেও নয়, দিল্লিতেও নয়। ঢাকার এম্বাসি আসে শেষে, দুইবার: ছবি ও আঙুলের ছাপ, আর রেসিডেন্স পারমিট কার্ড। এই পথে কোনো VFS বা আউটসোর্স করা কেন্দ্র নেই, আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে

আমরা যে নয়টি দেশ নিয়ে কাজ করি, তার মধ্যে সুইডেনই একমাত্র যেখানে ভিসা আবেদনের চেনা ছবিটা — অ্যাপয়েন্টমেন্ট নাও, ফাইল হাতে নিয়ে কাউন্টারে যাও, জমা দাও — প্রথম ধাপ থেকেই ভুল। কোনো কাউন্টার নেই। আর প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমন একটা জমা দেওয়ার জায়গা খুঁজে বেড়ান, যেটা এই প্রক্রিয়ার অংশই নয়।

প্রশ্নটা "কোথায় জমা দেব" নয়, প্রশ্নটা "কে সিদ্ধান্ত নেয়"

এই দুটো প্রশ্ন আলাদা, কিন্তু মানুষ একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। সুইডেনের ক্ষেত্রে সৎ উত্তর দুটি: বাংলাদেশে আপনি কোথাও কিছু জমা দিচ্ছেন না, আর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে Migrationsverket, সুইডেনে বসে।

দ্বিতীয় উত্তরটির ভেতরে একটা বড় সুবিধা লুকিয়ে আছে: দিল্লি যেতে হয় না। কোন দেশের ফাইল ঢাকা থেকে চলে আর কোনটার জন্য দিল্লি, তার পুরো ম্যাপ আছে এই লেখায়, আর যেসব দেশের ঢাকায় মিশনই নেই তাদের তালিকা এখানে

সাশ্রয়টা কাগুজে নয়। আমাদের নিজেদের হিসাবে এক দেশের আবেদনে বাংলাদেশ-অংশের খরচ মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা, আর যেখানে সিদ্ধান্ত দিল্লিতে হয় — ভারতীয় ভিসা, টিকিট ও হোটেল যোগ করার পর — সেখানে ৩–৫ লাখ। সুইডেন সস্তা দলটিতেই পড়ে, আর রিফিউজ হলে এই টাকার কোনোটাই ফেরত আসে না।

তিনটি জায়গা, কিন্তু আপনার পথে পড়ে একটাই

জায়গাকে চালায়শিক্ষার্থীর জন্য কী করে
migrationsverket.se-এর ই-সার্ভিসসুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সিআবেদন ও ফি নেয়, যাচাই করে, সিদ্ধান্ত দেয়
সুইডেনের এম্বাসি, গুলশান ২, ঢাকাসুইডিশ রাষ্ট্রছবি ও আঙুলের ছাপ, তারপর রেসিডেন্স পারমিট কার্ড হস্তান্তর
VFS Global-এর ঢাকা কেন্দ্রএকটি আউটসোর্স করা প্রতিষ্ঠানসুইডেনের স্বল্পমেয়াদি শেঙেন ভিসার কাজ — এই পারমিট নয়

তৃতীয় সারিটাই বাকি দুটোর চেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে। ঢাকায় সুইডেনের নাম বহন করা একটি VFS কেন্দ্র আছে, তাই শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই ভাবেন পড়ার ফাইলটাও সেখানেই যাবে। যায় না। স্বল্পমেয়াদি শেঙেন ভিসা হলো বেড়াতে যাওয়ার কাগজ; পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিট হলো সুইডেনে থাকার অনুমতি — দুটোর ব্যবস্থাই আলাদা। যেসব দেশে সত্যিই ভিসা সেন্টার দিয়ে কাজ হয়, সেই মডেলটা দেখা যাবে VFS Global ঢাকার গাইডে আর ইতালির এম্বাসি ও VFS-এর লেখায় — সুইডেন ঠিক এই মডেলটাই ব্যবহার করে না।

ঢাকার আরেকটি তথ্যও প্রতি বছর মানুষকে বিভ্রান্ত করে: সুইডিশ এম্বাসি ফিনল্যান্ডের পক্ষে স্বল্পমেয়াদি শেঙেন ভিসা দেখে। কথাটা সত্যি, কিন্তু শিক্ষার্থীর কোনো কাজে লাগে না — ফিনল্যান্ডে পড়তে গেলে লাগে রেসিডেন্স পারমিট, আর সেটির পথ সম্পূর্ণ আলাদা: ফিনল্যান্ডের রুট

ধাপে ধাপে: কোন ধাপে কে দায়ী

ধাপকে দায়ীকোথায় হয়
সব সুইডিশ ইউনিভার্সিটিতে এক আবেদন, ফি SEK ৯০০আপনিuniversityadmissions.se, অনলাইনে
অফার, আর সেটি গ্রহণ করার সিদ্ধান্তইউনিভার্সিটি, তারপর আপনিঅনলাইনে
টিউশনের প্রথম কিস্তি (ফি-প্রদানকারী হলে)আপনিআপনার ব্যাংক থেকে ইউনিভার্সিটিতে
পারমিটের আবেদন ও SEK ১,৫০০ ফিআপনিMigrationsverket-এর ই-সার্ভিস, অনলাইনে
ফাইল যাচাই ও সিদ্ধান্তMigrationsverketসুইডেন
ছবি ও আঙুলের ছাপসুইডেনের এম্বাসিঢাকা
রেসিডেন্স পারমিট কার্ড তৈরিMigrationsverketসুইডেন
কার্ড হস্তান্তরসুইডেনের এম্বাসিঢাকা

মাঝের কলামটা ওপর থেকে নিচে পড়লে একটা জিনিস চোখে পড়বে: যে ধাপে সিদ্ধান্ত হয়, তার একটিও বাংলাদেশে নেই। এম্বাসি বিচারক নয়, ডাকবাক্সও নয় — এটি সেই জায়গা যেখানে আপনার মুখ আর আঙুল সশরীরে হাজির থাকতে হয়, আর পড়ার ফাইলে ওইটুকুই তার কাজ।

ভর্তির অংশ মিলিয়ে পুরো ক্রমটা আছে সুইডেনের আবেদন ঢাকা থেকে লেখায়, আর সম্পূর্ণ গাইডটি সুইডেন স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট A–Z

এম্বাসি যা পারে, আর যা পারে না

নিচের সবকিছুই একটি বাস্তবতা থেকে আসে: ফাইলটা সুইডেনে।

  • কেন দেরি হচ্ছে, এম্বাসি বলতে পারবে না। কোনটা সত্যিই কাজে দেয় আর কোনটা শুধু দুশ্চিন্তা, তা আছে ভিসায় দেরি হলে কী করবেন আর আবেদন ট্র্যাক করার লেখায়
  • আপনার কাগজ "যথেষ্ট শক্ত" কি না, তা-ও বলতে পারবে না। কাউন্টারে বসে কেউ ফাইল বিচার করেন না; করে Migrationsverket, সুইডেনের ভর্তি ও পারমিটের শর্তের বিপরীতে
  • কিছু দ্রুত করা বা ফলাফল আগে জানিয়ে দেওয়া — কোনোটাই সম্ভব নয়, আপনার হয়ে অন্য কারও পক্ষেও নয়
  • যা পারে: রেসিডেন্স পারমিটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া, ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া, আর কার্ড হস্তান্তর করা। ঠিকানা, সাধারণ সময়সূচি আর মাইগ্রেশন-বিষয়ক আলাদা যোগাযোগের সময় এম্বাসির নিজের যোগাযোগ পাতাতেই লেখা আছে — ঢাকা পেরিয়ে যাওয়ার আগে সেখান থেকেই দেখে নিন, কারণ ভুল দিনে করা ফোন কোথাও পৌঁছায় না

যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কেউ বিক্রি করতে পারে না

সুইডেনের এই অংশটা দুবার পড়ার মতো। এম্বাসি স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট একমাত্র এম্বাসিই ঠিক করে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সেই সঙ্গে তারা সতর্কতা প্রকাশ করেছে সেসব ব্যক্তির বিষয়ে, যারা মিথ্যা করে নিজেদের মাইগ্রেশন এজেন্সি বা এম্বাসির প্রতিনিধি বলে দাবি করে এবং টাকার বিনিময়ে আগের তারিখ পাইয়ে দেওয়ার বা সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার প্রস্তাব দেয়।

কোনো দূতাবাস নিজের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতারণার নোটিশ দেয় না, যদি না প্রতারণাটা সাধারণ ঘটনা হয়ে থাকে। তাই ওই নোটিশটাকে পড়ুন একটা মানচিত্র হিসেবে — এই বাজারে ঠিক কোন প্রতিশ্রুতিগুলো মূল্যহীন তার মানচিত্র: আগের তারিখ, "চেনা অফিসার", নিশ্চিত ফলাফল। একই প্যাটার্নের অন্য রূপগুলো আছে জাল কাগজ ও এজেন্সি প্রতারণার লেখায়, এজেন্সির রেড ফ্ল্যাগে আর সাকসেস রেট কেন কেউ প্রকাশ করে না লেখায়।

নিয়মটা ছোট: কেউ যদি সুইডেনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা, এগিয়ে আনা বা দ্রুত করার জন্য টাকা চান, তিনি এমন একটা ক্যালেন্ডারে ঢোকার অধিকার বিক্রি করছেন যেটা এম্বাসি বলছে তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে।

স্লট না পেলে কী করবেন

সুইডেন আমাদের নয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম আউটসোর্স করা — এতে সুবিধা আছে, অসুবিধাও আছে। সার্ভিস ফি নেই, মধ্যস্বত্বভোগীও নেই; কিন্তু অফিস একটাই এবং উপচে পড়া ভিড় সামলানোর বাড়তি ক্ষমতা নেই। তাই বসন্তে সিদ্ধান্ত আসার পরের মাসগুলোতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের চাপ বাস্তব।

চারটি জিনিস কাজে দেয়, এই ক্রমে — আর একটিতেও টাকা লাগে না।

  1. 1আগে থেকে তৈরি থাকুন। জুলাইয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সমস্যা আসলে জানুয়ারির আবেদন সমস্যা। ক্যালেন্ডার কী বাধ্য করে তা আছে সুইডেনের ইনটেক ও ডেডলাইনে
  2. 2Migrationsverket-এ যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করুন, কারণ অ্যাপয়েন্টমেন্টের সারিতে আপনার জায়গা নির্ভর করে সিদ্ধান্ত কবে এসেছে তার ওপর — আর সেটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ আবেদন কবে জমা পড়েছে তার ওপর
  3. 3এম্বাসির নিজের প্রকাশিত মাইগ্রেশন যোগাযোগ ব্যবহার করুন — একবার, কেস নম্বরসহ, এক লাইনে কোর্স শুরুর তারিখ লিখে। প্রতিদিন নয়, তিন মাধ্যমে একসঙ্গে নয়
  4. 4গুজব নয়, ক্যালেন্ডার দেখুন। সাধারণ কৌশলগুলো আছে স্লট না পেলে কী করবেন লেখায় — আর তার মধ্যে যেগুলোতে টাকা দেওয়ার কথা আসে, সুইডিশ এম্বাসি ঠিক সেগুলোর বিরুদ্ধেই সতর্ক করেছে

কী নিয়ে যাবেন, আর পাসপোর্টের কী হয়

সুইডেনে জমা দেওয়ার কাজটা যেহেতু ডিজিটাল, শৃঙ্খলাটা কাগজের ফাইল থেকে সরে যায় আপলোডে। স্ক্যান প্রথমবারেই ঠিক রাখুন: স্ক্যান ও ফাইল সাইজের নিয়ম। তার আগে নাম ঠিক করুন, কারণ পারমিট ইস্যু হয় পাসপোর্টে ঠিক যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই: নামের অমিল সারানো। অনুবাদ ও সত্যায়ন এখনও কয়েক সপ্তাহ খায়: ঢাকায় সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশনঅ্যাটেস্টেশন-অ্যাপোস্টিলের ক্রম — সুইডেন অ্যাপোস্টিল নেয়, তবে যারা নেয় না তাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।

এম্বাসিতে যাওয়ার দিন যে পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করেছেন সেটি আর সিদ্ধান্তপত্র নিন, আপলোড করা সবকিছুর মূল কপি হাতের কাছে রাখুন, আর যা চাওয়া হয়নি তা নেবেন না: অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনের চেকলিস্টবায়োমেট্রিক্সে আসলে কী হয়। পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গাটা নিয়ে আছে পাসপোর্ট কোথায় থাকেপাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও ফেরত নেওয়া

ফি: তিন কর্তৃপক্ষ, আর কাউন্টার তাদের কেউ নয়

খরচকে নির্ধারণ করেকতরিফিউজ হলে
পোর্টালের আবেদন ফিUniversity AdmissionsSEK ৯০০, একটি আবেদনে একাধিক প্রোগ্রামপোর্টালের নিজের শর্ত দেখুন
টিউশনের প্রথম কিস্তিআপনার ইউনিভার্সিটিবছরে €৭,০০০–১৩,০০০-এর একটি অংশইউনিভার্সিটির প্রকাশিত রিফান্ড নীতি ঠিক করে
রেসিডেন্স পারমিট ফিMigrationsverketSEK ১,৫০০ফেরত আসে না
এম্বাসির অ্যাপয়েন্টমেন্টসুইডেনের এম্বাসিবিনামূল্যে

তিনটি আলাদা কর্তৃপক্ষ তিনটি খরচ ঠিক করে, আর প্রত্যেকে নিজেরটা বদলাতে পারে — তাই টাকা দেওয়ার দিন অফিসিয়াল পাতা থেকে সংখ্যাটা মিলিয়ে নিন, কোনো লেখা থেকে নয়, এই লেখাটিও বাদ নয়। নয় দেশের তুলনা আছে স্টুডেন্ট ভিসা ফি-র টেবিলে, আর ঢাকা থেকে ফি দেওয়ার পদ্ধতি এখানে

কিস্তিটাই সুইডেনের পুরো পরিকল্পনার ক্রম বদলে দেয়। ফি-প্রদানকারী শিক্ষার্থীকে সেটি দিতে হয় পারমিটের আবেদন করার আগেই — অর্থাৎ কোনো ইমিগ্রেশন অফিসার ফাইল খোলার আগেই সত্যিকারের টাকা বাংলাদেশ থেকে সুইডিশ ইউনিভার্সিটিতে চলে যায়। এটি একটি খরচ, তাই সেই টাকা আর দেখানোর টাকা হতে পারে না; মাসে SEK ১০,৬৫৬, ২০২৬ মাত্রায় প্রায় €৯৬০ — এই ফান্ডের শর্তটা আলাদা এবং কিস্তির পরেও টিকে থাকতে হবে। পুরো ফাঁদটা খোলা আছে সুইডেনে প্রুফ অফ ফান্ডসের লেখায়।

"পারমিট হয়ে গেছে" আর "উড়তে পারব" — মাঝের ফাঁকটা

ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আর বোর্ডিং পাসের মাঝখানে দুটি ধাপ বসে আছে, যেগুলো প্রায় কেউ বাজেটে ধরেন না: এম্বাসিতে যাওয়া, আর তারপর কার্ড তৈরি হয়ে ঢাকায় পৌঁছানো ও সংগ্রহের অপেক্ষা। কার্ড হাতে না আসা পর্যন্ত আপনি ওটা দিয়ে যাত্রা করছেন না, আর অনুমোদনের তারিখ ধরে টিকিট কেটে ফেলা এই প্রক্রিয়ার ব্যয়বহুল ভুলগুলোর একটি।

অপেক্ষা নিয়ে দুটি সৎ অবলম্বন। প্রথমত, EU আইনে (Directive 2016/801) একটি সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্তের সর্বোচ্চ সীমা ৯০ দিন — কিন্তু ঘড়িটা চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, তাই অসম্পূর্ণ আপলোড ছোট ভুল নয়। দ্বিতীয়ত, Migrationsverket প্রতিটি পারমিটের ধরন অনুযায়ী নিজের অপেক্ষার সময়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, আর ওগুলোই একমাত্র উদ্ধৃত করার যোগ্য সংখ্যা। নয় দেশের ছবিটা আছে কোন দেশে কত সময় লাগে লেখায়, পুরো পথটা অফার থেকে বোর্ডিং পাসে, আর কার্ড হাতে পাওয়ার পরের কাজগুলো রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের লেখায়।

এই রুটটা কার জন্য নয়

  • যে পরিবার টিউশনের কিস্তি অথবা ফান্ডের অঙ্ক — যেকোনো একটি পারে, দুটো একসঙ্গে নয়। সুইডেন দুটোই চায় একই সময়ে, সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই। এখানে সৎ উত্তর হলো সস্তা কোনো গন্তব্য, টানাটানি করে সুইডেন নয়
  • যার কয়েক মাসের মধ্যে শুরু করা দরকার। অটাম রাউন্ড খোলে ১৫ অক্টোবর, বন্ধ হয় ১৫ জানুয়ারি — বছরে একবার; স্প্রিং ইনটেক অনেক ছোট এবং তার জানালা আরও আগে বন্ধ হয়
  • যিনি পার্ট-টাইম আয় দিয়ে ডিগ্রি চালানোর কথা ভাবছেন। ১১ জুন ২০২৬ বা তার পরে ইস্যু হওয়া পারমিটে টার্মের সময় কাজ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা: সুইডেনে কত ঘণ্টা কাজ করা যায়। সুইডেন কাদের জন্য ভালো আর কাদের জন্য নয়, সেটা সরাসরি বলা আছে এই লেখায়
  • যিনি চান এজেন্ট তাঁর হয়ে এম্বাসিতে যাক। আঙুলের ছাপ আপনাকেই দিতে হবে, আর সেই তারিখ কেউ টাকা দিয়ে এগিয়ে আনতে পারে না

এই সপ্তাহে যা করবেন

  1. 1ক্যালেন্ডারে আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন মিলিয়ে নিন সুইডেনের ইনটেক ও ডেডলাইনের সঙ্গে — বাকি সবকিছু এই উত্তরের ওপর দাঁড়ায়
  2. 2একটি কাগজ জোগাড় করার আগে শর্তগুলো পড়ুন: কী কী লাগে, তারপর পোর্টালের নিয়ম universityadmissions.se গাইডে আর ইউনিভার্সিটি বাছাই সুইডেনের ইউনিভার্সিটি গাইডে
  3. 3ইউনিভার্সিটির কাছে লিখিতভাবে জানতে চান প্রথম কিস্তি ঠিক কত, শেষ তারিখ কবে, আর তাদের প্রকাশিত রিফান্ড নীতি কী — টাকা পাঠানোর আগেই
  4. 4কাগজপত্র গোছান এক পাতার চেকলিস্ট ধরে, অনুবাদ ও সত্যায়ন দিয়ে শুরু করে — এগুলোই সবচেয়ে ধীর
  5. 5আসল বাজেটটা কাগজে তুলুন সুইডেনে মোট কত টাকা লাগে, খরচের ক্যালকুলেটর আর সুইডেনে কি ফ্রিতে পড়া যায় মিলিয়ে

সৎ সারসংক্ষেপ

প্রশাসনিক দিক থেকে সুইডেন আমাদের নয় দেশের প্রায় সবার চেয়ে কম ঝামেলার: কোনো সেন্টার নেই, সার্ভিস ফি নেই, দিল্লিতে কুরিয়ার নেই, টাকা দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেই। বদলে যা চায় তা হলো পরিকল্পনা — কারণ ঘর্ষণটা লাইন থেকে সরে গিয়ে বসেছে ক্যালেন্ডারে: বছরে একটাই আবেদনের জানালা, ইমিগ্রেশন ফাইল তৈরি হওয়ার আগেই দিতে হওয়া টিউশনের কিস্তি, আর ছাপা হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকা একটি কার্ড।

কেউ যদি টাকার বিনিময়ে এর কোনোটা ছোট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তিনি এমন এক ব্যবস্থার শর্টকাট বিক্রি করছেন যেখানে এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো কাউন্টারই নেই।

সুইডেনের টাইমলাইনটা মিলিয়ে দিই?

১৫ জানুয়ারির ডেডলাইন, টিউশনের কিস্তি, পারমিট আর কার্ড — কোন তারিখে কী, লিখে পাঠাই।

সাধারণ প্রশ্ন

সুইডেনের স্টুডেন্ট ফাইল ঢাকায় কোথায় জমা দিতে হয়?+

কোথাও না। পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন ও ফি পুরোটাই অনলাইনে Migrationsverket-এর নিজস্ব ই-সার্ভিসে যায়, আর যাচাই-বাছাই হয় সুইডেনে। ঢাকার এম্বাসিতে যেতে হয় শুধু ব্যক্তিগত উপস্থিতির ধাপটির জন্য — ছবি ও আঙুলের ছাপ, আর পরে রেসিডেন্স পারমিট কার্ড। আপনি যদি কোনো জমা দেওয়ার কাউন্টার খুঁজতে থাকেন, তাহলে এমন একটা জিনিস খুঁজছেন যা এই প্রক্রিয়ায় নেই।

ঢাকার VFS-এ কি সুইডেনের পড়ার আবেদন জমা দেওয়া যায়?+

না। ঢাকায় VFS Global-এর যে কেন্দ্রটি সুইডেনের নাম বহন করে, সেটি সুইডেনের স্বল্পমেয়াদি শেঙেন ভিসার কাজ করে — এটাই প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে। স্বল্পমেয়াদি ভিসা আর পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিট দুটি আলাদা জিনিস, আলাদা নিয়ম ও আলাদা পথ। আপনার দরকার পারমিট, আর তার পথ অনলাইনে Migrationsverket, তারপর ঢাকার এম্বাসি।

সুইডেনের ফাইল কি নয়াদিল্লিতে যায়?+

না, আর এটাই বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এই রুটের সবচেয়ে বড় সুবিধা। সিদ্ধান্ত হয় সুইডেনে, তাই ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট বা দিল্লির হোটেল — কোনোটাই বাজেটে লাগে না। আমাদের নিজেদের হিসাবে এক দেশের আবেদনে বাংলাদেশ-অংশের খরচ মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা, আর যেখানে সিদ্ধান্ত দিল্লিতে হয় সেখানে ৩–৫ লাখ — এবং রিফিউজ হলে কোনোটাই ফেরত আসে না।

কেউ কি আমাকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইয়ে দিতে পারে?+

না, আর এমন প্রস্তাব সুযোগ নয়, বিপদসংকেত। এম্বাসি নিজেই লিখে রেখেছে যে রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট একমাত্র এম্বাসিই দেয় এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে সেসব ব্যক্তির বিষয়ে, যারা মিথ্যা করে নিজেদের Migrationsverket বা এম্বাসির প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয় এবং টাকার বিনিময়ে আগের তারিখ বা সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার প্রস্তাব দেয়।

এম্বাসির অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কত টাকা লাগে?+

কিছুই না। এম্বাসি নিজের ভাষায় বলেছে, রেসিডেন্স পারমিটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় টাকা যায় তিন জায়গায়: পোর্টালে আবেদন ফি SEK ৯০০, বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশনের প্রথম কিস্তি, আর Migrationsverket-এ পারমিট ফি SEK ১,৫০০। এর বাইরে বুকিং ফি নামে যা চাওয়া হবে, সেটি সুইডিশ ব্যবস্থার কোনো ফি নয়।

এম্বাসি কি বলতে পারবে আমার ফাইল কেন দেরি হচ্ছে?+

পারবে না, কারণ ফাইলটা এম্বাসির কাছে নেই। ফাইল ও সিদ্ধান্ত দুটোই Migrationsverket-এর হাতে, এবং তারা প্রতিটি পারমিটের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত অপেক্ষার সময়ের পরিসংখ্যান নিজেদের সাইটেই প্রকাশ করে। ওই সংখ্যাগুলোই একমাত্র উদ্ধৃত করার যোগ্য। এর চেয়ে কম সময় কোনো এজেন্ট বললে সেটা প্রকাশিত তথ্য নয়, বিক্রির কথা।

আঙুলের ছাপ কখন দিতে হয় — সিদ্ধান্তের আগে না পরে?+

Migrationsverket-এর নিজের পাতা, যেটি অনুমোদিত পড়াশোনার আবেদনের জন্য লেখা, সিদ্ধান্তের পরেই সুইডিশ মিশনে গিয়ে ব্যক্তিগত উপস্থিতির ধাপটির কথা বলে — আমাদের সুইডেন রুট গাইডেও ক্রমটা একই। তবে আপনার নিজের সিদ্ধান্তপত্রই আপনার ফাইলের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ, তাই সেখানে যা লেখা আছে সেটাই অনুসরণ করুন, আর যেদিন বলা হবে সেদিনই বুক করুন।

পারমিট হয়ে গেলেই কি টিকিট কেটে ফেলা যায়?+

নিরাপদ নয়। অনুমোদন আর রওনা দেওয়ার মাঝে দুটি ধাপ আছে, যেগুলো প্রায় কেউ বাজেটে ধরে না: ছবি ও আঙুলের ছাপের জন্য এম্বাসিতে যাওয়া, তারপর কার্ড তৈরি হয়ে ঢাকায় পৌঁছানো ও সংগ্রহ করার অপেক্ষা। 'পারমিট হয়েছে' আর 'উড়তে পারব' এক দিন নয়। কার্ড হাতে পাওয়ার পরই টিকিট কাটুন।

সুইডেনের ফিগুলো কত, আর ফেরত পাওয়া যায় কি?+

universityadmissions.se-এর আবেদন ফি SEK ৯০০ এবং Migrationsverket-এর রেসিডেন্স পারমিট ফি SEK ১,৫০০ — পারমিট রিফিউজ হলেও দ্বিতীয়টি ফেরত আসে না। এর বাইরে ফি-প্রদানকারী শিক্ষার্থীকে পারমিটের আবেদনের আগেই টিউশনের প্রথম কিস্তি দিতে হয়, আর সেটির কিছু ফেরত আসবে কি না তা ঠিক করে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশিত রিফান্ড নীতি, সুইডিশ রাষ্ট্র নয়। ফি বদলায় — টাকা দেওয়ার দিন অফিসিয়াল পাতা থেকে মিলিয়ে নিন।

এই রুটটা কার জন্য নয়?+

যে পরিবার টিউশনের প্রথম কিস্তি অথবা ফান্ডের অঙ্ক — যেকোনো একটি জোগাড় করতে পারে, দুটো একসঙ্গে নয়; কারণ সুইডেন দুটোই চায় একই সময়ে, কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই। যার কয়েক মাসের মধ্যে শুরু করা দরকার, কারণ অটাম রাউন্ড খোলে ১৫ অক্টোবর আর বন্ধ হয় ১৫ জানুয়ারি — বছরে একবার। আর যিনি পার্ট-টাইম আয় দিয়ে ডিগ্রির খরচ চালানোর কথা ভাবছেন, কারণ ১১ জুন ২০২৬ বা তার পরে ইস্যু হওয়া পারমিটে টার্মের সময় কাজ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়

#সুইডেন#Migrationsverket#এম্বাসি#ঢাকা#রেসিডেন্স পারমিট
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন