ভিসা

হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট পারমিটে আসলে কত সময় লাগে — ঘড়িটা কখন শুরু হয়, আর কোন কারণে চুপচাপ থেমে যায়

মোঃ সালাহউদ্দিন১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬10 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাঙ্গেরির ফাইল জমা হয় ঢাকার VFS-এ, কিন্তু সিদ্ধান্তটা হয় দিল্লিতে। ৯০ দিনের ঘড়ি কখন চালু হয়, কীসে চুপচাপ থেমে যায়, কেউ কেন নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা বলতে পারে না, আর সেপ্টেম্বর ধরতে হলে ফাইল কখন জমা দিতে হবে।

সৎ উত্তরটা হলো — এই রুটে কোনো কর্তৃপক্ষ এমন কোনো সময়সীমা প্রকাশ করে না যেটা ধরে কাউকে দায়ী করা যায়, আর আপনি যে সংখ্যাটা খুঁজতে এসেছেন সেটাই এই পাতার সবচেয়ে কম কাজের জিনিস। অপেক্ষাটা ঠিক করে একটা কাঠামো, আর তার তিনটে অংশ: ঘড়ি আইনত কখন চালু হয়, সিদ্ধান্তদাতা কর্তৃপক্ষ কীসে বাঁধা, আর কিছু বাদ পড়লে আপনি কত দ্রুত উত্তর দেন। শেষেরটাই কেবল আপনার হাতে, এবং বাকি দুটোর চেয়ে সেটার দাম বেশি।

হাঙ্গেরি আমাদের নয় দেশের বেশিরভাগের চেয়ে দুই জায়গায় আলাদা, আর প্রথমটা নিয়েই অর্ধেক কথা প্রচলিত। আপনাকে ভারত যেতে হয় না — আবেদন জমা হয় ঢাকার VFS Global-এ, যারা নিজেদের সাইটেই Dhaka Office of the Embassy of Hungary-র অফিশিয়াল পার্টনার বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু 'ঢাকা থেকে কিছুই বেরোয় না' কথাটা সত্যি নয়: ওই অফিসটি নয়াদিল্লিতে হাঙ্গেরির দূতাবাসের অধীনে চলে, আর সিদ্ধান্তটা সেখানেই হয় — অর্থাৎ আপনার অপেক্ষার মাঝখানে এমন একটা ধাপ আছে যেটা কোনো ট্র্যাকার বর্ণনা করে না (কোন দেশের ফাইল ঢাকা থেকে, কোনটার জন্য দিল্লি)। দুই, হাঙ্গেরির ফাইলের সামনে সাধারণত একটা এন্ট্রান্স পরীক্ষা আর একটা অফার দাঁড়িয়ে থাকে — ফলে শিক্ষার্থী বাস্তবে যে অপেক্ষাটা করে, সেটা সিদ্ধান্তের সময়ের চেয়ে অনেক লম্বা।

সাধারণ যান্ত্রিক দিকগুলো — ট্র্যাকিং কী দেখায়, পাসপোর্ট কোথায় থাকে, জমা দেওয়ার পর ফাইলের কী হয় — আলাদা পাতায় আছে: আবেদন ট্র্যাক করা, প্রসেসিংয়ের সময় পাসপোর্ট কোথায় এবং জমা দেওয়ার পর আসলে কী হয়। এই পাতাটা তার উপরে হাঙ্গেরির স্তরটুকু।

তিনটে জিনিস সময় ঠিক করে, আপনার হাতে একটাই

কী সময় ঠিক করেনিয়ন্ত্রণ কার হাতেআপনি আসলে কী করতে পারেন
ঘড়ি কখন চালু — ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন, জমা দেওয়ার দিন নয়মূলত আপনারঅ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেই কাগজের চেইন শেষ করুন, পরে নয়
কর্তৃপক্ষ কীসে বাঁধাইইউ আইন, অফিস নয়কিছুই না। সীমাটা জানুন, তার পরেও বাফার রাখুন
কাগজ চাইলে আপনি কত দ্রুত উত্তর দেনপুরোপুরি আপনারদিনের মধ্যে উত্তর দিন। আপনার ক্ষমতা এটুকুই

ফাইল কার কাছে থাকে, আর সিদ্ধান্ত কে নেয়

যে অফিস কাগজ নেয়, সিদ্ধান্তও সে নেয় না। এই দুটো গুলিয়ে ফেলার কারণেই মানুষ ভুল টেবিলে খবর চায়।

ধাপকার কাছে থাকেতারা কী পারে, কী পারে না
জমা ও বায়োমেট্রিকঢাকার VFS Global — Dhaka Office of the Embassy of Hungary-র অফিশিয়াল পার্টনারফাইল ও আঙুলের ছাপ নেয়। সিদ্ধান্ত নেয় না, আপনার ফলাফলও বলতে পারে না
কনস্যুলার অফিসDhaka Office of the Embassy of Hungary, গুলশাননয়াদিল্লিতে হাঙ্গেরির দূতাবাসের অধীনে চলে
স্থানান্তরঢাকার বাইরে, বাইরে থেকে অদৃশ্যএই ধাপটা কোনো ট্র্যাকার বলে না
সিদ্ধান্তনয়াদিল্লিতে হাঙ্গেরির মিশনকেসের সিদ্ধান্ত এখানেই হয়। আপনি যান না — ফাইলটা যায়
ফলাফলসংগ্রহের জন্য আবার ঢাকায়পাসপোর্টে দীর্ঘমেয়াদি টাইপ D স্টিকার নিয়ে ফেরত পাবেন
পারমিট কার্ডহাঙ্গেরিতে পৌঁছানোর পর, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের (OIF) মাধ্যমেস্টিকার ভ্রমণের কাগজ; কার্ডটাই পারমিট

এই রুটের ব্যবস্থা আগেও বদলেছে, তাই দিন ঠিক করার আগে অফিশিয়াল পাতায় চলতি চ্যানেলটা মিলিয়ে নিন — শেষ যাচাই অনুযায়ী ঠিকানা ও চ্যানেল আছে হাঙ্গেরির আবেদন ঢাকা থেকে পাতায়।

খরচের দিক থেকে গঠনটা এখনো আপনার পক্ষেই। হাঙ্গেরির ফাইলে বাংলাদেশ-অংশের খরচ ২–৪ লাখ টাকার ব্যান্ডে থাকে, ৩–৫ লাখ টাকার ব্যান্ডে নয় — কারণ বাড়তি ব্যান্ডটা যে ভারত-যাত্রার দাম দেয়, এই রুটে সেটা নেই। তবে দুই ব্যান্ডেই ভিসা না হলে টাকাটা ফেরত আসে না।

৯০ দিনের সীমা কী বলে, আর কী বলে না

হাঙ্গেরির সময় নিয়ে আপনি যা কিছু পড়বেন তার প্রায় সবটাই কারও পর্যবেক্ষণ। একটা সংখ্যাই কেবল আইন।

ডিরেক্টিভ (EU) ২০১৬/৮০১ — স্টুডেন্ট ও রিসার্চার ডিরেক্টিভ — সদস্য রাষ্ট্রকে বাধ্য করে সম্পূর্ণ আবেদন জমা হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে। হাঙ্গেরি ইইউ-র সদস্য, তাই এই কাঠামোতেই চলে। আমাদের নয় দেশের মধ্যে ব্যতিক্রম ডেনমার্ক — ইইউ আইনের এই অংশ থেকে তার অপ্ট-আউট আছে, সে নিজের স্ট্যান্ডার্ড আলাদা প্রকাশ করে। তাই ডেনমার্কের হিসাব হাঙ্গেরিতে টেনে আনবেন না।

ওই বাক্যের তিনটে শব্দই আসল কাজটা করে।

সর্বোচ্চ। এটা সিলিং, লক্ষ্য নয়, গড়ও নয়। ৮৯তম দিনে সিদ্ধান্ত এলেও কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি।

সম্পূর্ণ। ঘড়িটা বাঁধা আছে সম্পূর্ণতার সঙ্গে। একটা সার্টিফায়েড অনুবাদ নেই, বীমার কাগজ আসেনি, কিংবা একটা জমার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে — যতক্ষণ এসব ঝুলে আছে, ততক্ষণ কর্তৃপক্ষ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, আর আপনার জন্য কাটানো সময় তাদের হিসাবে ধরা হয় না। যে টাইমলাইনগুলো শোনা কথার সঙ্গে মেলে না, তার প্রায় সবটার ব্যাখ্যা এই এক লাইনেই।

সিদ্ধান্ত। ৯০ দিন সিদ্ধান্তের সময়সীমা — যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্তের। ভেতরে দেওয়া একটা প্রত্যাখ্যানও সময়সীমা মেনেই দেওয়া।

কেন আমরা দিনের সংখ্যা লিখছি না

ঢাকা থেকে হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রসেসিং সময়ের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে না, আর সেই ফাঁকটা ভরাতে আমরা সংখ্যা বানাব না। আমাদের কাছে যেটা আছে সেটা তুলনামূলক পাতা — কোন দেশের স্টুডেন্ট ভিসায় কত সময় লাগে — যেখানে নয় দেশের জন্য আমাদের নিজেদের দেখা পরিসরগুলো আছে। ওটা পড়ুন আকৃতি বোঝার জন্য, প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়: পাতাটাই স্পষ্ট করে বলে যে ওগুলো অতীতের আচরণ থেকে পাওয়া পর্যবেক্ষণ, কেউ ওতে অঙ্গীকার করেনি। এজেন্সির পাতায় লেখা প্রতিটা সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা খাটে — পার্থক্য শুধু এই যে তারা কথাটা বলে না।

আর হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসার সাকসেস রেট কেউ বলতে পারে না, কারণ কোনো কর্তৃপক্ষ সেটা তৈরিই করে না। আপনাকে কেউ শতাংশ বললে সেটা বানানো — এই একটা পরীক্ষাই কোনো কনসালটেন্সি সম্পর্কে তার অফিসের ছবির চেয়ে বেশি বলে দেয়।

যে অপেক্ষাটা আপনি করেন, সেটা সিদ্ধান্তের চেয়ে লম্বা

এখানেই হাঙ্গেরির আসল পার্থক্য, আর এখানেই বছরটা হারায়।

পারমিটের আগের ধাপগতি ঠিক করে কেচাপ দিয়ে কমানো যায়?
ভর্তির আবেদনইউনিভার্সিটির নিজের পোর্টাল, প্রায়ই রোলিংকিছুটা — জানালা খোলার শুরুতেই আবেদন করুন
এন্ট্রান্স পরীক্ষা বা ইন্টারভিউযে ফ্যাকাল্টি পড়াবে, তার নিজের তারিখেনা। যেদিন হবে, সেদিনই
অফার ও আপনার গ্রহণপ্রোগ্রামকেবল আপনার অংশটুকু
Stipendium Hungaricum-এর ফল, আবেদন করলেস্কলারশিপ চক্র, যা ইনটেকের কয়েক মাস আগেই বন্ধ হয়না
ঢাকায় সম্পূর্ণ পারমিট ফাইল জমাআপনিহ্যাঁ — আর এই ধাপেই মানুষ দেরি করে শুরু করে
সিদ্ধান্তইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষনা
হাঙ্গেরিতে রেসিডেন্স পারমিট কার্ডপৌঁছানোর পরনা

হাঙ্গেরিতে এন্ট্রান্স পরীক্ষা স্বাভাবিক ব্যাপার, আর সেটা জাতীয়ভাবে নয় — যে ফ্যাকাল্টি পড়াবে সে-ই নেয়। মানে দ্বিতীয় ইউনিভার্সিটি মানে দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় পরীক্ষা (হাঙ্গেরির কোন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন যুক্তিযুক্ত, আর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক গাইড: ডেব্রেৎসেন, সেগেদ, পেচ, BME)।

স্কলারশিপের রুট সবকিছু পেছনে ঠেলে দেয়। Stipendium Hungaricum-এর আবেদন ইনটেকের কয়েক মাস আগেই বন্ধ হয়, ফল আসে দেরিতে, আর তারপর পারমিট ফাইল শুরু হয় — অর্থাৎ যে ধাপটা ধীরেসুস্থে সারা যেত, সেটাই চেপে যায়। সমাধানটা সহজ এবং প্রায় কেউ করে না: সত্যায়ন, অনুবাদ আর ব্যাংকের কাগজ ফলের অপেক্ষার সময়েই শেষ করে রাখুন, ফল আসার পরে নয় (Stipendium কেন বাতিল হয়, Stipendium ছাড়াও যে বৃত্তিগুলো আছে)। আবেদনের পোর্টালটা নিজেই একটা আলাদা দক্ষতা (DreamApply গাইড)।

যে কারণগুলো ঘড়ি চুপচাপ থামিয়ে দেয়

ফাইল সাধারণত কর্তৃপক্ষের কারণে আটকায় না, আটকায় নিজের ভেতরের ফাঁকে। ফাঁকগুলো সাধারণত এই ক্রমে আসে।

  • সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিল, ভুল ক্রমে। বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, এবং হাঙ্গেরি অ্যাপোস্টিল মানে — তাই পুরোনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের লম্বা চেইন এখানে লাগে না, যেটা ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ডের জন্য এখনো লাগে (তারা অনুচ্ছেদ ১২-তে আপত্তি দিয়েছে)। ক্রমটা: মূল কপি, তারপর শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন, তারপর সত্যায়ন, তারপর অ্যাপোস্টিল, তারপর সার্টিফায়েড অনুবাদ (ক্রম ধরে পুরো গাইড, বোর্ড ভেরিফিকেশন আগে, কোন দেশ অ্যাপোস্টিল মানে না, ঢাকায় সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন)। এই চেইনে খরচ মোটামুটি ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা, আর ইউরোপে কুরিয়ার ৪,০০০–৯,০০০ টাকা
  • নামের অমিল — NID, পাসপোর্ট ও সার্টিফিকেটে। এটা ফাইল একদম থামিয়ে দেয় এবং ঠিক করতে বাকি সবকিছুর চেয়ে বেশি সময় লাগে (নামের অমিল কীভাবে ঠিক করবেন)। একইভাবে আবেদনের মাঝপথে পাসপোর্ট রিনিউ করলে আগে জমা দেওয়া সব কাগজের সঙ্গে সংযোগ ভেঙে যায় (মাঝপথে রিনিউ)।
  • যে ফান্ড ফাইল প্রশ্ন ডেকে আনে। হাঙ্গেরিতে ব্লকড অ্যাকাউন্ট নেই, আর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কও প্রকাশ করে না — তারা 'পর্যাপ্ত সামর্থ্য' যাচাই করে, যার কাজের হিসাব বছরে প্রায় €৬,০০০, মাসে প্রায় HUF ২,০০,০০০। পরীক্ষাটা যান্ত্রিক নয়, বিচারভিত্তিক — তাই কাগজের মান দিয়েই ফয়সালা হয়, আর ব্যাখ্যাহীন বড় অঙ্কের শেষ মুহূর্তের জমা হলো বাড়তি কাগজের অনুরোধ ডেকে আনার সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় (হাঙ্গেরির ফান্ড প্রমাণ, এম্বাসি আর্থিক কাগজ কীভাবে যাচাই করে)।
  • অপেক্ষার মধ্যেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া কাগজ (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, কোন ডকুমেন্ট কতদিন বৈধ), কিংবা অসাবধানে পূরণ করা ফর্ম — তালিকার সবচেয়ে সস্তা দেরি (দেশভিত্তিক এক পাতার চেকলিস্ট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স)।

হাঙ্গেরির পূর্ণ শর্তের ছবি আছে হাঙ্গেরি আসলে কী কী যাচাই করে আর ভর্তির পরের পারমিট প্রক্রিয়া পাতায়।

ট্র্যাকিং কী বলে, আর কী বলে না

ট্র্যাকিং দেখায় কাগজ কার হেফাজতে, অগ্রগতি কতটা নয়। সে বলতে পারে ফাইল পৌঁছেছে, কিংবা পরে বলতে পারে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু অফিসার কী ভাবছেন, কোনো যাচাই শুরু হয়েছে কি না, বা সিদ্ধান্ত কত কাছে — এসব সে বলে না। এক মাস ধরে 'প্রসেসিংয়ে' আটকে থাকা ফাইল আর কাল সিদ্ধান্ত হতে যাওয়া ফাইল বাইরে থেকে একরকম দেখায়।

হাঙ্গেরিতে এই ব্যাপারটা আরও তীব্র। ঢাকায় যে কেন্দ্র আপনাকে রসিদ দেয়, সে আপনার কেসের সিদ্ধান্ত নেয় না — আর মাঝখানের যে ধাপটায় ফাইল সিদ্ধান্তদাতা মিশনের দিকে যায়, ঠিক সেটাই কোনো স্ট্যাটাস লাইনে লেখা থাকে না। তাই সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই কথা দেখানো ট্র্যাকার মানে ব্যবস্থাটা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কেন্দ্রকে জিজ্ঞেস করুন কাগজ কোথায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে নয় — তারা সত্যিই জানে না, কাউন্টারের লোকেরা আপনার কাছে কিছু লুকাচ্ছেন না।

পেছন থেকে হিসাব — পরামর্শ, প্রতিশ্রুতি নয়

নিচের টেবিলের সবটাই আমাদের পরামর্শ, কোনো প্রকাশিত নিশ্চয়তা নয়। হিসাব করুন ইউনিভার্সিটির এনরোলমেন্ট ডেডলাইন ধরে, প্রথম ক্লাসের দিন ধরে নয় — আজ থেকে সামনের দিকে গুনতে গিয়েই মানুষ জুলাই মাসে টের পায় বছরটা চলে গেছে।

ক্লাস শুরুর দিন থেকে পেছনেযা আগেই হয়ে থাকা দরকারপ্রকাশিত, নাকি আমাদের পরামর্শ
এনরোলমেন্ট ডেডলাইন নিজেইপ্রথম ক্লাস নয়, এটাই আপনার আসল তারিখইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে
টিকিট কাটার আগেপাসপোর্ট হাতে ফেরত এসেছেআমাদের পরামর্শ
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়সব কাগজ তখনো বৈধ, কিছুই মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে নাআমাদের পরামর্শ
সেপ্টেম্বর ইনটেকের জন্য জুনের মধ্যেঢাকায় সম্পূর্ণ পারমিট ফাইল জমাআমাদের পরামর্শ — ইনটেক ক্যালেন্ডার দেখুন
অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেঅ্যাপোস্টিল, অনুবাদ, বীমা ও থাকার প্রমাণ সব শেষআমাদের পরামর্শ
স্কলারশিপের ফলের অপেক্ষায়ব্যাংকের কাগজ ও সত্যায়ন তবু শেষ করে রাখাআমাদের পরামর্শ
তারও আগেঅফার গ্রহণ, এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেওয়াপ্রোগ্রাম ঠিক করে

ফেব্রুয়ারি ইনটেক একই ক্রমটাকে শরতের মধ্যে চেপে ঢোকায়, প্রোগ্রামের তালিকা ছোট, আর স্কলারশিপ চক্র এই ইনটেকে চলে না (স্প্রিং ইনটেক কাদের জন্য)। পুরো যাত্রার হিসাব আছে অফার থেকে বোর্ডিং পাস আর মাসভিত্তিক মাস্টার টাইমলাইন পাতায়।

যে একটা কাজ সত্যিই অপেক্ষা কমায়

কাগজ চাওয়া হলে সপ্তাহে নয়, দিনে উত্তর দিন।

পুরো ক্ষমতাটা এইটুকুই। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, ৯০ দিন ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে চলছে না — তাই একটা ব্যাংক স্টেটমেন্ট খুঁজতে দুই সপ্তাহ গেলে সেই দুই সপ্তাহ আপনি নিজেই নিজের ফাইলে যোগ করলেন। এটা সম্ভব করতে হয় জমা দেওয়ার আগে, পরে নয়: এক ফোল্ডারে সব স্ক্যান, ব্যাংকের প্রতিটা পাতা, স্পন্সরের আয়ের কাগজ আর টাকাটা কোথা থেকে এল তার ব্যাখ্যা গুছিয়ে রাখুন। এই রুটে অনুরোধটা কোনো বাদ পড়া ফর্মের চেয়ে বেশিরভাগ সময় টাকার ব্যাখ্যা নিয়েই আসে — ঠিক এই কারণেই যে হাঙ্গেরিতে ব্লকড অ্যাকাউন্ট নেই, তাই পরীক্ষাটা যান্ত্রিক নয়।

অপেক্ষা যদি ইনটেক পেরিয়ে যায়, তখন অফিসের ওপর নয়, ইউনিভার্সিটির ওপর কাজ করুন: লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন তারা আসনটা রাখবে কি না, বা পরের ইনটেকে সরাবে কি না — আর দেরি না করে জিজ্ঞেস করুন (ভিসা দেরি হচ্ছে: কী করা যায়)।

এই পাতা কাদের জন্য নয়

এখনো অফার হাতে না এলে আপনার দুশ্চিন্তাটা এই পাতার অপেক্ষা নয় — আপনারটা ভর্তি ও পরীক্ষার ধাপ, আর সেটার জন্য দরকার হাঙ্গেরির ইনটেক ও ডেডলাইন ক্যালেন্ডার

আর নয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত মনে হচ্ছে বলেই হাঙ্গেরি বাছলে আরেকবার ভাবুন। টিউশন, এন্ট্রান্স পরীক্ষা, ভাষা আর গ্র্যাজুয়েশনের পর ৯ মাসের জব-সিকিং পারমিট — এগুলোর গুরুত্ব কয়েক সপ্তাহ প্রসেসিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি; সৎ হিসাবটা আছে হাঙ্গেরি আসলে কাদের জন্য পাতায়। আর টাকাটা যদি গত মাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকে থাকে, তাহলে আপনার সমস্যা গতি নয়: তাড়াহুড়োয় গোছানো ফাইল ঠিক সেই প্রমাণের ওপরেই বাতিল হয়, ধৈর্য ধরে গোছানো ফাইল যেটা দিয়ে পাস করত।

আপনার নিজের তারিখগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকলে অফার, ইনটেক আর কাগজগুলো সামনে নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।

আপনার হাতে থাকা সময়ে হাঙ্গেরির ফাইল টিকবে কি না দেখে দিই?

অফার, ইনটেক আর কাগজের অবস্থা দেখে বলে দিই — এই সেপ্টেম্বর ধরা যাবে, নাকি ফেব্রুয়ারি ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসায় কত দিন লাগে?+

কোনো কর্তৃপক্ষ এই রুটের জন্য নিশ্চিত কোনো সংখ্যা প্রকাশ করে না — তাই কেউ আপনাকে নির্দিষ্ট দিন বলে দিলে সেটা অনুমান। যেটা আইন, সেটা হলো ডিরেক্টিভ (EU) ২০১৬/৮০১: সম্পূর্ণ একটি স্টুডেন্ট আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিনে, আর সেই ৯০ দিন গোনা শুরু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। নয় দেশের জন্য আমরা যে পরিসরগুলো নিজেরা দেখেছি, সেগুলো আমাদের তুলনামূলক পাতায় আছে — স্পষ্ট করেই লেখা যে ওগুলো আমাদের পর্যবেক্ষণ, কারও প্রতিশ্রুতি নয়।

৯০ দিনের নিয়মটা কি হাঙ্গেরির জন্যও খাটে?+

হ্যাঁ। হাঙ্গেরি ইইউ-র সদস্য এবং স্টুডেন্ট ও রিসার্চার ডিরেক্টিভের কাঠামোতেই চলে। আমাদের নয় দেশের মধ্যে ব্যতিক্রম ডেনমার্ক — ইইউ আইনের এই অংশ থেকে তার অপ্ট-আউট আছে, তাই সে নিজের কেস প্রসেসিং স্ট্যান্ডার্ড আলাদা করে প্রকাশ করে। ডেনমার্কের হিসাব হাঙ্গেরিতে বসিয়ে দেওয়া একটা প্রচলিত ভুল।

হাঙ্গেরির ভিসার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

না। আবেদন জমা হয় ঢাকার VFS Global-এ, যারা নিজেদের সাইটেই Dhaka Office of the Embassy of Hungary-র অফিশিয়াল পার্টনার বলে উল্লেখ করেছে — তাই আপনাকে ভারত যেতে হয় না। তবে ফাইলটা কার্যত যায়: ওই অফিস নয়াদিল্লিতে হাঙ্গেরির দূতাবাসের অধীনে চলে আর সিদ্ধান্তটা সেখানেই হয়। অর্থাৎ আপনার যাত্রাটা বাঁচে, ফাইলের স্থানান্তরটা নয়। এই ব্যবস্থা আগেও বদলেছে, তাই দিন ঠিক করার আগে অফিশিয়াল পাতায় মিলিয়ে নিন।

বেশি টাকা দিলে কি হাঙ্গেরির পারমিট দ্রুত হয়?+

না। স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের কোনো প্রিমিয়াম বা অগ্রাধিকার লাইন নেই। কেন্দ্রে কুরিয়ার বা লাউঞ্জ আপগ্রেড কিনলে সুবিধা পাওয়া যায়, সিদ্ধান্তের সারিতে এগিয়ে যাওয়া যায় না। কোনো কনসালটেন্সিরও ফাইল এগিয়ে দেওয়ার চ্যানেল নেই — কেউ থাকার দাবি করলে সেটা মিথ্যা।

অপেক্ষা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?+

অতিরিক্ত বা অনুপস্থিত কোনো কাগজ চাওয়া হলে সপ্তাহ নয়, দিনের মধ্যে উত্তর দিন। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, ঘড়ি ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে চলছে না — মানে দুই সপ্তাহ দেরি করলে সেই দুই সপ্তাহ আপনি নিজেই নিজের ফাইলে যোগ করলেন। জমা দেওয়ার আগেই সব স্ক্যান, ব্যাংকের কাগজ ও স্পন্সরের ডকুমেন্ট এক ফোল্ডারে রাখলে উত্তর দিতে এক সন্ধ্যা লাগে।

কয়েক সপ্তাহ হয়ে গেছে, অফিস কিছুই জানাচ্ছে না — চিন্তার কারণ আছে?+

নীরবতা এই রুটে স্বাভাবিক অবস্থা, খারাপ লক্ষণ নয়। ব্যবস্থা নেওয়ার সময় তখনই, যখন আইনি সর্বোচ্চ সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে, অথবা ইউনিভার্সিটির এনরোলমেন্ট ডেডলাইন ঘাড়ের কাছে চলে এসেছে। তখনকার প্রথম কাজ অফিসকে রোজ তাগাদা দেওয়া নয় — ইউনিভার্সিটিকে লিখিতভাবে ডেফারমেন্টের কথা জিজ্ঞেস করা।

টাইপ D স্টিকার আর রেসিডেন্স পারমিট কি এক জিনিস?+

না, আর এই গুলিয়ে ফেলাটাই হাঙ্গেরির রুটে সবচেয়ে সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি। টাইপ D হলো দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ভিসা — যাত্রার অনুমতি। রেসিডেন্স পারমিট কার্ড ইস্যু হয় হাঙ্গেরিতে পৌঁছানোর পর, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, আর সেই কার্ডই আপনার থাকার অধিকার ঠিক করে। অর্থাৎ পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার দিনেই টাইমলাইন শেষ হয় না।

তাহলে হাঙ্গেরিকে তুলনামূলক সহজ রুট বলা হয় কেন?+

গতির জন্য নয়, খরচ আর নিয়ন্ত্রণের জন্য। এক, আপনাকে ভারত-যাত্রার খরচ যোগ করতে হয় না। দুই, কাগজের চেইনটা আমাদের নয় দেশের তিনটির চেয়ে ছোট — হাঙ্গেরি বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল মানে, ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ড মানে না। দুটোই রুটটাকে সস্তা ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে। কোনোটাই সিদ্ধান্ত দ্রুত আসার প্রতিশ্রুতি নয়।

হাঙ্গেরি দ্রুত হলে কি দেরিতে শুরু করা যায়?+

এই পাতার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল পড়াটা এটাই। পারমিটের সিদ্ধান্ত সবার শেষ ধাপ। তার সামনে থাকে এন্ট্রান্স পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ, অফার, আর স্কলারশিপ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে চক্রের শেষদিকে আসা একটা ফল — তাই শিক্ষার্থী যে অপেক্ষাটা আসলে করে, সেটা সিদ্ধান্তের সময়ের চেয়ে অনেক লম্বা।

হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসার সাকসেস রেট কেউ বলতে পারে?+

না, আর কেউ কোনো শতাংশ বললে সেটা বানানো। এই রুটের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ সাকসেস রেট তৈরি করে না, তাই আমরাও প্রকাশ করি না। ফাইল বিচার করুন শর্তগুলোর উত্তর সে দিচ্ছে কি না দিয়ে, কারও পাতায় বসানো একটা সংখ্যা দিয়ে নয়।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়

#হাঙ্গেরি#প্রসেসিং সময়#রেসিডেন্স পারমিট#টাইপ D#ঢাকা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন