হাঙ্গেরির Stipendium Hungaricum স্কলারশিপ: বাংলাদেশ থেকে আবেদনের নিয়ম, কাগজপত্র ও ২০২৭/২৮-এর সময়সূচি
টিউশন ফ্রি, মাসে HUF ৪৩,৭০০ ভাতা আর ফ্রি ডর্ম। বাংলাদেশ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি তিন জায়গায় জমা দিতে হয় — অনলাইন পোর্টাল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফর্ম আর সচিবালয়ে হার্ডকপি। প্রতিটি ধাপ, কাগজ ও তারিখ এখানে।
এক নজরে: বাংলাদেশ থেকে Stipendium Hungaricum-এ আবেদন হয় এক জায়গায় নয়, তিন জায়গায়, আর তিনটিরই সময়সীমা জানুয়ারির মাঝামাঝি: (১) অফিশিয়াল পোর্টাল apply.stipendiumhungaricum.hu-তে অনলাইন আবেদন, পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ দুটি প্রোগ্রাম; (২) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অনলাইন ফর্ম; (৩) সেই ফর্মের প্রিন্ট আর প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার সত্যায়িত সনদের কপি, বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের বাক্সে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে নমিনেশন, মার্চ–মে ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ, আর জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ফলাফল। স্কলারশিপে টিউশন ফ্রি, মাসে HUF ৪৩,৭০০ ভাতা, ফ্রি ডর্ম বা ভাড়ার জন্য মাসে HUF ৪০,০০০ আর স্বাস্থ্যবীমা — কিন্তু বিমান ভাড়া নয়।
হাঙ্গেরি সরকারের এই স্কলারশিপ চালায় Tempus Public Foundation, আর বাংলাদেশ এর অংশীদার দেশগুলোর একটি। ইউরোপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাগালের মধ্যে যে অল্প কয়েকটি সত্যিকারের পূর্ণ স্কলারশিপ আছে, হাঙ্গেরির এটি তার একটি — আবার এটিই সেই স্কলারশিপ, যেখানে সবচেয়ে বেশি আবেদন প্রতিযোগিতায় নয়, কাগজপত্রের ভুলে বাদ পড়ে। এই গাইড লেখা হয়েছে মূল নথি থেকে: ২০২৬/২৭ রাউন্ডের Call for Applications ও Application Guide, ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর প্রোগ্রামের Operational Regulations, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২ ডিসেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি, আর হাঙ্গেরির অভিবাসন আইন। প্রতিটি সংখ্যা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এসব নথির সাথে মিলিয়ে দেখা।
২০২৭/২৮ রাউন্ড এখন কোথায়
২০২৭/২৮-এর Call for Applications এখনও প্রকাশ হয়নি। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অফিশিয়াল সাইটে ২০২৬/২৭-এর নথিই আছে। প্রোগ্রামের Implementation Guide-এ দেওয়া স্থায়ী সময়সূচি অনুযায়ী Call প্রকাশ হয় অক্টোবরের শেষে, আর আবেদন সিস্টেম খোলে নভেম্বরে। নিচের টেবিলে গত রাউন্ডের আসল তারিখ আর এবারের প্রত্যাশিত সময় পাশাপাশি রাখা হলো।
| ধাপ | ২০২৬/২৭ রাউন্ড (আসল) | ২০২৭/২৮ রাউন্ড (প্রত্যাশিত) |
|---|---|---|
| Call for Applications প্রকাশ | ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | অক্টোবর ২০২৬-এর শেষ |
| অনলাইন আবেদন শুরু | নভেম্বর ২০২৫-এর মাঝামাঝি | নভেম্বর ২০২৬ |
| shed.gov.bd-তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি | ২ ডিসেম্বর ২০২৫ | নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের শুরু, ২০২৬ |
| আবেদনের শেষ সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, হাঙ্গেরির দুপুর ২টা — বাংলাদেশে সন্ধ্যা ৭টা | জানুয়ারি ২০২৭-এর মাঝামাঝি |
| শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ফর্ম | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ | একই দিনে হওয়ার কথা |
| সচিবালয়ে হার্ডকপি | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৫টা (পরে ১৮ তারিখ পর্যন্ত বাড়ে) | ডেডলাইনের দু-এক দিনের মধ্যে |
| নমিনেশন ও রিজার্ভ তালিকা হাঙ্গেরিতে | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে | ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর শেষ |
| ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ | মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে-র শেষ, ২০২৬ | মার্চ–মে ২০২৭ |
| ফলাফল | জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি, ২০২৬ | জুন–জুলাই ২০২৭ |
| হাঙ্গেরিতে পৌঁছানো | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭-এর মধ্যে |
এর মানে দুটি। প্রোগ্রাম বাছাই আর কাগজ গোছানোর জন্য হাতে থাকে অক্টোবর আর নভেম্বর — শুনতে যত সময় মনে হয়, আসলে তার চেয়ে কম। আর ডেডলাইন হাঙ্গেরির সময়ে: বুদাপেস্টের দুপুর ২টা মানে ঢাকার সন্ধ্যা ৭টা, আর মন্ত্রণালয়ের ফর্মও ঠিক ওই সময়েই বন্ধ হয়। স্কলারশিপ আর সেলফ-ফান্ডেড — দুই পথের ঘড়ি পাশাপাশি দেখতে হাঙ্গেরির ইনটেক ও ডেডলাইন দেখুন।
স্কলারশিপে কী দেয়, আর কী দেয় না
| বিষয় | যা পাবেন | যে খুঁটিনাটি জরুরি |
|---|---|---|
| টিউশন | সম্পূর্ণ মওকুফ | ইউনিভার্সিটি এনরোলমেন্ট বা প্রশাসনিক ফি-ও নিতে পারে না |
| মাসিক ভাতা — ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্স, প্রিপারেটরি | HUF ৪৩,৭০০, বছরে ১২ মাস | Call-এর নিজের বিনিময় হারে প্রায় €১১০ — €১ = ৳১২৫–১৪০ ধরলে মোটামুটি ৳১৪–১৫ হাজার। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে অঙ্কটি একই |
| মাসিক ভাতা — PhD | প্রথম চার সেমিস্টারে HUF ১,৪০,০০০, শেষ চার সেমিস্টারে HUF ১,৮০,০০০ | বাড়তি হার শুরু হয় কমপ্লেক্স পরীক্ষায় পাস করার পর |
| থাকা | ফ্রি ডর্ম, অথবা ভাড়ার জন্য মাসে HUF ৪০,০০০ | ডর্ম আসন সাপেক্ষ; Call নিজেই বলছে বড় শহরে, বিশেষ করে বুদাপেস্টে, এতে পুরো ভাড়া হয় না |
| স্বাস্থ্য | হাঙ্গেরির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, সাথে বছরে HUF ৬৫,০০০ পর্যন্ত বাড়তি বীমা | হাঙ্গেরির নাগরিকের মতোই সরকারি চিকিৎসার অধিকার |
| ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট ফি | মওকুফ | হাঙ্গেরির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ডিক্রি অনুযায়ী |
যা দেয় না, প্রোগ্রামের নিজের ভাষাতেই: যাতায়াত — হাঙ্গেরির পক্ষ থেকে বিমান ভাড়ার কোনো অর্থ দেওয়া হয় না — পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছুই না, আর পুরো জীবনযাত্রার খরচও নয়। Call স্পষ্ট বলছে, স্কলারশিপধারীকে নিজের টাকাও যোগ করতে হবে।
তাই ঘাটতির হিসাব আগেই করে রাখুন। আমাদের হাঙ্গেরির খরচের হিসাবে খাবার মাসে €১২০–২০০, যাতায়াত €১৫–৩৫ আর অন্যান্য €৫০–১০০। ফ্রি ডর্ম পেলে ভাতার ওপরে মাসে মোটামুটি €৭৫–২২৫ পরিবারকে পাঠাতে হবে; বুদাপেস্টে বাইরে ভাড়া থাকলে ঘাটতি অনেক বাড়ে। পুরো বছরের হিসাব হাঙ্গেরিতে পড়তে মোট কত টাকা লাগে-এ, আর "টিউশন ফ্রি" মানেই যে "খরচ নেই" নয়, তা হাঙ্গেরিতে পড়া কি ফ্রি-তে।
টাকার সাথে আরেকটি শর্ত জুড়ে আছে, যেটা প্রায় কোনো গাইডে লেখা থাকে না। প্রথম বছরে "Hungarian as a foreign language" নামে একটি ফ্রি কোর্স করতে হয়, আর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শেষে তার পরীক্ষায় পাস করতে হয়। কোর্সে না গেলে মাসিক ভাতা বন্ধ; পরীক্ষায় ফেল করলে ভাতা নেমে আসে মাসে HUF ৩০,০০০-এ। এটি প্রযোজ্য ইংরেজি বা অন্য বিদেশি ভাষায় পড়া ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্সের স্কলারশিপধারীদের জন্য; PhD শিক্ষার্থীদের জন্য নয়।
বাংলাদেশ থেকে কারা আবেদন করতে পারেন
প্রোগ্রামের অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশের জন্য সব স্তর খোলা, "যেকোনো বিষয়ে" — ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ডক্টরাল, আর ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্স "মেডিসিন ও হেলথ সায়েন্সসহ"। মনোনয়ন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (SHED), আর একই তালিকা বলছে, বাংলাদেশ প্রান্তের ডেডলাইন Tempus-এর ডেডলাইনের সমান।
| শর্ত | নিয়ম |
|---|---|
| নাগরিকত্ব | বাংলাদেশি নাগরিকত্ব। কোথায় থাকেন তা বিবেচ্য নয় — বিদেশে থাকা বাংলাদেশিও বাংলাদেশের মাধ্যমেই আবেদন করেন। হাঙ্গেরির নাগরিক, দ্বৈত নাগরিকসহ, আবেদন করতে পারেন না |
| বয়স | পড়া শুরুর বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১৮। ২০২৬/২৭-এর জন্য জন্মতারিখ ৩১ আগস্ট ২০০৮ বা তার আগে। প্রোগ্রাম কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা রাখেনি |
| স্তর | এক রাউন্ডে একটি স্তর। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও ডক্টরালের একাধিকটিতে আবেদন করলে আবেদন বাতিল |
| একাডেমিক যোগ্যতা | ঠিক করে প্রোগ্রাম, স্কলারশিপ নয়: ব্যাচেলর বা ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্সে HSC, মাস্টার্সে ব্যাচেলর, PhD-তে মাস্টার্স |
| ভাষা | প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব ন্যূনতম শর্ত। স্কলারশিপ নিজে IELTS বাধ্যতামূলক করে না; আগের পড়াশোনা একই ভাষায় হয়েছিল, তার প্রমাণও গ্রহণ করে |
| আগের স্কলারশিপধারী | একই বা নিচের স্তরে আবার আবেদন চলে না; ব্যাচেলরের স্কলারশিপধারী মাস্টার্সে আবেদন করতে পারেন |
বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিলে মন্ত্রণালয় সেই ডিগ্রির Equivalent Certificate-এর কপিও চায়। HSC-র পর সরাসরি যেতে চাইলে HSC-র পর হাঙ্গেরি, আর মাস্টার্সের জন্য হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স দেখুন।
ভাষার ঘরটি নিয়ে আরেকটু বলা দরকার, কারণ বাংলাদেশি আবেদনকারীরা এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বলছে, মনোনয়নে ইংরেজি দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে — আর নিচের নির্বাচন অংশে যেমন দেখবেন, চূড়ান্ত বরাদ্দে মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আপনার অবস্থান আর ইউনিভার্সিটির পরীক্ষার ফল সমান গুরুত্ব পায়। MOI লেটার দিয়ে ইউনিভার্সিটির শর্ত পূরণ হতে পারে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ওপরে তোলে টেস্টের স্কোর। প্রোগ্রাম দুটোই নিলেও সম্ভব হলে IELTS দিন। ইউনিভার্সিটির দিকটা IELTS ছাড়া হাঙ্গেরি আর MOI সার্টিফিকেট-এ, আর কোন দেশে কত ব্যান্ড লাগে তা এই টেবিলে।
ধাপে ধাপে আবেদন
ধাপ ১ — সর্বোচ্চ দুটি প্রোগ্রাম বাছাই (অক্টোবর–নভেম্বর)
প্রোগ্রামের তালিকা পাওয়া যায় শুধু আবেদন সিস্টেমের ভেতরে — গত রাউন্ডে ৩০টি হাঙ্গেরীয় ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৯০০ প্রোগ্রাম। সর্বোচ্চ দুটি বেছে নেওয়া যায়, একই বা দুটি আলাদা ইউনিভার্সিটিতে, পছন্দের ক্রম অনুযায়ী। তিনটি নিয়মের কারণে এটাই গোটা আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:
- 1ডেডলাইনের পর ক্রম আর বদলানো যায় না। প্রোগ্রাম, তাদের ক্রম, পড়ার ভাষা বা স্টাডি মোড — কিছুই না।
- 2প্রথম পছন্দ আগে বিবেচনা হয়। Call-এর ভাষায়, প্রথম পছন্দের প্রোগ্রামে সুযোগ "তুলনামূলক বেশি"।
- 3মেডিসিন কাজ করে শুধু প্রথম পছন্দ হিসেবে। Call সতর্ক করছে, বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি প্রথম পছন্দের আবেদনকারীদের দিয়েই মেডিসিনের সব আসন পূরণ করে; দ্বিতীয় পছন্দে মেডিসিন সাধারণত বিবেচনাই হয় না।
আরও দুটি তথ্য বাছাইয়ে কাজে লাগে। বরাদ্দে অগ্রাধিকার পায় STEM+ বিষয় — প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, কৃষি ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান — আর মেডিসিনের মতো ভিড়ের প্রোগ্রামে এক দেশ থেকে কতজন নেওয়া হবে তার সীমা থাকতে পারে। এমন দুটি প্রোগ্রাম বাছুন যার ভর্তির শর্ত আপনি পূরণ করেন, যা আপনার আগের পড়াশোনার সাথে সম্পর্কিত, আর ইন্টারভিউতে যার পক্ষে যুক্তি দিতে পারবেন। তালিকা ছোট করতে হাঙ্গেরির কোন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা যুক্তিযুক্ত আর হাঙ্গেরি আসলে কাদের জন্য ভালো দেখুন। ছোট শহরে — ডেব্রেৎসেন, সেগেদ, পেচ — ভাতা বুদাপেস্টের চেয়ে অনেক বেশি দিন চলে।
ধাপ ২ — অফিশিয়াল পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন ও আবেদন পূরণ
সিস্টেমটি apply.stipendiumhungaricum.hu, চলে DreamApply-তে — হাঙ্গেরির অনেক ইউনিভার্সিটি সেলফ-ফান্ডেড ভর্তিতে একই সফটওয়্যার ব্যবহার করে, তাই আমাদের DreamApply গাইড চেনা লাগবে। এমন একটি ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন যা প্রতিদিন দেখেন। Call বিশেষভাবে Hotmail ও Yahoo এড়াতে বলেছে, কারণ ওসব ঠিকানায় Tempus-এর চিঠি সাধারণত স্প্যামে চলে যায়; পরে বদলে যেতে পারে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেইলও না দেওয়াই ভালো।
প্রতিটি অংশ ইংরেজিতে পূরণ করুন, প্রতিটি কাগজ তার নির্দিষ্ট টাস্কে আপলোড করুন, তারপর Submit চাপুন। সেভ করে রাখা আবেদন কোনো আবেদন নয় — বিবেচনা হয় শুধু সাবমিট করা আবেদন। ডেডলাইনের আগ পর্যন্ত এডিট করা, প্রোগ্রাম যোগ-বাদ দেওয়া বা ক্রম বদলানো যায়; ডেডলাইনের পর শুধু বাকি থাকা কাগজ যোগ করা যায়।
ধাপ ৩ — কাগজপত্র আপলোড
পুরো তালিকা নিচের চেকলিস্টে। প্রতিটি ফাইল ৪ MB-এর মধ্যে হতে হবে, আর হাঙ্গেরিতে কিছু ডাকে পাঠাতে হয় না — Tempus কোনো হার্ডকপি চায় না।
ধাপ ৪ — শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ফর্ম, একই ডেডলাইনে
বাংলাদেশের পথ আলাদা এই ধাপেই। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব একটি অনলাইন ফর্ম আছে, হাঙ্গেরির পোর্টাল থেকে আলাদা, যার লিংক প্রতি বছর shed.gov.bd-র বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া থাকে। গত রাউন্ডে এটি বন্ধ হয়েছে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় — হাঙ্গেরির পোর্টালের সাথে একই মুহূর্তে। ফর্মের ওয়েব ঠিকানা এক রাউন্ড থেকে আরেক রাউন্ডে বদলেছে, তাই শুধু চলতি বিজ্ঞপ্তিতে ছাপা লিংকটিই ব্যবহার করুন — পুরোনো কোনো পোস্ট থেকে কপি করা লিংক নয়।
সাবমিট করলে ফর্মটি আপনার ইমেইলে একটি ID ও পাসওয়ার্ড পাঠায়, আর সেই ইমেইলের লিংকে ক্লিক করে আবেদন Activate করতে হয়; ইমেইল না এলে Spam বা Junk ফোল্ডার দেখুন। এরপর Tracking Number দিয়ে লগইন করে আবেদন এডিট ও প্রিন্ট করা যায়। এই ফর্মে এমন তথ্য চাওয়া হয় যা হাঙ্গেরির পোর্টালে নেই — যেমন প্রতিটি পরীক্ষার নম্বরের শতকরা হার (% of marks), GPA নয়; ফর্মের নিচে লাল কালিতে একটি উদাহরণ দেওয়া থাকে, নিজে থেকে রূপান্তর না বানিয়ে সেটিই অনুসরণ করুন — আর IELTS বা TOEFL স্কোর থাকলে তা। মাস্টার্স ও PhD আবেদনকারীদের কাছে বর্তমান চাকরি, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, প্রস্তাবিত গবেষণার শিরোনাম ও প্রকাশনার তথ্যও চাওয়া হয়; PhD-তে লাগে হাঙ্গেরির কোনো সুপারভাইজারের সম্মতিপত্র।
ধাপ ৫ — সচিবালয়ে হার্ডকপি জমা
মন্ত্রণালয়ের পূরণ করা ফর্ম প্রিন্ট করে একটি খামে রাখুন, সাথে সব সনদ, মার্কশিট ও অন্যান্য কাগজের কপি — প্রতিটি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার সত্যায়িত — এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আর যা যা দিলেন তার একটি তালিকা। খামের ওপর অবশ্যই লিখতে হবে প্রেরক, প্রাপক (সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা), অনলাইন আবেদনের ID বা Tracking Number এবং প্রোগ্রামের নাম।
খামটি যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেট-সংলগ্ন অভ্যর্থনা কক্ষের বাক্সে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা, ওই বাক্স ছাড়া অন্য কোথাও জমা দিলে আবেদন বিবেচনা হবে না, আর অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। গত রাউন্ডে হার্ডকপির শেষ সময় ছিল ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টা — অনলাইন ডেডলাইনের পরদিন — পরে তা ১৮ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
সত্যায়ন শুনতে যত কঠিন, আসলে তত নয়: প্রতিটি ফটোকপিতে একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল। এটি শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অ্যাপোস্টিলের ধাপ নয়। ভর্তির সময় আপনার ইউনিভার্সিটি সেই ধাপগুলো চাইবে কি না, তা তাদের নিজস্ব নিয়ম; কীভাবে হয় তা অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিল গাইডে আছে।
ধাপ ৬ — নমিনেশন (ফেব্রুয়ারির শেষের মধ্যে)
প্রথমে Tempus প্রতিটি আবেদন সম্পূর্ণ ও যোগ্য কি না যাচাই করে, আর যোগ্যগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি প্রার্থীদের র্যাঙ্ক করে মনোনয়ন দেয়, আর তালিকাটি — একটি রিজার্ভ তালিকাসহ — ফেব্রুয়ারির শেষে হাঙ্গেরিতে পাঠায়। নমিনেশনের খবর সাধারণত আসে ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের শুরুতে। শুধু মনোনীতরাই, রিজার্ভ তালিকাসহ, ইউনিভার্সিটির ধাপে যান; নমিনেশন না পেলে কোনো হাঙ্গেরীয় ইউনিভার্সিটি আপনার আবেদন দেখেই না।
ধাপ ৭ — এন্ট্রান্স পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ (মার্চের মাঝামাঝি–মে)
এরপর আপনার বাছাই করা ইউনিভার্সিটি ভর্তির শর্তের সাথে ফাইল মিলিয়ে দেখে আর পরীক্ষা নেয়। তারিখ ও ধরন ইউনিভার্সিটিভেদে আলাদা — লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, বা দুটোই — আর প্রতিটি ইউনিভার্সিটি সরাসরি যোগাযোগ করে। নম্বর দেওয়া হয় ১০০-তে, আর ৫৬-র নিচে পেলে কেউ স্কলারশিপ পান না। পাস করা মানেই স্কলারশিপ নয়: Call বলছে, এর অর্থ শুধু প্রোগ্রামের ন্যূনতম ভর্তি-শর্ত পূরণ হয়েছে। প্রস্তুতি নিন বিষয়ভিত্তিক ইন্টারভিউয়ের জন্য, "হাঙ্গেরি কেন ভালো লাগে" ধরনের আলাপের জন্য নয়। স্কলারশিপ ইন্টারভিউ প্রস্তুতি আর ইউনিভার্সিটির অনলাইন ইংরেজি ইন্টারভিউ দেখুন।
ধাপ ৮ — ফলাফল, গ্রহণ ও ভিসা
ফলাফল আসে ইমেইলে, জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি, চারটির একটি স্ট্যাটাসে: approved, conditionally approved (কোনো কাগজ বাকি), pending, অথবা rejected। আপিলের সুযোগ নেই। Approved হলে ইমেইলে দেওয়া সময়ের মধ্যে — সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহ, আর কোনোভাবেই ১ আগস্টের পরে নয় — স্কলারশিপ গ্রহণ করতে হয়।
এরপর দেরি না করে ভিসার কাজ শুরু করুন। Call বলছে ভিসা পেতে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে আর মনে করিয়ে দিচ্ছে স্কলারশিপ মানেই ভিসার নিশ্চয়তা নয়; হাঙ্গেরির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ স্টাডি রেসিডেন্স পারমিটের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে ৬০ দিন সময় দেয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন নয়াদিল্লির হাঙ্গেরি দূতাবাসের ঢাকা অফিসের মাধ্যমে — অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইমেইলে, আর আবেদন কেন্দ্র ঢাকার VFS Global। বিস্তারিত ঢাকা থেকে হাঙ্গেরির আবেদন আর পারমিটে কত সময় লাগে-এ।
ফাইলে কী লাগে, সেটাই বিজয়ীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে। Tempus পাঠায় একটি Letter of Award, আর ইউনিভার্সিটি দেয় ভর্তির চিঠি — দুটোই লাগে। কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রের স্টাডি চেকলিস্ট (এপ্রিল ২০২৬-এ নতুন করে প্রকাশিত) মূল কাগজও চায়: স্কুলের সনদ, জন্মসনদ, ফ্যামিলি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট — প্রতিটি অ্যাপোস্টিলসহ — সাথে স্পনসরের গত ১৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের প্রমাণ ও স্পনসরশিপের হলফনামা, ভ্রমণের দিন কভার করে এমন ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, থাকার প্রমাণ আর ফ্লাইট বুকিং। স্কলারশিপধারীদের জন্য সেখানে কোনো ছাড় লেখা নেই, যদিও হাঙ্গেরির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ স্কলারশিপের সনদকে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে — তাই পুরো ফাইলই তৈরি রাখুন। হাঙ্গেরি স্কলারশিপধারীদের পারমিটের প্রশাসনিক ফি-ও মওকুফ করে, আর অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ফি-পাতায় Stipendium Hungaricum-এর নাম আছে; কেন্দ্রের নিজের ফি-পাতায় সে কথা নেই, আর তাদের সার্ভিস চার্জ আলাদা বেসরকারি ফি — তাই Letter of Award সাথে নিয়ে জিজ্ঞেস করুন। পৌঁছানোর তারিখ ১৫–৩০ দিন আগে ইউনিভার্সিটির কো-অর্ডিনেটরকে জানান, আর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পৌঁছে এনরোল করুন।
এই চেকলিস্টের কারণেই নমিনেশনের পরের সপ্তাহগুলো গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাপোস্টিল আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে সময় লাগে, অথচ জুলাইয়ের ফলাফল আর সেপ্টেম্বরে পৌঁছানোর মাঝে থাকে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। দুটোর নিয়ম পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইনে আর অ্যাটেস্টেশন ও অ্যাপোস্টিল-এ।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট
| কাগজ | ঠিক কী লাগে | বাংলাদেশের খুঁটিনাটি |
|---|---|---|
| অনলাইন আবেদন ফর্ম | ইংরেজিতে পূরণ, সাথে গত দুই বছরের মধ্যে তোলা ছবি | নামের বানান পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলতে হবে |
| মোটিভেশন লেটার | কমপক্ষে এক পৃষ্ঠা, Times New Roman ১২ পয়েন্ট, প্রোগ্রামের ভাষায়; সিস্টেমে অক্ষরসীমাসহ একটি টেক্সট বক্সও থাকে | Application Guide দ্বিতীয় পছন্দের ইউনিভার্সিটির জন্য আলাদা একটি লেটার দেওয়ার পরামর্শ দেয় |
| ইংরেজির প্রমাণ | প্রোগ্রাম যে ন্যূনতম শর্ত দেয় | প্রোগ্রাম MOI লেটার নেয়; মন্ত্রণালয় টেস্টের স্কোরকে গুরুত্ব দেয় |
| সনদ | ব্যাচেলর বা ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্সে HSC; মাস্টার্সে ব্যাচেলর; PhD-তে মাস্টার্স | বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ইংরেজিতেই হয়, তাই ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রামে অনুবাদ লাগে না |
| ট্রান্সক্রিপ্ট | সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিটি বছর বা সেমিস্টারের | প্রতি বছরের মার্কশিট |
| পরিচয়পত্র | পাসপোর্টের তথ্য-পাতা; পাসপোর্ট না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র | পাসপোর্ট দেওয়া যায় ১ আগস্ট পর্যন্ত |
| Statement for Application | সিস্টেমে ক্লিক করে গ্রহণ | সই করা স্ক্যান আপলোড করবেন না |
| গবেষণা পরিকল্পনা, রেকমেন্ডেশন, সুপারভাইজারের বিবৃতি | শুধু PhD: কমপক্ষে দুই পৃষ্ঠার পরিকল্পনা, একটি রেকমেন্ডেশন লেটার, আর ডক্টরাল স্কুল চাইলে সুপারভাইজারের বিবৃতি | মন্ত্রণালয়ের ফর্মেও PhD-তে সুপারভাইজারের সম্মতি চাওয়া হয় |
| পোর্টফোলিও | শুধু আর্টস ও মিউজিক | ৪ MB-র বড় ফাইল ডাউনলোড লিংক হিসেবে দিতে হয় |
| মেডিকেল সার্টিফিকেট | আপলোড করতে হয় না। শুধু বিজয়ীদের, অফিশিয়াল ফর্মে, সাথে করে হাঙ্গেরিতে নিতে হয় | নিচে দেখুন |
দুটি জিনিস অনেকে যোগ করেন, যা লাগে না: CV, আর ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে রেকমেন্ডেশন লেটার — Application Guide বলছে "বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া" এর দরকার নেই। সমান যোগ্যতার প্রার্থীদের আলাদা করে দেয় মোটিভেশন লেটার; কাঠামো পাবেন স্কলারশিপের মোটিভেশন লেটার-এ।
মেডিকেল সার্টিফিকেট। ২০২৬/২৭-এ বিজয়ীরা প্রোগ্রামের নিজস্ব ফর্মে সার্টিফিকেট নিয়ে গেছেন, যা আবেদন-বছরের ১ নভেম্বরের আগে ইস্যু হতে পারত না: যক্ষ্মার জন্য বুকের এক্স-রে বা Quantiferon টেস্ট, আর HIV, হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি-র রক্ত পরীক্ষা — সবই তিন মাসের মধ্যে — সাথে টিকার রেকর্ড। বাংলাদেশসহ যেসব দেশে টাইফয়েড স্থানীয় রোগ, সেখান থেকে আসা শিক্ষার্থীর টিকা না থাকলে হাঙ্গেরিতে পৌঁছে টাইফয়েডের টিকা বাধ্যতামূলক। ৩১ আগস্ট ২০২৬-এ Operational Regulations সংশোধন করে এই স্ক্রিনিংকে এমন বিষয় করা হয়েছে যা মন্ত্রণালয় চাইলে নির্দেশ দিতে পারে, তাই টেস্ট করানোর আগে ২০২৭/২৮-এর Call দেখে নিন। কোথায় কী করাবেন, তা মেডিকেল সার্টিফিকেট ও টিকা-য়।
শেষ বর্ষে থাকলে। HSC পরীক্ষার্থী বা শেষ বর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থী ডেডলাইনের মধ্যে নিজের লেখা ও সই করা একটি ঘোষণাপত্র দিয়ে মূল সনদ ১ আগস্টের মধ্যে আপলোড করতে পারেন; অপেক্ষমাণ ভাষা-পরীক্ষার ফল আর পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে এর ওপর ভরসা করার আগে মন্ত্রণালয় বিষয়টি কীভাবে দেখে তা জেনে নিন। ২০২৬/২৭-এর বিজ্ঞপ্তি বলছে অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, আর ঘোষণাপত্র নিয়ে কিছু বলে না; অথচ আগের রাউন্ডগুলো উল্টো কথাই স্পষ্ট বলেছিল — ২০২৫/২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক সনদপত্র গ্রহণযোগ্য ছিল না, আর ২০২৩/২৪-এ মন্ত্রণালয়ের নিজের FAQ জানিয়েছিল HSC পরীক্ষার্থীরা ঘোষণাপত্র দিয়ে আবেদন করতে পারবেন না। চলতি বিজ্ঞপ্তির নীরবতা মানেই অনুমতি নয়। সাধারণ দিকগুলো HSC রেজাল্টের অপেক্ষায় আবেদন-এ।
সিদ্ধান্ত আসলে কীভাবে হয়
| ধাপ | কে সিদ্ধান্ত নেয় | কখন | কী দেখে |
|---|---|---|---|
| টেকনিক্যাল যাচাই | Tempus Public Foundation | জানুয়ারির শেষ | আবেদন সম্পূর্ণ ও যোগ্য কি না |
| নমিনেশন | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি | ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে | মন্ত্রণালয়ের র্যাঙ্কিং, ইংরেজিকে গুরুত্ব দিয়ে; সাথে রিজার্ভ তালিকা |
| ইউনিভার্সিটির মূল্যায়ন | হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটি | মার্চের মাঝামাঝি–মে | ১০০-তে পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ; ন্যূনতম ৫৬ |
| বরাদ্দ | Tempus, সিদ্ধান্ত দেয় এর Board of Trustees | জুন–জুলাই | দুই দেশের চুক্তি, প্রোগ্রামের আসন, আপনার পছন্দের ক্রম, আর পরীক্ষার নম্বর ও নমিনেশন র্যাঙ্ক |
শেষ সারিতেই আছে এই লেখার সবচেয়ে কাজের তথ্য। প্রোগ্রামের Implementation Guide বলছে, বরাদ্দের সময় মন্ত্রণালয়ের নমিনেশন তালিকায় আপনার অবস্থান আর ইউনিভার্সিটির পরীক্ষার ফল সমান গুরুত্বে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের র্যাঙ্কিং আসল পরীক্ষায় পৌঁছানোর নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয় — এটাই আসল পরীক্ষার অর্ধেক। এজন্যই ইংরেজির স্কোর, সম্পূর্ণ হার্ডকপি আর মন্ত্রণালয়ের ফর্মে লেখা শতকরা নম্বর এত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছরের বাজেটও মোট স্কলারশিপের সংখ্যা বেঁধে দেয়; তার বাইরের আবেদন বাতিল হয়। কোন ধাপে কী কারণে আবেদন পড়ে যায়, তা Stipendium Hungaricum কেন বাতিল হয়-এ বিস্তারিত।
সৎ সংখ্যাগুলো
| তথ্য | সংখ্যা | সূত্র |
|---|---|---|
| বিশ্বজুড়ে আবেদন, ২০২৬/২৭ রাউন্ড | ১,১৩,৮০৬, রেকর্ড | Tempus, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ |
| বিশ্বজুড়ে আবেদন ও স্কলারশিপ, ২০২৫ রাউন্ড | ৮০,০০০ আবেদন, ৪,৫০০-এর বেশি স্কলারশিপ | ২০২৬/২৭-এর Call for Applications |
| বাংলাদেশের জন্য আসন, ২০২৬/২৭ | ১৪০টি, এর মধ্যে ৩০টি নিউক্লিয়ার এনার্জেটিক্সের জন্য সংরক্ষিত | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশি, ২০২৫/২৬ | ৯৮ জন | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকা, ১৫ জুলাই ২০২৫ |
| হাঙ্গেরিতে পড়ছেন এমন বাংলাদেশি স্কলারশিপধারী, শরৎ ২০২৫ | ২৫৮ জন, সব বর্ষ মিলিয়ে | হাঙ্গেরির শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য, Tempus-এর প্রকাশনা |
মন্ত্রণালয় প্রতি গ্রীষ্মে, সাধারণত জুলাইয়ে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে, আর সংখ্যাগুলো গুজবের চেয়ে অনেক স্থির:
| রাউন্ড | চূড়ান্তভাবে মনোনীত বাংলাদেশি |
|---|---|
| ২০১৯/২০ | ১০০ |
| ২০২০/২১ | ৯২, আরও ৮ জনের নাম পরে জানানোর কথা |
| ২০২১/২২ | ৯৬, পরে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আরও ১২ |
| ২০২২/২৩ | ১২০ |
| ২০২৩/২৪ | ১০০ |
| ২০২৪/২৫ | ৯২ |
| ২০২৫/২৬ | ৯৮ |
নমিনেশন হলো বড় দরজা। ২০২৫/২৬-এ মন্ত্রণালয় মনোনয়ন দিয়েছিল ২৮০ জনকে — ব্যাচেলরে ১৩০, মাস্টার্সে ১০০, ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্সে ২০ আর ডক্টরালে ৩০ — আর চূড়ান্তভাবে পেয়েছেন ৯৮ জন; অর্থাৎ নমিনেশন পাওয়াও মোটামুটি তিনজনে একজনের সুযোগ, ফলাফল নয়। বিশ্বজুড়ে ২০২৫ রাউন্ডের হিসাবে প্রতি ১৮টি আবেদনে মোটামুটি একটি স্কলারশিপ। আবেদনকারীদের জন্য বাংলাদেশের আলাদা সাফল্যের হার কেউ প্রকাশ করে না — কেউ একটা শতাংশ বললে সেটা বানানো। ১৪০টি আসনও একটি সর্বোচ্চ সীমা, প্রতিশ্রুতি নয়: প্রতিটি স্কলারশিপের জন্য ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫৬ আর পছন্দের প্রোগ্রামে আসন খালি থাকা দরকার। যে সংখ্যাটি বেড়েছে তা হলো একই সময়ে পড়ছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা — ২০১৯-এর শরতে এই স্কলারশিপে হাঙ্গেরিতে ৬৯ জন বাংলাদেশি, ২০২৫-এর শরতে ২৫৮ জন — কারণ প্রতি বছরের প্রায় ১০০ জনের দল কয়েক বছরের ডিগ্রির জন্য থেকে যায়; প্রতি বছরের নতুন স্কলারশিপ বাড়েনি।
যে কথাগুলো সত্য নয়
"আবেদন করতে এজেন্সি লাগে।" আবেদন ফ্রি, আর Call নিজেই কোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন না করার পরামর্শ দেয়। আবেদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি কোনো ফি নিতে পারে না, আর মন্ত্রণালয়ের নমিনেশন বা Board-এর সিদ্ধান্তে কেউ — আমরাও না — প্রভাব খাটাতে পারে না। বাইরের সাহায্য সত্যিই কাজে লাগে তিন জায়গায়: দুটি প্রোগ্রাম বাছাই, মোটিভেশন লেটার আর ইন্টারভিউ। এজেন্ট ছাড়া নিজে স্কলারশিপ খুঁজতে এই পোর্টালগুলো দেখুন।
"মেডিকেল সার্টিফিকেট আবেদনের সাথে দিতে হয়।" গত রাউন্ডে নয়। শুধু বিজয়ীদের লেগেছে, আর তাঁরা সেটা সাথে করে হাঙ্গেরিতে নিয়ে গেছেন।
"CV আর দুটি রেকমেন্ডেশন লেটার লাগে।" ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে নয়। PhD-তে একটি রেকমেন্ডেশন লেটার লাগে।
"IELTS বাধ্যতামূলক।" স্কলারশিপে নয়, অনেক প্রোগ্রামেও নয়। তবে বাংলাদেশে নমিনেশনে এটা গোনা হয়।
"মন্ত্রণালয়ের ডেডলাইন হাঙ্গেরির আগে।" ডেডলাইন একই; শুধু হার্ডকপির শেষ সময় ছিল এক দিন পরে।
"তিনটি প্রোগ্রামে, বা একসাথে ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে আবেদন করা যায়।" দুটি প্রোগ্রাম, একটি স্তর। দ্বিতীয় স্তরে আবেদন করলে মন্ত্রণালয়ে আবেদনই বাতিল।
"স্কলারশিপে বিমান ভাড়াসহ সব খরচ দেয়।" দেয় টিউশন আর জীবনযাত্রার খরচের একটি অংশ। বিমান ভাড়া, ভাতা আর আসল খরচের ব্যবধান, আর পরিবারের খরচ — সব আপনার।
"এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করলেই স্কলারশিপ।" পাস মানে শুধু প্রোগ্রামের ন্যূনতম শর্ত পূরণ। স্কলারশিপের সিদ্ধান্ত হয় জুন বা জুলাইয়ে।
স্কলারশিপ পেলে যে শর্তগুলো মানতে হয়
- ক্রেডিট। ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্সে শেষ দুটি সক্রিয় সেমিস্টারে গড়ে সেমিস্টারপ্রতি কমপক্ষে ১৮ ক্রেডিট শেষ করতে হয়, নইলে স্কলারশিপ বাতিল।
- হাঙ্গেরিয়ান কোর্স প্রথম বছরে, ওপরে যেমন বলা হয়েছে।
- হাঙ্গেরিতে থাকা। ৩০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে ফিরে আসা পর্যন্ত মাসিক ও আবাসন ভাতা বন্ধ থাকে।
- কাজ। হাঙ্গেরির আইন — ২০২৩ সালের XC আইনের ৫৫(৮) ধারা, যা স্কলারশিপের নিজস্ব নিয়মেও উদ্ধৃত — অনুযায়ী শিক্ষার্থী সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা, আর সেমিস্টারের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। বাস্তব দিকগুলো হাঙ্গেরিতে ছাত্র হিসেবে কাজ-এ।
- পরিবার। স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটে পরিবার আনার (ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন) সুযোগ নেই, আর স্কলারশিপ পরিবারের জন্য কিছু দেয় না।
- সময়মতো পৌঁছানো। স্কলারশিপ গ্রহণ করে না গেলে এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তা প্রত্যাহার না করলে পরের তিন বছর আর আবেদন করা যায় না।
- যা আপনার দায় নয়। প্রোগ্রামের নিয়মে বাংলাদেশে ফিরে আসা, কারও জন্য কাজ করা বা ভাতা ফেরত দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
কাদের শুধু এর ওপর ভরসা করা উচিত নয়
ভালো রেজাল্ট আর সীমিত বাজেটের শিক্ষার্থীর জন্য ইউরোপীয় ডিগ্রির সবচেয়ে সাশ্রয়ী পথ Stipendium Hungaricum। কিন্তু যিনি একটি বছর হারানোর ঝুঁকি নিতে পারবেন না, তাঁর জন্য এটা একমাত্র পরিকল্পনা হিসেবে ভুল — ফলাফল আসে জুনের শেষে বা জুলাইয়ে, ততদিনে অনেক দেশের ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার যদি প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠাতে না পারে, বা এক বছর হাঙ্গেরিয়ান ক্লাস করতে আপনি রাজি না থাকেন, তাহলেও এটা ভালো মিল নয়। PhD-তে এর পাশাপাশি বেতনভুক্ত পদের বাজারও আছে — ইউরোপে PhD ফান্ডিং দেখুন।
এর পাশে একটি দ্বিতীয় পরিকল্পনা রাখুন: সেলফ-ফান্ডেডে হাঙ্গেরি, Stipendium ছাড়াও হাঙ্গেরির বৃত্তি, অথবা অন্য কোনো দেশ। মাস্টার্সে বাংলাদেশিদের জন্য খোলা আরেকটি সত্যিকারের পূর্ণ স্কলারশিপ Erasmus Mundus; আর "ফুল ফান্ডেড" বিজ্ঞাপন কীভাবে পড়বেন, তা এখানে।
এই লেখার কোনো তারিখের ওপর কাজ করার আগে stipendiumhungaricum.hu-তে চলতি Call আর shed.gov.bd-তে চলতি বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন। দুটোই প্রতি বছর নতুন করে প্রকাশ হয়, আর খুঁটিনাটি বদলায়।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Stipendium Hungaricum — Call for Applications ২০২৬/২৭ (ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্স)
- Stipendium Hungaricum — Call for Applications ২০২৬/২৭ (ডক্টরাল)
- Stipendium Hungaricum — Application Guide ২০২৬/২৭
- Stipendium Hungaricum — অফিশিয়াল আবেদন সিস্টেম
- Stipendium Hungaricum — অংশীদার দেশের তালিকা (বাংলাদেশের অংশ)
- Stipendium Hungaricum — আবেদনের নিয়ম ও অফিশিয়াল FAQ
- Stipendium Hungaricum — ২০২৬/২৭-এ রেকর্ড ১,১৩,৮০৬ আবেদন (১৯ জানুয়ারি ২০২৬)
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ — ২০২৬-২০২৭ রাউন্ডের বিজ্ঞপ্তি (২ ডিসেম্বর ২০২৫)
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় — ২০২৫-২০২৬ রাউন্ডে চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের তালিকা (১৫ জুলাই ২০২৫)
- Stipendium Hungaricum — Operational Regulations, ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর
- হাঙ্গেরির ২০২৩ সালের XC আইন, ধারা ৫৫(৮) — শিক্ষার্থীর কাজের সময়
- Tempus Public Foundation — Stipendium Hungaricum পরিসংখ্যান
- হাঙ্গেরির কনস্যুলার তথ্য — নয়াদিল্লির হাঙ্গেরি দূতাবাসের ঢাকা অফিস
- VFS Global — ঢাকায় হাঙ্গেরির ভিসা আবেদন কেন্দ্র
- হাঙ্গেরির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (OIF) — পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রেসিডেন্স পারমিট
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
প্রোগ্রাম বাছাই আর মোটিভেশন লেটারে সাহায্য চান?
আবেদন ফ্রি, আর নমিনেশনে কেউ প্রভাব খাটাতে পারে না — তবে কোন দুটি প্রোগ্রাম বাছবেন, লেটারে কী লিখবেন আর ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন, তাতে সাহায্য করি।
সাধারণ প্রশ্ন
হাঙ্গেরি স্কলারশিপে বাংলাদেশ থেকে কীভাবে আবেদন করব?+
তিন জায়গায়, একই সময়সীমায়। প্রথমত, অফিশিয়াল পোর্টাল apply.stipendiumhungaricum.hu-তে অনলাইন আবেদন, যেখানে পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ দুটি প্রোগ্রাম বাছাই করে কাগজ আপলোড করতে হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অনলাইন ফর্ম, যার লিংক প্রতি বছর shed.gov.bd-র বিজ্ঞপ্তিতে থাকে। তৃতীয়ত, সেই ফর্মের প্রিন্ট আর প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার সত্যায়িত সনদের কপি, বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেট-সংলগ্ন বাক্সে। গত রাউন্ডে প্রথম দুটি বন্ধ হয়েছে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায়, আর হার্ডকপির সময় ছিল পরদিন পর্যন্ত। যেকোনো একটি বাদ পড়লে আবেদন আটকে যেতে পারে।
Stipendium Hungaricum ২০২৭-এর ডেডলাইন কবে?+
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২০২৭/২৮-এর Call প্রকাশ হয়নি। প্রোগ্রামের স্থায়ী সময়সূচি অনুযায়ী Call প্রকাশ হয় অক্টোবরের শেষে আর আবেদন খোলে নভেম্বরে; গত রাউন্ড বন্ধ হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, হাঙ্গেরির দুপুর ২টায়, মানে বাংলাদেশে সন্ধ্যা ৭টায়। তাই জানুয়ারি ২০২৭-এর মাঝামাঝি ডেডলাইন ধরে প্রস্তুতি নিন, আর Call ও মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বেরোলে সঠিক তারিখ মিলিয়ে নিন।
হাঙ্গেরি স্কলারশিপ কি ফুল ফান্ডেড?+
টিউশন পুরো মওকুফ, আর জীবনযাত্রার খরচে একটি অংশ দেয়: ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে মাসে HUF ৪৩,৭০০, ফ্রি ডর্ম বা ভাড়ার জন্য মাসে HUF ৪০,০০০, আর স্বাস্থ্যবীমা। বিমান ভাড়া বা পরিবারের খরচ দেয় না, আর Call নিজেই বলছে পুরো জীবনযাত্রার খরচ চালাতে শিক্ষার্থীকে নিজের টাকাও যোগ করতে হবে। তাই পরিবার থেকে প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠানোর হিসাব রাখুন।
মাসিক ভাতা কত, টাকায় কত দাঁড়ায়?+
ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ওয়ান-টিয়ার মাস্টার্স ও প্রিপারেটরিতে মাসে HUF ৪৩,৭০০, বছরে ১২ মাস — Call-এর বিনিময় হারে প্রায় €১১০, আর €১ = ৳১২৫–১৪০ ধরলে মোটামুটি ৳১৪–১৫ হাজার; আসল অঙ্ক নির্ভর করবে সেদিনের ব্যাংক রেটের ওপর। PhD-তে প্রথম চার সেমিস্টারে মাসে HUF ১,৪০,০০০ আর কমপ্লেক্স পরীক্ষার পর শেষ চার সেমিস্টারে HUF ১,৮০,০০০। ব্যাচেলর-মাস্টার্সের অঙ্কটি ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে বদলায়নি।
IELTS ছাড়া কি হাঙ্গেরি স্কলারশিপে আবেদন করা যায়?+
স্কলারশিপ নিজে IELTS বাধ্যতামূলক করে না। প্রতিটি প্রোগ্রাম নিজের ইংরেজি শর্ত ঠিক করে, আর আগের পড়াশোনা একই ভাষায় হয়েছিল তার প্রমাণ গ্রহণ করা হয়, তাই MOI লেটারেও চলতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশি আবেদনকারীর জন্য একটা বাধা আছে: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বলছে মনোনয়নে ইংরেজি দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, আর চূড়ান্ত বরাদ্দে নমিনেশন র্যাঙ্ক ইউনিভার্সিটির পরীক্ষার সমান গুরুত্ব পায়। তাই সম্ভব হলে IELTS দিন।
কয়টি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়?+
সর্বোচ্চ দুটিতে, পছন্দের ক্রম অনুযায়ী, একই বা দুটি আলাদা ইউনিভার্সিটিতে। ডেডলাইনের পর ক্রম বদলানো যায় না, প্রথম পছন্দ আগে বিবেচনা হয়, আর দ্বিতীয় পছন্দে মেডিসিন সাধারণত বিবেচনাই হয় না। দুটি পছন্দই হতে হবে একই স্তরে — আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স বা ডক্টরালের একাধিকটিতে আবেদন করলে মন্ত্রণালয় আবেদন বাতিল করে।
হাঙ্গেরি স্কলারশিপে কী কী কাগজপত্র লাগে?+
সাম্প্রতিক ছবিসহ অনলাইন ফর্ম, মোটিভেশন লেটার, ইংরেজির প্রমাণ, সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্টের তথ্য-পাতা বা জাতীয় পরিচয়পত্র, আর সিস্টেমে Statement for Application গ্রহণ। PhD-তে যোগ হয় গবেষণা পরিকল্পনা, একটি রেকমেন্ডেশন লেটার আর প্রয়োজনে সুপারভাইজারের বিবৃতি; আর্টসে পোর্টফোলিও। ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে CV বা রেকমেন্ডেশন লেটার লাগে না। মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদাভাবে লাগে সব সনদ ও মার্কশিটের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার সত্যায়িত কপি।
মেডিকেল সার্টিফিকেট কি আবেদনের সময় জমা দিতে হয়?+
না। ২০২৬/২৭-এ এটি লেগেছে শুধু বিজয়ীদের, প্রোগ্রামের অফিশিয়াল ফর্মে, আর আপলোড না করে তাঁরা সাথে করে হাঙ্গেরিতে বাধ্যতামূলক মেডিকেল পরীক্ষায় নিয়ে গেছেন। ৩১ আগস্ট ২০২৬-এ নিয়ম সংশোধন করে এই স্ক্রিনিং এখন মন্ত্রণালয় চাইলে নির্দেশ দিতে পারে এমন বিষয়, তাই টেস্ট করানোর আগে ২০২৭/২৮-এর Call দেখে নিন।
হার্ডকপি কোথায় জমা দেব, আর সত্যায়ন কে করবেন?+
মন্ত্রণালয়ের ফর্মের প্রিন্ট আর সত্যায়িত সনদের কপি যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেট-সংলগ্ন অভ্যর্থনা কক্ষের বাক্সে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে। খামে প্রেরক, প্রাপক, অনলাইন আবেদনের Tracking Number আর প্রোগ্রামের নাম লিখতে হয়; অন্য কোথাও জমা দিলে বিবেচনা হয় না। সত্যায়ন মানে প্রতিটি ফটোকপিতে একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল — শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অ্যাপোস্টিলের ধাপ নয়।
হাঙ্গেরি স্কলারশিপের বয়সসীমা কত?+
শুধু ন্যূনতম বয়স আছে: পড়া শুরুর বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে — ২০২৬/২৭-এর জন্য জন্মতারিখ ৩১ আগস্ট ২০০৮ বা তার আগে; ডান্স প্রোগ্রাম ব্যতিক্রম। প্রোগ্রাম কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা রাখেনি, তবে অংশীদার দেশ নিজস্ব সীমা রাখে কি না তা দেখে নিতে বলে।
ফলাফল কবে দেয়?+
জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি, একটি ইমেইলে আর আবেদন সিস্টেমে। তার আগে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে নমিনেশনের খবর আসে, আর মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে-র শেষ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা চলে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নেই। Approved হলে ইমেইলে দেওয়া সময়ের মধ্যে — সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহ, আর ১ আগস্টের পরে নয় — গ্রহণ করতে হয়।
প্রতি বছর কতজন বাংলাদেশি এই স্কলারশিপ পান?+
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী ২০১৯/২০ থেকে প্রতি বছর ৯২ থেকে ১২০ জন — ২০২৫/২৬-এ ৯৮ জন। ২০২৬/২৭-এর জন্য মন্ত্রণালয় ১৪০টি আসনের কথা জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩০টি নিউক্লিয়ার এনার্জেটিক্সে সংরক্ষিত; আর ২০২৫/২৬-এ মনোনয়ন দিয়েছিল ২৮০ জনকে, তাই নমিনেশন পাওয়াও মোটামুটি তিনজনে একজনের সুযোগ। হাঙ্গেরির পরিসংখ্যানে ২০২৫-এর শরতে সব বর্ষ মিলিয়ে ২৫৮ জন বাংলাদেশি স্কলারশিপধারী হাঙ্গেরিতে পড়ছিলেন। আবেদনকারীদের জন্য বাংলাদেশের আলাদা সাফল্যের হার কেউ প্রকাশ করে না।
স্কলারশিপে পড়ার সময় কাজ করা যায়?+
হ্যাঁ, হাঙ্গেরির আইন সব স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের জন্য যে সীমা দিয়েছে তার মধ্যে: সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা, আর সেমিস্টারের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পূর্ণ সময় — ২০২৩ সালের XC আইনের ৫৫(৮) ধারা। স্কলারশিপের নিজস্ব নিয়মেও একই কথা আছে। ভাতা অল্প, তাই অনেকে কাজ করেন, কিন্তু পার্টটাইম কাজ পরিবারের সহায়তার বিকল্প নয়।
হাঙ্গেরি স্কলারশিপে আবেদন করতে কি এজেন্সি লাগে?+
লাগে না। আবেদন ফ্রি, Call নিজেই এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন না করার পরামর্শ দেয়, আর আবেদনের প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি কোনো ফি নিতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের নমিনেশন বা Board-এর সিদ্ধান্তে কেউ প্রভাব খাটাতে পারে না। সাহায্য নিতে চাইলে তা সত্যিই কাজে লাগে দুটি প্রোগ্রাম বাছাই, মোটিভেশন লেটার আর এন্ট্রান্স ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে।
এই বিষয়ের ৩০টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন