গাইড

হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স: এটা ভর্তির পরিকল্পনা নয়, স্কলারশিপের পরিকল্পনা — আর তার ঘড়ি থামে ক্লাস শুরুর আট মাস আগে

মোঃ সালাহউদ্দিন২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬11 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাঙ্গেরিতে মাস্টার্সের পরিকল্পনা আসলে স্কলারশিপের পরিকল্পনা: Stipendium বন্ধ হয় জানুয়ারিতে, ক্লাস শুরু তার পরের সেপ্টেম্বরে। মাস্টার্সে IELTS সাধারণত ৬.০, ভর্তি পরীক্ষা স্বাভাবিক, আর সেলফ-ফান্ডেডে বছরে প্রায় €৬,০০০।

এক নজরে: হাঙ্গেরিতে মাস্টার্সের পরিকল্পনা আসলে একটি স্কলারশিপ পরিকল্পনা, যার সঙ্গে একটি ভর্তি জোড়া লাগানো। Stipendium Hungaricum-এ টিউশন মওকুফ, মাসে প্রায় €১১০ স্টাইপেন্ড, ডর্ম বা আবাসন ভাতা ও স্বাস্থ্যবীমা — কিন্তু আবেদন বন্ধ হয় জানুয়ারির মাঝামাঝি, আর ক্লাস শুরু তার পরের সেপ্টেম্বরে। সেলফ-ফান্ডেডে পাবলিক টিউশন বছরে €০–৫,০০০, থাকা-খাওয়া মাসে €৪০০–৬০০, ফান্ডের প্রমাণ বছরে প্রায় €৬,০০০ — ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না। মাস্টার্সে IELTS সাধারণত ৬.০ (কখনও ৬.৫), আর ভর্তি পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ এখানে স্বাভাবিক — মাস্টার্সেও

বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স খুঁজতে বসা মানুষটি প্রায় সবসময় একই ক্রমে ভাবেন: আগে প্রোগ্রাম, তারপর ইউনিভার্সিটি, তারপর "স্কলারশিপ পাওয়া যায় কি না দেখব"। হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে এই ক্রমটাই উল্টো, আর উল্টো ক্রমের দাম একটা গোটা বছর।

কারণটা সহজ। হাঙ্গেরিতে আপনার বছরটা ঠিক করে দেয় যে তারিখটা, সেটি কোনো ইউনিভার্সিটির ভর্তির তারিখ নয় — সেটি সরকারি স্কলারশিপের তারিখ। আর সেটি বন্ধ হয় ক্লাস শুরুর প্রায় আট মাস আগে। তাই "পরে স্কলারশিপ দেখব" সিদ্ধান্তটা আসলে "স্কলারশিপ নেব না" সিদ্ধান্ত, শুধু সেটা টের পাওয়া যায় অনেক পরে।

এই লেখাটা সেই ক্রমটাকে সোজা করে সাজানো: টাকার হিসাব আগে, ক্যালেন্ডার তারপর, তারপর যোগ্যতা, ইংরেজি, পরীক্ষা, কাগজ আর ভিসা — যে ক্রমে জিনিসগুলো আসলে কামড় বসায়।

কেন মাস্টার্সে হিসাবটা স্কলারশিপ দিয়েই শুরু হয়

দুটো পথের অঙ্ক পাশাপাশি রাখলে ব্যাপারটা তর্কের বিষয় থাকে না।

এক বছরেStipendium Hungaricum-এসেলফ-ফান্ডেডে
টিউশনসম্পূর্ণ মওকুফপাবলিক প্রোগ্রামে €০–৫,০০০
থাকা-খাওয়াফ্রি ডর্ম বা আবাসন ভাতা, সঙ্গে মাসে প্রায় €১১০ স্টাইপেন্ডমাসে €৪০০–৬০০, পুরোটাই আপনার
স্বাস্থ্যবীমাঅন্তর্ভুক্তশেনজেন কভারেজ €৩০,০০০ আলাদা কিনতে হয়
ভিসার জন্য ফান্ডের প্রমাণকম, তবে শূন্য নয়বছরে প্রায় €৬,০০০, বাস্তবে €৬,০০০–৮,০০০
যে তারিখটা বাঁধেজানুয়ারির মাঝামাঝি, সেপ্টেম্বরে শুরুর জন্যইউনিভার্সিটির নিজের তারিখ, প্রায়ই বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের শুরু

স্টাইপেন্ডের অঙ্কটা খেয়াল করুন: মাসে প্রায় €১১০, আর মাসিক খরচ €৪০০–৬০০। স্কলারশিপ টিউশনটা পুরো তুলে নেয়, মাসের খরচটা পুরো নয় — ডর্ম বা আবাসন ভাতা বড় অংশটা ঢাকে, বাকিটা পরিবারের। যাঁরা "ফুল স্কলারশিপ মানে বাড়ি থেকে এক টাকাও লাগবে না" ধরে নিয়ে যান, তাঁরা প্রথম সেমিস্টারেই হোঁচট খান। সুবিধাগুলোর পুরো তালিকা ও আবেদনের কাঠামো আছে Stipendium Hungaricum পূর্ণ গাইড লেখায়।

আর প্রতিযোগিতা নিয়ে একটা সৎ কথা। কোনো কর্তৃপক্ষ স্তরভিত্তিক সাফল্যের হার প্রকাশ করে না — তাই কেউ আপনাকে "মাস্টার্সে সিলেকশন রেট এত শতাংশ" বললে সেটি বানানো, এবং আমরাও দেব না। যেটা কাঠামোগতভাবে সত্যি: মাস্টার্সের মাঠে সবাই ইতিমধ্যেই একটি সম্পূর্ণ ডিগ্রি হাতে নিয়ে দাঁড়ান। HSC-র রেজাল্ট দিয়ে আর আলাদা হওয়া যায় না; আলাদা করে ট্রান্সক্রিপ্ট, বিষয়ের মিল, মোটিভেশন লেটার আর ভর্তি পরীক্ষা। প্রস্তুতির ধরনটাই বদলে যায়, আর নিচের প্রতিটি ধাপ সেই বদলটা ধরে লেখা।

ঘড়িটা যেভাবে চলে

হাঙ্গেরিতে একসাথে কয়েকটা ঘড়ি চলে, আর মাস্টার্সের আবেদনকারীর জন্য তাদের ক্রমটা এরকম।

কখনকী ঘটেআপনার কাজ
আগের বছরের সেপ্টেম্বরঅফিশিয়াল পোর্টালে Call for Applications ওঠেপোর্টাল খুলে দেখুন — "প্রস্তুত হয়ে" নয়, ওই মাসেই
অক্টোবর–ডিসেম্বরকাগজ ও ইংরেজিসত্যায়ন শুরু, IELTS বুক করে দিয়ে স্কোর হাতে নেওয়া
জানুয়ারির মাঝামাঝিস্কলারশিপের আবেদন বন্ধদুটো আবেদনই জমা — নিচে দেখুন
ফেব্রুয়ারিবাংলাদেশ দিক থেকে নমিনেশননোটিশ ও তারিখ মিলিয়ে রাখা
মার্চ–মেভর্তি পরীক্ষা ও ইন্টারভিউবিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শান্ত ঘর, স্থিতিশীল ইন্টারনেট
জুন–জুলাইফলাফলএদিকে ভিসা ফাইল ইতিমধ্যেই গোছানো থাকা উচিত
জুনের মধ্যেভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট ফাইল জমা৪–৬ সপ্তাহ ধরুন, জুলাই-আগস্টে আরও বেশি
সেপ্টেম্বরক্লাস শুরু

সারিগুলোর দিকে একবার তাকালেই দেখা যায় কোথায় ফাঁদ। ফলাফল আসে জুন–জুলাইয়ে, অথচ ভিসা ফাইল জুনের মধ্যে জমা দেওয়া ভালো। দুটো ঘড়ি গায়ে গায়ে চলে, তাই স্কলারশিপের ফলাফলের অপেক্ষায় কাগজ গোছানো থামিয়ে রাখলে আপনি নিজের হাতেই নিজের সেপ্টেম্বরটা ঝুঁকিতে ফেলেন। তারিখের পুরো ব্যাখ্যা আছে হাঙ্গেরির ইনটেক ও ডেডলাইন লেখায়, আর নয় দেশের সাধারণ ছবি ইউরোপে মাস্টার্স আবেদনের টাইমলাইন লেখায়।

জানুয়ারি মিস হয়ে গেলে হাঙ্গেরি বন্ধ হয়ে যায় না — সেলফ-ফান্ডেড ভর্তি তখনও মাসের পর মাস খোলা থাকে, কারণ তারিখ ঠিক করে প্রতিটি ইউনিভার্সিটি নিজে, প্রায়ই DreamApply নামের অ্যাডমিশন সফটওয়্যারে, রোলিং ভিত্তিতে (DreamApply দিয়ে আবেদন)। আপনি হারিয়েছেন ফান্ডিং, ইনটেক নয়। আর Stipendium-এর বাইরেও টাকা আছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে প্রায় কখনোই বিজ্ঞাপিত হয় না (হাঙ্গেরিতে ইউনিভার্সিটির নিজস্ব বৃত্তি)।

দুটি আবেদন, একটাই বছর

Stipendium-এর যে জায়গাটায় ভালো প্রার্থীরাও আটকান, সেটা যোগ্যতা নয় — গঠন।

এটা একটা নয়, দুটো আবেদন। একটা Tempus Public Foundation-এর নিজস্ব পোর্টালে, আর সমান্তরালে বাংলাদেশ প্রান্তে sending partner-এর কাছে নমিনেশন আবেদন, যার নিজস্ব তারিখ থাকে এবং অতীতে হার্ডকপিও লেগেছে। শুধু অনলাইন অর্ধেকটা জমা দিয়ে অপেক্ষা করা মানে পুরো একটা বছর হারানো — সম্পূর্ণ অকারণে, কারণ কাজটা কঠিন নয়, শুধু অজানা।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও প্রক্রিয়া বদলাতে পারে, তাই প্রতি চক্রে অফিশিয়াল পোর্টাল ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ — দুটো থেকেই বর্তমান নিয়ম মিলিয়ে নিন। বাকি যে ভুলগুলোতে আবেদন বাতিল হয়, সেগুলো এক জায়গায় আছে Stipendium কেন বাতিল হয় লেখায়; আর বিজ্ঞাপনের ভাষা পড়তে শেখার জন্য ফুল বনাম পার্শিয়াল স্কলারশিপ

মোটিভেশন লেটারটা এখানে আলাদা ওজন বহন করে, কারণ মাস্টার্সে এটাই আপনার ব্যাচেলরের সঙ্গে প্রোগ্রামের সংযোগটা তৈরি করে। কীভাবে লিখতে হয় তা বৃত্তির মোটিভেশন লেটারSOP আর মোটিভেশন লেটারের পার্থক্য লেখায়, আর রেফারির কাছে কী চাইতে হয় তা রেকমেন্ডেশন লেটার লেখায়।

যোগ্যতা মাপা হয় ক্রেডিটে, বছরে নয়

মাস্টার্সে প্রশ্নটা কত বছর পড়েছেন তা নয়, কত পড়াশোনা হয়েছে তা — অর্থাৎ ECTS ক্রেডিট

বাংলাদেশের চার বছরের অনার্স প্রায় ২৪০ ECTS, আর ইউরোপের প্রায় সব মাস্টার্স চায় কমপক্ষে ১৮০। তাই চার বছরের অনার্স কেবল গ্রহণযোগ্য নয়, এটি সুবিধা। সমস্যার কেস তিন বছরের পাস ডিগ্রি, প্রায় ১৮০ ECTS — কাগজে শর্ত মেটে, বাস্তবে মূল্যায়নকারীরা পাস ডিগ্রিকে অনার্সের নিচে বসান, আর ফাইলটা কারণ না জানিয়েই বাদ পড়ে। সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান বেশিরভাগ মানুষের হাতেই আছে: ওপরে বাংলাদেশের এক বছরের মাস্টার্স, যা মোট ক্রেডিট আরামসে তুলে দেয় (৩ বছর বনাম ৪ বছরের ব্যাচেলর, দ্বিতীয় ব্যাচেলর নাকি মাস্টার্স)।

এখানে একটা কাজ আছে যা আবেদন ফি দেওয়ার আগেই সেরে ফেলা উচিত: নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন তারা ১৮০ ECTS নেয় কি না। উত্তরটা ইউনিভার্সিটির সাধারণ পাতায় থাকে না, আর ডিপার্টমেন্ট ভেদে আলাদা হয়।

গ্রেডের বেলায় বাংলাদেশি CGPA থেকে ইউরোপীয় গ্রেডে কোনো সরকারি সর্বজনীন রূপান্তর নেই, তাই কেউ নিখুঁত রূপান্তর দেখালে সেটিকে সতর্কসংকেত ধরুন। আমাদের নয় দেশে কার্যকর নিয়ম: ৩.০/৪.০ প্রচলিত সীমা, ৩.৫ বা তার বেশি স্কলারশিপে প্রতিযোগিতামূলক, ২.৫–৩.০ মানে প্রোগ্রাম বেছে নিতে হবে সাবধানে, পরিকল্পনা বাতিল নয় (CGPA থেকে ইউরোপীয় গ্রেড, কম CGPA-তে বাস্তব অপশন)। মাস্টার্সে এর পাশে বিষয়ের মিল প্রায় সমান ওজন বহন করে — ডিপার্টমেন্ট দেখে আপনার ব্যাচেলরের কোর্সগুলো তাদের প্রোগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে কি না।

ইংরেজি: মাস্টার্সে ৬.০, কখনও ৬.৫

হাঙ্গেরির কোনো জাতীয় ব্যান্ড নেই, কারণ কোনো কর্তৃপক্ষ সেটি প্রকাশই করেনি। আমরা যেসব প্রোগ্রামে কাজ করি, সেখানে মাস্টার্সে সাধারণত ৬.০ ওভারঅল, কখনও ৬.৫ (ব্যাচেলরে ৫.৫, কখনও ৫.০)। এটাকে পরিকল্পনার মেঝে ধরুন, প্রতিশ্রুতি নয় — আর বাধ্যতামূলক সংখ্যাটি সবসময় নির্দিষ্ট কোর্সের নিজের পাতায় (দেশভিত্তিক IELTS টেবিল)।

বিকল্পের ব্যাপারে হাঙ্গেরি বরং অস্বাভাবিক রকম খোলা। কিছু প্রোগ্রাম MOI চিঠি নেয়, আর অনেক প্রোগ্রাম সার্টিফিকেট না চেয়ে নিজেরাই ইংরেজি টেস্ট বা অনলাইন ইন্টারভিউ নেয় (IELTS ছাড়া হাঙ্গেরি, MOI সার্টিফিকেট কীভাবে নেবেন, কে MOI নেয়, কে নেয় না)। দরজাটা সত্যি, কিন্তু দরজাটা খোলে ডিপার্টমেন্ট — দেশ নয়।

ভর্তি পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ — মাস্টার্সেও

হাঙ্গেরিতে ভর্তি পরীক্ষা স্বাভাবিক ব্যাপার, আর এটাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক। অনেক প্রোগ্রাম — বিশেষ করে Stipendium Hungaricum — ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে লিখিত বা অনলাইন টেস্ট, ইন্টারভিউ, কিংবা দুটোই নেয়। মেডিকেল ও টেকনিক্যাল ফ্যাকাল্টিগুলো এ ব্যাপারে সবচেয়ে ধারাবাহিক।

মাস্টার্সে পার্থক্যটা প্রশ্নের ধরনে। ব্যাচেলরে পরীক্ষাটা সাধারণ বিষয়ের ওপর; মাস্টার্সে প্রশ্ন আসে আপনার নিজের ব্যাচেলরের বিষয় থেকে, আর সেটাই ঠিক সেই জায়গা যেখানে দুই-তিন বছরের গ্যাপ টের পাওয়া যায়। যিনি ২০২২ সালে পড়া শেষ করে এখন আবেদন করছেন, তাঁর জন্য এটি স্মৃতির পরীক্ষা নয়, পুনরায় পড়ার কাজ।

তিনটি জিনিস মনে রাখলে এই ধাপটা আর অন্ধকার থাকে না।

  1. 1পরীক্ষাটা ফ্যাকাল্টির নিজের, কোনো জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নয় — তাই একটাই তারিখ নেই, একটাই সিলেবাস নেই, আর একটা স্কোর অন্য ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া যায় না।
  2. 2ফরম্যাটটা ডিপার্টমেন্টের কাছেই চেয়ে নিন, শর্টলিস্ট করার দিনই। আমরা এখানে কোনো বিষয়তালিকা, পাস মার্ক বা পরীক্ষার তারিখ ছাপছি না — ওগুলো প্রোগ্রাম ও বছরভেদে আলাদা, আর বানানো তথ্য না-থাকার চেয়েও খারাপ।
  3. 3অনলাইন হলে সেটিও একটি পরীক্ষা। শান্ত ঘর, স্থিতিশীল ইন্টারনেট আর নির্দিষ্ট সময়টুকু আগেই হিসাবে ধরে রাখুন (স্কলারশিপ ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি)।

কোন প্রতিষ্ঠান কীসে শক্ত, আর কোন ফ্যাকাল্টি পরীক্ষা নেয় — সেই যাচাইটা শুরু করার জায়গা হাঙ্গেরির কোন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা যুক্তিযুক্ত, আর আলাদা গাইড আছে ডেব্রেৎসেন, সেগেদ, পেচBME বুদাপেস্ট নিয়ে।

কাগজ: যে ধাপটা সত্যিই সহজ হয়ে গেছে

বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, যা কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, আর হাঙ্গেরি অ্যাপোস্টিল মানে। পুরনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের লম্বা চেইনের জায়গায় এখন একটিই সনদ। কথাটা আলাদা করে বলার কারণ আছে: আমাদের নয় দেশের মধ্যে ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ড Article 12-এর অধীনে আপত্তি জানিয়েছে, তাই ওই তিন দেশে অ্যাপোস্টিল কাজে লাগে না (কোন দেশ মানে, কোনটা মানে না)।

ক্রমটা তবু মানতেই হবে, আর একটা ধাপ বাদ পড়লে ফাইল ফেরত আসে: মূল কাগজ তোলা → শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন → সত্যায়ন → অ্যাপোস্টিল → সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন (ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট তোলা, বোর্ড ভেরিফিকেশন আগে, সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিলের ক্রম, ঢাকায় সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন)। সত্যায়ন, অনুবাদ ও লিগ্যালাইজেশন মিলিয়ে খরচ মোটামুটি ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা, আর ইউরোপে কুরিয়ার ৪,০০০–৯,০০০ টাকা

মাস্টার্সের একটা বাড়তি কাজ আছে: ব্যাচেলরের ট্রান্সক্রিপ্টের সঙ্গে কোর্স ডেসক্রিপশন বা সিলেবাস প্রায়ই চাওয়া হয়, কারণ ডিপার্টমেন্টকে বিষয়ের মিল যাচাই করতে হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলতে সময় লাগে, আর জানুয়ারি লক্ষ্য হলে অক্টোবরেই নড়া শুরু করা উচিত। ভর্তি ও পারমিটের পাঁচটি ধাপ একসঙ্গে দেখতে চাইলে হাঙ্গেরিতে ভর্তি ও রেসিডেন্স পারমিটের শর্ত

টাকা, ভিসা আর রেসিডেন্স পারমিট

সেলফ-ফান্ডেডে বছরের অঙ্কগুলো ওপরের টেবিলে আছে; তার সঙ্গে যোগ হয় ইউনিভার্সিটির আবেদন ফি €১০০–১৫০ প্রতি আবেদনে, টাইপ D ভিসা ফি ও VFS চার্জ মিলিয়ে প্রায় €১১০, আর শেনজেন হেলথ ইনস্যুরেন্স €৩০,০০০ কভারেজসহ। পুরো হিসাব হাঙ্গেরিতে মোট কত টাকা লাগেপড়া কি আসলে ফ্রি লেখায়, আর শহরভেদে খরচের পার্থক্য বুদাপেস্টের খরচ লেখায়।

ফান্ডের প্রমাণ আলাদা হিসাব, আর এটি ফি নয় — জমা দিতে হয় না, খরচও হয়ে যায় না। কাজের সংখ্যা বছরে প্রায় €৬,০০০ (মাসে প্রায় HUF ২,০০,০০০, অর্থাৎ প্রায় €৫০০), বাস্তবে পরিবারগুলোকে দেখাতে হয় €৬,০০০–৮,০০০, আর ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না। সৎ শর্তটা হলো, OIF কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করে না — তারা "পর্যাপ্ত সামর্থ্য" যাচাই করে, তাই বেশি দেখানোই নিরাপদ (হাঙ্গেরিতে ফান্ডের প্রমাণ)।

ফাইলটা জমা হয় ঢাকার VFS Global কেন্দ্রে — ভারত যেতে হয় না — কিন্তু সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয় নয়াদিল্লিতে, বাংলাদেশের জন্য দায়ী মিশনে, আর রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে রায় দেয় OIF (ঢাকা থেকে হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসা, ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট)। সময় নিয়ে কেউ নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা দিতে পারে না; যেটা আইন, সেটা হলো একটি সম্পূর্ণ আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিনে, আর সেই ঘড়ি চালু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, জমা দেওয়ার দিন থেকে নয় (কত সময় লাগে)। মাস্টার্সের ফাইলে যে ভুলগুলো বেশি হয় সেগুলো আগে দেখে নেওয়া সস্তা (হাঙ্গেরির ভিসা কেন বাতিল হয়)।

কাজ, পড়া শেষে, আর PR

ছাত্র রেসিডেন্স পারমিটে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ আছে — এটুকু প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সপ্তাহে ঠিক কত ঘণ্টা, সেই সংখ্যাটি আমরা লিখছি না, আর কেন লিখছি না সেটাই এখানে দরকারি অংশ: ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে হাঙ্গেরিতে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর, আর অনলাইনে ঘুরতে থাকা সংখ্যাগুলোর বেশিরভাগ পুরোনো আইনের। সীমাটি আপনার পারমিটের শর্ত, তাই ভুল সংখ্যায় ভরসা করলে ঝুঁকিতে পড়ে আপনার থাকার অনুমতি। আপনার কেসের উত্তর দেয় OIF ও ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক দপ্তর — লিখিতভাবে নিয়ে রাখুন (হাঙ্গেরিতে কাজের নিয়ম)।

মাস্টার্সে একটা বাস্তব সুবিধা আছে, যা ব্যাচেলরে নেই: ল্যাব বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ, আর নিজের বিষয়ের ইন্টার্নশিপ। বাইরের বাজারে বাধা আইন নয়, ভাষা — গ্রাহকের মুখোমুখি প্রায় প্রতিটি কাজে হাঙ্গেরিয়ান চাওয়া হয় (কাজ খোঁজার বাস্তব চিত্র, কাজ ও করের হিসাব)।

গ্র্যাজুয়েশনের পর ৯ মাসের জব-সিকিং রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার সুযোগ আছে — কাজ খোঁজার সময়, কাজের নিশ্চয়তা নয়। আর যেটা টাকা খরচ করার আগে জেনে রাখা উচিত: ন্যাশনাল PR-এর তিন বছরের হিসাবে স্টুডেন্ট বছর গোনাই হয় না, আর EU দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্বের হিসাবে স্টাডি বছর গোনা হয় অর্ধেক (পড়া শেষে থাকার পথ)। এখানে রিটার্নটা ডিগ্রি, পাসপোর্ট নয়। আর কেউ যদি "পড়তে গিয়ে পরে কাজের ভিসা করিয়ে দেব" বলে টাকা চায়, সেটা কীভাবে চেনা যায় তা এই লেখায়

হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স কার জন্য ভুল

  • যাঁর পরিকল্পনা গিয়ে কাজ করে টিউশন তোলা — ওপরের অঙ্কগুলো সেভাবে মেলে না, আর হাঙ্গেরির জন্য ঘণ্টার নির্ভরযোগ্য সংখ্যাটাই প্রকাশিত নেই।
  • যাঁর আসল লক্ষ্য দ্রুত স্থায়ী বসবাস — PR-এর হিসাব ওপরে দেওয়া আছে, আর সেটি ধীর পথ।
  • যিনি ভর্তি পরীক্ষা বা লাইভ ইন্টারভিউ নির্ভরযোগ্যভাবে দিতে পারবেন না — যেসব প্রোগ্রাম এটি নেয়, সেখানে এটি ঐচ্ছিক নয়।
  • যিনি এপ্রিলে এসে সেপ্টেম্বরেই স্কলারশিপসহ যেতে চান — ওই চক্রের স্কলারশিপ জানুয়ারিতেই বন্ধ হয়ে গেছে; সেলফ-ফান্ডেড পথটা তখনও খোলা, দুটো এক জিনিস নয়।

হাঙ্গেরির সঙ্গে আর কোন দেশ মেলালে সিদ্ধান্তটা সহজ হয়, তা দেখতে ইতালি বনাম হাঙ্গেরিহাঙ্গেরি আসলে কীসের জন্য ভালো; ইতালিতে একই সিদ্ধান্তটা কেমন দেখায় তা ইতালিতে মাস্টার্স

এরপর কী করবেন

  1. 1আপনি যে বছর যেতে চান, তার আগের বছরের সেপ্টেম্বরে অফিশিয়াল পোর্টালটা খুলে দেখুন — প্রস্তুত হয়ে নয়, ওই মাসেই।
  2. 2দুটো প্রশ্ন আজই ইমেইলে পাঠান: ডিপার্টমেন্ট ১৮০ ECTS নেয় কি না, আর তাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফরম্যাট কী।
  3. 3কাগজের চেইনটা শুরু করুন — বোর্ড ভেরিফিকেশন থেকে, কারণ এটাই একমাত্র ধাপ যেটা টাকা দিয়ে দ্রুত করা যায় না (হাঙ্গেরির দেশ-গাইড)।

সাধারণ প্রশ্ন

হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স করতে হলে সবার আগে কোন তারিখটা ধরতে হবে?+

Stipendium Hungaricum-এর আবেদনের তারিখ, যা সাধারণত জানুয়ারির মাঝামাঝি বন্ধ হয় — আর সেই চক্রের ক্লাস শুরু তার পরের সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ ডেডলাইন আর প্রথম ক্লাসের মাঝে প্রায় আট মাসের ফাঁক। সেলফ-ফান্ডেড ভর্তির তারিখ এর অনেক পরে, কারণ সেটি ঠিক করে প্রতিটি ইউনিভার্সিটি নিজে। তাই আপনি যদি স্কলারশিপ চান, আপনার আসল ডেডলাইন জানুয়ারি; আর যদি না চান, হাঙ্গেরির ক্যালেন্ডার আপনার জন্য অনেক বেশি নমনীয়। পরের চক্রের নির্দিষ্ট তারিখ প্রতি বছর সামান্য বদলায়, তাই অফিশিয়াল Call for Applications থেকেই যাচাই করুন।

মাস্টার্স পর্যায়ে Stipendium Hungaricum-এ কী কী পাওয়া যায়?+

টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ, মাসে প্রায় €১১০ স্টাইপেন্ড (ব্যাচেলর ও মাস্টার্স স্তরে একই), ফ্রি ডর্ম বা মাসিক আবাসন ভাতা, আর স্বাস্থ্যবীমা। PhD স্তরে স্টাইপেন্ডের অঙ্ক আলাদা। বাস্তবে হিসাবটা এমন দাঁড়ায় — সেলফ-ফান্ডেডে আপনাকে টিউশনের জন্য বছরে €০–৫,০০০ আর থাকা-খাওয়ার জন্য মাসে €৪০০–৬০০ গুনতে হতো; স্কলারশিপ টিউশনটা পুরো তুলে নেয় আর থাকার খরচের একটা অংশ ঢাকে। স্টাইপেন্ড মাসিক খরচের পুরোটা চালায় না, তাই স্কলারশিপ পেলেও পরিবারের কিছু সহায়তা ধরে রাখুন।

শুনেছি মাস্টার্সে Stipendium-এর প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি — কথাটা কি সত্যি?+

কোনো কর্তৃপক্ষ স্তরভিত্তিক সাফল্যের হার প্রকাশ করে না, তাই কেউ আপনাকে নির্দিষ্ট শতাংশ বললে সেটি বানানো — আমরাও দেব না। যেটা কাঠামোগতভাবে সত্যি: মাস্টার্সের মাঠে সবাই ইতিমধ্যেই একটি সম্পূর্ণ ডিগ্রি হাতে নিয়ে দাঁড়ান, অর্থাৎ পার্থক্য তৈরি হয় ট্রান্সক্রিপ্ট, বিষয়ের মিল, মোটিভেশন লেটার আর ভর্তি পরীক্ষায় — HSC-র রেজাল্টে নয়। ফলে প্রস্তুতির ধরনটাই বদলে যায়, আর সেটাই এই লেখার মূল বিষয়।

তিন বছরের পাস ডিগ্রি দিয়ে কি হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স করা যাবে?+

কখনও যায়, তবে এটিকে প্রথম যাচাইয়ের বিষয় ধরুন, শেষ নয়। বাংলাদেশের তিন বছরের ব্যাচেলর প্রায় ১৮০ ECTS — ইউরোপীয় মাস্টার্সের একেবারে ন্যূনতম; চার বছরের অনার্স প্রায় ২৪০ ECTS, যা প্রায় সব জায়গায় চলে। সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান বেশিরভাগ মানুষের হাতেই আছে: ওপরে বাংলাদেশের এক বছরের মাস্টার্স, যা মোট ক্রেডিট আরামসে তুলে দেয় এবং তর্কটা শুরুর আগেই মিটিয়ে দেয়। আবেদন ফি দেওয়ার আগেই নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন তারা ১৮০ ECTS নেয় কি না।

মাস্টার্সে IELTS কত লাগে?+

হাঙ্গেরির কোনো জাতীয় ব্যান্ড নেই, কারণ কোনো কর্তৃপক্ষ সেটি প্রকাশই করেনি। আমরা যেসব প্রোগ্রামে কাজ করি, সেখানে মাস্টার্সে সাধারণত ৬.০ ওভারঅল, কখনও ৬.৫ দেখা যায় (ব্যাচেলরে ৫.৫, কখনও ৫.০)। বাধ্যতামূলক সংখ্যাটি লেখা থাকে নির্দিষ্ট কোর্সের নিজের পাতায়, আর ডিপার্টমেন্ট ইউনিভার্সিটির সাধারণ পাতার চেয়ে বেশিও চাইতে পারে। কিছু প্রোগ্রাম MOI চিঠি নেয়, আর অনেক প্রোগ্রাম সার্টিফিকেটের বদলে নিজেরাই ইংরেজি টেস্ট বা অনলাইন ইন্টারভিউ নেয়।

মাস্টার্সেও কি ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়?+

হ্যাঁ, আর বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় চমক। হাঙ্গেরিতে ভর্তি পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ স্বাভাবিক ব্যাপার, আর মাস্টার্সে সেটি আরও লক্ষ্য করার মতো, কারণ প্রশ্নগুলো তখন আপনার নিজের ব্যাচেলরের বিষয় থেকেই আসে। পরীক্ষাটা ফ্যাকাল্টির নিজের, কোনো জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নয় — তাই একটাই তারিখ নেই, একটাই সিলেবাস নেই, আর একটা স্কোর অন্য ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া যায় না। শর্টলিস্ট করার দিনই ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত ফরম্যাটটা চেয়ে নিন।

স্কলারশিপ না পেলে সেলফ-ফান্ডেডে মাস্টার্সে বছরে কত টাকা লাগবে?+

পাবলিক প্রোগ্রামে টিউশন বছরে €০–৫,০০০ আর থাকা-খাওয়া মাসে €৪০০–৬০০ — এটি জাতীয় ব্যান্ড, আর আপনি বুদাপেস্টে থাকবেন নাকি মফস্বলের ইউনিভার্সিটি শহরে, সেটাই ঠিক করে আপনি ব্যান্ডের কোন প্রান্তে থাকবেন। এর সঙ্গে যোগ হয় ইউনিভার্সিটির আবেদন ফি €১০০–১৫০ প্রতি আবেদনে, টাইপ D ভিসা ফি ও VFS চার্জ মিলিয়ে প্রায় €১১০, আর শেনজেন হেলথ ইনস্যুরেন্স €৩০,০০০ কভারেজসহ। ফান্ডের প্রমাণ আলাদা হিসাব — ওটা খরচ নয়, শুধু দেখাতে হয়।

ফান্ডের প্রমাণ হিসেবে কত দেখাতে হবে, আর ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে?+

ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না। আমাদের কান্ট্রি গাইডের কাজের সংখ্যা সেলফ-ফান্ডেডে বছরে প্রায় €৬,০০০ — মাসে প্রায় HUF ২,০০,০০০, অর্থাৎ প্রায় €৫০০ — আর বাস্তবে পরিবারগুলোকে প্রায় €৬,০০০–৮,০০০-এর প্রমাণ দিতে হয়। এখানে একটি সৎ শর্ত আছে: হাঙ্গেরির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ (OIF) কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করে না, তারা শুধু যাচাই করে আপনি থাকা-খাওয়া, ফেরার টিকিট ও চিকিৎসার খরচ বৈধ আয় থেকে চালাতে পারবেন কি না। তাই বেশি দেখানোই নিরাপদ, আর প্রতিটি € অঙ্ক ফোরিন্ট থেকে আনুমানিক রূপান্তর।

স্কলারশিপ পেলে কি আর ফান্ডের প্রমাণ লাগে না?+

কম লাগে, কিন্তু ফাইলটা তৈরি করতে হয় ধরে নিয়ে যে আপনাকে নিজের খরচের কিছুটা দেখাতেই হবে। স্কলারশিপের চিঠি টিউশন ও একটি নির্দিষ্ট মাসিক অঙ্কের প্রমাণ — এর বাইরের খরচটা আপনার। আর যে ভুলটা প্রতি বছর হয়: স্কলারশিপের ফলাফল আসে জুন–জুলাইয়ে, অথচ সেপ্টেম্বরের ক্লাসের জন্য ভিসা ফাইল জুনের মধ্যে জমা দেওয়া ভালো। তাই ফলাফলের অপেক্ষায় কাগজ গোছানো থামিয়ে রাখবেন না — দুটো ঘড়ি প্রায় গায়ে গায়ে চলে।

মাস্টার্স করতে করতে কত ঘণ্টা কাজ করা যাবে?+

ছাত্র রেসিডেন্স পারমিটে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ আছে — এটুকু প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সপ্তাহে ঠিক কত ঘণ্টা, সেই একক সংখ্যাটি আমরা লিখছি না, কারণ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে হাঙ্গেরিতে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর এবং অনলাইনে ঘুরতে থাকা সংখ্যাগুলোর বেশিরভাগ পুরোনো আইনের। কাজের ঘণ্টার সীমা আপনার পারমিটের শর্ত, তাই ভুল সংখ্যায় ভরসা করলে ঝুঁকিতে পড়ে আপনার থাকার অনুমতি। আপনার কেসের সঠিক উত্তর দেয় OIF এবং আপনার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক দপ্তর — লিখিতভাবে নিয়ে রাখুন।

পড়া শেষে হাঙ্গেরিতে থেকে যাওয়া যাবে কি?+

গ্র্যাজুয়েশনের পর ৯ মাসের জব-সিকিং রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার সুযোগ আছে — এটি কাজ খোঁজার সময়, কাজের নিশ্চয়তা নয়। আর যেটা আগে জেনে রাখা ভালো: ন্যাশনাল PR-এর তিন বছরের হিসাবে স্টুডেন্ট বছর গোনাই হয় না, আর EU দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্বের হিসাবে স্টাডি বছর গোনা হয় অর্ধেক। হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স চমৎকার শিক্ষাগত সিদ্ধান্ত, কিন্তু ধীর অভিবাসন-সিদ্ধান্ত — টাকা খরচ করার আগে কথাটা জেনে নেওয়াই ভালো।

ফেব্রুয়ারি ইনটেকে মাস্টার্স শুরু করা যায়?+

কিছু প্রোগ্রামে যায়, তবে বেশিরভাগ পাঠক যেভাবে আশা করেন সেভাবে নয়। হাঙ্গেরিতে ফেব্রুয়ারিতে শুরু করতে হলে আবেদন সাধারণত আগের বছরের সেপ্টেম্বর–নভেম্বরে — অর্থাৎ আপনি যে জানুয়ারির ডেডলাইনটা মিস করেছেন, তারও আগে। প্রোগ্রামের তালিকা সীমিত, আর স্কলারশিপ এই চক্রে চলে না। এটা পরের ডেডলাইন নয়, বরং পরে শুরু করার জন্য আগের ডেডলাইন।

গাইড ধাপ
দেশ ও ইউনিভার্সিটি বাছাই
এই বিষয়ের সব লেখা
দেশ বাছাই ও আবেদন

এই বিষয়ের ৭৭টি গাইড এক জায়গায়

#হাঙ্গেরি#মাস্টার্স#Stipendium Hungaricum#ECTS#ভর্তি পরীক্ষা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন