ভিসা

হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসা ঢাকা থেকে: কাউন্টার VFS-এ, সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লিতে — আর মাঝের ধাপটা কোনো ট্র্যাকারে দেখা যায় না

মোঃ সালাহউদ্দিন১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬9 মিনিট পড়াসর্বশেষ যাচাই: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাঙ্গেরির D-টাইপ স্টাডি ফাইল জমা হয় ঢাকার VFS Global-এ, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নয়াদিল্লিতে। আপনার যাত্রাটা বাঁচে, ফাইলের যাত্রাটা বাঁচে না — কে কোন ধাপে দায়ী, আর কোন ধাপটা কোনো ট্র্যাকার দেখায় না।

এক নজরে: হাঙ্গেরির D-টাইপ স্টাডি আবেদন জমা হয় ঢাকার VFS Global-এ — VFS তাদের নিজেদের সাইটেই নিজেদের Dhaka Office of the Embassy of Hungary in Bangladesh-এর অফিশিয়াল পার্টনার বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয় নয়াদিল্লিতে। অর্থাৎ আপনার যাত্রাটা বাঁচে, ফাইলের যাত্রাটা বাঁচে না — আর ঠিক সেই মাঝের ধাপটাই কোনো ট্র্যাকারে দেখা যায় না। ⚠️ সংশোধিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: এর আগে অনেক জায়গায় — আমাদের নিজেদের পুরোনো লেখাসহ — বলা ছিল আবেদন ইমেইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কনস্যুলার অফিসে সশরীরে জমা দিতে হয়। সেটি VFS চালুর আগের ব্যবস্থার বর্ণনা।

প্রশ্নটা কোথায় যাব নয়, প্রশ্নটা কে সিদ্ধান্ত নেয়

হাঙ্গেরিতে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতিতে প্রায় সবাই প্রথমে খোঁজে ঠিকানা — কোন ভবনে যেতে হবে, কোন তলায়। ঠিকানাটা দরকারি, কিন্তু সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রশ্নটি হলো ফাইলের সিদ্ধান্তটা কোন শহরে হয় — কারণ সেটি ঠিক করে দেয় আপনার সময়রেখা কেমন হবে, অপেক্ষার সময় কাকে কী জিজ্ঞাসা করা যাবে, আর একটা কাগজ কম পড়লে সেটা মেরামত করতে কত দিন লাগবে।

হাঙ্গেরি এই জায়গাটায় আমাদের নয়টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভুল-বোঝা দেশ, কারণ এর উত্তরটা এক শব্দে হয় না। কাউন্টার ঢাকায়, সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লিতে, আর পারমিটের চূড়ান্ত রায় হাঙ্গেরিতে। তিনটিই সত্যি, একসঙ্গে। যারা শুধু প্রথমটা শোনে তারা ভাবে পুরো কাজটা ঢাকার, আর যারা শুধু দ্বিতীয়টা শোনে তারা অকারণে ভারতীয় ভিসার খোঁজ শুরু করে।

কোন দেশের ফাইল কোথায় সিদ্ধান্ত হয় তার পুরো মানচিত্রটি আলাদা করে আছে কোন দেশের এম্বাসি ঢাকায়, কোনটা দিল্লিতে লেখায়, আর ঢাকায় যেসব দেশের মিশনই নেই তাদের তালিকা আছে এখানে

তিনটি জায়গা, তিনটি আলাদা কাজ

জায়গাকী করেযা করে না
Hungary Visa Application Centre (VFS Global), ঢাকাকাগজ গ্রহণ, বায়োমেট্রিক, ফি, পাসপোর্ট রাখা ও ফেরত দেওয়াসিদ্ধান্ত নেয় না, ফাইলের মান বিচার করে না, পরামর্শ দেয় না
Dhaka Office of the Embassy of Hungary in New Delhi, গুলশাননয়াদিল্লির দূতাবাসের ঢাকা শাখা; কনস্যুলার কাজ, কেবল অ্যাপয়েন্টমেন্টেস্টাডি ফাইলের জমা-কাউন্টার এটি নয়
Embassy of Hungary, নয়াদিল্লিবাংলাদেশের জন্য দায়ী মিশন; কনস্যুলার সিদ্ধান্ত এখান থেকেই আসেআপনাকে সেখানে যেতে বলে না
National Directorate-General for Aliens Policing (OIF), হাঙ্গেরিরেসিডেন্স পারমিট নিয়ে রায় দেয়বাংলাদেশে কোনো কাউন্টার চালায় না

ঠিকানা, সময়সূচি ও VFS-এর সেবা ফির অঙ্ক আলাদা করে লেখা আছে হাঙ্গেরির আবেদন রুট লেখায় — এই লেখাটি সেগুলোর পুনরাবৃত্তি নয়, এটি দায়িত্বের ভাগটা নিয়ে।

যেটা আর সত্যি নয়

এই বাজারে সবচেয়ে বেশি ঘুরে বেড়ানো ভুল তথ্যটি হলো: হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ফাইল গুলশানের কনস্যুলার অফিসে সশরীরে জমা দিতে হয়, আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় ইমেইল করে। এক সময় এটি সত্যি ছিল। এখন নয়। এখন D-টাইপ স্টাডি ফাইলের কাউন্টার VFS Global, এবং VFS নিজেই নিজেদের ওই অফিসের অফিশিয়াল পার্টনার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এটা নিছক খুঁটিনাটি নয়। পুরোনো বর্ণনা ধরে এগোলে মানুষ ভুল দরজায় গিয়ে একটা দিন হারায়, ভুল জায়গায় ইমেইল করে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করে, আর সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে ভাবে যে প্রক্রিয়াটা অনানুষ্ঠানিক — যে ভাবনা থেকেই মানুষ দালালের কথা বিশ্বাস করতে শুরু করে। যদি কোনো ওয়েবসাইট, পোস্ট বা পরামর্শদাতা আজও ইমেইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর কনস্যুলেটে জমার কথা বলে, ধরে নিন তার তথ্য পুরোনো, এবং বাকিটাও পুরোনো হতে পারে।

ধাপে ধাপে: কোন ধাপে কে দায়ী

ক্রমধাপদায়িত্ব কারআপনি কতটা নিয়ন্ত্রণ করেন
ভর্তি ও অফার লেটারআপনি ও বিশ্ববিদ্যালয়পুরোটাই
কাগজ সত্যায়ন, অনুবাদ, অ্যাপোস্টিলআপনি ও বাংলাদেশের দপ্তরগুলোপুরোটাই, এবং ক্রম ভুল হলে আবার করতে হয়
ফান্ড ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ গোছানোআপনিপুরোটাই
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়াআপনি, VFS-এর ক্যালেন্ডারেআংশিক — স্লট থাকা না-থাকা আপনার হাতে নয়
জমা, বায়োমেট্রিক, ফিঢাকার VFS কেন্দ্রফাইল সম্পূর্ণ ও সাজানো রাখা
পাসপোর্ট কেন্দ্রের হেফাজতেVFSকিছুই নয়, এবং এটাই স্বাভাবিক
ফাইল দায়ী মিশনের কাছে যাওয়াকুরিয়ার ও প্রশাসনকিছুই নয়, এবং এটি কোথাও দেখা যায় না
যাচাই ও অতিরিক্ত কাগজের অনুরোধমিশনদ্রুত ও নির্ভুল উত্তর
সিদ্ধান্তমিশন, নয়াদিল্লিকিছুই নয়
১০পাসপোর্ট কেন্দ্রে ফেরত, সংগ্রহকুরিয়ার, তারপর আপনিরসিদ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে নেওয়া
১১পৌঁছে রেসিডেন্স পারমিটের কাজআপনি, Enter Hungary-তেপুরোটাই

সাত নম্বর সারিটাই এই লেখার কারণ।

যে ধাপটা কেউ বর্ণনা করে না

ট্র্যাকিং ব্যবস্থাটি যা দেখায় তা মূলত কেন্দ্রের ঘটনা: ফাইল গ্রহণ হয়েছে, পাসপোর্ট ফিরে এসেছে, সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। এর মাঝখানে যে অংশটায় আপনার ফাইল দায়ী মিশনের কাছে পৌঁছে একজন কর্মকর্তার টেবিলে বসে আছে — সেই অংশটির কোনো ধারাবিবরণী কোথাও প্রকাশ হয় না। কোনো স্ট্যাটাস লাইন বলে না ফাইল রওনা দিয়েছে, বলে না পৌঁছেছে, বলে না পড়া শুরু হয়েছে।

ফলে প্রতিটি ব্যাচে একই দৃশ্য ঘটে: শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাতা রিফ্রেশ করে, কিছু বদলায় না, এবং সে ধরে নেয় ফাইল হারিয়ে গেছে বা আটকে গেছে। স্থিরতা এখানে সমস্যার লক্ষণ নয়, এটি ব্যবস্থাটির স্বাভাবিক চেহারা। জমা দেওয়ার পর ভেতরে ঠিক কী ঘটে তা ধাপে ধাপে লেখা আছে জমা দেওয়ার পর কী হয় লেখায়, আর স্ট্যাটাসের শব্দগুলো কীভাবে পড়তে হয় তা আছে ট্র্যাকিং গাইডে

এর একটা ব্যবহারিক ফলও আছে। কেন্দ্রকে ফোন করে জানা যাবে না ফাইল কেন ধীর — কারণ কেন্দ্রের কাছে একটি স্ট্যাটাস ঘর আছে, কর্মকর্তার নোট নেই। কাউন্টারের কর্মীরা কনস্যুলার কর্মকর্তা নন, এবং তাঁরা যখন বলেন জানি না, তখন কথাটা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি।

একটি নিয়ম অবশ্য আপনার পক্ষে আছে। ইউরোপীয় আইন একটি সম্পূর্ণ স্টুডেন্ট আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিন বেঁধে দিয়েছে। শব্দটি সম্পূর্ণ — ঘড়ি শুরু হয় ফাইল পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। তাই অতিরিক্ত কাগজের অনুরোধ এলে দেরি করে উত্তর দেওয়ার খরচ দ্বিগুণ: অপেক্ষা বাড়ে, আর ঘড়িও পিছিয়ে যায়।

জমার দিন, আর পাসপোর্টের কী হয়

কাউন্টারে যা ঘটে তা হলো একটি তালিকা মিলিয়ে দেখা — কাগজগুলো আছে কি না, কপি পড়া যায় কি না, ফর্মে সই আছে কি না, ছবির মাপ ঠিক কি না। এটি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিশ্বাসযোগ্য কি না তার বিচার নয়। কাউন্টার পেরোনো মানে একটি কেরানি-ধাপ পেরোনো, তার বেশি কিছু নয় — এই কথাটা দুই দিকেই খাটে, কারণ কাউন্টার থেকে ভালো অনুভূতি নিয়ে বেরোনো মানেও কিছু নয়।

পাসপোর্ট কেন্দ্রের কাছেই থেকে যায়, পুরো প্রক্রিয়াকাল জুড়ে, কারণ স্টিকারটি শারীরিকভাবে ওই পাসপোর্টেই বসাতে হয়। মানে ওই সময়ে অন্য কোথাও ভ্রমণ নয়, অন্য কোনো আবেদনও নয় যেখানে মূল পাসপোর্ট লাগে। বিস্তারিত আছে প্রক্রিয়াকালে পাসপোর্ট কোথায় থাকে লেখায়।

স্লট না পেলে

এটি হাঙ্গেরি রুটের সবচেয়ে সাধারণ বাস্তব সমস্যা, এবং ভালো খবর হলো এটি সমাধানযোগ্য। স্লট নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া হয় এবং বাতিলও হয়, তাই নিয়মিত দেখা সত্যিই কাজে দেয়; ইনটেকের ভিড়ের আগে অফার পাওয়ার দিন থেকেই দেখা শুরু করা তার চেয়েও কাজে দেয়। কী কী করা যায় তার পুরো তালিকা আছে স্লট না পাওয়ার লেখায়

যেটা কাজে দেয় না, এবং যেটা বলা দরকার: টাকার বিনিময়ে স্লট কেনা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বিক্রির জিনিস নয়, এবং যে বিক্রি করছে সে এমন কিছু বিক্রি করছে যা তার নিয়ন্ত্রণে নেই। একই যুক্তিতে, কেউ যদি সিদ্ধান্ত দ্রুত করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, মনে রাখুন সিদ্ধান্তটা যে শহরে হয় সেখানে তার কোনো হাত নেই।

ফি নিয়ে সৎ কথা

এই লেখায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ফির অঙ্ক নেই, এবং কারণটা বলে রাখা ভালো। ফি দুই জায়গা থেকে আসে। একটি মিশনের নিজস্ব ভিসা বা পদ্ধতিগত ফি, যা হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষ ঠিক করে। আরেকটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য VFS-এর সেবা ফি। কুরিয়ারে পাসপোর্ট ফেরত বা এসএমএস সতর্কতার মতো বাড়তি সেবাগুলো ঐচ্ছিক — সেগুলো না নিলেও আবেদন সমানভাবে চলে।

দুটোই বদলায়, এবং আলাদা সময়ে বদলায়। তাই চলতি অঙ্ক নেওয়ার একমাত্র নিরাপদ জায়গা VFS-এর বাংলাদেশ পাতা ও মিশনের নিজের পাতা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিজে কোনো ফির জিনিস নয় — কেউ স্লটের দাম চাইলে সেটি ব্যবস্থার কোনো ফি নয়। টাকা কীভাবে দেওয়া হয় ও রসিদ কেন সবচেয়ে দরকারি কাগজ, তা আছে ঢাকা থেকে ভিসা ফি দেওয়ার গাইডে

সিদ্ধান্ত দিল্লিতে, খরচ দিল্লির নয়

এই পার্থক্যটা টাকার অঙ্কে বড়, তাই আলাদা করে বলা দরকার। যেসব দেশের ফাইল দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হয় তাদের জন্য আমাদের হিসাবে বাংলাদেশ-অংশের খরচ ধরা হয় ৩–৫ লাখ টাকার ব্যান্ডে — কিন্তু ওই ব্যান্ডের ভেতরে ভারতীয় ভিসা, টিকিট আর সেখানে থাকার খরচ ঢোকানো আছে। হাঙ্গেরিতে সেই ভ্রমণটাই নেই, তাই বাংলাদেশ-অংশের খরচ এক দেশের সাধারণ ২–৪ লাখের ব্যান্ডেই থাকে।

মনে রাখার কথাটা হলো, এর কোনোটাই ফেরতযোগ্য নয়। সত্যায়ন, অনুবাদ ও লিগ্যালাইজেশনে ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা, কুরিয়ারে ৪,০০০–৯,০০০ টাকা, আর একমুখী টিকিটে ৭০,০০০–১,২০,০০০ টাকা — ভিসা না হলে এর কিছুই ফেরত আসে না। আর প্রুফ অব ফান্ডস এই তালিকার অংশ নয়; সেটি খরচ নয়, দেখানোর মতো টাকা, এবং সেটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে হাঙ্গেরির ফান্ড প্রমাণের গাইডে

এই রুটটা কার জন্য নয়

সব লেখা সবাইকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য নয়, তাই সোজা কথাটা বলি।

  • যে ভাবছে দিল্লির দূতাবাসে সরাসরি যোগাযোগ করলে কাজ দ্রুত হবে। হবে না। ব্যবস্থাটি ঢাকার কাউন্টার দিয়ে যায়; কাউন্টার এড়িয়ে যাওয়া মানে ফাইলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা।
  • যে ভাবছে পাসপোর্টের স্টিকারটাই চূড়ান্ত কাগজ। সেটি ঢোকার অনুমতি মাত্র; থাকার অধিকারটা আসে রেসিডেন্স পারমিট থেকে, যার কাজ হাঙ্গেরিতে পৌঁছে করতে হয়। পার্থক্যটা আছে টাইপ D বনাম শেংগেন C এবং প্রথম ৯০ দিন লেখায়।
  • যার কাগজের ভিত্তিটাই এখনও দাঁড়ায়নি। কাউন্টার ফাঁকা জায়গা ভরাট করে না। ভর্তির শর্ত এখানে, আর সত্যায়নের ক্রম এখানে — হাঙ্গেরি অ্যাপোস্টিল নেয়, কিন্তু যে দেশগুলো নেয় না তাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
  • যে সাফল্যের হারের অঙ্ক চায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। কোনো কর্তৃপক্ষ সেটি প্রকাশ করে না, আর যে সংখ্যা দেখায় সে বানিয়ে বলছে — কারণটা আছে এই লেখায়

এই সপ্তাহে যা করবেন

  1. 1অফার হাতে পাওয়ার দিনেই VFS-এর হাঙ্গেরি পাতায় অ্যাপয়েন্টমেন্টের অবস্থা দেখুন — স্লট আগে, বাকিটা পরে
  2. 2সত্যায়ন ও অনুবাদের কাজ এখনই শুরু করুন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার অপেক্ষায় নয় — এটাই সবচেয়ে বেশি সময় খায়
  3. 3ফান্ড ও স্বাস্থ্যবিমার কাগজ গুছিয়ে রাখুন; টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন এলে উত্তর যেন তৈরি থাকে — কীভাবে যাচাই হয় এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের শর্ত
  4. 4পুরো সময়রেখাটা একবার মিলিয়ে নিন অফার থেকে বোর্ডিং পাসহাঙ্গেরির ইনটেক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে
  5. 5এখনও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই বাকি থাকলে হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটি গাইড, DreamApply গাইডStipendium Hungaricum গাইড দেখে নিন

সৎ সারসংক্ষেপ

হাঙ্গেরি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রশাসনিকভাবে সহজ দিকেই পড়ে — কাউন্টার ঢাকায়, ভারতীয় ভিসা লাগে না, অ্যাপোস্টিল চলে, সেপ্টেম্বর ও ফেব্রুয়ারি দুটো ইনটেক আছে। কিন্তু সহজ মানে দ্রুত নয়। সিদ্ধান্তটা অন্য শহরে হয়, ফাইলটা সেখানে যায়, আর সেই যাত্রার কোনো ধারাবিবরণী কেউ প্রকাশ করে না। ওই নীরব সপ্তাহগুলোর একমাত্র প্রতিষেধক হলো কাউন্টারে যাওয়ার আগেই ফাইলটা সম্পূর্ণ করে ফেলা — কারণ ৯০ দিনের ঘড়ি তখনই চালু হয়, যখন আর কিছু চাওয়ার বাকি থাকে না।

পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে আছে হাঙ্গেরি স্টুডেন্ট ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট গাইডে, আর ইন্টারভিউ-ধাঁচের প্রশ্নগুলোর প্রস্তুতি আছে এম্বাসি ইন্টারভিউয়ের লেখায়

হাঙ্গেরির ফাইলটা কাউন্টারে যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ করি?

কোন কাগজ কোন ক্রমে, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে কোনগুলো শেষ হওয়া চাই।

সাধারণ প্রশ্ন

হাঙ্গেরির স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি দিল্লি যেতে হয়?+

না। D-টাইপ স্টাডি আবেদন জমা হয় ঢাকার VFS Global কেন্দ্রে — VFS তাদের নিজেদের সাইটেই নিজেদের Dhaka Office of the Embassy of Hungary in Bangladesh-এর অফিশিয়াল পার্টনার বলে উল্লেখ করেছে। সিদ্ধান্তটা নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে আপনাকে যেতে হয় না। ব্যবস্থা বদলায়, তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে অফিশিয়াল পাতায় মিলিয়ে নিন।

তাহলে সিদ্ধান্তটা আসলে কে নেয়?+

কাজটা ভাগ হয়ে আছে। ঢাকার VFS কেন্দ্র কাগজ ও বায়োমেট্রিক নেয়, ফি নেয়, পাসপোর্ট রাখে ও ফেরত দেয় — কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। কনস্যুলার সিদ্ধান্তটি আসে নয়াদিল্লির হাঙ্গেরিয়ান দূতাবাসের দিক থেকে, যেটি বাংলাদেশের জন্য দায়ী মিশন। আর রেসিডেন্স পারমিটটি নিয়ে রায় দেয় হাঙ্গেরির নিজস্ব অভিবাসন কর্তৃপক্ষ OIF।

আগে তো শুনেছিলাম গুলশানের কনস্যুলার অফিসে ইমেইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সশরীরে জমা দিতে হয় — সেটা কি ভুল?+

সেটি VFS চালু হওয়ার আগের ব্যবস্থা। এখন D-টাইপ স্টাডি ফাইলের কাউন্টার VFS Global। গুলশানের Dhaka Office অফিসটি আছে এবং কনস্যুলার কাজ করে, কিন্তু ভিসার ফাইলের জমা-কাউন্টার সেটি নয়। ইন্টারনেটে পুরোনো বর্ণনাটি এখনও অনেক জায়গায় রয়ে গেছে।

জমা দেওয়ার পর ট্র্যাকারে কিছুই নড়ছে না কেন?+

কারণ ট্র্যাকারটি কেন্দ্রের ধাপগুলো দেখায় — ফাইল গ্রহণ হয়েছে কি না, পাসপোর্ট ফিরে এসেছে কি না। মাঝের যে অংশটায় ফাইল দায়ী মিশনের কাছে পৌঁছে যাচাই হচ্ছে, সেটির কোনো ধারাবিবরণী কোথাও প্রকাশ হয় না। স্থিরতা মানে সমস্যা নয়; এটি ব্যবস্থাটির স্বাভাবিক চেহারা।

ফাইল পুরোপুরি জমা হওয়ার পর সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ কত সময় লাগতে পারে?+

ইউরোপীয় আইন (Directive 2016/801) একটি সম্পূর্ণ স্টুডেন্ট আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিন বেঁধে দিয়েছে। মূল শব্দটি সম্পূর্ণ — ঘড়ি শুরু হয় ফাইল পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হলে ঘড়ি কার্যত থেমে থাকে, তাই দেরি করে উত্তর দিলে অপেক্ষা দুইবার বাড়ে।

D-টাইপ ভিসা আর রেসিডেন্স পারমিট কি এক জিনিস?+

না, এবং এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি হয়। পাসপোর্টে যে স্টিকারটি বসে সেটি হাঙ্গেরিতে ঢোকার অনুমতি। থাকার অধিকার, পড়াশোনা ও কাজের শর্ত, নবায়ন — সবকিছু চলে রেসিডেন্স পারমিট কার্ডে, যেটির কাজ হাঙ্গেরিতে পৌঁছে Enter Hungary প্ল্যাটফর্মে হয়।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট না পেলে কী করব?+

এটি সমাধানযোগ্য সমস্যা, এবং আতঙ্কিত হওয়ার আগে করণীয় আছে। স্লট সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া হয়, বাতিলও হয়, তাই নিয়মিত দেখা কাজে দেয়। যেটি কাজে দেয় না তা হলো টাকার বিনিময়ে স্লট কেনা — অ্যাপয়েন্টমেন্ট বিক্রির জিনিস নয়, এবং যে বিক্রি করছে সে এমন কিছু বিক্রি করছে যা তার নিয়ন্ত্রণে নেই।

ফি কত?+

এই লেখায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অঙ্ক লেখা হয়নি, কারণ ফি দুই জায়গা থেকে আসে এবং দুটোই বদলায়। মিশনের নিজস্ব ভিসা বা পদ্ধতিগত ফি একটি, আর কেন্দ্র পরিচালনার জন্য VFS-এর সেবা ফি আরেকটি — কুরিয়ার বা এসএমএসের মতো বাড়তি সেবাগুলো ঐচ্ছিক। চলতি অঙ্ক দুটো VFS-এর বাংলাদেশ পাতা ও মিশনের নিজের পাতায় থাকে; সেখান থেকেই নিন।

সিদ্ধান্ত দিল্লিতে হয় মানে কি খরচ দিল্লি-রুটের দেশগুলোর মতো?+

না, এবং এই পার্থক্যটা টাকার অঙ্কে বড়। আমাদের খরচের হিসাবে দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হওয়া ফাইলের জন্য ৩–৫ লাখ টাকার ব্যান্ডটি ধরা হয় ভারতীয় ভিসা, টিকিট ও থাকার খরচ ধরে। হাঙ্গেরিতে সেই ভ্রমণটাই নেই, তাই বাংলাদেশ-অংশের খরচ এক দেশের সাধারণ ২–৪ লাখের ব্যান্ডেই থাকে।

কাগজে অ্যাপোস্টিল লাগবে না কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন?+

হাঙ্গেরি বাংলাদেশের অ্যাপোস্টিল গ্রহণ করে, তাই কাগজের শিকলটি ডেনমার্ক, গ্রিস বা ফিনল্যান্ডের তুলনায় ছোট — ওই তিনটি দেশ আপত্তি জানিয়েছিল বলে সেখানে পূর্ণ কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন লাগে। হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে ক্রমটা ঠিক রাখাই আসল কাজ, কারণ ভুল ক্রমে করলে পুরোটা আবার করতে হয়।

গাইড ধাপ
ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ
এই বিষয়ের সব লেখা
ভিসা ও এম্বাসি

এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়

#হাঙ্গেরি#VFS#নয়াদিল্লি#টাইপ D#ঢাকা
শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।

ফ্রি পরামর্শ নিন