মাল্টার ভিসায় আসলে কত দিন লাগে: সিদ্ধান্ত সময়মতো এলেও অক্টোবরে গিয়ে বাসা না পাওয়া খুব সম্ভব
মাল্টা কোনো প্রসেসিং সময় প্রকাশ করে না। যেটি বাঁধে সেটি EU-র ৯০ দিন, আর গণনা শুরু ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে — জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। আসল ডেডলাইন সিদ্ধান্তের নয়, অক্টোবরে পৌঁছে বাসা পাওয়ার।
এক নজরে: মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসার সিদ্ধান্তে ঠিক কত দিন লাগবে, মাল্টার কোনো কর্তৃপক্ষ তার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে না — তাই আমরাও কোনো সংখ্যা বানিয়ে দিই না। যেটি আইনগতভাবে বাঁধে সেটি EU ডিরেক্টিভ ২০১৬/৮০১-এর ৯০ দিন, আর সেই গণনা শুরু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে, কাউন্টারে জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। মাল্টায় আসল চাপটা অবশ্য সিদ্ধান্তের তারিখে নয়, পৌঁছানোর তারিখে: ক্লাস শুরু অক্টোবরে, ভাড়ার বাজার ঠিক তখনই সবচেয়ে চড়া, আর আপনি কোথায় থাকবেন তার প্রমাণ ফাইলেরই অংশ।
সরাসরি উত্তর
প্রশ্নটা সবাই একইভাবে করেন — "মাল্টার ভিসায় কত দিন লাগে?" — কিন্তু সৎ উত্তরটা একটি সংখ্যা নয়, একটি পদ্ধতি। তিনটি জিনিস মিলে সময়টা ঠিক করে:
- 1ঘড়ি কবে আইনত শুরু হয় — ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন, জমা দেওয়ার দিন নয়
- 2কর্তৃপক্ষ নিজে কী প্রকাশ করেছে — মাল্টার ক্ষেত্রে কোনো সেবা-মান বা প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়
- 3অতিরিক্ত কাগজ চাইলে আপনি কত দ্রুত উত্তর দেন — পুরো প্রক্রিয়ায় এটিই আপনার হাতে থাকা একমাত্র নিয়ন্ত্রণ
মাল্টা EU-র সদস্য, তাই ডিরেক্টিভ ২০১৬/৮০১ প্রযোজ্য: সম্পূর্ণ শিক্ষার্থী-আবেদনে সিদ্ধান্ত দিতে হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে। খেয়াল করুন শব্দ দুটি — "সর্বোচ্চ", আর "সম্পূর্ণ"। এটি গড় নয়, এবং এটি সেদিন থেকে শুরু হয় না যেদিন আপনি কাউন্টার থেকে রসিদ হাতে বের হয়ে আসেন।
ফাইলটা আসলে কার হাতে থাকে
মাল্টার রুটে একটি হাত-বদল বেশি, কারণ ঢাকায় মাল্টার কোনো দূতাবাস নেই। যে অফিস আপনার কাগজ নেয় সে সিদ্ধান্ত নেয় না — এটা বোঝা থাকলে অপেক্ষার সময় আপনি অন্তত ঠিক জায়গায় প্রশ্ন করবেন।
| ধাপ | ফাইল কার হেফাজতে | এই ধাপে আসলে কী হয় |
|---|---|---|
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ফি | আপনার নিজের | বুকিং, অনলাইনে ফি, কাগজ গোছানো |
| জমা ও বায়োমেট্রিক | ঢাকার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার | কাগজ গ্রহণ, স্ক্যান, রসিদ ও রেফারেন্স নম্বর — কোনো যাচাই নয় |
| মাল্টায় পাঠানো | সেন্টার ও কুরিয়ার | নিছক পরিবহন; এখানে সিদ্ধান্তের কিছুই ঘটে না |
| যাচাই ও সিদ্ধান্ত | Identità-র Central Visa Unit, মাল্টা | ফাইল সম্পূর্ণ কি না দেখা, দরকারে কাগজ চাওয়া, সিদ্ধান্ত |
| ফলাফল ও পাসপোর্ট ফেরত | সেন্টার | ভিসাসহ বা চিঠিসহ পাসপোর্ট হাতে ফেরত |
| e-Residence কার্ড | Identità, মাল্টায় | পৌঁছানোর পর আবেদন — আসল থাকার অনুমতি এটিই |
দুটি ব্যবহারিক ফল। প্রথমত, আপনার অপেক্ষা মাল্টার সারির ওপর নির্ভর করে, ঢাকার কেন্দ্র কত ব্যস্ত তার ওপর নয়। দ্বিতীয়ত, প্রশ্ন বা অনুসন্ধান করতে হলে সেন্টার নয়, Central Visa Unit-ই ঠিক জায়গা। কেন্দ্র, ফি ও কাউন্টারের নিয়ম নিয়ে পূর্ণ বিবরণ আছে মাল্টার রুট ঢাকা থেকে লেখায়, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনটি কেমন হয় তা আছে VFS ঢাকার গাইডে।
ঘড়ি কখন শুরু হয়, আর কী ওকে থামিয়ে রাখে
এই একটি টেবিল বুঝে গেলে বাকি সব ব্যাখ্যা সহজ হয়ে যায়।
| ঘটনা | ঘড়ির ওপর প্রভাব |
|---|---|
| কাউন্টারে ফাইল জমা দিলেন | গণনা শুরু হয় না — শুধু হেফাজত বদলায় |
| কর্তৃপক্ষ ফাইল সম্পূর্ণ বলে গ্রহণ করল | এখান থেকেই ৯০ দিনের হিসাব |
| একটি অনুবাদ বা সত্যায়ন বাকি | গণনা চালুই হয়নি; অপেক্ষা বাড়ছে, সীমা নড়ছে না |
| অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হলো | তারা অপেক্ষায়; দায়িত্ব এখন আপনার কোর্টে |
| আপনি দুই সপ্তাহ পরে উত্তর দিলেন | ওই দুই সপ্তাহ পুরোটাই আপনার নিজের খরচ |
| ট্র্যাকিং স্ট্যাটাস বদলালো | সিদ্ধান্তে কিছু বদলায় না — অবস্থান, অগ্রগতি নয় |
| আপনি ফোনে তাগাদা দিলেন | সারিতে কেউ সামনে আসে না |
এখানেই বহুল প্রচলিত ভুলটি ধরা পড়ে। মানুষ ভাবেন, "জমা দিয়েছি, এখন সর্বোচ্চ ৯০ দিন" — অথচ একটি সত্যায়ন বাকি থাকলে সেই ৯০ দিন এখনো শুরুই হয়নি। ফলে একজন শিক্ষার্থী চার মাস অপেক্ষা করেও অভিযোগ করতে পারেন না, কারণ প্রকাশিত সীমা তখনো লঙ্ঘিত হয়নি।
তাই মাল্টার ক্ষেত্রে "দ্রুত ভিসা" বলে কিছু কেনা যায় না; যা কেনা যায় তা হলো সম্পূর্ণ ফাইল। কাগজের চেইনটা যেন জমা দেওয়ার আগেই শেষ হয়: MOFA সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিল, ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং স্বাস্থ্যবিমা। মাল্টার জন্য একটি সুখবর আছে: বাংলাদেশ ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য, আর মাল্টা অ্যাপোস্টিল গ্রহণ করে — অর্থাৎ ডেনমার্ক, গ্রিস ও ফিনল্যান্ডের মতো পুরো কনস্যুলার চেইন এখানে লাগে না। কোন দেশ মানে না, তার তালিকা এখানে।
ট্র্যাকিং যা বলে, আর যা বলে না
জমা দেওয়ার পর হাতে থাকে একটি রসিদ ও একটি রেফারেন্স নম্বর, আর সেটি দিয়ে অনলাইনে অবস্থা দেখা যায়। প্রায় সবাই এটিকে অগ্রগতির মাপকাঠি ভাবেন। ভাবা উচিত নয়।
ট্র্যাকিং একটি হেফাজতের খবর, অগ্রগতির নয়। সে বলে ফাইলটি কোথায় — সেন্টারে, পথে, না কর্তৃপক্ষের কাছে। সে কখনোই বলে না সিদ্ধান্ত কতদূর, বা কেউ আদৌ ফাইলটি খুলেছে কি না। তাই একটানা তিন সপ্তাহ একই লেখা থাকা মানে খারাপ কিছু নয়, ভালো কিছুও নয় — ওটি নীরবতা, আর নীরবতা কোনো সংকেত নয়।
এর ব্যবহারিক মানে: স্ট্যাটাস দিনে দুইবার না দেখে সপ্তাহে একবার দেখুন, আর সিদ্ধান্তটা ইমেইলে বা সেন্টারের বার্তায় আসবে ধরে নিন। কীভাবে দেখতে হয় তার ধাপ আছে ট্র্যাকিং গাইডে, আর পাসপোর্ট এই সময়ে কোথায় থাকে সেটি আছে পাসপোর্ট ও প্রসেসিং ও পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার গাইডে।
যে একটিমাত্র কাজ সত্যিই সময় বাঁচায়
সবটুকু পড়ার সময় না থাকলে এই অনুচ্ছেদটুকু পড়ুন: অতিরিক্ত কাগজের অনুরোধের উত্তর দিন দিনে, সপ্তাহে নয়।
কর্তৃপক্ষ যখন একটি কাগজ চায়, ফাইলটি কার্যত থেমে থাকে — তারা অপেক্ষা করে, আর সেই অপেক্ষা আপনার হিসাবেই যোগ হয়। বাংলাদেশ থেকে একটি নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা একটি সত্যায়িত অনুবাদ জোগাড় করতে যদি তিন সপ্তাহ লাগে, তাহলে আপনার মোট অপেক্ষায় তিন সপ্তাহ যোগ হলো — কারো ব্যর্থতায় নয়, কেবল দূরত্বে।
তাই জমা দেওয়ার পরও এই তিনটি অভ্যাস রাখুন:
- সব মূল কাগজের স্ক্যান একটি ফোল্ডারে, নামসহ, ফোনে ও ইমেইলে — যাতে অনুরোধ এলে খুঁজতে না হয়
- আবেদনে দেওয়া ইমেইলটি প্রতিদিন দেখুন, স্প্যাম ফোল্ডারসহ; ওই ঠিকানাই একমাত্র চ্যানেল
- ফোন নম্বর ও ইমেইল বদলাবেন না ফাইল চলার সময়; বদলালে অনুরোধটাই আপনার কাছে পৌঁছাবে না
ফান্ডের কাগজ সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়, তাই সেটি আগেই শক্ত করুন: মাল্টার প্রুফ অফ ফান্ডস, ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রক্রিয়া ও ইউরোপের ফান্ড প্রমাণের নিয়ম।
মাল্টার আসল ডেডলাইনটা সিদ্ধান্তের নয় — পৌঁছানোর
এখানেই মাল্টা আমাদের বাকি আটটি দেশ থেকে আলাদা, এবং এটাই এই লেখার সবচেয়ে দরকারি অংশ।
মাল্টায় ক্লাস শুরু হয় অক্টোবরে (দ্বিতীয় ইনটেক ফেব্রুয়ারিতে), অর্থাৎ ইউরোপের সাধারণ সেপ্টেম্বরের চেয়ে এক মাস পরে। শুনতে মনে হয় এক মাস বাড়তি সময়। কিন্তু মাল্টা ছোট দ্বীপ, তার ভাড়ার বাজার গ্রীষ্মের পর্যটনকেও সেবা দেয়, আর অক্টোবরে আপনি ঠিক সেই মুহূর্তে ঘর খুঁজছেন যখন মৌসুম শেষ হচ্ছে এবং যা পড়ে আছে তার দাম সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশ-তথ্যে থাকার খরচ €২৮০–৫০০ প্রতি মাস — ছোট একটি দ্বীপের জন্য নিচ থেকে ওপরের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ, আর সেই ব্যবধানের একটা বড় অংশ শহর নয়, মৌসুম।
তার ওপর আছে যে নিয়মটি অনেকে শেষ মুহূর্তে জানেন: আপনি কোথায় থাকবেন তার প্রমাণ মাল্টার ফাইলেরই অংশ — পৌঁছানোর পরের কাজ নয়। ফলে ক্রমটা উল্টে যায়। অন্য অনেক দেশে বাসা খোঁজা ভিসা পাওয়ার পরের ধাপ; মাল্টায় লিখিত বাসার ব্যবস্থা জমা দেওয়ার আগেই দরকার।
এর মানে দাঁড়ায়, একটি সিদ্ধান্ত "সময়মতো" এসেও দেরি হয়ে যেতে পারে — কারণ ভিসা হাতে পাওয়ার সপ্তাহে আপনি আর সেই ঘরটি পাবেন না যেটি মে মাসে দেখা হয়েছিল। বাসা নিয়ে কাজ শুরু করার আগে পড়ে নিন ইউরোপে বাসা খোঁজার গাইড, ভাড়ার প্রতারণা ও ডিপোজিট, ডর্ম বনাম ফ্ল্যাট বনাম শেয়ার এবং মসিদা ও আশপাশের বাস্তব খরচ নিয়ে মাল্টার মাসিক খরচের লেখা।
পৌঁছানোর দিন থেকে পেছনে গুনে একটি পরিকল্পনা
নিচের টেবিলটি আমাদের পরামর্শ, কোনো প্রকাশিত ক্যালেন্ডার নয় — এবং সেটিই এখানে মূল কথা। আমরা কোনো প্রসেসিং সময় ধরে নিচ্ছি না; আমরা কেবল কাজগুলোকে এমন ক্রমে সাজাচ্ছি যাতে দেরি হলেও পুরো বছরটা না হারায়।
| কখন | কী শেষ হওয়া দরকার | প্রকাশিত, নাকি আমাদের পরামর্শ |
|---|---|---|
| ক্লাসের ~১০ মাস আগে | প্রোগ্রাম ও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই, IELTS বুকিং | আমাদের পরামর্শ |
| ~৯–৮ মাস আগে | আবেদন — প্রতিষ্ঠানের নিজের ডেডলাইন ধরে | প্রকাশিত, প্রতিষ্ঠানের দ্বারা |
| ~৮–৬ মাস আগে | অফার গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের চাওয়া টাকা পরিশোধ | প্রকাশিত, প্রতিষ্ঠানের দ্বারা |
| ~৭–৫ মাস আগে | ব্যাংক স্টেটমেন্টের ইতিহাস তৈরি হতে থাকে | আমাদের পরামর্শ |
| ~৬–৪ মাস আগে | সত্যায়ন, অ্যাপোস্টিল, অনুবাদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স | আমাদের পরামর্শ |
| ~৬–৪ মাস আগে | বাসা লিখিতভাবে ঠিক — এটি ফাইলের কাগজও | আমাদের পরামর্শ, কিন্তু কাগজটি বাধ্যতামূলক |
| ~৪–৩ মাস আগে | অ্যাপয়েন্টমেন্ট, জমা, বায়োমেট্রিক | স্লট প্রকাশ করে কেন্দ্র |
| জমার পর | সিদ্ধান্ত | কেউ তারিখের প্রতিশ্রুতি দেয় না |
| ভিসা পাসপোর্টে বসার পর | টিকিট | আমাদের পরামর্শ, এবং এতে ছাড় নেই |
| পৌঁছানোর প্রথম সপ্তাহগুলোতে | Identità-তে e-Residence কার্ডের আবেদন | প্রকাশিত |
এই টেবিলের সঙ্গে ইনটেক ও একাডেমিক ডেডলাইনের পূর্ণ ক্যালেন্ডার মিলিয়ে পড়ুন মাল্টার ইনটেক ও ডেডলাইন, আর ফাইলে ঠিক কী কী লাগে তা আছে মাল্টার ভর্তি ও ভিসার শর্তে। কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন যুক্তিযুক্ত তা আছে মাল্টার ইউনিভার্সিটি গাইডে এবং ইউনিভার্সিটি অব মাল্টার ভর্তি গাইডে।
যা আমরা প্রকাশ করি না, আর কেন
অনেক পাতায় আপনি মাল্টার জন্য একটি ঝকঝকে সংখ্যা দেখবেন — "প্রায় এত সপ্তাহ"। আমরা এই লেখায় ইচ্ছাকৃতভাবে সেটি দিচ্ছি না, কারণ মাল্টার কোনো কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য সেবা-মান প্রকাশ করে না। অতীতের ফাইল দেখে যে পরিসরগুলো ঘোরে — আমাদের নিজের নয় দেশের প্রসেসিং সময়ের তুলনায় যেটি আছে সেটিসহ — সেগুলো পর্যবেক্ষণ, প্রতিশ্রুতি নয়। পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনায় কাজে লাগে; দাবি হিসেবে ব্যবহার করলে ক্ষতি করে।
কারো "গ্যারান্টেড টাইমলাইন" বা "ফাস্ট-ট্র্যাক প্রসেসিং"-এর প্রতিশ্রুতি তাই একটি লাল পতাকা — কোনো এজেন্ট Identità-র সারি নিয়ন্ত্রণ করে না। ইতালির একই প্রশ্নে আমরা একই অবস্থান নিয়েছি: ইতালিতে ভিসায় কত সময় লাগে।
কাদের জন্য মাল্টা এই মুহূর্তে ঠিক নয়
সৎ হওয়া দরকার, কারণ এই অংশটা কেউ বিক্রির পাতায় লেখে না।
- যাঁর হাতে সময় নেই। সামনের অক্টোবরের জন্য যদি এখন শূন্য থেকে শুরু করেন — অফার নেই, ফান্ডের ইতিহাস নেই, কাগজের চেইন শেষ হয়নি — তাহলে লক্ষ্য হওয়া উচিত ফেব্রুয়ারি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরের অক্টোবর।
- যিনি ভাবছেন পৌঁছে বাসা দেখবেন। মাল্টায় সেটি কেবল অস্বস্তিকর নয়, ফাইলের দিক থেকেও চলে না।
- যিনি পৌঁছেই আয়ের ওপর ভরসা করছেন। প্রথম ৯০ দিন কাজ করা যায় না, তারপর e-Residence ও Jobsplus লাইসেন্স হয়ে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা — বিস্তারিত মাল্টায় কাজের নিয়মে। প্রথম মাসগুলোর বাজেট শূন্য আয়ে ধরুন।
- যিনি শুধু "ইংরেজি দাপ্তরিক ভাষা" শুনে বেছেছেন। ভাষা সহজ করে অনেক কিছু, কিন্তু ফান্ডের অঙ্ক বা সারির দৈর্ঘ্য কমায় না — মাল্টা কাদের জন্য ভালো আর সাইপ্রাস বনাম মাল্টা দুটোই এই তুলনাটা করে।
টাকার হিসাবটা মাথায় রাখুন
অপেক্ষা শুধু সময়ের খরচ নয়। মাল্টার ফান্ড প্রমাণের হিসাব থাকার প্রতি মাসে €৯৫০, অর্থাৎ এক বছরে প্রায় €১১,৪০০, আর ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে না — টাকা আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্টেই থাকে। এর ওপর পাবলিক টিউশন €৫,০০০–১১,০০০ বছরে এবং জীবনযাত্রা €৬০০–৯০০ মাসে; ভাঙানো হিসাব আছে মাল্টায় মোট খরচ ও টিউশন ফি লেখায়।
বাংলাদেশ-অংশে এক দেশের আবেদনে খরচ মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা, একমুখী টিকিট ৭০,০০০–১,২০,০০০ টাকা, আর ফাইল বাতিল হলে এর কিছুই ফেরত আসে না — পূর্ব-প্রস্থান খরচের হিসাব। এই কারণেই "তাড়াতাড়ি জমা দিই, বাকিটা পরে ঠিক করব" কৌশলটি মাল্টায় সবচেয়ে দামি: অসম্পূর্ণ ফাইল ঘড়িই চালু করে না।
এখন যা করবেন
- 1আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ডেডলাইন আর অক্টোবরের ক্লাস শুরুর তারিখ লিখে ফেলুন — বাকি সব ওখান থেকে পেছনে গোনা
- 2ফাইলের কাগজের চেইন জমা দেওয়ার আগেই শেষ করুন, চেকলিস্ট ধরে মিলিয়ে
- 3বাসার লিখিত ব্যবস্থা ভিসার সিদ্ধান্তের আগে সারুন — মাল্টায় এটি অপশনাল নয়
- 4জমা দেওয়ার পর সব কাগজের স্ক্যান হাতের কাছে রাখুন, আর ইমেইল প্রতিদিন দেখুন; অনুরোধ এলে দিনে উত্তর দিন
- 5টিকিট কাটবেন কেবল ভিসা পাসপোর্টে বসার পর — অফার থেকে বোর্ডিং পাস ধরে পুরো ক্রমটা মিলিয়ে নিন
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Identità Malta — Central Visa Unit, জাতীয় (দীর্ঘমেয়াদি) ভিসা
- Identità Malta — রেসিডেন্স ও ভিসা কর্তৃপক্ষ
- Directive (EU) 2016/801 — শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য EU-র নিয়ম
- VFS Global — Malta ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার, বাংলাদেশ
- University of Malta — ভর্তি তথ্য
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
মাল্টার তারিখগুলো একসাথে বসিয়ে দিই?
ক্লাস শুরুর দিন থেকে পেছনে গুনে কাগজ, বাসা ও জমার তারিখ — আপনার প্রোগ্রামের জন্য।
সাধারণ প্রশ্ন
মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসায় ঠিক কত দিন লাগে?+
মাল্টার কোনো কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে না, তাই আমরাও কোনো গড় বা পরিসর বানিয়ে দিই না। যে সংখ্যাটি আইনগতভাবে বাঁধে সেটি EU ডিরেক্টিভ ২০১৬/৮০১-এর ৯০ দিন, এবং সেটি সর্বোচ্চ সীমা — গড় নয়, প্রতিশ্রুতিও নয়। তার চেয়েও জরুরি কথা: ওই ৯০ দিনের গণনা শুরু হয় ফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে।
ঘড়ি কি জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু হয়?+
না, এবং এই ভুল ধারণাটিই সবচেয়ে বেশি মানুষকে বিপদে ফেলে। কাউন্টারে জমা দিলে ফাইলের হেফাজত বদলায়, গণনা শুরু হয় না। গণনা শুরু হয় যখন কর্তৃপক্ষ ফাইলটিকে সম্পূর্ণ বলে গ্রহণ করে। একটি অনুবাদ বা একটি সত্যায়ন বাকি থাকলে আপনার অপেক্ষা লম্বা হতে থাকে, অথচ প্রকাশিত সীমাটি নড়ে না — কারণ সেটি এখনো চালুই হয়নি।
ফাইল জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তটা কে নেয়?+
ঢাকার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার কাগজ নেয়, বায়োমেট্রিক নেয় এবং রসিদ দেয় — সিদ্ধান্ত নেয় না। সিদ্ধান্ত নেয় মাল্টার Identità-র Central Visa Unit। ব্যবহারিক ফল হলো, আপনার অপেক্ষা ঢাকার কেন্দ্রের ব্যস্ততার ওপর নয়, মাল্টার সারির ওপর নির্ভর করে, এবং প্রশ্ন থাকলে সেন্টার নয়, ওই ইউনিটই সঠিক ঠিকানা।
ট্র্যাকিং স্ট্যাটাস দেখে কি বোঝা যায় কতদূর এগোলো?+
বোঝা যায় না, এবং এটা বুঝে নেওয়া মানসিক শান্তির জন্যও ভালো। ট্র্যাকিং দেখায় ফাইলটি কোথায় আছে — সেন্টারে, পথে, না কর্তৃপক্ষের কাছে। সিদ্ধান্তে কতটা এগিয়েছে সেটি দেখায় না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই লেখা থাকা তাই খারাপ খবরও নয়, ভালো খবরও নয়; ওটি নীরবতা।
অতিরিক্ত কাগজ চাইলে কত দ্রুত উত্তর দেওয়া উচিত?+
দিনে, সপ্তাহে নয়। পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা কার্যত একটিমাত্র ভেরিয়েবল এটাই। কাগজ চাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করে, আর সেই অপেক্ষার প্রতিটি দিন আপনার হিসাবেই যোগ হয়। তাই ফাইল জমা দেওয়ার পরও সব মূল কাগজের স্ক্যান হাতের কাছে রাখুন, আর ব্যবহৃত ইমেইলটি প্রতিদিন দেখুন — স্প্যাম ফোল্ডারসহ।
মাল্টার জন্য কি বাসা আগেই ঠিক করতে হয়?+
হ্যাঁ, এবং এটাই মাল্টাকে আমাদের নয়টি দেশের মধ্যে আলাদা করে। আপনি কোথায় থাকবেন তার প্রমাণ মাল্টার ফাইলেরই অংশ, পৌঁছানোর পরের কাজ নয়। ফলে বাসার খোঁজ ভিসার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না — উল্টো বাসার লিখিত ব্যবস্থা জমা দেওয়ার আগেই লাগে। ছোট দ্বীপে ভাড়ার বাজার মৌসুমি, আর অক্টোবরের ইনটেক মানে আপনি পর্যটন মৌসুমের ঠিক শেষে খুঁজছেন।
ভিসার ৯০ দিন আর পৌঁছানোর পর কাজ না করার ৯০ দিন কি এক জিনিস?+
একেবারেই না, আর এই দুটি গুলিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ভুল। প্রথম ৯০ দিন হলো সম্পূর্ণ আবেদনে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আইনি সর্বোচ্চ সময়, যেটি মাল্টায় পৌঁছানোর আগের ব্যাপার। দ্বিতীয় ৯০ দিন হলো মাল্টায় পৌঁছানোর পর যত দিন কাজ করা যায় না, তারপর e-Residence কার্ড ও Jobsplus লাইসেন্স হয়ে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পথ খোলে।
অপেক্ষা দীর্ঘ হলে ফোন করে তাগাদা দিলে কাজ হয়?+
হয় না, এবং বেশি যোগাযোগ কোনো ফাইলকেই সামনে আনে না। যা কাজে লাগে তা হলো একটিমাত্র লিখিত অনুসন্ধান, সঠিক চ্যানেলে, রসিদের রেফারেন্স নম্বরসহ — এবং তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা। সপ্তাহে সপ্তাহে ফোন করলে শুধু আপনার নিজের উদ্বেগ বাড়ে।
সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পাসপোর্ট কি আমার কাছে থাকে?+
থাকে না — দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদনে পাসপোর্ট জমা থাকে, আর সেটি পরিকল্পনার একটি বাস্তব শর্ত। এই সময়ে অন্য কোনো দেশে যাত্রা বা পাসপোর্ট লাগে এমন কাজ ধরে রাখুন। বিস্তারিত আছে পাসপোর্ট ও প্রসেসিং নিয়ে আলাদা লেখায়।
টিকিট কখন কাটব?+
ভিসা পাসপোর্টে বসার পর, তার এক দিনও আগে নয়। প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের তারিখ ধরে টিকিট কাটা মাল্টার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যয়বহুল, কারণ এক দিকে টিকিটের দাম ৭০,০০০–১,২০,০০০ টাকা, আর অন্য দিকে ফাইল বাতিল হলে বাংলাদেশ-অংশের ২–৪ লাখ টাকার কিছুই ফেরত আসে না।
এই বিষয়ের ১০৭টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন