সিলেট থেকে ইউরোপে পড়তে যাওয়া: প্রক্রিয়ার কতটুকু আসলে ঢাকায় করতে হয়, কতটুকু আপনার নিজের জেলাতেই, আর কতটুকু শুধু ইন্টারনেটে
ইউরোপে আবেদনের প্রায় পুরোটাই অনলাইন, সিলেটে বসেই হয়। ঢাকায় যেতে হয় মূলত দুটি কাজে — বায়োমেট্রিক ও ভিসা জমা, আর প্রয়োজনে Declaration of Value। কোন ধাপ কোথায়, আর এজেন্সি যাচাইয়ের প্রশ্নগুলো।
সংক্ষেপে: ইউরোপের আবেদনের প্রায় পুরোটাই সিলেটে বসে করা যায়। ঢাকায় শরীরে যেতে হয় মূলত দুটি কাজে — ভিসা জমা ও বায়োমেট্রিক, আর প্রয়োজনে দূতাবাসের Declaration of Value। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ব্যাংকের কাগজ আর নোটারি আপনার নিজের জেলাতেই হয় — এগুলোর জন্য ঢাকায় যাওয়া টাকা ও দিন, দুটোরই অপচয়।
সিলেট থেকে ইউরোপে পড়তে যেতে চাওয়া মানুষের প্রথম প্রশ্নটা প্রায় সবসময় এক: "ঢাকায় না গেলে কি হবে না?" সোজা উত্তর — হবে, প্রায় পুরোটাই। ইউরোপে আবেদনের প্রক্রিয়াটা দেখতে যতটা "অফিসে গিয়ে করার" কাজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। এর সিংহভাগ ঘটে ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পোর্টালে ও সরকারি ওয়েবসাইটে, যেগুলো ঢাকার ইন্টারনেট আর সিলেটের ইন্টারনেটের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।
এই পাতাটি তাই দেশ বাছাইয়ের গাইড নয়, ভূগোলের গাইড। কোন ধাপটা কোথায় ঘটে — শুধু সেটাই। কারণ সিলেটের একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় অপচয় ভুল দেশ বেছে ফেলা নয়; সবচেয়ে বড় অপচয় হলো এমন কাজের জন্য বারবার ঢাকায় যাওয়া, যেটা বাড়ির পাশের অফিসেই হতো।
গোটা প্রক্রিয়ার ম্যাপ: কোন কাজ কোথায়
| ধাপ | কোথায় করতে হয় | মনে রাখার কথা |
|---|---|---|
| ইউনিভার্সিটিতে আবেদন ও অফার | অনলাইন | প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পোর্টাল, যেকোনো জায়গা থেকে |
| Universitaly প্রি-এনরোলমেন্ট (ইতালি) | অনলাইন | মন্ত্রণালয়ের একমাত্র অফিশিয়াল পোর্টাল, বিনামূল্যে |
| CIMEA comparability statement | অনলাইন | টাকা লাগে, সময় সাধারণত মাসখানেক |
| Declaration of Value | ঢাকা | ঢাকার ইতালি দূতাবাসের কাজ |
| স্কলারশিপ ও DSU আবেদন | অনলাইন | DSU অঞ্চলভিত্তিক, প্রতিটির নিজস্ব সময়সীমা |
| ভাষার পরীক্ষা বুকিং | অনলাইন | পরীক্ষার ভেন্যু প্রতিষ্ঠানটি নিজে প্রকাশ করে — আগে দেখে নিন |
| ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট তোলা | নিজের জেলা | যে প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, সেটিই দেয় |
| শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন | নিজের জেলা | বোর্ড আঞ্চলিক — আপনার সনদ যে বোর্ডের, সেটিই |
| জন্মনিবন্ধন সংশোধন | নিজের জেলা | যে অফিস নিবন্ধন করেছে, রেকর্ড সেখানেই |
| পুলিশ ক্লিয়ারেন্স | নিজের জেলা | আবেদন অনলাইনে, যাচাই আপনার ঠিকানার থানায় |
| ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি | নিজের জেলা | হিসাব যে শাখায়, কাগজ সেই শাখা থেকেই |
| নোটারি ও অ্যাফিডেভিট | নিজের জেলা | নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয়ভাবেই |
| সত্যায়ন ও লিগালাইজেশন | ঢাকা (সাধারণত) | ধাপের ক্রম আগে নিশ্চিত করুন, তারপর একবারেই যান |
| ভিসা ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট | অনলাইন | কাউন্টারে গিয়ে স্লট কেনা যায় না |
| ভিসা জমা ও বায়োমেট্রিক | ঢাকা | ইতালির জন্য ঢাকার VFS — দিল্লি যেতে হয় না |
| পাসপোর্ট ফেরত নেওয়া | ঢাকা বা কুরিয়ার | জমা দেওয়ার দিনই জিজ্ঞেস করে নিন |
যে কাজগুলোর জন্য ইন্টারনেট ছাড়া আর কিছু লাগে না
ইউনিভার্সিটিতে আবেদন, অফার লেটার নেওয়া, ফি দেওয়া, কোর্স সত্যিই ইংরেজিতে পড়ানো হয় কি না তা যাচাই করা — সবই পোর্টালের কাজ। প্রোগ্রামটি সত্যিই ইংরেজিতে কি না যাচাই এবং অফার লেটার আসল কি না — এই দুটি কাজ কেউ আপনার হয়ে করে দিলেও ফলাফল একই, কারণ উৎস একটাই: প্রতিষ্ঠানের নিজের ওয়েবসাইট। আবেদন ফি ও অনলাইন পেমেন্টের কাজটাও আপনার নিজের ব্যাংক থেকেই হয়।
ইতালির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন ধাপটি হলো Universitaly প্রি-এনরোলমেন্ট — ভিসার আগে এটি বাধ্যতামূলক, এবং এটিই মন্ত্রণালয়ের একমাত্র অফিশিয়াল ও বিনামূল্যের পোর্টাল। এর পাশাপাশি চলবে ইতালির DSU স্কলারশিপ ও তার জন্য দরকারি ISEE parificato — আয়ভিত্তিক বৃত্তি, মেধাভিত্তিক নয়, আর প্রতিটি অঞ্চল নিজের সময়সীমা ঠিক করে, যা ভর্তির সময়সীমা থেকে আলাদা এবং প্রায়ই আগে। এজেন্ট ছাড়া স্কলারশিপ খোঁজার পোর্টালগুলোর তালিকা থেকেই দেখা যাবে, বৃত্তির খোঁজ কার্যত পুরোটাই একটা পড়ার কাজ।
ভাষার পরীক্ষাও অনলাইনে বুক হয়। বাংলাদেশে IELTS রেজিস্ট্রেশন ধাপে ধাপে দেখুন, আর মনে রাখুন ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পর বাংলাদেশে পেপার IELTS আর নেই — এখন সবই কম্পিউটার-ভিত্তিক, এবং ফি IDP-র তালিকায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কম্পিউটার-ভিত্তিক IELTS-এর জন্য ২৯,৬০০ টাকা। বুকিং যেখান থেকেই করুন, পরীক্ষার ভেন্যুর তালিকাটি পরীক্ষা-প্রতিষ্ঠান নিজে প্রকাশ করে এবং সেটি বদলায় — তাই ধরে না নিয়ে তালিকাটি দেখে নিন, বিশেষ করে তারিখ বেছে নেওয়ার আগে।
আর ইতালির ভাষার শর্ত নিয়ে একটা ভুল ধারণা এখানেই শুধরে নেওয়া ভালো: জাতীয়ভাবে "IELTS 6.0" বলে কোনো নিয়ম নেই। নিয়ম হলো অন্তত CEFR B2, আর বিদেশি ভাষায় পড়ানো কোর্সের জন্য চারটি দক্ষতাতেই (শোনা, পড়া, বলা, লেখা) সার্টিফিকেশন।
যে কাজগুলোর জন্য ঢাকায় যেতেই হবে
তালিকাটা ছোট, আর এটাই ভালো খবর।
ভিসা জমা ও বায়োমেট্রিক। ইতালির স্টুডেন্ট ভিসার ফাইল জমা ও আঙুলের ছাপ হয় ঢাকার VFS Global-এ, আর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকার ইতালি দূতাবাস — দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান, দুটি আলাদা কাজ। ইতালির জন্য দিল্লি যেতে হয় না। অন্য দেশের ক্ষেত্রে ছবিটা এক নয়: কোন দেশের ভিসা ঢাকা থেকে আর কোনটার জন্য দিল্লি এবং ঢাকায় দূতাবাস নেই যে দেশগুলোর — বাস বা ফ্লাইটের টিকিট কাটার আগে এই দুটি পড়ে নিন।
দূতাবাসের নিজস্ব কাজ। ইতালির জন্য সনদের মূল্যায়ন দুইভাবে হতে পারে — CIMEA-র comparability statement অথবা Declaration of Value। এই দুটি পরস্পরের বিকল্প, আর কোনটি চলবে তা প্রতিষ্ঠান ঠিক করে। সিলেটের জন্য এই একটি বাক্যের দাম একটি পুরো যাত্রার সমান, কারণ CIMEA অনলাইন আর DoV ঢাকার কাউন্টার।
সত্যায়ন ও অনুবাদের ধাপগুলো। সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিল, সার্টিফায়েড ট্রান্সলেশন আর ডকুমেন্ট কুরিয়ার — এগুলোর কোন ধাপটি কোথায় করতে হবে তা মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান নিজেরাই বলে দেয়, তাই যাওয়ার আগে ক্রমটা নিশ্চিত করে নিন। ভুল ক্রমে গেলে একই যাত্রা দুইবার করতে হয়, আর সিলেট থেকে সেটা একটা গোটা দিন।
যে কাজের জন্য ঢাকায় যাওয়াটাই অপচয়
এইখানেই বাজারের সবচেয়ে প্রচলিত ভুলটা বসে আছে। অনেকে শোনেন "এসব কাজ ঢাকায় হয়" এবং তিন-চারটি কাগজের জন্য দুই-তিনবার ঢাকায় যান, যেগুলোর একটিও ঢাকার কাজ নয়।
ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট দেয় আপনার নিজের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা বোর্ড ভেরিফিকেশন করে সেই বোর্ড, যেটি আপনার সনদ দিয়েছে — আর বাংলাদেশের বোর্ডগুলো আঞ্চলিক, তাই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য এটি ঢাকার ধাপই নয়। ১৭ সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে যে অফিস নিবন্ধনটি করেছিল, কারণ রেকর্ডটি সেখানে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-এর আবেদন অনলাইনে, কিন্তু যাচাই করে আপনার ঠিকানার এলাকার পুলিশ — অর্থাৎ ধাপটি আপনার জেলায়, এবং সেখানে উপস্থিত থাকাটাই সুবিধা। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয় যে শাখায় হিসাব, সেই শাখা। নোটারি নাকি ম্যাজিস্ট্রেট নাকি মন্ত্রণালয় — এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে দেখবেন প্রথম দুটির জন্য জেলা শহরই যথেষ্ট।
আর সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় যে কাজে: NID, পাসপোর্ট ও সার্টিফিকেটে নামের অমিল ঠিক করা। এটি ঢাকার কাজ নয়, এটি ধৈর্যের কাজ, এবং এটি না সেরে ঢাকায় রওনা দেওয়ার মানে হলো ফিরে এসে আবার শুরু করা।
দুইটি যাত্রা, ছয়টি নয়
ঢাকার যাত্রা কমানোর কৌশলটা সহজ: কাগজ তৈরির কাজ আর কাগজ জমা দেওয়ার কাজ আলাদা করুন, আর প্রতিটির জন্য একবার করে যান।
যাত্রা ১ — কাগজ তৈরি। দূতাবাসের কাজ (দরকার হলে DoV), সত্যায়ন, অনুবাদ, কুরিয়ার। এই যাত্রায় তখনই বের হবেন, যখন সব সনদ হাতে আছে, সব নামের বানান মিলেছে, আর কোন কাউন্টারে কী লাগবে তা সেদিন সকালে ফোন বা ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রা ২ — জমা। ভিসার ফাইল গুছিয়ে নিয়ে VFS-এ অ্যাপয়েন্টমেন্ট। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন কী কী সঙ্গে নেবেন তার তালিকাটা আগের রাতে মিলিয়ে নিন, আর ভিসার ছবির স্পেসিফিকেশন আগেই দেখে নিন — ছবি বাতিল হওয়া সিলেট থেকে আসা মানুষের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছোট ভুল। স্লট না পেলে কী করবেন, তা এখানে — তবে জেনে রাখুন, স্লট টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
দুটি যাত্রাকে একটিতে নামানোর আসল লিভারটি হলো CIMEA। প্রতিষ্ঠান যদি comparability statement নেয়, DoV-র জন্য দূতাবাসে যাওয়ার দরকারই পড়ে না। আর যেহেতু এটি ইতালির টাইমলাইনের সবচেয়ে ধীর অংশ — সাধারণত মাসখানেক — তাই প্রশ্নটি সবার আগে করুন, সবার শেষে নয়।
পাসপোর্ট ফেরতের ব্যাপারটাও জমা দেওয়ার দিনই মিটিয়ে ফেলুন। ট্র্যাকিং ও পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে যা জানার, তার মধ্যে সবচেয়ে কাজের তথ্যটি হলো: ফেরত কুরিয়ারে নেওয়া যায় কি না, সেটি কাউন্টারে ঠিক হয় — জিজ্ঞেস না করলে তৃতীয় একটি যাত্রা এমনিতেই তৈরি হয়ে যায়।
যে খরচটা কেউ বাজেটে ধরে না
ঢাকা ছাড়ার আগেই কত টাকা খরচ হয় — আমাদের হিসাবে এক দেশে একটি ইউরোপীয় আবেদনের জন্য মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা। এর ভেতরে থাকে এক পথের বিমান টিকিট ৭০,০০০–১,২০,০০০ টাকা, IELTS ২০,০০০–২৬,০০০ টাকা, সত্যায়ন-অনুবাদ-লিগালাইজেশন ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা, কুরিয়ার ৪,০০০–৯,০০০ টাকা। এর কোনোটাই ফেরতযোগ্য নয়।
খেয়াল করুন, ওই ভাঙা হিসাবে ঢাকায় যাতায়াতের কোনো লাইন নেই — আমাদেরটাতেও নেই, অন্য কারও হিসাবেও সাধারণত থাকে না। আর ঠিক এই কারণেই খরচটা মানুষকে অবাক করে। আমরা এখানে বাসভাড়া বা হোটেলের কোনো সংখ্যা দিচ্ছি না, কারণ সেটি অপারেটর ও মৌসুমভেদে বদলায় এবং আমরা সেটি যাচাই করিনি। যা দিচ্ছি তা হলো হিসাবের কাঠামোটা, যেটা আপনি নিজের দামে বসিয়ে নেবেন:
(যাত্রার সংখ্যা) × (যাওয়া-আসার ভাড়া + রাতের থাকা + শহরের ভেতরের যাতায়াত + খাওয়া + নষ্ট হওয়া কর্মদিবস বা ক্লাস) × (কতজন যাচ্ছেন)
শেষের গুণটা বাদ দেবেন না। অনেক পরিবারে শিক্ষার্থীর সঙ্গে একজন অভিভাবক যান — তাতে পুরো হিসাবটা দ্বিগুণ হয়। সংখ্যাটা বের করে কাগজে লিখুন, তারপর ২–৪ লাখের সঙ্গে যোগ করে নিন। ছয়টি যাত্রা আর দুটি যাত্রার পার্থক্য এখানেই দেখা যাবে, আর এই একটি পাতার পুরো উদ্দেশ্য সেটাই।
টাকা দেওয়ার আগে যেভাবে যেকোনো এজেন্সি যাচাই করবেন
এটি সিলেটের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নয় — যেকোনো শহরের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য একই। ধাপগুলো ক্রমে:
১. ট্রেড লাইসেন্স। নম্বরটি চান, আর দেখুন সেটি কোন নামে ইস্যু করা। সেই নামটিই কি সাইনবোর্ডে, আর সেই নামটিই কি সেই হিসাব, যেখানে টাকা দিতে বলা হচ্ছে? তিনটি নাম না মিললে সেখানেই থামুন।
২. ঠিকানা, যেটির সামনে গিয়ে দাঁড়ানো যায়। তলা ও কক্ষ নম্বরসহ — কার্ডে লেখা "কর্পোরেট অফিস" যাচাইযোগ্য কিছু নয়। আপনি যেতে না পারলে পরিচিত কাউকে পাঠান।
৩. টাকা যায় কোম্পানির হিসাবে, রসিদের বিনিময়ে। ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নয়। রসিদে কোম্পানির নাম থাকবে।
৪. লিখিত কাজের তালিকা। তারা ঠিক কী কী করবে, কী করবে না, আর ভিসা না হলে কী হবে — লিখিতভাবে। এজেন্সি নাকি নিজে করা পড়লে বুঝবেন আসল খরচটা কোথায় বসে।
৫. সার্কুলার পড়া মানুষ ছাড়া যে প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দিতে পারে না। এগুলোই আসল পরীক্ষা, এবং উত্তর মেলানোর জন্য আপনার আর কিছু লাগবে না, শুধু এই তালিকা:
| প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|
| ইতালির জন্য কত টাকার প্রমাণ দেখাতে হয়? | বছরে €১০,১৭৯.৮৫ |
| তাহলে মাসিক অঙ্কটা কত? | কোনো মাসিক অঙ্ক নেই — সার্কুলারে বছরের একটিই সংখ্যা |
| ইতালিতে ব্লকড অ্যাকাউন্ট লাগে? | না, লাগে না |
| DSU-তে আবেদন করেছি, সেটা কি ফান্ডে গোনা যাবে? | না — বৃত্তি পাওয়ার লিখিত প্রমাণ ছাড়া নয় |
| ভিসার শেষ তারিখ, আর কোন কোর্সে খাটে? | ৩০ নভেম্বর ২০২৬; Laurea, Laurea Magistrale ও Diploma accademico-তে |
| Master বা PhD-তেও কি ওই তারিখ? | না, ওগুলোর জাতীয় ডেডলাইন নেই |
| ভাষার শর্তটা কী? | অন্তত B2, বিদেশি ভাষার কোর্সে চার দক্ষতাতেই |
| ভ্যালিডেশনের কোনো সীমা আছে? | আছে — বরাদ্দ আসনের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ |
| আপনাদের সাকসেস রেট কত? | কেউ দিতে পারে না — কোনো কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে না |
শেষ সারিটি সবচেয়ে জরুরি। সাকসেস রেট নিয়ে সৎ উত্তরটা হলো, এমন কোনো সংখ্যা কোথাও প্রকাশিত হয় না, আর ইতালির ক্ষেত্রেও নয়। কেউ শতাংশ বললে সেটি তার নিজের বানানো। একইভাবে, প্রি-এনরোলমেন্ট ভ্যালিডেশন ভিসার নিশ্চয়তা নয় — সিদ্ধান্ত একমাত্র কনস্যুলেটের, আর সেখানে কারও "লোক" নেই। "এম্বাসিতে আমাদের লোক আছে" — এই বাক্যটি শোনার পর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।
আরও গভীরে যেতে চাইলে: ইতালির কনসালটেন্সি যাচাই, এজেন্সি স্ক্যামের সাতটি রেড ফ্ল্যাগ, জাল কাগজের আসল পরিণতি এবং প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ের জন্য আট ধাপের চেকলিস্ট।
কার জন্য স্থানীয় এজেন্ট আসলেই ঠিক সিদ্ধান্ত
এই পাতাটি "এজেন্ট নেবেন না" বলার জন্য নয়। আমাদের অফিস ঢাকায়; সিলেটে আমাদের কোনো শাখা, এজেন্ট বা প্রতিনিধি নেই — এবং সেটি স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ এই লেখার পুরো যুক্তিটাই সততার ওপর দাঁড়িয়ে।
কাছের একজন মানুষের আসল মূল্য একটাই, কিন্তু সেটি বড়: তিনি আপনার হয়ে কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন। কোনো অনলাইন সেবা সেটা পারে না — আমাদেরটাও না। তাই স্থানীয় সাহায্য নেওয়াটা যাঁদের জন্য সত্যিই যুক্তিসঙ্গত: যাঁর ইন্টারনেট বা ইংরেজি পোর্টাল চালানোর অভ্যাস নেই এবং পরিবারে সাহায্য করার কেউ নেই; যাঁর কাগজে সত্যিকারের গোলমাল আছে — নামের অমিল, হারানো সনদ, বোর্ডের পুরনো রেকর্ড — যেগুলোর পেছনে সপ্তাহে সপ্তাহে লেগে থাকতে হয়; যাঁর পূর্ণকালীন চাকরির কারণে অফিস-সময়ে লাইনে দাঁড়ানোর উপায় নেই; আর যাঁর ফাইলটি সত্যিই জটিল, যেমন তিন বছরের পাস ডিগ্রি নিয়ে মাস্টার্সের সমতা প্রমাণ করা।
পার্থক্যটা সহজ: কাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া বৈধ, ফলাফলের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে নয়। যিনি বলেন "আমি আপনার হয়ে লাইনে দাঁড়াব, ফর্ম পূরণ করব, কাগজ তুলব — এই আমার ফি" — তিনি একটি সেবা বিক্রি করছেন। যিনি বলেন "ভিসা আমি করিয়ে দেব" — তিনি এমন কিছু বিক্রি করছেন যা তার হাতে নেই।
সিলেট থেকে শুরু করবেন কীভাবে
প্রথমে দেশ ঠিক করুন — প্রোফাইলভেদে সৎ তুলনাটি পড়ে, আর ইতালিকে বিবেচনায় রাখলে দেশের গাইডটি দেখে। তারপর আবেদনের মাস্টার টাইমলাইন ধরে পিছন থেকে গুনে নিন কোন মাসে কী করতে হবে, আর দেশভিত্তিক ডকুমেন্ট চেকলিস্ট থেকে কাগজগুলো আলাদা করে ফেলুন — কোনটা আপনার জেলার, কোনটা অনলাইনের, কোনটা ঢাকার। টাকার দিকটার জন্য প্রুফ অফ ফান্ডস, আর ইতালির নির্দিষ্ট অঙ্কটির জন্য €১০,১৭৯.৮৫-এর হিসাব ও ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর ডেডলাইন।
শেষ কথাটা এই: সিলেটে থাকা আপনার আবেদনের কোনো দুর্বলতা নয়। দুর্বলতা তৈরি হয় দেরিতে শুরু করলে, আর অপ্রয়োজনীয় যাত্রায় টাকা ও দিন ফুরিয়ে ফেললে। প্রক্রিয়াটা কোথায় ঘটে সেটা জানা থাকলে দুটোর কোনোটাই হওয়ার কথা নয়।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- Universitaly — ইতালির একমাত্র অফিশিয়াল প্রি-এনরোলমেন্ট পোর্টাল (বিনামূল্যে)
- MUR/MAECI — আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও ভর্তির সার্কুলার, ২০২৬/২৭ ও ২০২৭/২৮
- ইতালি দূতাবাস, ঢাকা — কনস্যুলার ও ভিসা সেবা
- VFS Global — Italy (Bangladesh): কোন সেন্টারে যেতে হবে
- CIMEA — statement of comparability (সম্পূর্ণ অনলাইন)
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট — বাংলাদেশ পুলিশ
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS) — সংশোধন ও সনদ
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ — সত্যায়ন
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
সিলেট থেকে ইউরোপে আবেদন করতে কি ঢাকায় গিয়ে থাকতে হয়?+
না। ইউনিভার্সিটিতে আবেদন, ইতালির ক্ষেত্রে Universitaly প্রি-এনরোলমেন্ট, CIMEA-র সনদ মূল্যায়ন, স্কলারশিপের আবেদন, প্রোগ্রাম ও অফার লেটার যাচাই — সবই ইন্টারনেটে হয়, আপনি দেশের যেখানেই থাকুন। ঢাকায় শরীরে উপস্থিত থাকতে হয় মূলত দুটি কাজে: ভিসা জমা ও বায়োমেট্রিক, এবং দরকার হলে দূতাবাস-সংক্রান্ত কাজ যেমন Declaration of Value। মাসের পর মাস ঢাকায় থেকে যাওয়ার কোনো দরকার নেই, আর সেটা করতে বলা হলে কারণটা লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন।
সিলেটে কি আপনাদের কোনো অফিস বা প্রতিনিধি আছে?+
নেই। আমাদের অফিস ঢাকায়। সিলেটে আমাদের কোনো শাখা, এজেন্ট বা প্রতিনিধি নেই, এবং কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে সিলেটে টাকা চাইলে সেটি আমাদের কেউ নয়। এই পাতাটি লেখার কারণও সেটাই — প্রক্রিয়ার যে অংশটুকু অনলাইন, সেখানে কাছাকাছি অফিস থাকা বা না থাকায় কিছু যায় আসে না; আর যে অংশটুকু কাউন্টারে দাঁড়ানোর, সেখানে আপনার নিজের শহরের একজন বিশ্বস্ত মানুষ যেকোনো অনলাইন সেবার চেয়ে বেশি কাজে দেবেন — আমাদেরটাসহ।
সবমিলিয়ে ঢাকায় কতবার যেতে হবে?+
গুছিয়ে করলে সাধারণত দুইবার — একবার দূতাবাস ও সত্যায়ন-অনুবাদ-কুরিয়ারের কাজগুলো একসঙ্গে সারতে, আর একবার VFS-এ ফাইল জমা ও বায়োমেট্রিক দিতে। প্রতিষ্ঠান যদি CIMEA-র comparability statement নেয়, তাহলে প্রথম যাত্রাটি একেবারে বাদও যেতে পারে, কারণ CIMEA পুরোটাই অনলাইন। পাসপোর্ট ফেরত কুরিয়ারে আসবে কি না, সেটি জমা দেওয়ার দিনই কাউন্টারে জিজ্ঞেস করে নিন — এই একটি প্রশ্নের উত্তরই তৃতীয় যাত্রাটি থাকবে না বাদ যাবে, তা ঠিক করে দেয়।
বায়োমেট্রিক কি সিলেটে দেওয়া যায়?+
ইতালির ক্ষেত্রে নয় — ইতালির স্টুডেন্ট ভিসার জমা ও বায়োমেট্রিক হয় ঢাকার VFS Global-এ, আর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকার ইতালি দূতাবাস। ইতালির জন্য দিল্লি যেতে হয় না। বাকি আটটি দেশের ক্ষেত্রে কোন সেন্টারে জমা হবে তা সেই মিশন নিজে ঠিক করে ও নিজের পাতায় প্রকাশ করে — অন্য কোনো দেশের ভিসার জন্য আপনার শহরে একটি সেন্টার আছে মানে এই নয় যে আপনার দরকারি মিশনটিও সেটি ব্যবহার করে। বাস ধরার আগে সেই মিশনের নিজের পাতাটি দেখে নিন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কি ঢাকা থেকে করাতে হয়?+
না। আবেদনটি অনলাইনে শুরু হয়, আর যাচাইয়ের কাজটি করে আপনার ঠিকানার এলাকার পুলিশ। অর্থাৎ ধাপটি আপনার নিজের জেলাতেই ঘটে, আর সেখানে থাকাটাই বরং সুবিধা — যাচাইয়ের সময় আপনাকে বা পরিবারের কাউকে পাওয়া গেলে কাজটা দ্রুত এগোয়। ঠিকানা কোনটি দিচ্ছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, কারণ যাচাই সেই ঠিকানাতেই যাবে।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট কি ঢাকার ব্রাঞ্চ থেকে নিতে হবে?+
না। যে শাখায় হিসাবটি আছে, সেই শাখাই কাগজ দুটি দেয় — সেটি সিলেটে হলে সিলেটেই। বরং নিজের শাখার সঙ্গে পরিচয় থাকলে ভুল সংশোধন করানো সহজ হয়। খেয়াল রাখার বিষয় কাগজের ভূগোল নয়, কাগজের ভেতরের বিষয়বস্তু: টাকা কোথা থেকে এল, কবে এল, আর সেটি পরিবারের আয়ের সঙ্গে মেলে কি না।
CIMEA নাকি Declaration of Value — সিলেট থেকে কোনটা সুবিধাজনক?+
দুটি বিকল্প, আর কোনটি চলবে তা প্রতিষ্ঠান ঠিক করে — সার্কুলারে এ দুটিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবেই রাখা হয়েছে। সিলেটের একজন শিক্ষার্থীর জন্য পার্থক্যটা বড়: CIMEA-র comparability statement পুরোপুরি অনলাইন (টাকা লাগে, সময় লাগে সাধারণত মাসখানেক), আর Declaration of Value ঢাকার ইতালি দূতাবাসের কাজ। তাই আবেদনের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন কোনটি তারা নেয়। CIMEA চললে একটি পুরো ঢাকা-যাত্রা বেঁচে যেতে পারে — আর এটি ইতালির টাইমলাইনের সবচেয়ে ধীর অংশ, তাই সবার আগে এটিই শুরু করুন।
একটা এজেন্সি বলছে ভিসা তারা গ্যারান্টি দিচ্ছে — এটা কি সম্ভব?+
না, এবং এই একটি বাক্যেই আলোচনা শেষ হওয়া উচিত। ইতালির ক্ষেত্রে সার্কুলার স্পষ্ট বলে দিয়েছে, প্রি-এনরোলমেন্ট ভ্যালিডেশন ভিসার নিশ্চয়তা নয় — সিদ্ধান্ত একমাত্র কনস্যুলেটের। আর কোনো কর্তৃপক্ষ স্টুডেন্ট ভিসার সাফল্যের হার প্রকাশ করে না, তাই কেউ 'আমাদের সাকসেস রেট এত শতাংশ' বললে সংখ্যাটি তিনি নিজেই বানিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে সাহায্য কেনা বৈধ; প্রতিশ্রুতি কেনা যায় না।
Universitaly রেজিস্ট্রেশনের জন্য আলাদা টাকা চাইছে — দেওয়া ঠিক হবে?+
Universitaly ইতালির মন্ত্রণালয়ের একমাত্র অফিশিয়াল প্রি-এনরোলমেন্ট পোর্টাল এবং এটি বিনামূল্যের। কেউ ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার শ্রমের জন্য ফি নিতে চাইলে সেটি তার অধিকার, কিন্তু সেটি স্পষ্ট করে বলতে হবে। 'Universitaly ফি' নামে কিছু নেই — এই নামে টাকা চাওয়া হলে বুঝবেন হয় তিনি জানেন না, নয় জেনেই বলছেন; দুটোর কোনোটাই আপনার ফাইলের জন্য ভালো খবর নয়।
তাহলে কি স্থানীয় এজেন্ট নেওয়াই ভুল?+
মোটেই না। যাঁর নিজের ইন্টারনেট বা ইংরেজিতে পোর্টাল চালানোর অভ্যাস নেই, যাঁর কাগজপত্রে সত্যিকারের গোলমাল আছে (নামের অমিল, হারানো সনদ, বোর্ডের রেকর্ড), কিংবা যাঁর পূর্ণকালীন চাকরির কারণে অফিসের সময়ে লাইনে দাঁড়ানোর উপায় নেই — তাঁদের জন্য কাছের একজন বিশ্বস্ত মানুষ সত্যিকারের মূল্য দেন, কারণ তিনি আপনার হয়ে কাউন্টারে যেতে পারেন। শর্ত একটাই: তিনি যেন কাজের বিনিময়ে টাকা নেন, ফলাফলের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে নয়।
এই বিষয়ের ৬৯টি গাইড এক জায়গায়
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন