নীতি ও ভিসা

পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে ১০,০০০ টাকা দণ্ড ফি

সর্বশেষ যাচাই:

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র: প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে, চুরি গেলে বা নষ্ট হলে শুধু নির্ধারিত ফি; এরপর প্রতিবার অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা দণ্ড ফি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর নতুন নিয়ম জারি করেছে। পরিপত্রের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ২২ সেপ্টেম্বর, আর জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর। নিচের নিয়মগুলো আমরা সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নয়, তিন পাতার মূল পরিপত্র পড়ে লিখেছি।

ফি: প্রথমবার দণ্ড নেই, এরপর প্রতিবার ১০,০০০ টাকা

  • প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে, চুরি গেলে বা নষ্ট হলে: শুধু নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি। কোনো দণ্ড নেই।
  • এরপর প্রতিবার: নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা দণ্ড ফি

শুধু হারানো বা চুরি নয়, নষ্ট হওয়া পাসপোর্টও এই হিসাবে পড়ে। নির্ধারিত ফি কত, তা আছে শিক্ষার্থীর ই-পাসপোর্ট গাইডে

দেশে থাকা অবস্থায় হারালে বা চুরি গেলে

  1. 1দেরি না করে অনলাইনে রিপোর্ট করুন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায়। এর ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টটির স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।
  2. 2নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন, এটাও দেরি না করে।
  3. 3থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডি যাচাই করে প্রতিবেদন অধিদপ্তর বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। ৭২ ঘণ্টায় প্রতিবেদন না এলে জিডির কপি সংযুক্ত করেই পুনঃইস্যুর আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
  4. 4এরপর অধিদপ্তর Lost Circular জারি করে পুনঃইস্যু সম্পন্ন করবে।

পরিপত্রে অনলাইন রিপোর্টের নির্দিষ্ট লিংক দেওয়া নেই। কোথায় রিপোর্ট করবেন জানতে অধিদপ্তরের পাসপোর্ট হেল্পলাইনে ফোন করুন: দেশ থেকে ১৬৪৪৫, বিদেশ থেকে ০৯৬৬৬৭১৬৪৪৫

বিদেশে থাকা অবস্থায় হারালে

অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করুন এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানান। সেই মিশনই Lost Circular জারি করে পুনঃইস্যুর কাজ সম্পন্ন করবে। ইউরোপে পড়তে গেলে আপনার ঠিকানা হবে সেই বাংলাদেশ মিশন, আপনি যে দেশে আছেন সেটি যার আওতায় পড়ে।

দণ্ডের চেয়েও বড় তিনটি নিয়ম

১. হারানো বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট Revoke হয়ে যায়, আর পরে খুঁজে পেলেও তা আর চলে না। Revoke হওয়ার পর সেটি আবার সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না, আর খুঁজে পাওয়ার খবর দেরি না করে থানায় ও অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। নতুন পাসপোর্ট মানে নতুন নম্বর; তাতে চলমান ভিসা আবেদন বা পুরোনো পাসপোর্টে থাকা ভিসার কী হয়, তা আছে আবেদনের মাঝপথে পাসপোর্ট বদলের গাইডে। তাই রিপোর্টের আগে নিশ্চিত হোন যে পাসপোর্টটি সত্যিই হারিয়েছে, আর নিশ্চিত হলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না।

২. ভিসার জন্য কাউকে পাসপোর্ট দিয়ে আর ফেরত পাচ্ছেন না? জিডি যাচাইয়ে যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পাসপোর্টটি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে অবৈধভাবে আটকে আছে এবং তখনই উদ্ধার করা সম্ভব নয়, তাহলে অধিদপ্তর আগের পাসপোর্ট Revoke করে নতুন পাসপোর্ট দিতে পারবে। এটি অধিদপ্তরের বিবেচনার বিষয়, স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। তাই জিডিতে ঘটনাটি ঠিক যেভাবে ঘটেছে, সেভাবেই লিখুন।

৩. পুনঃইস্যুতে পরিচয় বদলানো যাবে না। নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। আইনসম্মত সংশোধন আলাদাভাবে, অনুমোদিত তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে। কাগজপত্রে নামের অমিল থাকলে আগে পড়ুন নামের অমিল ঠিক করার গাইড

নতুন পাসপোর্টে যা ছাপা থাকবে

পুনঃইস্যু করা পাসপোর্টের ডেটা পেজে, অর্থাৎ ছবিসহ যে পাতার কপি প্রায় প্রতিটি ভিসা আবেদনে যায়, স্পষ্ট করে ছাপা থাকবে: "Previous Passport is Reported to be Lost"। আর পুরোনো পাসপোর্টটি ডেটাবেসে Lost/Revoked হিসেবে চিহ্নিত হবে। জিডির কপি যত্ন করে রেখে দিন।

আংশিক নষ্ট হলে

পাসপোর্টের কিছু অংশ নষ্ট হলেও শনাক্ত করার মতো অংশ হাতে থাকলে সেটি জমা দিয়ে পুনঃইস্যু করা যাবে। শনাক্ত করার মতো কিছুই অবশিষ্ট না থাকলে হারানো পাসপোর্টের নিয়মেই যেতে হবে।

পরিপত্রে যা বলা নেই

  • ২১ সেপ্টেম্বরের আগে কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে থাকলে সেটি "প্রথমবার" হিসেবে ধরা হবে কি না, পরিপত্রে বলা নেই। আগে একবার হারিয়ে থাকলে আবেদনের আগে পাসপোর্ট অফিস বা ১৬৪৪৫-এ জিজ্ঞেস করে নিন।
  • কোন পাতায় অনলাইন রিপোর্ট করতে হবে, সেই লিংক পরিপত্রে নেই।

কেন এই নিয়ম

মন্ত্রণালয় লিখেছে, সম্প্রতি দেশের ভেতরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্টের ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করার প্রবণতা বেড়েছে, আর পাসপোর্টের অপব্যবহারে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজের গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্টের খবর পেলেই স্পেশাল ব্রাঞ্চ Immigration Management System হালনাগাদ করবে এবং প্রয়োজনে INTERPOL-কে জানাবে। এ বিষয়ে আগের পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে এই পরিপত্র জারি হয়েছে।

পরিপত্রের বিবরণ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহিরাগমন-৪ শাখা। স্মারক নং ৪৪.০০.০০০০.০০০.১৩৭.৯৯.০০০২.২৪.১৯৭, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (০৬ আশ্বিন ১৪৩৩), স্বাক্ষর: মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, উপসচিব। মূল পরিপত্র (PDF, তিন পাতার স্ক্যান)

অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের সূত্রে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে নিন।

শেয়ার করুন WhatsApp Facebook

আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?

আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা সৎভাবে সম্ভাবনা জানাব — প্রাথমিক পরামর্শ সম্পূর্ণ ফ্রি।