ইতালি বনাম জার্মানি: টাকা দেখানো আর টাকা আটকে রাখার পার্থক্য
দুই দেশেই পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে প্রায় বিনা টিউশনে পড়া যায়। পার্থক্যটা ভিসার টাকায় — ইতালি €১০,১৮০ শুধু দেখতে চায়, জার্মানি €১১,৯০৪ ব্লকড অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে চায়। আর পাসের পর ১২ বনাম ১৮ মাস।
এক নজরে: ScholarsDream জার্মানিতে আবেদন প্রসেস করে না — এই তুলনা কেবল তথ্যের জন্য। দুই দেশেই পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে প্রায় বিনা টিউশনে পড়া সম্ভব, কিন্তু ভিসার সময় টাকার আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা। ইতালি চায় €১০,১৭৯.৮৫ দেখাতে — টাকাটা আপনার নিজের অ্যাকাউন্টেই থেকে যায়। জার্মানি চায় €১১,৯০৪ ব্লকড অ্যাকাউন্টে জমা দিতে, যেখান থেকে মাসে মাত্র €৯৯২ তোলা যায়। একটা প্রমাণ, আরেকটা হস্তান্তর। বদলে জার্মানি দেয় পাসের পর ১৮ মাস চাকরি খোঁজার সময়, ইতালিতে যা ১২ মাস।
আমরা কী করি, কী করি না
ScholarsDream জার্মানিতে আবেদন প্রসেস করে না। আমরা নয়টি ইউরোপীয় গন্তব্য নিয়ে কাজ করি — ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, ডেনমার্ক, সুইডেন ও বুলগেরিয়া — জার্মানি তার মধ্যে নেই।
তবু লেখাটা আছে, কারণ ইতালির পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবার সবচেয়ে বেশি জার্মানির কথাই ভাবে, আর সেটা নিয়ে সৎভাবে কথা না বলা নীরব থাকার চেয়েও খারাপ। ইতালির উত্তরে আমাদের স্পষ্ট বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে — সেটা মাথায় রেখেই নিচের জার্মানির পক্ষটা পড়ুন। জার্মানির প্রতিটি সংখ্যা নেওয়া হয়েছে ঢাকার জার্মান দূতাবাসের নিজের জুন ২০২৬ চেকলিস্ট ও তাদের FAQ থেকে, আর প্রতিটি সূত্র নিচে দেওয়া আছে।
পাশাপাশি রাখলে যা দাঁড়ায়
| ইতালি | জার্মানি | |
|---|---|---|
| পাবলিক টিউশন | বছরে €০–৪,০০০, পারিবারিক আয় (ISEE) অনুযায়ী | ১৬টি রাজ্যের ১৫টিতে €০ |
| একমাত্র ব্যতিক্রম | — | বাডেন-ভুর্টেমবার্গে নন-ইইউ শিক্ষার্থীর সেমিস্টারে €১,৫০০ |
| সেমিস্টার ফি | আলাদা নেই | প্রায় €২০০–৫০০ প্রতি সেমিস্টার |
| ভিসার টাকা | €১০,১৭৯.৮৫ দেখাতে হয় | €১১,৯০৪ ব্লকড অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হয় |
| টাকাটা কার হাতে থাকে | আপনার নিজের | ব্যাংকের, মাসে €৯৯২ করে ছাড়া হয় |
| পড়ার সময় কাজ | সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা | বছরে ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধ দিন |
| পাসের পর | ১২ মাস জব-সিকিং | ১৮ মাস জব-সিকিং |
| ইংরেজির প্রমাণ | সাধারণত IELTS ৬.০, কিছু প্রোগ্রামে ৫.৫ | IELTS বা TOEFL, তবে অস্ট্রেলিয়া/যুক্তরাজ্য/যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাচেলর থাকলে নয় |
| স্থানীয় ভাষার প্রোগ্রাম | ইতালিয়ান সাধারণত B2 | জার্মান প্রোগ্রামে B1 "good" সুপারিশ করা |
| APS যাচাই লাগে? | প্রযোজ্য নয় | না — ঢাকার দূতাবাস APS অফিস ব্যবহার করে না |
| মূল ইনটেক | সেপ্টেম্বর, ফেব্রুয়ারি | অক্টোবর (শীতকালীন), এপ্রিল (গ্রীষ্মকালীন) |
| ন্যূনতম প্রসেসিং | VFS-এর সময়সূচি অনুযায়ী | দূতাবাসের ভাষায় "প্রায় ৪ সপ্তাহ" |
সংখ্যাগুলো ২০২৬ সালের, আর জার্মানির ঘরগুলো ঢাকার দূতাবাসের নিজের নথি থেকে নেওয়া। টিউশন বিষয় ও প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়, তাই ভর্তির চিঠিতে লেখা অঙ্কই চূড়ান্ত।
জার্মানির সত্যিকারের সুবিধা, সৎভাবে
টিউশন সত্যিই শূন্য, আর সেটা আয়ের হিসাবের ওপর নির্ভর করে না। ইতালিতে "প্রায় ফ্রি" পেতে হলে ISEE parificato ঠিকভাবে জমা দিতে হয়; কাগজটা ভুল হলে বা দেরি হলে টিউশন সর্বোচ্চ ধাপে বসে যায়, আর সেটা সংশোধন করা কঠিন। জার্মানিতে ষোলোটি রাজ্যের পনেরোটিতে পাবলিক ইউনিভার্সিটির টিউশন এমনিতেই শূন্য — কোনো আয়ের কাগজ, কোনো ধাপ নেই। একমাত্র ব্যতিক্রম বাডেন-ভুর্টেমবার্গ, যেখানে নন-ইইউ শিক্ষার্থীকে সেমিস্টারে €১,৫০০ দিতে হয়; হাইডেলবার্গ, স্টুটগার্ট, কার্লসরুহে ও ফ্রাইবুর্গ ওই রাজ্যেই।
APS লাগে না — আর এটা বাংলাদেশের জন্য সত্যিকারের সুবিধা। ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীদের জার্মানিতে আবেদনের আগে APS নামের একটি একাডেমিক যাচাই সনদ নিতে হয়, যাতে কয়েক সপ্তাহ সময় আর আলাদা ফি যায়। ঢাকার জার্মান দূতাবাস তাদের নিজের FAQ-তে সরাসরি লিখেছে যে তারা APS অফিস ব্যবহার করে না এবং অন্য দেশের অফিসে আবেদন করতে হয় না। কোনো এজেন্সি যদি আপনার কাছে "জার্মানির APS" করানোর জন্য টাকা চায়, আলোচনা ওখানেই থামান।
পাসের পর ছয় মাস বেশি। ডিগ্রি শেষ করার পর জার্মানি ১৮ মাস পর্যন্ত চাকরি খোঁজার রেসিডেন্স পারমিট দেয়, আর ওই সময়ে কাজ করা যায় — নিজের খরচ চালানোর প্রমাণ দিতে পারলে। ইতালিতে একই সুযোগ ১২ মাসের। ছয় মাসের এই পার্থক্য ছোট শোনায়, কিন্তু ইউরোপে প্রথম চাকরি পেতে যত সময় লাগে তার তুলনায় এটা যথেষ্ট বড়।
কাজের হিসাবটা বেশি নমনীয়। জার্মান আইনে শিক্ষার্থী বছরে ১৪০ পূর্ণ কর্মদিবস বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজ করতে পারেন — চার ঘণ্টার কম হলে সেটা অর্ধদিবস। ক্লাসের সময় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার মডেলও চলে। ছুটির মাসগুলোয় পুরো সময় কাজ করে ঘণ্টা জমিয়ে নেওয়ার সুযোগ ইতালির সমান-সপ্তাহের সীমায় নেই।
জার্মানি যা কঠিন করে
ব্লকড অ্যাকাউন্টই আসল পার্থক্য, এবং এটাই বেশিরভাগ পরিবারকে আটকায়। ইতালিতে €১০,১৭৯.৮৫ আপনাকে কেবল দেখাতে হয় — টাকা আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে থাকে, আপনি চাইলে খরচ করতে পারেন, এবং ভিসা হয়ে গেলে সেটা আপনারই থাকে। জার্মানিতে €১১,৯০৪ একটি জার্মান ব্লকড অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে হয় আপনার নিজের নামে, আর সেখান থেকে মাসে €৯৯২-এর বেশি তোলা যায় না। অর্থাৎ আবেদন করার আগেই পুরো টাকাটা দেশের বাইরে চলে যায়, এবং ভিসা না হলে ফেরত আনার একটা আলাদা প্রক্রিয়া আছে। বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি কেবল অঙ্কের নয়, নগদ প্রবাহের প্রশ্ন।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা, যেটা দূতাবাস নিজেই অনুমান করতে পারে না। ঢাকার জার্মান দূতাবাস তাদের FAQ-তে লিখেছে যে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অপেক্ষার সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। প্রসেসিংয়ের ন্যূনতম সময় "প্রায় ৪ সপ্তাহ" — কিন্তু সেটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পরে শুরু হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মাস্টার্সের আবেদন VFS Global-এর মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে, আর দূতাবাস নিজেই বলেছে এতে অপেক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে কমবে না।
ফি ফেরত দেওয়া হয় না। ভিসা ফি আবেদনের সময়ই পুরোটা দিতে হয় এবং আবেদন বাতিল হলে ফেরত পাওয়া যায় না। ইতালির ক্ষেত্রেও একই, কিন্তু জার্মানির ব্লকড অ্যাকাউন্টের টাকা এর সঙ্গে যোগ হলে একটি ব্যর্থ আবেদনের মোট খরচ অনেক বেশি দাঁড়ায়।
সব কাগজের অনুবাদ লাগবে, আর দূতাবাস অতিরিক্ত যাচাই চাইতে পারে। বাংলা নথির ইংরেজি বা জার্মান অনুবাদ বাধ্যতামূলক, এবং দূতাবাস চাইলে সনদ যাচাইয়ের জন্য আলাদা ফি ধরে অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। মোটিভেশন লেটারেও ছয়টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর থাকতে হয় — কী পড়েছেন ও কেন, এখন কী পড়তে চান, আর অন্য দেশ নয় কেন জার্মানি।
কার জন্য কোনটা
জার্মানিই ভালো যদি €১১,৯০৪ ব্লক করে রাখার সামর্থ্য পরিবারের সত্যিই থাকে, আপনি বাডেন-ভুর্টেমবার্গের বাইরের কোনো রাজ্য বেছে নিতে পারেন, পাসের পর ১৮ মাস আপনার পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অথবা আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং বা গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে যাচ্ছেন যেখানে জার্মান ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগ সবচেয়ে শক্ত।
ইতালিই ভালো যদি টাকাটা ব্লক না করে নিজের হাতে রাখা আপনার জন্য জরুরি হয়, আপনি DSU-র মতো আঞ্চলিক স্কলারশিপের জন্য যোগ্য হন যেখানে টিউশন মওকুফের সঙ্গে হোস্টেল ও খাবারও আসে, আপনি ফেব্রুয়ারির ইনটেক ধরতে চান, অথবা আপনি চান এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আমরা পুরো ফাইলটা আপনার সঙ্গে করতে পারি।
কোনোটাই ভালো নয় যদি কেউ আপনাকে প্যাকেজ বেচছে অথচ ডিগ্রিদাতা প্রতিষ্ঠান, টিউশনের অঙ্ক আর ভিসার পথ লিখিতভাবে দিতে রাজি নয় — কিংবা জার্মানির জন্য APS করানোর নামে টাকা চাইছে। এজেন্সির লাল পতাকা দেখে নিন।
ইতালি যদি দিক হয়
প্রথমে সত্যিকারের খরচটা দেখুন — ইতালিতে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মোট খরচ, তারপর Universitaly প্রি-এনরোলমেন্ট ধাপে ধাপে আর ঢাকার ইতালি দূতাবাস ও VFS। বাজেট টাইট হলে ইতালি, হাঙ্গেরি নাকি বুলগেরিয়া পড়ুন, নিজের সংখ্যা দিয়ে খরচ ক্যালকুলেটর চালান, আর পাঁচ মিনিটের যোগ্যতা যাচাই নিন।
অফিশিয়াল সূত্র — নিজে যাচাই করুন
- ঢাকার জার্মান দূতাবাস — স্টাডি ভিসা চেকলিস্ট, জুন ২০২৬
- ঢাকার জার্মান দূতাবাস — স্টুডেন্ট ভিসা FAQ (APS প্রসঙ্গে)
- BAMF — পাসের পর চাকরি খোঁজার রেসিডেন্স পারমিট
- জার্মান রেসিডেন্স অ্যাক্ট §16b — শিক্ষার্থীর কাজের সীমা
- হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি — নন-ইইউ টিউশন €১,৫০০/সেমিস্টার
- MUR/MAECI সার্কুলার ২০২৬/২৭ — ইতালির €১০,১৭৯.৮৫
- খরচ ক্যালকুলেটর
নিয়ম, ফি ও ডেডলাইন সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্তের আগে উপরের অফিশিয়াল সূত্রে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন।
ইউরোপে আপনার প্রোফাইল কোথায় দাঁড়ায়?
সিজিপিএ, আইইএলটিএস ও বাজেট দিয়ে পাঁচ মিনিটে সৎ মূল্যায়ন নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ScholarsDream কি জার্মানির আবেদনে সাহায্য করে?+
না। আমরা কেবল নয়টি ইউরোপীয় গন্তব্য নিয়ে কাজ করি: ইতালি, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, মাল্টা, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, ডেনমার্ক, সুইডেন ও বুলগেরিয়া। এই তুলনা তথ্যের জন্য প্রকাশিত, কারণ ইতালির পাশাপাশি পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি জার্মানিই বিবেচনা করে।
জার্মানির ব্লকড অ্যাকাউন্ট আর ইতালির ফান্ডের প্রমাণ কি একই জিনিস?+
না, আর এটাই দুই দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক পার্থক্য। ইতালিতে ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষে €১০,১৭৯.৮৫ থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়, কিন্তু টাকাটা আপনার নিজের অ্যাকাউন্টেই থাকে। জার্মানিতে €১১,৯০৪ একটি জার্মান ব্লকড অ্যাকাউন্টে আগেই পাঠিয়ে দিতে হয় এবং সেখান থেকে মাসে €৯৯২-এর বেশি তোলা যায় না — সংখ্যাটি ঢাকার জার্মান দূতাবাসের জুন ২০২৬ চেকলিস্টের।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কি জার্মানির জন্য APS সনদ লাগে?+
না। ঢাকার জার্মান দূতাবাস তাদের নিজের FAQ-তে লিখেছে যে তারা APS অফিস ব্যবহার করে না এবং অন্য দেশের APS অফিসে আবেদন করতে হয় না। APS ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের জন্য প্রযোজ্য। কেউ জার্মানির APS করানোর নামে টাকা চাইলে সেটি একটি লাল পতাকা।
পাসের পর কোন দেশে বেশি সময় থাকা যায়?+
জার্মানি ডিগ্রি শেষের পর ১৮ মাস পর্যন্ত চাকরি খোঁজার রেসিডেন্স পারমিট দেয় এবং ওই সময়ে কাজ করা যায়, নিজের খরচ চালানোর প্রমাণ দিতে পারলে। ইতালিতে একই সুযোগ ১২ মাসের। তবে দুটোই শর্তসাপেক্ষ, আর সময়সীমা শেষে চাকরি না পেলে থাকা যায় না।
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে চান?
আপনার প্রোফাইল দেখে আমরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ পরামর্শ দেব। ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন।
ফ্রি পরামর্শ নিন